Sunday, July 22, 2018

বক্র মহাভারত



  
দুর্যোধন বেশ শান্তিতেই ছিল । খাওয়া দাওয়া , সুখ নিদ্রা, মনিবের আদর খাওয়া , মাঝে মাঝে এদিক সেদিক বেড়ানো সব ঠিকই চলছিল । হঠাৎ করে সেই শান্তিতে বিঘ্ন ঘটল । বিঘ্নের কারণ দ্রৌপদী । কোথা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসল যে দুর্যোধনের কপালে ভাজ পড়ে গেল ।
একটু খোলসা করে বলি । দুর্যোধন হল একটি কুকুর । শুদ্ধ ভাষায় সারমেয় । তবে দেশি । অবস্থান লোটাসপুরের রতনবাবুর বাড়ীতে । ছোটবেলা থেকেই এখানে আছে । রতনবাবুর গিন্নী ওকে বেশ আদর যত্নেই রেখেছেন । খাওয়া দাওয়া আর ঘুম ছাড়া বিশেষ কাজ নেই । মাঝে মাঝে গরু-ছাগল দেখে ঘেউ ঘেউ করা, আর মেঘ ডাকলে বা পটকা ফুটলে খাটের তলায় সেদিয়ে যাওয়া , এই মোটামোটি রুটিন । দেশি কুকুর, তায় সমস্ত পাড়ার মুখ চেনা তাই বেল্ট লাগাবার বালাই নেই ।  পাড়ার প্রায় সবাই ওকে আদর করে, কেউ বিস্কুট, কেউ ভাত-রুটি ডেকে ডেকে খেতে দেয় । তাই এতদিন বেশ ভালই দিন কাটছিল ।
কিন্তু হঠাৎ পাড়ায় একটা বাচ্চা মেয়ে কুকুরের আবির্ভাব হল । বাচ্চা দেখে প্রথমে সবাই অল্প আদর-যত্ন করল ।  দুর্যোধনও ওকে আদর করল । গিন্নীমার বাহবা পাওয়ার জন্য ও বাচ্চাটাকে গিন্নীমার কাছে নিয়ে এল । বাচ্চাটা দুর্যোধনের পেছন পেছন গিয়ে রতনবাবুর গিন্নীর কাছে গিয়ে হাজির হল । রতনবাবুর গিন্নী করুণাময়ী এবং দয়াময়ী  । উনি বাচ্চাটাকে খেতে দিলেন । খাওয়া আর আদর পেয়ে সেটা সেখানেই থেকে গেল । গিন্নীমায়ের পেছন পেছন ঘোরা শুরু করল ।
দুর্যোধন ভেবেছিল কোন দূরদেশ থেকে কেউ লুকিয়ে একটা বাচ্চা কুকুরকে ওর বাড়ীর সামনে রেখে গেছে । ভয়ে আর খিদেয় কুঁই কুঁই করে কাঁদছে, তাই একবার গিন্নীমার কাছে নিয়ে ইন্ট্রোডাকশন্ করিয়ে কিছু খাইয়ে বিদায় করে দিলেই হবে । গিন্নীমা প্রথমে খাইয়ে অল্প আদর করতেই ওটা গিন্নীমার পা চাটা শুরু করে দিল । এসেছিল সকালের দিকে, সন্ধ্যার মধ্যে কুঁই কুঁই করে আর পা চেটে চেটে ও গিন্নীমার মন গলিয়ে ফেলল । শীতের রাত, ওকে কোথায় রাখা যায়  গিন্নীমা চিন্তায় পড়লেন । পরে একটা পুরোণো গরম কাপড় দিয়ে একটা চলনসই বিছানা বানিয়ে তাকে রাখা হল ।
ব্যাপারটা দুর্যোধনের পছন্দ হল না । খাইয়েছ, আদর করেছ, এবার বিদেয় কর । তাই না ও নিয়ে এসেছিল । কিন্তু এতো দেখি উড়ে এসে জুড়ে বসল ! এতো আদিখ্যেতা কিসের ?  ওর পছন্দ হল না । দুর্যোধন গরম হয়ে অল্প গর-গর করল। সেটাকে আদর করতে করতে গিন্নীমা দুর্যোধনকে বললেন, ‘কিরে দুর্যু, তোর কি ওকে দেখে হিংসে হয়েছে?’ এটা থাকলেই তো খাবারে ভাগ বসাবে, আদরে ভাগ বসাবে । আসুক কাকুমনি, উনিই ভাগাবেন । দুর্যোধন মনে মনে বলল । কাকুমনি মানে রতনবাবু , ঘরের মালিক আর গিন্নীমার ইয়ে মানে কর্তা না কি যেন ।
কিন্তু আজ ওর ভাগ্যটাই খারাপ । রাতে কাকুমনি কাকে যেন দাবা খেলায় হারিয়ে বাড়ী ফিরলেন । মনটা বেশ হালকা ফুরফুরে । গিন্নীমা ডেকে দেখালেন, ‘দেখে যাও ।‘ কাকুমনি গিয়ে কাপড়ের ভেতরে পুচকুটাকে দেখে বললেন, ‘এটা কোথা থেকে এলো ?’ ‘কেউ হয়তো ছেড়ে গেছে । এত মিষ্টি মুখটা, দেখ দেখ ।‘  ‘বাঃ, বেশ আদর আদর তো । পিট পিট করে দেখছে ।‘  ‘এদিকে দুর্যুর হিংসে হয়েছে । রাগে গর্ গর্ করছে ।‘  ‘ঠিক নাকি ? তাহলে এর নাম দ্রৌপদী রেখে দাও । দুর্যোধন যেমন দ্রৌপদীকে হিংসে করত ।‘  হে ভগবান আজই তুমি কাকুমনিকে দাবায় জেতালে ! হারলে তো এক্ষুণি ঘর থেকে বের করে দিত ।
যাই হোক, দ্রৌপদী রতনবাবুর বাড়ীতে থেকে গেল । এখন খাওয়াটা দু’ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়, যদিও পরিমান যথেষ্টই থাকে । কিন্তু আদরটা দু’ভাগে ভাগ হওয়াটাই বেশী মনে লাগে । আগে এই আদরের একছত্র অধিকারী ছিল দুর্যোধন, এখন দ্রৌপদীও আদর পাওয়া শুরু করেছে । যখন দ্রৌপদীকে গিন্নীমা ‘দ্রুপী-দ্রুপী’  বলে ডাকে আর দ্রৌপদী লেজ নেড়ে নেড়ে দৌড়ে যায়, তখন দুর্যোধনের বুক ফেটে যায় । কিছু বলাও যায় না । ঘ্যাক্ করলে গিন্নীমা বলেন, ‘তোর এতো হিংসে কেন রে দুর্যু । তোকে কি আদর কম করছি ? ‘ কে সেই জ্বালা বুঝবে ?
তবে দুর্যু দ্রুপীকে বলে দিয়েছে, গিন্নীমা তোকে আহ্লাদ করছে, তুই সেখানেই থাকবি । আমার কাছে ঘুর ঘুর করবি না । তোকে আমি দেখতে পারি না । দ্রুপী মনে মনে কষ্ট পেয়েছে তবে মুখে কিছু বলেনি । তবে চেষ্টা চালাচ্ছে দুর্যুর মন পাওয়ার । সেদিন দ্রুপী একটা মরা মুরগী পেল । মুখে করে নিয়ে এসে দুর্যুকে দিল, ‘খেয়ে নে, তোর জন্য এনেছি ।‘ দ্রুপী দুর্যুকে পটাবার চেষ্টা করল । ‘ হুঃ ।‘ দুর্যু খাওয়া শুরু করল । কিন্তু দ্রুপীকে কোন ধন্যবাদ দিল না । এমন একটা ঘ্যাম ভাব করে রাখল যে ওকে সেবা করা দ্রুপীর কর্তব্যের মধ্যে পড়ে । খাওয়া শেষ করে দুর্যু নাক ডাকিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল ।
দিন যায় মাস যায় দ্রুপী আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে । কবে যে বাচ্চা থেকে কিশোরী হয়ে  যুবতী হয়ে গেল দুর্যুর চোখেই পড়ল না । দুর্যু দ্রুপীকে তেমন পাত্তা দেয় না, দ্রুপী তবুও ওর মন পাওয়ার চেষ্টায় থাকে । তবে রতনবাবু আর গিন্নীমা দু’জনকেই সমান আদর করেন ।
এক সকালে বাইরের একটা ছোট কুকুর এসে রতনবাবুর বাড়ীর সামনে দাঁড়িয়ে এদিক সেদিক দেখল । দুর্যোধন হাক লাগলো , ‘এই তুই কে রে ?’ ‘আমি সহদেব ।‘ ‘এখনে কি লাগে ?’ ‘এখানে একটা মেয়েকে দেখলাম মনে হলো –‘ ‘তাতে তোর কি ?’  ‘সে সব বলা যাবে না ।‘  ‘ফুট এখান থেকে ।‘ সহদেব ধমক খেয়ে চলে গেল ।
পরেরদিন সহদেবের সাথে আরেকটি কুকুর এলো । এবার দু’জন মিলে  রতনবাবুর ঘরের আশেপাশে শুঁকতে লাগল । তখন দ্রুপী বাড়ীর ভেতর থেকে সামনের রাস্তার সামনে এসে দাঁড়ালো । তাকে দেখে ওরা দু’জন এগিয়ে এলো । ‘ও-  তোমার খবরই পেয়েছিলাম । তোমার নাম কি ?’  ‘আমি দ্রৌপদী, তোমরা কারা ?’   ‘আমরা নকুল আর সহদেব । দাদা এই সিজনের বিয়ে করবে, তাই পাত্রী সন্ধানে পাঠিয়েছে ।‘  ‘কি নাম তোমাদের দাদার ?’  ‘যুধিষ্ঠির ।‘  এমন সময় দুর্যুর নজর এদিকে পড়ল । ও হৈ হৈ করে এগিয়ে এলো । ‘এই, তোদের এখানে কি লাগেরে ?’             ‘কেন তোর কি দরকার ?’                 ‘আরে !আমার বাড়ীর গেটে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করছিস আমার কি দরকার ! হারামজাদা ফুট্ ।‘  দুর্যু দম দেখাতে ওরা দু’জন ভাগা মারল । তবে যাবার আগে শাষিয়ে গেল, ‘দাঁড়া সেজদাকে বলে তোর দম বের করব ।‘  গিন্নীমার সাথে দ্রৌপদী গেটে দাঁড়িয়ে সব দেখল । ‘ সেজদা কে ?’ ‘অর্জুন ।‘ যেতে যেতে ওরা দ্রৌপদীর প্রশ্নের জবাব দিয়ে গেল । দুর্যু দ্রুপুকে এড়িয়ে যেতে গিয়েও একবার চোখে পড়ল । দ্রুপু যুবতী হয়েছে । দেখতেও সুন্দর হয়েছে । তবে কালকের বাচ্চাকে কে পোছে ! এদিকে দ্রুপু দুর্যুকে অল্প খাতির করল, ‘কি রে দুর্যু কেমন আছিস ?’ ‘ চুপ যা দেখি, মেলা বকবক করিস না ।‘  দুর্যু ওকে পাত্তা না দিয়ে চলে গেল ।
রাতে রতনবাবুর স্ত্রী রতনবাবুকে বললেন, ‘তোমার দ্রৌপদী বড় হয়েছে বুঝলে । পেছনে বেপাড়ার কুকুর ঘোরাঘুরি শুরু করেছে ।‘ ‘রতনবাবু বললেন, ‘হ্যাঁ তাই তো । শ্রাবণমাস চলছে, ওদের সিজন্ শুরু হয়েছে । ‘
পরের দিন দুপুরে আবার দুটো কুকুর এলো । একজন কালকের দেখা নকুল অন্যজন নতুন । নকুল গেটের সামনে এসে হাঁক লাগালো, ‘দ্রৌপদী , ও দ্রৌপদী –‘  দূর থেকে তা দেখে দুর্যু দৌড়ে এলো । ‘ঐ তোদের কি লাগেরে ?’  এই যে সেজদা কাল এটা আমাদের দম দিয়েছিল । অর্জুন দুর্যুর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ঐ, একদম ফালতু কথা না । কামড়ে ছিড়ে ফেলব । যা, নিজের কাজে যা ।‘  ‘ওরে পাগল, তুই কোথায় দাঁড়িয়ে কার সাথে কথা বলছিল জানিস ? হাড্ডি ভেঙে রেখে দেব । ভাগ এখান থেকে ।‘  ‘তবে রে-‘  অর্জুন ঝাপিয়ে পড়ল দুর্যুর উপর । দুর্যুও মহাপরাক্রমে ঝাপিয়ে পড়ল অর্জুনের উপর । কামড়া-কামড়ি হল, পটকা-পটকি হল, তবে হৈচৈ শুনে পাড়ার কিছু ছেলে ঢিল ছুড়ে ওদের থামালো । তবে যেতে যেতে অর্জুন শাষিয়ে গেল, ‘আজ ছেলেগুলোর জন্য বেচে গেলি । কাল মেজদাকে নিয়ে আসব, দেখি তোকে কে বাচায় ।‘  ততক্ষণে দ্রৌপদী গেটে এসে জিজ্ঞাসা করল, ‘মেজদা কে ?’  নকুল বলল, ‘মেজদা হল মহাবীর ভীম ।‘  ‘তাহলে যুধিষ্টির কে ?’  ‘ও হল বড়দা । ওই তোমাকে প্রথমে বিয়ে করবে, তারপর আমরা বাকি চারভাই একে একে তোমাকে বিয়ে করব ।‘  ওরা চলে গেল । ওরা চলে যেতে দ্রুপী দুর্যোধনকে জিজ্ঞাসা করল, ‘ তোর চোট লেগেছেরে দুর্যু ?’  অর্জুন এতো সোজা মক্কেল না, দুর্যুকে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জ দিয়েছে । আরও একটু সময় লড়লে হয়তো দুর্যুকে পেড়ে ফেলত । কিন্তু এই কথা স্বীকার করা প্রেসটিজের ব্যাপার । তাই দুর্যু বলল, ‘ফুঃ, শালাকে চ্যাপ্টা করে দিতাম ।  শুধু পাড়ার ছেলেরা মাঝখানে চলে এলো বলে ।‘ এরপর ও দ্রুপীর দিকে ভাল করে তাকালো । কি এমন হল যে হঠাৎ করে এত কুকুর দ্রুপীর খোঁজ করছে ? হ্যাঁ , মানতেই হবে যে দ্রুপী বেশ সুন্দর হয়েছে, তা বলে-
রাতে গিন্নীমা রতনবাবুকে বললেন, ‘ দ্রুপীকে নিয়ে তো হাঙ্গামা শুরু হয়ে গেছে । আজ তো বেপাড়ার দুটো কুকুরের সাথে মারামারি হয়েছে দুর্যুর । পাড়ার ছেলেরা ছিল বলে, তা না হলে দুর্যুর মুশকিল ছিল ।‘
আগের দিনের অর্জুনের সাথে টক্কর দিয়ে দুর্যু বুঝে গেছে যে মামলা সুবিধের নয় । তারপর ওরা বলে গেছে কাল মেজদাকে নিয়ে আসবে , তাই নিজের সেফটির জন্য ও বন্ধু দুঃশাষনকে ডেকে নিল । তেমন দরকার পড়লে দু’জন মিলে ফাইটিং করবে । দুপুরের দিকে নকুল, অর্জুন আর একটা বিশাল কুকুর এসে হাজির । দুর্যু আর দুঃশাষণ গেটের সামনেই বসে ছিল , দ্রুপীও সাথেই ছিল । আজ দ্রুপীর দিকে তাকিয়ে দুর্যু মোহিত হয়ে গেল । শ্রাবন মাস পড়ার পর থেকে মনটা যেন কেমন লাগত, কিন্তু কেন তা বুঝত না । এখন দ্রুপীর এত মন ভোলানো রূপ দেখে মনটা আবার কেমন কেমন করে উঠল । ওদিকে তাকিয়ে দেখে দুঃশাষণও দ্রুপীর দিকে আড় চোখে দেখছে । তখনই ওই তিনজনকে এদিকে আসতে দেখা গেল । ‘ওরে বাবারে ! ওটা তো ভীম । আমি পালাই ।‘  দুঃশাষণ সব ভুলে উল্টো দিকে দৌড় লাগালো । সেদিকে তাকিয়ে দুর্যু দেখল ওরা তিনজন গেটের কাছে চলে এসেছে । একে তো তিনজন । তার উপর কাল অর্জুনের সাথে টক্কর দিয়েই কিছুটা শিক্ষা হয়েছে । এদিকে মেজদা ভীমকে দেখে দুঃশাষণ যে ভাবে পালালো, দুর্যুর মোটেই ভাল লাগল না । ভীম দুর্যোধনকে পাত্তাই দিল না । নকুলকে বলল, ‘নকুল, দ্রৌপদীকে নিয়ে আয় ।‘  নকুল গেট পেরিয়ে এসে দ্রৌপদীকে বলল, ‘চলো আমাদের সাথে ।‘  ‘কোথায় ?’  ‘বড়দার কাছে । বড়দা তোমাকে বিয়ে করবে ।‘  ‘এই, এই হচ্ছেটা কি ?’  দুর্যু চিৎকার করল । অর্জুন বলল, ‘এই , একদম চুপ । কালকের মার ভুলে গেছিস ?’  দুর্যু ভোলেনি  । কিন্তু দ্রুপীর সামনে এরকম অপমান সহ্য করা যায় না । তা ছাড়া ক’টা পাড়ার ছেলে আশেপাশেই আছে । তাই ও হল্লা করল, ‘আমার পাড়ায় আমার সাথে দাদাগিরি !’ ও গর্ গর্ করে অর্জুনের উপর ঝাপিয়ে পড়ল । লেগে গেল পটকা পটকি। নকুলও সাথ দিল অর্জুনের । হাল্লা চিল্লা দেখে পাড়ার ছেলেরা ছুটে এসে পাথর মেরে ওদের ছাড়ালো । তবে ফাইটিং হয়েছে বটে । জান প্রাণ লড়িয়ে দিয়েছে দুর্যু , এক তো দ্রুপীর কাছে ইজ্জতের কথা, দ্বিতীয়ত কালকে অর্জুনের সাথে  ফাইটিং-এর বদলা । তবে পরিশ্রমও হয়েছে । এদিকে যখন এসব ফাইটিং চলছিল তখন ভীম দ্রুপীকে বলল, ‘ওরা ফাইটিং করুক, তুমি আমার সাথে চলো । দাদা অপেক্ষা করছে ।‘  ‘কেন ?’  ‘দাদা তোমাকে বিয়ে করবে ।‘  ‘আর তোমরা ?’  ‘আমরাও বিয়ে করব । প্রথমে দাদা, এরপর আমি , এরপর অর্জুন, নকুল, সহদেব ।‘  ‘আর দুর্যোধন ?’  ‘ওর আবার আমাদের মধ্যে কি দরকার ? ও অন্য কাউকে বিয়ে করবে ।‘  ‘না, আমি এভাবে ওকে ছেড়ে যেতে পারিনা । ওকে আমি কবে থেকে মনে মনে চাই ।‘  ‘ না , তুমি আমাদের সাথে চল ।‘  ‘না, আমি নিজে গিয়ে বিয়ে করব না । তোমার দাদা যদি নিজে এখানে এসে আমাকে বিয়ে করে তাহলে অন্য কথা ।‘  অল্প চিন্তা করে ভীম রাজি হল । ‘ঠিক আছে , কাল দাদাকে নিয়ে আসব । চলরে অর্জুন, চলরে নকুল, কাল দাদাকে নিয়ে আসতে হবে ।‘ ওরা যাবার সময় দুর্যু ভীমের সামনে চলে এসেছিল । ভীম ইচ্ছে করে দুর্যুকে একটা ধাক্কা মারল, দুর্যু তিন হাত দূরে ছিটকে পড়ল । একবারেই বুঝে গেল ভীমকে দেখে দুঃশাষণ কেন পালিয়েছিল ।
রাতে গিন্নীমা রতনবাবুকে বললেন, ‘আজ তো দুর্যুর সাথে বেপাড়ার কুকুরদের আবার মারপিট হল । যা সাইজের একটা কুকুর এসেছিল, বাপরে !’  ‘দুর্যু একা ছিল ?’ ‘ সাথে ওর এক বন্ধুকে নিয়ে এসেছিল কিন্তু অন্যদলকে আসতে দেখে ওটা পালিয়েছে ।‘
হায় কপাল । দুর্যু মাথা চাপরায় । যে দ্রুপী ওর মন পাওয়ার এত চেষ্টা করেছে, যে দ্রুপী ওকে এত ভাবে চেয়েছে, যে দ্রুপীকে সে একবারও পাত্তা দেয় নি , সেই দ্রুপীর টানে আজ পঞ্চপাণ্ডব এসে উপস্থিত ।  দুর্যোধন কত জনের কাছে সাহায্য চেয়েছে । দুঃশাষণ, কর্ণ, শকুনি, কৃপাচার্য কেউ রাজি হয় নি । ভীমার্জুনের নাম শুনে সবাই পিছিয়ে যায় । দ্রুপী বুদ্ধি করে ভীমকে বলেছিল যে যুধিষ্ঠির যেন একদিন পরে আসে । ইচ্ছে ছিল, একদিনের মধ্যে যদি দুর্যু কোন উপায় বের করতে পারে – কিন্তু কিছু হল না ।
পরের দিন যুধিষ্ঠির এলো । সঙ্গে ভীম, অর্জুন, নকুল, সহদেব । দ্রৌপদীকে মাঝখানে রেখে পাঁচ ভাই একটা বুহ্য রচনা করে বসল । এরপর যুধিষ্ঠির  খুব সুন্দর করে গুছিয়ে বলল, ‘দ্রৌপদী, গুরদেবের আদেশে আমরা বংশরক্ষা করার জন্য একটি পাত্রী  খুঁজছিলাম । তোমাকে খুঁজে পেয়েছি ।   আমরা পাঁচ ভাই তোমাকে একে একে বিয়ে করব এবং ফুলশয্যা করব । এরপর চলে যাব । এরপর যদি তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করতে চাও , তা তোমার ইচ্ছে ।‘  এরপর বুহ্যের বাইরে থাকা দুর্যোধনের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমার বলা কথা গুলো নিশ্চয়ই শুনেছ । আমরা শান্তি পূর্ণভাবে বিয়ে করতে চাই , তুমি এখানে থাকতে পার অথবা কোথাও গিয়ে পাঁচদিন পর ফিরে আসতে পার । আজ আমি বিয়ে করে ফুলশয্যা করব , এরপর একদিন পর পর বাকি ভাইরা । পাঁচদিন আমরা ব্যস্ত থাকব । সুতরাং…’
আর একবার নিজের মাথা চাপড়ে দুর্যোধন সেখান থেকে চলে যাওয়ার মনস্থ করল ।

Thursday, July 12, 2018

২০২০ তে মহাপ্রভুর নাগার্জুন বেশ / ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী / ১২.০৭.২০১৮


 
    ২০২০ তে মহাপ্রভুর নাগার্জুন বেশ / ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী /  ১২.০৭.২০১৮ 
উড়িষ্যায় কার্তিক মাসে পঞ্চকতে কেউ আমিষ ভোজন করেন না। এই পাঁচ দিন কে বক পঞ্চক বলে কারন , বলে বক ও এই পাঁচ দিন নাকি মাছ খায়না। একাদশী থেকে পূর্ণিমা অবধি এই পাঁচ দিন পঞ্চক পালন করেন। যে বছর পঞ্চক ছয় দিন পড়ে অর্থাৎ দ্বাদশী ত্রয়োদশী কিম্বা চতুর্দশী তিথি র মধ্যে কোন এক দিন যদি মল তিথি পড়ে তবে সেই বছর মহাপ্রভুর রত্ন সিংহাসনে নাগার্জুন বেশ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু একাদশী কিম্বা পূর্ণিমা তে মল তিথি পড়লে এই বেশ হয়না। 
দীর্ঘ ২৫ বছর পর ২০২০ সালে কার্তিক মাসে ছয় দিন পঞ্চক পড়েছে তাই ২৭.১১,২০২০ তারিখ শুক্রবার দিন মহাপ্রভুর রত্ন সিংহাসনে নাগার্জুন বেশ অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন শুক্ল দ্বাদশী মল দিবস পড়ছে তাই ওই বিশেষ দিনে নাগার্জুন বেশ হওয়ার বিধি আছে বলে সামন্ত চন্দ্রশেখর পাঁজির গণক জ্যোতির্বিদ বাচস্পতি বৈকুণ্ঠ নাথ নায়েক বলেন।
২০২০ সালের নভেম্বর ২৫ তারিখ থেকে নভেম্বর ৩০ তারিখ পর্যন্ত ৬ দিন পঞ্চক পড়ছে । নভেম্বর ২৫ বুধবার একাদশী , নভেম্বর ৩০ সোমবার কার্তিক পূর্ণিমা । নভেম্বর ২৭ শুক্রবার কার্তিক শুক্ল দ্বাদশী(মল দিবস) তাই ওই দিন নাগার্জুন বেশ হবে স্থির হয়েছে। এ বিষয় শ্রী মন্দির প্রশাসন থেকে স্বতন্ত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পেলে এই বেশের জন্য সমস্ত আয়োজন সুরু হবে।
যে বছর নাগার্জুন বেশ অনুষ্ঠিত হয় সেই বছর তিন ঠাকুরকে এই বেশে দর্শন করলে আর পুনর্জন্ম হয়না বলে প্রবাদ আছে। তাই এই বেশ দেখতে বিভিন্ন দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয় ।
নাগার্জুন বেশ কোন কোন বছর অনুষ্ঠিত হয়ে ছিল:-
১৯৬৬ সালে ২৬.১১.১৯৬৬ র মল ত্রয়োদশীতে মহাপ্রভুর নাগার্জুন বেশ হয়
১৯৯৩ সালে ২৬.১১.১৯৯৩ র মল ত্রয়োদশীতে মহাপ্রভুর নাগার্জুন বেশ হয়
১৯৯৪ সালে আবার ১৬.১১.১৯৯৪ কার্তিক ত্রয়োদশীতে মহাপ্রভুর নাগার্জুন বেশ হয় ।
১৯৯৩ সালের নাগার্জুন বেশের সময় দলা চটকাতে ৬ জন তীর্থ যাত্রী মন্দির পরিসরে পঞ্চত্ব প্রাপ্ত হন(মৃত্যু বরণ করেন) তাই সরকার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।
নাগার্জুন বেশ কিরকম হয়:-
এই বেশে তিন ঠাকুরকে যোধ্যা বেশে সাজান হয় । পুরীর সাহি যাত্রার সঙ্গে এই বেশের সম্পর্ক আছে । জরির কাপড় এবং বেত নির্মিত এই বেশে তিন ঠাকুর যোধ্যা রূপে মর্তে আগমন হয়। কোমরে নাগাতটি , তীর ধনুক , ছুরি , বাঘের নখ , ঢ়াল , তরোয়াল , মাথায় মুকুট শোভাপায় । ঠাকুর শ্রী-হস্তে তীর ধনুক ধারণ করেন। বলভদ্র হল মূষক , জগন্নাথ শঙ্খ চক্র । এই বেশের জন্য সব ঠাকুর শ্রী পয়র ও শ্রী হস্ত পরে রত্ন সিংহাসনে অধিষ্ঠান করেন।

Friday, June 29, 2018

সংস্কৃত তে अल्वारनाथ , বাংলায় অলারনাথ ঠাকুর বিষ্ণু র মূর্তি । এই মূর্তি সম্পূর্ণ কষ্টি পাথরের তৈরি । লোক কথায় আছে এই বিগ্রহ দর্শন জগন্নাথ দর্শনের সমান মূল্য রাখে যখন তিন ঠাকুর অণসর ঘরে অধিষ্ঠান করেন



     


      

সংস্কৃত তে अल्वारनाथ , বাংলায় অলারনাথ ঠাকুর বিষ্ণু র মূর্তি । এই মূর্তি সম্পূর্ণ কষ্টি পাথরের তৈরি । লোক কথায় আছে এই বিগ্রহ দর্শন জগন্নাথ দর্শনের সমান মূল্য রাখে যখন তিন ঠাকুর অণসর ঘরে অধিষ্ঠান করেন ।কারণ এখানেই জগন্নাথ ভক্তদের দর্শন দেন এই ১৫ দিন স্নান পুর্ণিমার পরের দিন থেকে আষাঢ় শুক্লা প্রতিবদ পর্যন্ত । কৃষ্ণ পক্ষে অলারনাথ ঠাকুরের দর্শন স্বয়ং জগন্নাথের দর্শনের সঙ্গে সমান। 
পুরী থেকে প্রায় ২৪ কিমি দক্ষিণে ব্রহ্মগিরি নামে একটি ছোট্ট যায়গা আছে। সেখানে ভগবান বিষ্ণুর মন্দির প্রতিষ্ঠিত  
তাঁর নাম অলারনাথ। জগন্নাথের স্নান যাত্রার পর তিন ঠাকুর অণসর ঘরে ১৫ দিন অধিষ্ঠান করেন। ওনাদের জর হয় তাই ভক্তদের প্রভু দর্শন দেন না। এই সময় কোন ভোগ হয় না। এই সময় জগন্নাথের দর্শনের সমান পুণ্য অলারনাথ দর্শনে সম্ভব কারন প্রভু ওখানেই অবস্থান করেন দর্শনাভিলাষী ভক্তদের জন্য। আষাঢ় কৃষ্ণপক্ষে অলারনাথ দর্শন করতে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয় অলারনাথ মন্দির প্রাঙ্গণে। এই মন্দির ভগবান বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। 
এই মন্দির দর্শনে তামিলনাড়ুর সন্ন্যাসী রামানুজচারিয়া এসেছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভু যিনি কিনা জগন্নাথের পরম ভক্ত এবং লোক কথায় কথিত আছে চৈতন্য মহাপ্রভু প্রত্যেক দিন জগন্নাথের দর্শনে গৌড় বাট সাহির রাস্তা দিয়ে জগন্নাথ মন্দিরে যেতেন। কিন্তু জগন্নাথ যখন অণসর ঘরে থাকেন তখন স্বপ্নাদেশ হয় চৈতন্য মহা প্রভুকে ওই অলারনাথ দর্শনের জন্য এবং তার পর থেকে প্রভু ব্রহ্মগিরি পদব্রজে গমন করেন এবং প্রভু অলারনাথের দর্শন করেন। এই অলারনাথ মন্দির প্রাঙ্গণে এক শিলাতে মহাপ্রভু শয়ন করতেন । সেখানে তাঁর শরীরের চিহ্ন এখন ও আছে।
অলারনাথ মন্দিরের পায়েস ভোগ অত্যন্ত সুস্বাদু । ভক্তরা এই পায়েস ভোগ সেবনের জন্য ঘণ্টা ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ান । এ ছাড়া খিচুড়ি , পাকা কলার এক রকমের বড়া এবং নানা রকমের পিঠা ভোগ পাওয়া যায়।
মন্দির সকাল ৬ থেকে রাত ৮.৩০ পর্যন্ত খোলা থাকে। সকালে বাল ভোগ হয় । দুপুরে অন্ন , ডাল, মহুর , বেসর এবং পায়েস ইত্যাদি ভোগ অর্পণ করা হয় । ভক্তরা এই ভোগ পেতে পারেন বেলা ১ টা থেকে । এই সময় প্রশাসনের প্রায় কর্ম কর্তা ব্রহ্ম-গিরিতে উপস্থিত থেকে দর্শনাভিলাষী ভক্তদের সু শৃঙ্খলিত ভাবে দর্শন করান। রাত্রে পিঠা ভোগ সমর্পণ করা হয়।
আষাঢ় শুক্লা দ্বিতীয়া থেকে মন্দির আবার বন্দ থাকে কারন জগন্নাথের রথ যাত্রা আরম্ভ হয়।

Thursday, June 28, 2018

জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা— আগামীকাল মহাপ্রভু জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা উৎসব। উৎসবের কিছু কথা--



 
 সুমনা সাহা 
জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা—
আগামীকাল মহাপ্রভু জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা উৎসব। উৎসবের কিছু কথা--
মহাপ্রভু জগন্নাথের পরম ভক্ত ছিলেন গুজরাতের সাধক পুরুষ শ্রদ্ধেয় গণপতি ভট্ট৷ তিনি শুধুমাত্র বিষ্ণুর পুজো-আরাধনা করতেন৷ তবে গণপতি ভট্ট-র একই সঙ্গে বিশ্বাস ছিল, প্রভু জগন্নাথ-ই পরম ব্রহ্ম৷ তাঁর শ্রীচরণে ঠাঁই পেলে দেহবন্ধন থেকে পুরোপুরি মুক্ত হওয়া যাবে৷ যেমন ভাবনা, তেমন কাজ৷ যাত্রা শুরু করলেন পুরীধামের উদ্দেশে৷ পথে পুরী শহরের কাছে আঁধারনালার কাছে মহাপ্রভুকে দর্শন করে ফিরে আসা কয়েকজন ভক্তর সঙ্গে দেখা হল৷ গণপতি জানতে চাইলেন, তাঁরা কেউ জগন্নাথকে দর্শন করেছেন কি না? সবাই একবাক্যে মহাপ্রভু দর্শনের অপূর্ব অভিজ্ঞতার কথা যেমন জানালেন, তেমনই বললেন, যে যা মনোবাসনা নিয়ে জগন্নাথদেবের কাছে যান তা পূর্ণ হয়৷ কারণ জগন্নাথদেব হলেন স্বয়ং বাঞ্ছা কল্পতরু৷
পুরীর মন্দিরে যেদিন গণপতি ভট্ট পৌঁছলেন সেদিন ছিল মহাপ্রভুর স্নানযাত্রার দিন৷ দেখলেন সিংহদুয়ারের কাছে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা ও সুদর্শনকে সিংহাসনে বসিয়ে স্নান করানো হচ্ছে৷ ঘড়া ভর্তি জল নিয়ে এসে দারুব্রহ্মকে স্নানের সেই অপূর্ব পুণ্যমুহূর্ত দর্শন করে গণপতি কিছুটা তৃপ্ত হলেন ঠিকই, কিন্তু মনোবাসনা সম্পূর্ণ পূর্ণ হল না৷ কারণ গণপতির ধারণা ছিল জগন্নাথের রূপ হবে গণেশের মূর্তির মতো৷ অর্থাৎ হাতির মুখের মতো৷ স্বভাবতই সেই রূপে দেখতে না পেয়ে কিছুটা মানসিক ধাক্কা খেলেন গণপতি ভট্ট৷ ফিরে চললেন নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে।
ভক্ত গণপতির মনের অবস্থা বুঝতে পারলেন অন্তর্যামী স্বয়ং জগন্নাথ মহাপ্রভু৷ মন্দিরের দায়িত্বে থাকা ইন্দ্রদ্যুম্ন রাজার বংশধরকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে বললেন, “ডেকে আনো ওই ভক্তকে৷ ও আমার হস্তীমুখ রূপ দেখতে পাবে৷” রাজপ্রতিনিধি গণপতিকে ডেকে আনলেন৷ সেদিন মহাপ্রভুর ভোগগ্রহণের সময় চলছিল৷ ভট্ট দরজার ফাঁক দিয়ে দেখলেন, স্বয়ং মহাপ্রভু শুঁড় দিয়ে রাঁধা ভোগ গ্রহণ করছেন৷ দেবতার এই নয়া রূপ হস্তীমুখ দর্শন করে অভিভূত ভট্ট দেবতার পায়ে নিজেকে সমর্পণ করেন৷ শোনা যায়, জগন্নাথের দেহে তিনি লীন হয়ে গিয়েছিলেন৷
গণপতি ভট্টর শেষ ইচ্ছাকে মর্যাদা দিয়ে প্রতিবছর স্নানযাত্রায় স্নানের শেষে আমরা সবাই মহাপ্রভু জগন্নাথ ও বলরামকে হস্তীবেশে সাজিয়ে দিই৷ আর দেবী সুভদ্রার মুখ পদ্মফুলে ঢেকে রাখি৷ মন্দিরের পুরোহিত থেকে শুরু করে ভক্তরা সবাই স্নানযাত্রায় দেবতার এই হস্তীরূপকে ‘গণেশ অভিষেক’ নামে ডেকে থাকেন৷
ভগবান জগন্নাথ দেবের আবির্ভাব তিথিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে জগন্নাথ দেবের এক বিশেষ স্নান যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
স্কন্ধ পুরাণ অনুসারে রাজা ইন্দ্রদুম্ন যখন জগন্নাথ দেবের কাঠের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করলেন তখন থেকে এই স্নান যাত্রার উৎসব শুরু। স্নান যাত্রার দিনটিকে জগন্নাথ দেবের আবির্ভাব তিথি বা জন্মদিন হিসেবে পালন করা হয়। স্নান যাত্রার আগের দিন জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা দেবী এবং সুদর্শন দেবকে বেদী থেকে বিশেষ ভাবে তৈরি করা স্নান বেদীতে নিয়ে আসা হয়। পুরীর মন্দির প্রাঙ্গনে বিশেষ ভাবে তৈরি করা এই মণ্ডপকে বলা হয় স্নান মণ্ডপ। এটা এত উঁচু যে মন্দির প্রাঙ্গনের বাইরে থেকেও বেদিতে উপবিষ্ট বিগ্রহ সমূহ অবলোকন করা যায়।
অনুষ্ঠানের দিন স্নান মণ্ডপকে ঐতিহ্যবাহী ফুল, বাগান ও গাছের চিত্রকল্প দ্বারা সজ্জিত করা হয়। তোরণ এবং পতাকা দ্বারা সজ্জিত করা হয়। জগন্নাথ,বলরাম ও সুভদ্রা দেবীর বিগ্রহ ফুল দিয়ে সাজানো হয়। এর পর বিগ্রহের উদ্দশ্যে ধুপ, ধুনা অর্পণ করা হয়।
পুরীতে স্নানের জন্য সোনার তৈরি এক ধরনের কুয়া থেকে জল আনা হয়। জল আনার সময় পুরোহিতরা তাদের মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখেন যাতে জল তাদের মুখনিঃসৃত কোন কিছু দ্বারা এমনকি তাদের নিঃশ্বাস দ্বারা দূষিত না হয়।
স্নান মহোৎসবের পূর্বে জগন্নাথ,বলরাম এবং সুভদ্রা দেবীকে সিল্কের কাপড় দ্বারা আবৃত করা হয় এবং তারপর লাল এক ধরনের পাউডার দিয়ে প্রলেপ দেওয়া হয়। ১০৮ টি স্বর্ণ পাত্র জল দ্বারা পূর্ণ থাকে।এই জল দ্বারা অভিষেক করা হয়। অভিষেকের সময় বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ,কীর্তন এবং শঙ্খ বাজানো হয়।
এরপর জগন্নাথ দেব এবং বলরাম দেবকে হাতি বেশে সাজানো হয়। এই সময় সুভদ্রা দেবীকে পদ্ম সাজে সাজানো হয়। স্নান যাত্রা উৎসবের পর ১৫ দিন ভগবানকে জনসাধারণ থেকে দূরে রাখা হয়। এই ১৫ দিন মন্দিরে কোন অনুষ্ঠান করা নিষেধ। এই সময় ভগবান জগন্নাথ , বলরাম এবং সুভদ্রা দেবীকে রতন বেদী নামে এক বিশেষ বেদীতে রাখা হয়। এই সময়কে বলা হয় অনাবাসর কাল মানে পূজা করার জন্য অযোগ্য সময়। স্নান করানোর ফলে বিগ্রহ সমূহ বিবর্ণ হয়ে যায়। এই ১৫ দিনে জগন্নাথ দেবকে আগের সাজে ফিরিয়ে আনা হয়। ১৬ তম দিনে জগন্নাথ দেবকে আবার সবার দর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
(তথ্যসূত্রঃ--গণমাধ্যম)

Copy From : http://www.festivalsdatetime.co.in/2016/04/2018-Deva-Snana-Yatra-of-Lord-Jagannath-Deva-Snana-Purnima-2018.html#ixzz5JhuBUEhW
#NOTE : DON'T PASTE THIS CONTENT TO YOUR BLOG/WEBSITE, #FestivalsDateTIme
Deva Snana Yatra of Lord Jagannath 2018 Date & Time in India, देवा स्नान यात्रा 2018 तारीख और समय, দেবা স্নান যাত্রা ২০১৮ তারিখ এবং সময়। Deva Snana Purnima 2018 Date & Time. देवा स्नान पूर्णिमा 2018 तारीख और समय, দেবা স্নান পূর্নিমা ২০১৮ তারিখ এবং সময়। 

About Deva Snana Yatra : The Snana Yatra is a bathing festival celebrated on the Purnima (full moon day) of the Hindu month of Jyeshtha. It is an important festival of the Jagannath devotees. This is the first occasion in the year as per the Hindu calendar, when the deities Jagannath, Balabhadra, Subhadra, Sudarshan, and Madanmohan are brought out from the Jagannath Temple (Puri) and taken in a procession to the Snana Bedi. There they are ceremonially bathed and decorated for a public audience with the devotees. It is a belief among devotees of Lord Jagannath that if they make a pilgrimage to see the deity on this day, they would be cleansed of all of their sins. Hundreds of thousands of devotees visit the temple on the occasion.The Skanda Purana mentions that King Indradyumna arranged this ceremony for the first time when the idols of the deities were first installed.


 Copy From : http://www.festivalsdatetime.co.in/2016/04/2018-Deva-Snana-Yatra-of-Lord-Jagannath-Deva-Snana-Purnima-2018.html#ixzz5Jhtt3eLg #NOTE : DON'T PASTE THIS CONTENT TO YOUR BLOG/WEBSITE, #FestivalsDateTIme
Deva Snana Yatra of Lord Jagannath 2018 Date & Time in India, देवा स्नान यात्रा 2018 तारीख और समय, দেবা স্নান যাত্রা ২০১৮ তারিখ এবং সময়। Deva Snana Purnima 2018 Date & Time. देवा स्नान पूर्णिमा 2018 तारीख और समय, দেবা স্নান পূর্নিমা ২০১৮ তারিখ এবং সময়। 

About Deva Snana Yatra : The Snana Yatra is a bathing festival celebrated on the Purnima (full moon day) of the Hindu month of Jyeshtha. It is an important festival of the Jagannath devotees. This is the first occasion in the year as per the Hindu calendar, when the deities Jagannath, Balabhadra, Subhadra, Sudarshan, and Madanmohan are brought out from the Jagannath Temple (Puri) and taken in a procession to the Snana Bedi. There they are ceremonially bathed and decorated for a public audience with the devotees. It is a belief among devotees of Lord Jagannath that if they make a pilgrimage to see the deity on this day, they would be cleansed of all of their sins. Hundreds of thousands of devotees visit the temple on the occasion.The Skanda Purana mentions that King Indradyumna arranged this ceremony for the first time when the idols of the deities were first installed.
source:wikipedia

Here is the date of Deva Snana Yatra :

Name of Festivals

অর্ক ক্ষেত্র কোণার্ক ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী




অর্ক ক্ষেত্র কোণার্ক
ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী
কোণার্ক সূর্য মন্দির এর অস্তিত্ব সম্পূর্ণ থাকলে সেটি সেভেন ওয়ান্ডার্স (সপ্ত আশ্চর্য) এর মধ্যে একটি হতো, বা তালিকাটি পরিবর্ধিত হয়ে এইট ওয়ান্ডার্স বলা হত এতে সন্দেহ নেই। সংস্কৃততে কোণ+অর্ক=কোণার্ক। কোণ অর্থাৎ কোণা বা সূর্যের বিভিন্ন কোণের অবস্থান, অর্ক অর্থাৎ সূর্য। এই মন্দিরটি সূর্যের বিভিন্ন অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করে। এটি সূর্যের মন্দির ছিল। এখনও এর ভগ্নাবশেষ যা আছে, তা সমস্ত পর্যটক দের আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দু। পৃথিবীর সমস্ত প্রান্ত থেকে সারা বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক কোণার্ক সূর্য মন্দির দেখতে আসেন এর ভাস্কর্য ও কলা কীর্তি দেখার জন্য।
কোণার্কের সূর্য মন্দিরের ইতিহাসঃ-
এই মন্দিরের টানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এখানে আসেন অপূর্ব ভাস্কর্য, প্রস্তরের উপর কারুকার্য এবং নৃত্যাঙ্গনাদের অপূর্ব শৈলীতে নৃত্যের প্রস্তর মূর্তি দেখতে। খজুরাহ এবং কোণার্ক দুটোই ভারতবর্ষের অপূর্ব সৃষ্টি। তবে কোণার্কের বৈচিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। ১৩শ শতাব্দীর এই অদ্ভুত কীর্তিকে ইংরাজিতে Black Pagoda বলা হয়। ১২৫০ শতাব্দীতে পূর্ব গঙ্গ বংশের রাজা লাঙ্গুড়া নৃসিংহদেব এই মন্দির নির্মাণ করান। প্রবাদ আছে, ১২০০ প্রস্তর শিল্পী ওই সূর্য মন্দির নির্মানে নিযুক্ত হন রাজার দ্বারা। প্রধান মন্দিরটিতে ৭ টি ঘোড়ার উপর সূর্য মূর্তি নির্মিত হয়েছিল। এই সাতটি ঘোড়া সপ্তাহের সাতটি দিনের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত। মন্দির গর্ভগৃহে রাখা সূর্য দেবতার মুখে এসে পড়ত সূর্যর প্রথম কিরণ। বারো জোড়া ঘোড়ার উপর ওই মন্দির নির্মান হয়। প্রত্যেক চাকা এক একটি সূর্য ঘড়ি। অপূর্ব কলা কৌশলে তৈরি।
কোণার্ক মন্দির তৈরির ইতিহাস যেমন নিপুণ ভাস্কর্যের উদাহরণ, ঠিক তেমনি নৃশংস এক বলিদানের সাক্ষী। ১২০০ শিল্পীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানর জন্য বলি দেওয়া হয় নাবালক প্রস্তর শিল্পী ধর্মপদকে। ১২ বছর বয়েসের ধর্মপদ ছিল অন্যতম প্রধান স্থপতি বিশু মহারাণার পুত্র। বারো বছর ধরে যে ১২০০ প্রস্তর শিল্পীকে বিশু মহারাণা নিয়োগ করেন কোণার্কের মন্দির নির্মাণের জন্য, তারা মন্দির নির্মাণের পর সূর্য মূর্তির চূড়ায় মুকুট স্থাপনে অসমর্থ হয়। রাজা নৃসিংহ দেব বিশু মহারাণাকে একদিনের সময় দেন ওই মুকুট স্থাপনের জন্য। কিন্তু মহারাণারা সকলে অকৃতকার্য হন। ধর্মপদ বাবার কাজ দেখতে আসে এবং অন্য সকল মহারাণাদের কাছে শোনে যে রাত পোহালে তাদের সকলের শিরশ্ছেদন সুনিশ্চিত। ধর্মপদ নিজে মন্দিরের চূড়ায় গিয়ে ওই মুকুট স্থাপন করে যা একটি চুম্বকীয় তত্ত্বের উপর নির্ভর করে। কোণার্কের সূর্য মূর্তি দুটি চুম্বকের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় স্থাপন করা হয়। আমরা জানি, চুম্বকীয় তত্ত্বে সম মেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে (according to the laws of magnetism, like poles repel each other)। ওই তত্ত্ব অনুযায়ী দুটি সমান মেরুর, সমান আকারের এবং সমান ওজনের চুম্বকের মধ্যিখানে সূর্য মূর্তিটি ঝুলন্ত অবস্থায় স্থাপন করা এক বিশাল প্রযুক্তি জ্ঞানের প্রমাণ দেয়। এই অসম্ভব কার্য ধর্মপদের দ্বারা সুসম্পন্ন হয়। কিন্তু রাজার কানে ওই কথা পৌঁছলে সমস্ত মহারাণার মস্তকচ্ছেদন সুনিশ্চিত ছিল। তাই ১২০০ মহারাণা (প্রস্তর শিল্পী) বিশু মহারানাকে তার পুত্রকে অপসারণের জন্য তাকে হত্যা করার কথা বলে। ১২০০ মহারাণার জীবন রক্ষা করে ওই নাবালক ধর্মপদ। নিজে ধর্মপদ ওই কাজ সম্পাদনের পর মন্দির চূড়া থেকে আত্মাহুতি দেয় সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে, যার করুণ ইতিহাস কোণার্কের মন্দির গাত্রে প্রতিধ্বনিত। এই করুণ গাথা সকল শিল্পীকে স্তম্ভিত করে। কিন্তু কেউ কিছু বলে না। রাজা মহারাণাদের কাজে সন্তুষ্ট হয়ে পুরস্কার দেন। ধর্মপদের আত্মবলির কথা চিরকালের জন্য নেপথ্যে থেকে যায়। তারই অভিশাপে হয়তো কোণার্কের ভাস্কর্য অতুলনীয় হয়েও পৃথিবীতে তার সঠিক মূল্যায়ন হয়নি, এবং মূল সূর্য মূর্তি ধ্বংস হয়ে যায়।
মন্দিরের বেদী থেকে শুরু করে চূড়া পর্যন্ত প্রতি ইঞ্চি জায়গায় পাথরের ভাস্কর্য ও কারুকার্য রয়েছে। দেবতা, অপ্সরা, কিন্নর, যক্ষ, গন্ধর্ব, নাগ, মানুষ, বিভিন্ন প্রাণী, পৌরাণিক বিভিন্ন ঘটনার প্রতিরূপ, নৃত্যরত নরনারী, প্রেমিক যুগল, রাজদরবারের বিভিন্ন দৃশ্য, শিকারের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পাথরের বুকে।মূর্তিগুলোর মানবিক আবেদন, নিখুঁত গড়ন, লীলায়িত ভঙ্গী শিল্পকলার চরম উৎকর্ষের নিদর্শন। কলিঙ্গ রীতিতে নির্মিত মন্দিরের চূড়াগুলো পিরামিড আকৃতির। মন্দিরের সামনে রয়েছে নাট্ নাটমণ্ডপ। এখানে একসময় দেবদাসীরা দেবতার উদ্দেশ্যে পূজানৃত্য পরিবেশন করতেন। মন্দিরের ভিতরে রয়েছে নাট্যমন্দির, ভোগমন্দির ও গর্ভগৃহ। মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ৮৫৭ ফুট। তবে মন্দিরের অনেক অংশ এখন বালিতে দেবে গেছে। মন্দিরের দেউল এখনো ২০০ ফুট উঁচু। মন্দিরে সূর্যদেবতার যে বিশাল বিগ্রহ ছিল তা এখন নেই। কালের করাল গ্রাসে স্থাপত্যের অনেকটাই আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত। বাংলার সুলতান সুলেমান খান এর সেনাপতি কালাপাহাড়ের আক্রমণে কোণার্ক মন্দির প্রথম ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। উড়িষ্যার ইতিহাস অনুযায়ী কালাপাহাড় ১৫০৮ সালে কোণার্ক আক্রমণ করে। ১৬২৬ সালে খুরদার তৎকালীন রাজা পুরুষোত্তম দেবের পুত্র নরসিংহ দেব সূর্যদেবের বিগ্রহটি পুরীর জগন্নাথের মন্দিরে নিয়ে যান। তিনি কোণার্ক মন্দির থেকে কারুকার্য করা অনেক পাথর পুরীর মন্দিরে নিয়ে যান। মারাঠা শাসনামলে কোণার্ক মন্দির থেকে অনেক ভাস্কর্য ও প্রস্তরখন্ড পুরীতে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৭৭৯ সালে কোণার্ক থেকে অরুণ স্তম্ভ নামে বিশাল একটি স্তম্ভ নিয়ে পুরীর সিংহদ্বারের সামনে স্থাপন করা হয়। ওই স্তম্ভটি এখনও বিদ্যমান. এবং এটি একটি গ্রানাইট পাথরের তৈরি। এই সময় মারাঠা প্রশাসন কোনার্কের নাটমণ্ডপটি অপ্রয়োজনীয় মনে করে ভেঙ্গে ফেলে।
সূর্যদেবের বিগ্রহ অপসারণের পর কোনার্কে পূজা ও আরতি বন্ধ হয়ে যায়। পর্তুগীজ জলদস্যুদের ক্রমাগত আক্রমণের ফলে কোণার্ক বন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আঠারশ' শতক নাগাদ কোণার্ক মন্দির তার সকল গৌরব হারিয়ে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। মন্দিরের অনেক অংশ বালির নিচে চাপা পড়ে যায়।মন্দির চত্বর ও এর আশেপাশের এলাকা ধীরে ধীরে ঘন অরণ্যে ছেয়ে যায়। বন্য জন্তুরা বাসা বাঁধে মন্দিরের ভিতর। জলদস্যু ও ডাকাতের আস্তানায় পরিণত হয় কোণার্ক মন্দির। সেসময় দিনের আলোতেও সাধারণ মানুষ ভয়ে এর ত্রিসীমানায় যেত না। বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে প্রত্নতত্ববিদরা কোণার্ক মন্দির পুনরাবিষ্কার করেন। খননের ফলে লোকচক্ষুর সামনে উন্মোচিত হয় কোণার্ক মন্দিরের অপূর্ব স্থাপত্য শৈলী, বিস্ময়কর ভাস্কর্যকীর্তি ও অনন্য শিল্প সম্ভার।কোণার্ক মন্দিরের অনেক শিল্প কীর্তি এখন সূর্য মন্দির জাদুঘর ও উড়িষ্যার জাতীয় জাদুঘরে রয়েছে। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী কোনার্কের সূর্য মন্দির দেখতে আসেন। প্রাচীন ভারতীয় স্থপতি ও ভাস্করদের শিল্পনৈপুণ্য ও সৃষ্টিশীলতা আজও মানুষকে বিস্ময় বিমুগ্ধ করে।
কোণার্ক সূর্য মন্দির এখন Archaeological Survey of India (ASI)র অধীনে। পর্তুগীজ জলদস্যুদের দস্যুবৃত্তি করতে অসুবিধা হওয়ার জন্য তারা মন্দিরের মাথায় অবস্থিত অতি শক্তিশালী চুম্বকটিকে নষ্ট করে দেয়। এখনকার কোণার্ক সূর্য মন্দিরের ভিতরে বালি দিয়ে ভরা। প্রবেশ নিষেধ। মন্দিরের পাশে ঘুরতে হয়।
এই মন্দিরের পরিসীমার ভিতর অনেকগুলি ছোট ছোট মন্দির আছে। মন্দিরের কিছু দূরে প্রত্নতাত্বিক মিউজিয়াম আছে যা শুক্রবার বন্ধ থাকে। ইতিহাস বলে, কালাপাহাড়ের আক্রমণে প্রধান মন্দির ধ্বংস হয়ে যায়। এখন যেটি আছে সেটি মুখ-শালা বা সিংহদ্বার। এই মন্দিরটি UNESCO থেকে World Heritage Site ঘোষিত হয়েছে। ভারতের ৭ টি আশ্চর্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে কোণার্ক একটি (এন ডি টিভির মতে)।
চন্দ্রভাগাঃ-
কোনার্কের কাছে সমুদ্র সৈকত ‘চন্দ্রভাগা’ নামে পরিচিত। এটি একটি তীর্থ স্থানে পরিণত হয় মাঘী সপ্তমীর দিন। ওই দিন এখানে লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী আসেন চন্দ্রভাগাতে ডুব দেওয়ার জন্য। কোণার্কের সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য অপরূপ। কোণার্ক থেকে ঢ়িল ছোঁড়া দূরত্বে এই সমুদ্র সৈকত না দেখলে কোণার্ক দেখা সম্পূর্ণ হয় না। পরিষ্কার বালি এবং ঘূর্ণায়মান ঢেউ। শীতল নীল সমুদ্র সৈকত দীর্ঘ প্রসারিত। সঙ্গে সৈকতের নিজস্ব সুদৃশ্য নির্মলতা আছে। এখানে আন্তর্জাতিক ইয়টিং (Yachting) প্রতিযোগিতা হয়। দেশ বিদেশ থেকে বহু প্রতিযোগী আসেন এই প্রতিযোগিতায় ভাগ নিতে।
কোণার্ক মুক্তাঙ্গন নৃত্য উৎসবঃ-
কোণার্কের সূর্য মন্দির একটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। প্রত্যেক বছর এখানে কোণার্ক মুক্তাঙ্গন নৃত্য উৎসব (Open Air Auditorium for Konarak Dance Festival) ডিসেম্বর মাসে হয়। ১লা ডিসেম্বর থেকে ৫ই ডিসেম্বর পর্যন্ত কোণার্ক নৃত্য উৎসব চলে। সারা ভারতবর্ষ থেকে এখানে বহু শিল্পী আসেন নৃত্য পরিবেশন করতে। সারা রাত এই অনুষ্ঠান হয় ফ্লাড লাইট জ্বালিয়ে। সারা রাত ওড়িশি, কুচিপুড়ি, কথাকলি, ভারতনাট্যম, মোহিনী আট্যম, কত্থক, মনিপুরী, ইত্যাদি প্রায় প্রত্যেক প্রদেশের নৃত্য প্রদর্শিত হয়। এখানে প্রসিদ্ধ নৃত্য শিল্পী বিরজু মহারাজ, কেলু চরণ মহাপাত্র, সোনাল মান সিংহ, সুধা চন্দ্রন, পদ্মা সুভ্র্যমন্যম, হেমা মালিনী, মল্লিকা সারাভাই, প্রমুখ নৃত্য জগতের প্রসিদ্ধ শিল্পীরা তাঁদের নৃত্যকলা প্রদর্শন করে দর্শককে মুগ্ধ করেন। এ ছাড়া বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পীরাও আসেন, যেমন পৃথিবী বিখ্যাত শরদ শিল্পী ওস্তাদ আমজাদ আলী খাঁ, বংশীবাদক পণ্ডিত হরি প্রসাদ চৌরসিয়া, তবলা শিল্পী ওস্তাদ জাকির হোসেন, সন্তুরশিল্পী পণ্ডিত শিব কুমার শর্মা প্রমুখ।
কি করে কোণার্ক যাবেনঃ-
বলা বাহুল্য ভবঘুরে বাঙালী পুরী-কোণার্ক না ঘুরেছে এরকম বোধ হয় কেউ নেই। পুরী এবং ভুবনেশ্বর থেকে বাস কোণার্ক যায়। এ ছাড়া ওলা ট্যাক্সি এবং অন্য ট্র্যাভেল এজেন্সি ট্যাক্সি ভাড়া দেন টুরিস্টদের। এখানে রাত্রে থাকার ব্যবস্থাও আছে। ভুবনেশ্বর থেকে ৫৮ কিলোমিটার এবং পুরী থেকে মাত্র ৩৬ কিলো মিটার যাত্রা করলেই কোণার্ক পৌঁছে যাবেন অনায়াসে। ভুবনেশ্বর থেকে ছয় লেনের সুন্দর রাস্তা পিপিলি বাইপাস দিয়ে যাওয়া যায়। প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট লাগে প্রাইভেট কারে গেলে। এছাড়া অটো, ট্রেকার, টাটা এস আছে তবে ওগুলো সুবিধের নয়। কোণার্কের এস.টী.ডি কোড ০৬৭৫৮। এখানে থাকার জন্য প্রচুর হোটেল আছে। উড়িষ্যা রাজ্য সরকারে পরিচালনায় ও টি ডি সি র পান্থনিবাস। চন্দ্রভাগার কাছে ৩ স্টার “লোটাস হোটেল” খুব সুন্দর। ওখানে সুন্দর কটেজ আছে সমুদ্র সৈকতে। বোটিং এর সুবিধে আছে। আমরা ওখানে স্বপরিবারে এক দিন কাটিয়েছি।





শ্রী জগন্নাথ মহাপ্রভুর নবকলেবর যাত্রা ২০১৫ (বঙ্গাব্দ ১৪২২ সাল) সম্বন্ধে কিছু তথ্য:- ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী



 শ্রী জগন্নাথ মহাপ্রভুর নবকলেবর যাত্রা ২০১৫ (বঙ্গাব্দ ১৪২২ সাল)
সম্বন্ধে কিছু তথ্য:-
ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী
পুরী কেবল মাত্র সমুদ্র,মন্দির,অন্যান্য সুন্দর সুন্দর দর্শনিও স্থান এর ক্ষেত্রই নয় বরং নানা উৎসব এবং যাত্রার মাধ্যমে পুরীর বৈচিত্র্য এক আলাদা তীর্থ স্থানের উপলব্ধি দেয় ।শ্রী জগন্নাথ মহাপ্রভুর রথ যাত্রা বিশ্ব প্রসিদ্ধ । ভারত বর্ষের প্রায় প্রত্যেক সহরে এর অনুকরণে রথ যাত্রার আয়োজন মহা আড়ম্বরে হয় কিন্তু পুরীর রথ যাত্রার মহাত্ম আলাদা । পুরীকে শঙ্খ ক্ষেত্র , নীলাচল ক্ষেত্র , পুরুষোত্তম ক্ষেত্র ইত্যাদি বহু নামে নামিত করা হয়েছে । যুগ যুগ ধরে কোটি কোটি ভক্তের সমাগম হয় শ্রী জগন্নাথ মহাপ্রভুর দর্শন অভিলাষে। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু ,শিখ ধর্ম গুরু , গুরু নানক , এই শ্রী ক্ষেত্রে তাঁদের স্মৃতি ছেড়ে গিয়েছেন । পুরীর স্বর্গ দ্বারের কাছে এক চৌ মাথার মোড়ে , শ্রী চৈতন্য দেবের মূর্তি আছে। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু গৌড় বাট সাহির রাস্তায় শ্রী মন্দিরে রোজ দর্শনে যেতেন , তাই ওই রাস্তার নাম গৌড় বাট (বাট= রাস্তা )।
ভারতবর্ষের চার ধাম (১) পশ্চিমে ,‘দ্বারকা ধাম’ গুজরাটের দ্বারকায় , ‘দ্বারকাধিশ’ শ্রী কৃষ্ণর মন্দির বিদ্যমান। (২) উত্তরে ‘কেদারনাথ ধাম’ । কেদারনাথের মন্দির বিখ্যাত শিবের মন্দির ,হিমালয়ের গাড়োয়াল অঞ্চলে উত্তরাখণ্ডের মন্দাকিনী নদীর ধারে অবস্থিত । (৩) পূর্বে শ্রী জগন্নাথের , “পুরুষোত্তম ক্ষেত্র” (৪) দক্ষিণে “রামেশ্বরম”। রামেশ্বরমের মন্দির ভগবান শিবের মন্দির। হিন্দু মতে এই চার ধাম ই ভারতের সর্ব বৃহৎ তীর্থস্থান । চার ধামের দর্শনে মহা পুণ্য সাধন হয় । এর মধ্যে শ্রী ক্ষেত্র অন্যতম ।
নব-কলেবর কি?ঃ- সাধারণ ভক্তের মনে নব-কলেবর কেন হয় এবং এর বিশেষত্ব কি এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক । যে বছর জোড়া আষাঢ় পড়ে সেই বছরটি শ্রী জগন্নাথ , বলভদ্র ও মা সুভদ্রার নব-কলেবর হয় । নব-কলেবর অর্থাৎ প্রভু জগন্নাথ ,বলভদ্র , দেবী সুভদ্রা ও সুদর্শনের নতুন বিগ্রহ প্রস্তুতির পরে ব্রহ্ম পরিবর্তন , নবযৌবন দর্শন এবং রথ যাত্রা উৎসব ।
বিগ্রহর প্রস্তুতির জন্য দারু অন্বেষণ যা কাকটপুরের মা মঙ্গলার স্বপ্নাদেশে বনযাগ যাত্রা নামে বলা হয় । এই যাত্রা থেকে নব-কলেবরের প্রস্তুতি পর্ব আরম্ভ ।
নব-কলেবর সম্বন্ধে কিছু তথ্য:-
যে বছর জোড়া আষাঢ় পড়ে সেই বছরটি শ্রী জগন্নাথ , বলভদ্র ও মা সুভদ্রার নব-কলেবর হয় । সাধারণত জোড়া আষাঢ় ৮, ১২ ,১৬ কিম্বা ১৯ বছর পর পড়ে । এবারে ১৯ বছর পর তিন ঠাকুরের নব-কলেবর যাত্রা সম্পন্ন হবে। বিংশ শতাব্দীর নব-কলেবর যাত্রা প্রথমে ১৯১২ ,১৯৩১ ,১৯৫০ , ১৯৬৯ , ১৯৭৭ এবং ১৯৯৬ সালে হয়েছিল। এই বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে নব-কলেবর যাত্রা ১৯ বছর বাদে পড়েছে । নব-কলেবর
১। বনযাগ যাত্রা:- পুরীর গজপতি রাজা শ্রী দিব্য-সিংহ দেব রাজগুরু কে পৈতে , বস্ত্র এবং সুপুরি প্রদান করে বঞ্জাগ যাত্রার জন্য আদেশ দেন । এই পরম্পরাকে গজপতি “রাজার আজ্ঞা” বলে বলা হয়। অর্থাৎ রাজা আদেশ দিলেন রাজগুরুকে , তিন ঠাকুরের জন্য দারু অন্বেষণে বনে যাওয়ার আয়োজন কর । সেইথেকে বনযাগ যাত্রার শুভারম্ভ হল । যে বছর নব-কলেবর যাত্রা থাকে তার পূর্ব বৎসরের চৈত্র মাসের শুক্ল দশমী থেকে সুরু হয় বনযাগ যাত্রা । অর্থাৎ ১৪২১ চৈত্র মাসের শুক্লা দশমী তে আরম্ভ হল ১৪২২ এর নব-কলেবর যাত্রার জন্য।
বনযাগ যাত্রা কি ?ঃ- তিন ঠাকুরের নব-কলেবরের জন্য দারু সংগ্রহর জন্য যাত্রা কে ‘বনযাগ যাত্রা’ বলে । পুরীর গজপতি রাজার আজ্ঞা প্রাপ্তির পর একটি বিশেষ দল , দল-বধ্য হয়ে যাত্রা আরম্ভ করে। গজপতি রাজা দিব্য-সিংহ দেব ; পুরী রাজার রাজগুরু কে পৈতে , বস্ত্র এবং সুপুরি প্রদান করে এই যাত্রার শুভারম্ভ করেন । এই পরম্পরাকে “গজপতি রাজার আজ্ঞা” বলে বলা হয়। অর্থাৎ রাজা আদেশ দিলেন রাজগুরুকে , তিন ঠাকুরের এবং সুদর্শনের জন্য দারু অন্বেষণে বনে যাওয়ার আয়োজন কর ।
সে-ইথেকে বনযাগ যাত্রার শুভারম্ভ:-
রাজগুরু যিনি জগন্নাথ মন্দিরের মুখ্য সেবায়ত , তিনি এই সংকল্প সুপারি দইতাপতি(রথের সময় এরা তিন ঠাকুরের সেবায়ত) দলপতি শ্রী হলধর দাস-মহাপাত্র কে প্রদান করেন । এই পরম্পরাকে শ্রী ক্ষেত্রে “গুয়া টেকা” বলে। এই সমস্ত পদ্ধতি গত ২৯ মার্চ ২০১৫(রবিবার) চৈত্র শুক্ল দশমী তে সুসম্পন্ন হয়েছে । এর পর জগন্নাথ মন্দিরের সিংহ দ্বার থেকে বনযাগ যাত্রা সুরু হল। শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের তিন ঠাকুরের মধ্যাহ্ন ভোগের পর অপরাহ্ণ ৩ টের সময় দারু-গৃহ অনুকূলের পর এই যাত্রা সুরু হয় ।
এই যাত্রাতে বরিষ্ঠ দইতাপতি হলধর দাস মহাপাত্র র সঙ্গে দলপতি অধ্যাপক দুর্গা-প্রসাদ দাস মহাপাত্র , ৯৬ জন দইতাপতি , ১৪ জন ব্রাহ্মণ , ১০ জন বিশ্বকর্মা(কাষ্ঠ শিল্পী) , শ্রী মন্দিরের ২ জন পুরোহিত , ২ জন রাজগুরু , ১ জন পতি-মহাপাত্র , ১ জন লেঙ্কা , ১জন দেউল করণ(কায়স্থ) , ১ জন তঢ়উ করণ , সর্ব মোট ১৩০ জন , মন্দিরের পুলিশ , ডাক্তার , এবং দারু পরিবহনের জন্য তিনটি বিশেষ ভাবে সজ্জিত গরুর গাড়ী । এখানে উল্লেখ যোগ্য সকলে পদব্রজে এই যাত্রা পুরী থেকে কাকটপুর মঙ্গলা মন্দির অবধি পুরী- কোণার্ক মেরিন ড্রাইভের রাস্তায় যাত্রা করবেন । ২৯ শে মার্চ ২০১৫(রবিবার) সকলে পুরীর জগন্নাথ বল্লভ মঠে রাত্রিযাপন করেছিলেন ।
রাস্তায় বিভিন্ন যায়গায় বিশ্রাম এবং শ্রী মন্দির প্রশাসন থেকে খাদ্যের ব্যবস্থা আছে । সকলে মাটিতে শয়ন করবেন এবং সাত্ত্বিক মন্দিরের প্রসাদ সেবন করবেন । দিনের বেলায় ফল মূল ছাড়া অন্য কিছু আহার নিষিদ্ধ । রাত্রে বিশ্রাম এবং মহা-প্রসাদ সেবন।
এর পরদিন অর্থাৎ ৩০ শে মার্চ ২০১৫(সোমবার) শ্রী জগন্নাথ বল্লভ মঠ থেকে বিলম্বিত রাত্রিতে বেরিয়ে পুরীর সন্নিকটে নুআনই , বালিঘাই হয়ে রামচন্ডী মন্দিরে তে ৩১ শে মার্চ ২০১৫(মঙ্গলবার) রাত্রিযাপন এবং বিশ্রাম । ১ লা এপ্রিল ২০১৫(বুধবার) পূর্বাহ্ণে যাত্রা সুরু এবং রাত্রে কুঢেই গ্রামের “শঙ্করে-শ্বর মন্দিরে”রাত্রিযাপন ।
১ লা এপ্রিল ২০১৫(বুধবার) পূর্বাহ্ণে যাত্রা সুরু এবং রাত্রে কুঢেই গ্রামের “শঙ্করে-শ্বর মন্দিরে” রাত্রিযাপন ।
২রা এপ্রিল ২০১৫ তে কাকটপুর “মা মঙ্গলার মন্দিরে” পৌঁছবেন । মা মঙ্গলার মন্দিরের “দেউলি মঠে” ২ তারিখে সকলে পৌঁছে রাত্রিযাপন করবেন ।
৩রা এপ্রিল ২০১৫ থেকে মা মঙ্গলার পূজার্চনা সুরু হবে । এর পর মা মঙ্গলা প্রসন্ন হলে স্বপ্নাদেশ হবে দারুর অবস্থিতি সম্পর্কে সূচনা । এসব প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন হওয়ার পর দারুর সন্ধানে বনযাগ যাত্রীরা যাত্রা করবেন নির্দিষ্ট স্থানে ।
নব-কলেবর নিমিত্ত তিন ঠাকুরের জন্য যে বৃক্ষ চিহ্নিত করা হয় বা ব্যাবহার করা হয় তার লক্ষণ গুলি নিম্ন লিখিত অনুসারে নির্বাচন করা হয়:-
১. বৃক্ষ টি নিম বৃক্ষ হওয়া প্রয়োজন ।
২. বৃক্ষের অনতিদূরে ঊই ঢ়িপি , নদী , স্মশান কিম্বা পুষ্করিণী থাকা অনিবার্য । বৃক্ষের কাছে বেল গাছ ,তুলসী গাছ থাকা প্রয়োজন ।
৩. বৃক্ষে কোন পাখির বাসা থাকবে না , ঊই ঢ়িপির কাছে নাগ সাপ গাছটিকে পাহারা দিতে দেখা যাবে ।
৪. বৃক্ষের কোন অংশ কীট পতঙ্গ দ্বারা আক্রান্ত , কিম্বা বজ্র পাতের চিহ্ন থাকবে না । পূর্বে কোন ডাল কাটা না হওয়া প্রয়োজন । কোন রকম খুঁত থাকা চলবে না ।
৫. সেই বৃক্ষে শঙ্খ , চক্র , গদা ,পদ্ম চিহ্ন থাকা প্রয়োজন ।
৬. বৃক্ষটি অন্যূন ১২ ফুট লম্বা সোজা এবং মোটা হওয়া প্রয়োজন যাতে অনায়াসে বিশ্বকর্মার দ্বারা মূর্তি নির্মাণ কর্ম সুসম্পন্ন হবে ।
উপরোক্ত লক্ষ্মণ গুলি অনিবার্য এবং তারপর অন্বেষণকারী দল ঠিক করে পবিত্র দারু নির্বাচন করেন। এরপর দারু নির্বাচন কার্য সুসম্পন্ন হয় । বিশ্বকর্মা এরপর মাপজোপ করেন । এরপর যথাবিধি যজ্ঞশালা , যজ্ঞকুণ্ড , অঙ্কুরারোপণ গৃহ নির্মিত হয়ে বনযাগ হোম আরম্ভ হয় । এরপর আচার্য অস্ত্র-পূজায় বসে সোনা , রুপো ও লৌহ কুড়ুলকে যথাক্রমে বিদ্যাপতি , বিশ্বাবসু ও বিশ্বকর্মা সেবকদের সহায়তায় বৃক্ষ ছেদন করা হয় ।
দারু ঘোষনাঃ- বর্তমানের প্রশাসনের নির্দেশানুযায়ী কোন টিভি চ্যানেল কিম্বা অন্য মিডিয়ার লোক গণমাধ্যমে পূর্ব সূচনা দিতে পারবেন না । দারুর ফটো চিত্র উত্তোলন কিম্বা ভিডিও রেকর্ডিং নিষেধ । কোন সেবায়তের সঙ্গে সাক্ষাৎকার নিষেধ আছে । প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এইসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । পবিত্র দারু সরকারি স্তরে ঘোষণা হবে এবং সেবায়ত ব্যতীত কোন জনসাধারণের স্পর্শ নিষেধ । দারু উত্তর দ্বার পথে শ্রী মন্দিরে প্রবেশ হবে।
প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সূচনা:-
একবিংশ শতাব্দীর এই প্রথম নব-কলেবর যাত্রার প্রারম্ভে প্রশাসনের গুরু দায়িত্ব যাত্রীদের সুরক্ষা,সুব্যবস্থা এবং সুচারু রূপে যাত্রা সুসম্পন্ন করা , যার প্রস্তুতি এবং ঘন ঘন মিটিং সুরু হয়েছে বৎসরের প্রারম্ভ থেকেই । এর জন্য পুরী টেম্পল এডমিনিস্ট্রেশনের মুখ্য প্রশাসক শ্রী সুরেশ চন্দ্র মহাপাত্র , আই।এ।এস ; পুরীর জেলা প্রশাসক (কালেক্টর) শ্রী অরবিন্দ অগরওয়াল, আই।এ।এস , পুরীর গজপতি রাজা , মহামান্য শ্রী শ্রী দিব্য-সিংহ দেব (চলন্ত বিষ্ণু বলে বলাহয় তাঁকে) , পুরীর বিধায়ক শ্রী মহেশ্বর মাহান্তী এবং পুরীর সাংসদ শ্রী পিনাকী মিশ্র । তা ছাড়া মন্দিরের মুখ্য পাণ্ডা , দইতাপতি ও সেবায়তদের নিয়ে দফায় দফায় মিটিং চালিয়ে যাচ্ছেন । এর থেকে সহজেই অনুমেয় প্রশাসনের ব্যগ্রতা শ্রী জগন্নাথ মহাপ্রভুর নব-কলেবর যাত্রা যাতে সুসম্পন্ন হয় নির্বিঘ্নে ।
২০১৫ সাল জগন্নাথ রথ যাত্রার এক বিশেষ উৎসবের দিক হল ‘নব-কলেবর’ এবং এর জন্য রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকার উভয়েই প্রশাসনিক দিক থেকে তৎপর যাতে শ্রী জগন্নাথের নব-কলেবর যাত্রা সুচারু রূপে সম্পন্ন হয়। তাই কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী শ্রীযুক্ত ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং পর্যটন মন্ত্রী ডক্টর মহেশ শর্মা র নেতৃত্বে এ বছরের জগন্নাথের রথ যাত্রার বিশেষ নামকরণ করা হয়েছে যার নাম সরকারি স্তরে ধার্য হয়েছে“নব-কলেবর রথ যাত্রা” । এজন্য কেন্দ্র সরকার-থেকে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে । আশা করা হচ্ছে এই বছর নব-কলেবরের সময় ২০ – ২৫ লক্ষ ভক্তের সমাগম হবে । তাই প্রত্যেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের যাত্রীদের সুব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার উভয় কিছু নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন। ভুবনেশ্বর থেকে পুরী যাওয়ার নতুন করে ৪ লেনের রাস্তা সম্পূর্ণ হয়ে-গিয়েছে তাই পুরী যেতে মাত্র ১ ঘণ্টা সময় লাগছে। রেল লাইন দোহরিকরন হয়েছে । বাস টার্মিনাল , কার পার্কিং ইত্যাদি নতুন করে মালতিপাটপুরের কাছে তৈরি হয়েছে। প্রায় প্রত্যেকটা ছোট ছোট যায়গা যেমন পিপিলি, সাক্ষীগোপাল ,চন্দন-পুর বাইপাস করে রাস্তা তৈরি হয়েছে । ভুবনেশ্বর থেকে রেড লাইন নন স্টপ বাতানুকূল বাস চালু হয়েছে পুরী পর্যন্ত যাত্রীদের সুবিধের জন্য ।
২০১৫ নব-কলেবরের জন্য কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের বিশেষ বাজেট:- ১) শ্রী জীউ জগন্নাথ,বলভদ্র, দেবী সুভদ্রা র নব-কলেবরের নীতির জন্য ২১ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দ হয়েছে ২) শ্রী মন্দিরের চতুষ্পার্শ্বের রাস্তা মেরামত এবং সম্প্রসারন যার ব্যয় বরাদ্দ রাশি ২০ কোটি টাকা , । ৩) জয়-বিজয় দ্বারের রুপোর ছাউনির জন্য ২ কোটি টাকা , ৪) প্রভুর দৈনন্দিন নীতি সম্পাদন এবং সেবা পূজার উদ্দেশ্যে ১৫ কোটি ৩২ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা ব্যয় বরাদ্দ হয়েছে , ৫) শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের কর্মচারীদের মাস মাহিনা এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাবদ ২৫ কোটি ২৫ লক্ষ ৭৪ হাজার ৮৫০ টাকা ব্যয় বরাদ্দ , ৬) সেবায়তদের পুত্র সন্তানদের বৈদিক শিক্ষা বাবদ এক আদর্শ বিদ্যালয় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠা হবে । ৭) প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ৩ কোটি ২৭ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ব্যয় বরাদ্দ , 8) শ্রী গুন্ডিচা মন্দিরের সংগ্রহালয় নির্মাণের প্রস্তাব , আনন্দ বাজার পুনরুজ্জীবিত , আঠার নালার গরুড় মূর্তি প্রতিষ্ঠা , শ্রী গুন্ডিচা ভক্ত-নিবাস নির্মাণ ,
২০১৫ নব-কলেবরের কার্য্যসূচী ঃ-
১. ২৯ মার্চ ২০১৫ রবিবার , বনযাগ যাত্রা আরম্ভ ২০১৫ নব-কলেবর কার্য্যসূচী ঃ-
১. ২৯ মার্চ ২০১৫ রবিবার , বনযাগ যাত্রা আরম্ভ (সম্পূর্ণ যাত্রা পদব্রজে) , চৈত্র মাসের শুক্ল দশমী থেকে সুরু হয় বনযাগ যাত্রা । জগন্নাথ বল্লভ মঠে রাত্রিযাপন ।
২. ৩০ মার্চ ২০১৫ সোমবার , মধ্য রাত্রিতে দইতাপতিরা জগন্নাথ বল্লভ মঠ ছেড়ে ‘নুয়ানোই’ নদীর কূল সংলগ্ন আশ্রমে রাত্রিযাপন
৩. ৩১ মার্চ ২০১৫ মঙ্গলবার , আশ্রম থেকে বেরিয়ে মেরিন ড্রাইভ রাস্তায় পদব্রজে রামচন্ডী মন্দিরে রাত্রি যাপন ।
৪. ১ লা এপ্রিল ২০১৫ বুধবার পূর্বাহ্ণে যাত্রা সুরু এবং রাত্রে ‘কুঢেই’ গ্রামের “শঙ্করে-শ্বর মন্দিরে”রাত্রিযাপন ।
৫. ২রা এপ্রিল ২০১৫ বৃহস্পতিবার তে কাকটপুর “মা মঙ্গলার মন্দিরে” পৌঁছবেন । মা মঙ্গলার মন্দিরের “দেউলি মঠে” ২ তারিখে সকলে পৌঁছে রাত্রিযাপন করবেন ।
৬. ৩রা এপ্রিল ২০১৫ শুক্রবার থেকে মা মঙ্গলার পূজার্চনা সুরু হবে । এর পর মা মঙ্গলা প্রসন্ন হলে স্বপ্নাদেশ হবে দারুর অবস্থিতি সম্পর্কে সূচনা ।
৭. ৪ঠা এপ্রিল ২০১৫ শনিবার থেকে দারু অন্বেষণে ৬ টি দলে বিভক্ত হয়ে পবিত্র দারু সন্ধানে যাত্রা সুরু।
৮.প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে দারু চিহ্নট ক্রিয়া সম্পন্ন । প্রশাসনের দ্বারা পবিত্র দারু সম্বন্ধে ঘোষণা ।
…………… *******…………..
৯. ২ জুন ২০১৫ মঙ্গলবার দেব-স্নান পূর্ণিমা । তিন ঠাকুরের জর হয় তাকে ‘অণসর ঘরে বাস’ বলে। এখানে ঠাকুরকে রাজবৈদ্য দ্বারা ঔষধাদির প্রলেপ এবং সেবা শুশ্রূষা করা হয় । এরপর ঠাকুরের জর ছাড়ে এবং ঠাকুর সুস্থ হন ।
এরপর বিগ্রহ পরিবর্তন রুদ্ধ দ্বারে । সম্পূর্ণ রুদ্ধ দ্বারে নতুন বিগ্রহ বিশ্বকর্মা র দ্বারা সুসম্পন্ন । সর্বসাধারণ এবং প্রশাসনের কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়না এইসময় ।
১৫ ই জুন ২০১৫ সোমবার , বলরাম , মা সুভদ্রা ও জগন্নাথ মহাপ্রভুর ব্রহ্ম পরিবর্তন । বড় পাণ্ডা করেন ।
এর পর পূরণ বিগ্রহ কৈলি বৈকুণ্ঠে স্থানান্তরিত এবং সমাধি । উত্তর দ্বারের সংলগ্ন কৈ্লি বৈকুণ্ঠ ।
১৭ ই জুলাই ২০১৫ , শুক্রবার ঃ তিন ঠাকুরের নব যৌবন দর্শন । এই দর্শন অত্যন্ত পুণ্য অর্জন করে তাই লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয় ।
১৮ ই জুলাই ২০১৫ শনিবার শ্রী গুন্ডিচা যাত্রা বা জগন্নাথের রথ যাত্রা ।
২৬ শে জুলাই ২০১৫ রবিবার উল্টো রথ যাত্রা ।
২৭ শে জুলাই ২০১৫ সোমবার তিন ঠাকুরের সোনা বেশ ।
জয় জগ্ননাথ

দয়া আর মায়া সমান নয় । শ্রী শ্রী পরমহংস রামকৃষ্ণ দেব বলেন,দয়া মানে .......




 দয়া আর মায়া সমান নয় । শ্রী শ্রী পরমহংস রামকৃষ্ণ দেব বলেন,দয়া মানে সর্বভূতে আমার হরি আছেন। এই জেনে সকলকে সমান ভালোবাসা। দয়া আর মায়া দুটি আলাদা জিনিস। 
মায়া মানে আত্মীয়ে মমতা- যেমন বাবা,মা,ভাই,বোন,স্ত্রী পুত্র - এদের ভালবাসা। 
দয়া সর্বভূতে ভালোবাসা- সমদৃষ্টি। কারু ভেতর যদি দয়া দেখ, সে জানবে ঈশ্বরের দয়া। দয়া থেকে সর্বভূতে সেবা হয়।
মায়াতে মুগ্ধ ক'রে রাখে আর বদ্ধ করে কিন্তু দয়াতে চিত্তশুদ্ধি হয়।ক্রমে তাহা বন্ধন মুক্ত হয়।