Saturday, September 20, 2014

মহালয়ার মহত্ব / ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী / ২০.০৯.২০১৪ রাত ৮.৫২ /



মহালয়ার মহত্ব
 
ত্রিভুবন জিৎ  মুখার্জী / ২০.০৯.২০১৪ রাত ৮.৫২ /

কৃতজ্ঞতা জানান আমাদের সংস্কৃতির এক মহান পরম্পরা । কেউ কোন উপকার 

করলে আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা বোধ দেখিয়ে তাকে ধন্যবাদ জানাই । এই 

কৃতজ্ঞতা ভাবটি আসে পূর্ব সংস্কার থেকে। ঠিক সেইরকম পিতৃ পুরুষকে 

কৃতজ্ঞতা জানানোর পর্ব বা দিন হচ্ছে ‘মহালয়া’ । প্রতিবছর আশ্বিন মাসে 

প্রতিপদ 

তিথিতে অপরপক্ষ আরম্ভ হয়ে আমাবস্যা তিথিতে ‘মহালয়ার’ দিন শেষ হয় ।এই 

পক্ষ কে ‘পিতৃপক্ষ’ বলা হয় । মহালয়া শ্রাধ্য দেওয়ার মহৎ উদ্দেশ্য – পিতা মাতা

 এই সুন্দর পৃথিবীর আলো আমাদের দেখিয়েছেন । তাঁদের দুঃখ কষ্টের দিনে

 আমাদের এতটুকু না বুঝতে দিয়ে আমাদের লালন পালন করেছেন । রাত কে 

দিন করে আমাদের অসুখ বিসুখে আমাদের সেবা সুশ্রুসা করে আরোগ্য করেছেন। 
আমাদের দিন কালে অত বড় ডাক্তার বদ্যি ছিলেন না । আমাদের মায়েরাই 

টোটকা ওষুধ দিয়ে নানান আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পধ্যতির দ্বারা রোগের উপশম 

করতেন। তখনকার দিনে ডাক্তার রা এত ওষুধ দিতেন না । ওষুধ তৈরি করে 

দিতেন কম্পাউন্ডার রা । যাইহোক মা বাবা অনেক কষ্ট করতেন ছেলে মেয়ের 

জন্য । তারমানে এই নয় যে এখনকার মা বাবারা কষ্ট করেন না । প্রসঙ্গে আসি ; 

আমাদের বিশ্বাস আছে ‘শ্রধ্যা’ অর্পণ করার দ্বারা ‘শ্রাধ্য’ হয় , অর্থাৎ পিতা মাতাকে 

শ্রধ্যা করেন যে ব্যক্তি , তিনি শ্রাধ্যর মাধ্যমে শ্রধ্যা অর্পণ করেন। এটাই মূল উদ্দেশ্য ।

Wednesday, September 17, 2014

শাহানা / ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী / ১৫.০৯.২০১৪ / রাত ১০.২৮ (সম্পূর্ণ কাল্পনিক এই গল্পের সঙ্গে কারুর কোন সামঞ্জস্য নেই)



শাহানা / ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী / ১৫.০৯.২০১৪ / রাত ১০.২৮
(সম্পূর্ণ কাল্পনিক এই গল্পের সঙ্গে কারুর কোন সামঞ্জস্য নেই)

বাড়ী সুধু সকলে কাঁদতে লাগলো । মেয়েটাকে বাঁচান গেলনা । চিকিৎসার অভাবে মেয়েটা ছটপট করে মারা গেল । অসুখ ধরা পড়ার আগেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলো । আঠারো বছরের মেয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়া এই প্রথম ঘটনা না । এরকম অনেক বাচ্চা , বুড়ো , বুড়ী , যুবতিকে প্রাণ হারাতে দেখা গিয়েছে এই এলাকায় । এলাকায় কোন ডাক্তারখানা নেই কিম্বা কোন ডাক্তার এই গ্রামে থাকতে চান না । গমনা গমনের অসুবিধা । রাস্তা মেরামত হয়না । প্রশাসন নিষ্ক্রিয় । অভিযোগ শোনার কেউ নেই। ভোটের সময় এম এল এ আসেন প্রতিশ্রুতি দেন তারপর পাঁচ বছর নাকে সর্ষের তেল দিয়ে ঘুমন।
যে মেয়েটি মারা গেল তার নাম ‘শাহানা’ । এই পরের বছর 'নিকার' ঠিক হয়েছিল পাসের গ্রামের ছেলে সাকিল আহাম্মদের সঙ্গে । ছেলেটি পড়াশুনো করেছে । স্কুল ফাইনালের পর কম্প্যুটার শিখে নিজেই একটা চাকরি যোগাড় করেছে কোলকাতায় । ওখানে থেকেই বি.কম পড়ছে আবার চাকরি ও করছে । খুব ভালো ছেলে । তাই শাহানার বড় ভাই ‘মীর আলী’ , বোনের জন্য যোগ্য পাত্র হিসেবে ‘সাকিল’ কে পছন্দ করে। সাকিলের বাবা মা এসে ‘শাহানা’ কে দেখে যান । ওনারা পরের বছর ওদের নিকার দিন স্থির করেন। রক্ষণশীল পরিবার তাই বিয়ের আগে কেউই কাউকে দেখে নি ।
শাহানা , বান্ধবীদের মাধ্যমে ‘সাকিলের’ কথা জানত কারন ওর স্কুলের বান্ধবীরা ওই গ্রাম থেকে আসে স্কুলে পড়তে । সাকিলের মামাতো বোন ‘নুর’ আবার শাহানার বান্ধবী । ওরা একই ক্লাসে পড়ত । শাহানা স্কুল ফাইনালের পর আর পড়াশুনো করার সুযোগ পায়নি। গ্রামের কাছে কলেজ নেই তাই পড়ায় ফুল স্টপ ।
এই হচ্ছে এই গল্পের পূর্বাভাষ ঃ
শাহানা সাকিলের ‘নিকা’ ঠিক হয়েও আল্লা তাদের সহায় হলেন না । শাহানা র অকাল মৃত্যু , তার ভাই মীর আলীর মনে সবচেয়ে বেশি দুঃখ দেয়। সে মনে মনে স্থির করে এই গ্রামে একটা ছোট হাঁসপাতাল করবে । তাই সে ট্যাক্সি চালিয়ে যা রোজগার করত তা ছাড়াও প্যাসেঞ্জারদের কাছথেকে রসিদের বই হাতে কিছু সাহায্য চাইতো তাদের গ্রামের হাঁসপাতাল তৈরির জন্য। কেউ দিত কেউ দিত-না । ৫ টাকা ১০ টাকা করে দিন দিন কঠোর পরিশ্রমে এবং গ্রামের কিছু সহৃদয় ব্যক্তির উদ্যমে প্রথমে একটি ঘর করে । যে জায়গাটার ওপর হাঁসপাতালের জন্য ঘর হয় সেটা ওদের বাপ ঠাকুরদা আমলের জায়গা । সেই জায়গা “শাহানা মেমোরিয়াল চ্যারিটেবল হসপিটাল” এর নামে রেজিস্ট্রি করে এবং একটা ট্রাষ্ট বানায় । ট্রাষ্টি মেম্বার হিসেবে কিছু গ্রামের সহৃদয় ব্যক্তি বিশেষ কে করে , যারা তাকে প্রচুর সাহায্য করেছে । তাদের নেয় এবং সেই মেম্বার দের দ্বারা নিজে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। সাকিল ও তাতে থাকে ।
আস্তে আস্তে হাঁসপাতাল আরম্ভ হয় ১০ টি শয্যা বিশিষ্ট এবং একজন রিটায়ার্ড আর্মি ডাক্তারকে নিয়ে , যার নাম “মেজর শেখ নুরুল হাসান, এম.ডি ” । উনি কোন টাকা পয়সা না নিয়ে ওই ডাক্তার খানায় সকাল ৮ টা থেকে ১২ টা অবধি পেসেন্ট দেখতেন। নিজে রুগীদের ফিজি-সিয়ান স্যাম্পল থেকে ওষুধ দিতেন । কিছু পেসেন্ট যারা টাকা দেওয়ার সামর্থ্য রাখতো তারা ওষুধ কিনে নিত । ওই এলাকায় এন্সেফালাইটিশ (মস্তিষ্ক জ্বর) দেখা দিয়েছিল এবং তাতেই সম্ভবত শাহানার মৃত্যু হয় বলে অনুমান করেন ডাক্তার হাসান । বেশ ভালো কাটছিল । “শাহানা মেমোরিয়াল চ্যারিটেবল হসপিটাল” এ ডোনেসন দিলে যাতে আয়কর থেকে রেহাতি পাওয়া যায় তার জন্য মীর , আয়কর দপ্তর থেকে এবং কেন্দ্র সরকার থেকে অনুমোদন আনে । এর জন্য দিল্লী দৌড়য় বারে বারে । অনেক খড় কুটো পুড়িয়ে আজ হাঁসপাতাল ৫০ বেডের হাঁসপাতালে উন্নীত হয়। বেচারা মীর রাত দিন এক করে ওই হাঁসপাতালের সর্বাঙ্গীণ উন্নতির জন্য । তার সর্বস্ব দিয়ে হাঁসপাতাল তিন তালা নার্সিং হোমে পরিণত হয়। এখন চার জন ডাক্তার এবং ১২ জন নার্স । দুজন স্পেশালিষ্ট মেডিসিন এবং গাইনিকের । তারা সব্বাই সপ্তাহে তিন দিন আসেন । একটা মেডিসিন ষ্টোর করেছে । প্যাথলজিষ্ট এবং স্যাম্পেল কালেক্টার মিলে ১২ জন । কিছু স্বেচ্ছাসেবী আছে তাদের মধ্যে যারা টাকা পয়সা না নিয়ে শ্রম দান করে ।
ব্যাস এবার ওই হাঁসপাতালের ওপর শ্যেন দৃষ্টি পড়ে স্থানীয় বিধায়ক মহাশয়ের। উনি নিজে ওর চেয়ারম্যান হওয়র জন্য উঠে পড়ে লেগে পড়েন । এরপর আরম্ভ হয় রাজনীতি । কিছু স্থানীয় ব্যবসায়ী র মাধ্যমে স্থানীয় বিধায়ক ওই ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হতে চান। বলা বাহুল্য এতে মেম্বার রা কেউ রাজি না হওয়াতে আরম্ভ হয় পুলিসের জুলুম । মিথ্যা কেস দিয়ে মীরকে ফাঁসানোর চেষ্টা । কিছু চেলা চামুণ্ডাকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয় , “মীর লোকদের কাছ থেকে হাঁসপাতালের নাম করে টাকা ঠকিয়ে নিয়েছে বিনা রসিদে”। থানা বাবুরা সক্রিয় হয়ে পড়েন বিধায়ক মহাশয়ের নির্দেশে মীরের বিরুধ্যে । থানা থেকে মীরকে ডাকা হয় থানায় একলা আস্তে ।
মীর ওই অভিযোগ মিথ্যা এবং ও কেন থানাতে একলা যাবে তার পালটা অভিযোগ করে । বিনা ওয়ারেন্টে থানায় যাবে না সাফ জানিয়ে দেয় , কারা কত টাকা কবে দিয়েছে তার প্রমাণ দিতে বলে। এ বিষয় তার উকিলের মাধ্যমে কোর্টের দ্বারস্থ হয় । ওর নিজের গ্রাম এবং আসে পাসের সব গ্রামের লোকেরা বিধায়কের ওই বদ উদ্দেশ্য প্রশাসনকে লিখিত জানায় । এ ছাড়া কোর্টকেও জানায় । ওই সব কাগজ পত্র এবং হাঁসপাতালের আরম্ভ থেকে আজ পর্যন্ত সমস্ত কাগজের সার্টিফায়েড নকল কোর্টে উকিলের মাধ্যমে দিয়ে হলফ-নামা দায়ের করে। এতে বিধায়ক ফ্যাসাদে পড়েযান ।
এরপর আরম্ভ হয় লেঠেলদের দিয়ে মীরকে আক্রমণ । ওকে আক্রমণ করা হয় সুপরিকল্পিত ভাবে এবং ওকে রক্তাক্ত করে ওরই তৈরি হাঁসপাতালের সামনে ফেলে পালায় লেঠেল বাহিনী ।
ভাগ্য বশত: মীরের জ্ঞান ফেরে । মেজর হাসান মীরের চিকিৎসা করে ওকে সুস্থ করেন । গ্রামের লোকেরা রাস্তা বন্ধ করে । বিধায়কের বাড়ীর সামনে পিকেটিং করে । থানা ঘেরাও করে । কোলকাতা থেকে ওদের গ্রামে টিভির লোকেরা আসেন। মীরের এবং গ্রামের লোকদের সমস্ত কথা ভিডিও রেকর্ডিং করেন। প্রায় প্রত্যেক চ্যানেলে ওই ভিডিও রেকর্ডিং দেখান হয় । মীরের সাহসিকতা এবং কাজের প্রশংসা করে দল নির্বিশেষে এবং বিধায়কের কাজের ঘোর নিন্দা হয় । গ্রাম বাসিরা মীরের স্বার্থ ত্যাগ এবং হাঁসপাতাল নির্মাণে কঠোর পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করে ওকে পরে নির্বাচনে প্রার্থী করার সুপারিস দেন।
এতে প্রশাসনের নিদ্রা ভাঙ্গে । থানার ওসিকে ট্রান্সফার করা হয় । বিধায়ক কে পার্টি থেকে সাসপেন্ড করা হয় । মন্ত্রী জন সাধারণের কাছে ক্ষমা চান । সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচারের অভিযোগে বিধায়কের বিরুধ্যে মামলা চলে ।
মীর কিন্তু তার ট্যাক্সি চালান অব্যাহত রাখে । ওই টাকাতেই তার সংসার চলে । আজ শাবানর কথা খুব মনে পড়ছে । চোখের জল থামাতে পাচ্ছেনা । আজ ওর বোন বেঁচে থাকলে বিনা চিকিৎসায় মারা যেতনা । মীরের সারা জীবনের আক্ষেপ ওর বোনকে বাঁচাতে পারলোনা । হায় আল্লা আজ শাহানা যদি বেঁচে থাকতো কত খুশী হত ।
ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী / ১৫.০৯.২০১৪ / রাত ১০.২৮

Sunday, September 14, 2014

আবিষ্কারের নেশা / ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী ১৩শ পর্ব / 15.09.2014 /


আবিষ্কারের নেশা

ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী

১৩শ পর্ব 
শালিনী মন স্থির করতে পারছেনা বিয়ের ব্যাপারে। অথচ বয়েস থাকতে , বিশেষ করে মায়ের মণ  রাখতে বিয়েটা সেরে ফেলতেই হবে। এত দিন এড়িয়ে চলেছে এখন না করে উপায় নেই। মায়ের বয়েস হচ্ছে। ওনার দিকটাও ভাবা প্রয়োজন।
আজ রবিবার। সারাদিন বিশ্রাম। ঘর গুছতে গুছতে মায়ের কথা ভাবছিল। আজ মায়ের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলবে সে। সেদিন মা নিশ্চয় খারাপ কিছু ভেবেছেন। ওর ব্যাবহার টা অনেক সময় রুক্ষ হয়েযায়। ও নিজেও বোঝেনা সে কথা। লোকে খারাপ ভাবে। হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো ....... কে?
আমি ডঃ ভট্টাচার্য।
ও! হ্যাঁ সার .... দরজা খুলে গুড মর্নিং সার। আপনি কষ্ট করে এলেন কেন? আমাকে ডাকলেই আমি চলে যেতাম পার্কে! আসুন আসুন সার বসুন। 
ভেরি গুড মর্নিং। আজ আপনি মর্নিং ওয়াকে যান নি? আসলে  আপনি ঘর দোর কেমন সাজিয়েছেন দেখতে এলাম। আপনার অসুবিধে হবে না ত!
না না অসুবিধের কি আছে সার?  আপনি বসুন আমি চা করে আনি।
ডঃ ভট্টাচার্য শালিনীর ঘর গোছানোর সুখ্যাতি না করে থাকতে পারলেন না ... (শালিনী চা বিস্কুট হাতে ঢ়ুকছিল ঘরে) ... আপনি সুন্দর গুছিয়েছেন ঘরটা। আপনার ‘টেস্ট’ এর  প্রশংসা না করে থাকতে   পারছিনা। 
(চা দিতে দিতে) ... এটা বাড়িয়ে বললেন সার।  কি এমন গুছিয়েছি। কিছুই ত নেই গোছানর মত।  কিছু বই, রবীন্দ্র রচনাবলী, শরৎ রচনাবলী, মাদার টেরেসার ছবি, পরম পুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ও সারদা মায়ের যুগল ছবি। এ ছাড়া একটা এলসিডি-টিভি আর পাশে একটা ল্যাপ্ টপ।  পাসের ঘরে একটা  সিঙ্গিল বেডের খাট। ওটা গেস্ট রুম থেকে এনেছে। নতুন খাট এলে ফিরিয়ে দেবে।
চা খেতে খেতে সার চায়ের সুখ্যাতি করলেন। এটা ত বাগানের চা (দার্জিলিং টি)। বাঃ কি ফ্লেভার! একটা কবিতা মনে পড়ছে।

সকালের চা
ভরা পেয়ালায় তৃপ্ত মনে শেষ চুমুকেই মহা শূন্যতা
ধূমায়িত উষ্ণ শিহরন ক্ষণে মনের কাটায় বিষণ্ণতা।  
উদ্বুদ্ধ হলাম খানিক ক্ষণে কাটিয়ে দিলাম নীরবতা,
যত আলস্য নেই অবশ্য সকালের এই স্তব্ধতা।
এক পেয়ালা চা অবশ্য পুলক অনুভবের পূর্ণতা,
এর অন্যথা জীবন ব্যর্থ নেই তাতে কোন পূর্ণতা।
বাঃ। খুব সুন্দর। এটা কি আপনার লেখা।
না না। এটা যিনি লিখেছেন তিনি নেপথ্যে থাকেন। মানে থাকতে ভাল বাসেন। 
ও তাই।  হ্যাঁ আমার মামা এনেছেন এই চা। উনি ডুয়ার্ষে চা বাগানের ম্যানেজার। উনি মাঝে মাঝে   নিয়ে আসেন আসার সময়। আমাদের বাড়ীতে তাই ওই দার্জিলিং এর চায়ের চলন। বাবা ওই চা খেতে খুব ভাল বাসতেন ... চুপ করে যায় শালিনী।
কি হল? চুপ করে গেলেন যে!
আপনার কথা শুনব বলে। হেঁসে জবাব দেয় শালিনী ।
আমার কথা! ও না শোনাই ভাল!!  ছোট বেলায় বাবাকে হারাই। মা স্কুলের টিচারই করতেন। অনেক কষ্টে মানুষ হয়েছি। কঠিন অর্থের অভাবে দিন কাটিয়েছি। টিউশনি করে লেখা পড়া করেছি। ধার দেনা করে এক বোনের বিয়ে দিয়েছি। এখন মা একা। রিটায়ার করেছেন। একাই থাকেন। আমি মাসে একবার যেতে চেষ্টা করি। নানান কাজে হয়ে ওঠে না। ওই ফোনে যা কথা হয়।
শালিনীকে একটু অন্য মনস্ক দেখাচ্ছিল। কি এক চিন্তায় মসগুল মনে হচ্ছিল। হঠাৎ বলে ,হ্যাঁ সার তারপর?
বোনের বিয়ের জন্য নিজের কথা ভাববার সময় পাইনি। 
এই সময় মায়ের ফোন এল। সাইলেন্ট মোডে ছিল তাই আওয়াজ হয়নি।  সরি সার কিছু মনে করবেন না। মায়ের ফোন। একটু কথা বলি!
 হ্যাঁ হ্যাঁ নিশ্চয়। আমি আসি তাহলে।
হ্যাঁ সার আপনি আসুন। (আসলে শালিনী এটাই চাইছিল। এর মধ্যে সারের অজান্তে মাকে একটা মিস কল দেয় সাইলেন্ট মোডে , তাই মা কল ব্যাক করেন)। 
ওপার থেকে .... শালু মা তোর শাশুড়ি একা এসেছিলেন।
শাশুড়ি! আকাশ থেকে  পড়ে!! কি বলছ তুমি? আমার আবার  শাশুড়ি??
হবু শাশুড়ি ... মেয়ের আমার সব কথায় খুঁত ধরা! পারিনা!! শোন মা।
বল। তা কি বলেছেন? এখানে তোমার আরেক জামাই আমার পেছনে লেগেছেন। ভাবছি তোমায় নিয়ে আসবো।
কে শুনি? ভাল ছেলে? অয়নের চেয়ে ভাল??
তোমার কি মনে হয় মা! তুমি বড্ড লোভী!!  ভাল ছেলে হলেই অয়নকে ছেড়ে তাকে ধরতে হবে? অয়নকে আমি কথা দিয়েছি মা।  আমি আমার কথার মূল্য হারাতে পারি না।
তা ঠিক বলেছিস মা। হ্যাঁরে ওরা ত কিছুই দাবি দাবা করছে না। ওদের শুধু ১০০ জন বরযাত্রী আসবে। তাদের আদর যত্ন করতে হবে।
ও বাবা! এত দুর কথা গড়িয়েছে! ‘মা’ আমার করিত কর্মা। তা তুমি কি বললে? 
কি আবার বলব। তোর দিদি জামাই বাবু ছিলেন। ওরা দফা করেছেন ৫০ জনের জন্য। আজকালকার বাজারে ১০০ জনের আয়োজন করা চাট্টিখানি কথা! তা ছাড়া আমাদের আত্মীয় স্বজন আছেন না!!
তারপর। এত বিশাল আয়োজন! তা তুমি আমায় ঘাড় ধাক্কা দেওয়ার জন্য আর কি কি আয়োজন করেছ বল-দেখি!! 
তোর সবেতে ঠেস দিয়ে কথা বলা। এই স্বভাব টা ছাড় শালু। শ্বশুর বাড়ী গেলে কি করবি শুনি?
আমি ওখানে যাব বলে কি করে জানলে? আমি আমার কাজের যায়গায় ফিরে আসবো। ওই সব বৌ সেজে আদিখ্যেতা আমার পোষাবে না। রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করে চলে আসবো। ও সব আয়োজন বন্দ কর। আমার সময় নেই টাকাও নেই। তাতে বিয়ে হয় ত হবে নাহলে নাই। টাকার শ্রাধ্য আমি করতে পারবোনা । কে দেবে অত টাকা শুনি? বাবা গত হওয়ার  পর যা টাকা আছে সে তোমার কিছু ভাল মন্দ হলে তখন! কে দেখবে? আমি তোমায় নিয়ে আসবো আমার কাছে। যত সব বুজরুকি ..১০০ জন বরযাত্রী .. মগের মুলুক!! দেশের লোক খেতে পাচ্ছেনা ওদের ১০০ জনের খাওয়ানোর জন্য আয়োজন দরকার। কি সব সেকেলে চিন্তা ধারা।
ঠিক আছে আমি সব শুনলাম। তুমি এখানে আমার কাছে আসার জন্য তৈরি হও। আমি গিয়ে তোমায় নিয়ে আসবো। এখানে একা থাকতে অসুবিধে আছে।
রক্ষে কর মা।  তোমার রাত দিন কট কটানি কে শুনবে?
তবে যে বল আমার জন্য তোমার চিন্তায় ঘুম হয়না!
সেতো হয় না। আমি ‘মা’। তুমি ত ‘মা’ হও নি কি করে বুঝবে মা?
তাহলে তুমি আসবে না! আমার এখানে অসুবিধে হচ্ছে। আমার প্রাইভেসি নষ্ট হচ্ছে।
প্রাইভেসি! কেন কে আবার তোর ‘প্রাইভেসি’ নষ্ট করছে শুনি। 
তুমি চিনবে না। তুমি আসবে কিনা বল? আমি তোমাকে শনিবার আনতে যাব। দু দিনের ছুটি আছে। তা ছাড়া আমার কাছে কিছু দিন থেকেই দেখ না।
ঠিক আছে তাই হবে। শনিবার কখন আসবি?
এখান-থেকে জন শতাব্দী তে যাব। পরের দিন ফিরে আসব। ওখানে ওই ট্রেনটা দেড়টা নাগাদ পৌঁছয়। মানে বাড়ীতে ঢ়ুকতে ৩ টে ত বটেই। গিয়ে ভাত খাব। তোমার হাতের রান্না অনেক দিন খাইনি।
মেয়ের আদিখ্যেতা দেখ! আজ বাদে কাল বিয়ে হলে তোর মা থাকবে? তখন কি করবি শুনি?
হোটেল থেকে আনিয়ে খাব। এখন ত তাই করছি মা। রান্নার সময় কোথায়?
অয়নের ফোন এল বোধ হয় ; এখন রাখি মা। ভাল থেক। ওইসব বিয়ের আয়োজন করতে হবে না। অয়নের সঙ্গে আমি কথা বলব তারপর ও যা বলবে তাই হবে। রাখি।
আচ্ছা। তাই হবে। আমি জানি সবেতেই তোমার খবরদারি। সে ছেলেটাকে তুমি ই বলবে সে কি আমার জানতে বাকি আছে! গোবিন্দের ইচ্ছা মা আমি কে!!
আবার কে কলিং বেল বাজায়? দরজার কাছে গিয়ে আই পিসে দ্যাখে অয়ন সঙ্গে সিকুরিটি !
দরজা খুলে অয়নকে দেখে হচ কচিয়ে যায়  ... ওমা তুমি! কিছু না জানিয়ে এলে যে!!  সিকুরিটির দিকে তাকিয়ে বলে তুমি এস।  উনি আমার পরিচিত।
কেন আমার ত আজ ই  আশার কথা। তুমি যান না? সেদিন ই ত কথা হল। তুমি আমাকে হোটেলে উঠতে বললে। মনে নেই।
ও হ্যাঁ হ্যাঁ!! তা কোন হোটেলে উঠেছ শুনি?
 খুব নামজাদা হোটেল “হটেল মে ফেয়ার লাগুন” ৩ স্টার হোটেল। একটা সুট নিয়েছি ।  আমাকে বসতে বলবে না।  ফ্লাইটে কিছু খাইনি। চল বাইরে খেয়ে আসি।
৩ষ্টার হোটেলে সুট নিয়েছে শুনে শালিনীর মনে খটকা লাগে। কিন্তু কিছু প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে বলে ,  “ওমা সেকি? আমি আনিয়ে দিচ্ছি। তবে তোমার ওই হোটেলে আমি জেতে পারবোনা। একদিন ছুটি পাই সেটা বাড়ীতেই থেকে কাটাই। তাছাড়া এখানে আমি কোথায় বেরোই না। খুব প্রয়োজন হলে সিকুরিটি কিম্বা অন্য কাউকে দিয়ে আনিয়ে নি।”
কিন্তু আমি যে তোমার জন্য সুট বুক করলাম।  ঠিক আছে। আমার সময় কম। নেক্সট ফ্লাইট ৫ টায়। এই ক ঘণ্টা একটু তোমার সঙ্গে কাটাব। 
অসভ্যতা-মি করবে না কিন্তু। লক্ষ্মী ছেলের মত যা বলব তাই করবে। এখানে দেওয়ালের ও চোখ কান  আছে। আমি একা মহিলা বুঝতেই পারছ। এখন ও আমাদের বিয়ে হয়নি। 
হ্যাঁ তাই করব। বলে ত দেখ। আগে বাথ রুমে যাব। বাথ রুমটা কোথায়?
শালিনী, অয়ন কে  বাথ রুম দেখিয়ে সিকুরিটির কাছে গেল হোটেল থেকে ওদের দুজনের জন্য খাবার আনাতে।  তারপর মিসেস নায়ারের বাড়ী গিয়ে ওনার সঙ্গে কিছু কথা বলে  কোয়ার্টারে ফিরতে ফিরতে  মিনিট কুড়ি ত্রিশ সময় লেগেছে । কোয়ার্টারে এসে দ্যাখে দরজা হাট করে খোলা। ভেতরে কেউ নেই। অয়নের একটা চিরকুট দ্যাখে কম্পুটার টেবিলে ওপর,  তাতে লেখা- “সরি ডিয়ার আমি এসেছিলাম   তোমার সান্নিধ্য পেতে , তোমার হোটেল থেকে আনান খাবার খেতে নয়। আমাকে তুমি এভাবে অপমান করতে পার না। আমি তোমার জন্য দামি হোটেলের স্যুট বুক করেছিলাম। আমরা দুজনে সময় কাটাব বলে কিন্তু তুমি শুনলে না।  তুমি নিজেকে কি মনে কর? আমি তোমাকে বিয়ে করার জন্য কি এতই পাগল? আমার বাবা মায়ের কাছে আমি অনেক স্নেহ পেয়ে বড় হয়েছি। তোমার আমাকে এতই সন্দেহ যে তুমি আমাকে একা ফেলে চলে গেলে বাইরে! এটা কি ধরনের ভদ্রতা! ফর ইওর ইনফরমেশন আমি আর কোন দিন কোন সম্পর্ক রাখবো না তোমার সঙ্গে। গুডবাই!”
শালিনী থর থর করে কাঁপে চিঠিটা হাতে ধরে। দু চোখ বেয়ে জল বোয়ে যায়। অয়নকে ও সত্যি ভালোবেসে ফেলেছে। এখন তার মূল্য ওকে দিতে হবে। ওর বিষয় ভ্রান্ত ধারনা অয়নের। সেটা ওকে বোঝাতে হবে। কোন পর পুরুষের সঙ্গে হোটেলে সময় কাটান ওর মতন মেয়ের রুচিতে বাধে। কিন্তু কি করে বোঝাবে ও ...!
চলবে
গল্প বিভাগটি কেমন লাগছে, অনলাইনে মতামত লিখে জানান

Thursday, September 11, 2014

আবিষ্কারের নেশা ( শেষ পর্ব ) ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী /৯ .৯.২০১৪ / রাত ১০.৩০ /



আবিষ্কারের নেশা ( শেষ পর্ব )
ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী /৯ .৯.২০১৪ / রাত ১০.৩০ /

বিয়ের মোটে সাত দিন বাকি । ওখানে নিশ্চই সকলে ব্যাস্ত। শালু এখানথেকেই ছুটির জন্য দরখাস্ত পাঠিয়ে দিয়েছে । ছুটি মঞ্জুর ও হয়ে গিয়েছে । তাই ওরা দুজনে সোজা কোলকাতা যাবে । অয়ন ফ্লাইটের টিকিট কেটে রেখেছে । ওরা তিন দিন আগে পৌঁচচ্ছে । অয়নের আজ সারাদিন কোন কাজ ছিলনা । আজ শনিবার এমনিতেই ওদের ছুটি । খোশ মেজাজে আছে সে । একটা নতুন গান শুনছিল এবারের পূজোর গান বোধ হয় । নতুন গানটা । ভালোই সুর হয়েছে । গানটা মন দিয়ে শুনছিল অয়ন । হঠাৎ শালুর ফোন এল ...। 
তোমার সুরের ইন্দ্রজালে মুগ্ধ হলাম ,
তোমার সুরের ইন্দ্রজালে মুগ্ধ হলাম , 
সুরের আকাশে তোমায় যে দেখলাম , 
হেরিলে আমার মন উদাস হলাম , 
মেঘের পরশে যে শীতল হলাম ।.................. (১)
তোমাকে না দেখে উদাস হলাম , 
তবুও বোঝে না মন কেন যে আমার , 
কেন বসে আছি ...বল এক বার , 
যেওনা তুমি গো প্রিয়া শোন একবার ..............(২)
তোমা বিনা লাগে না যে ভালো আমার , 
বসে আছি পথ চেয়ে তোমার আসার , 
প্রহর গুনি সুধু তোমার আশায় , 
মন দেওয়া নেওয়া হবে সেই আশায় , 
মাতাল হব আমি তোমার ই নেশায়। ..............(৩) 
তোমার সুরের ইন্দ্রজালে মুগ্ধ হলাম , 
সুরের আকাশে তোমায় যে দেখলাম , 
হেরিলে আমার মন উদাস হলাম , 
মেঘের পরশে যে শীতল হলাম ।..................... (১) 
তোমাকে না দেখে উদাস হলাম , 
তবুও বোঝে না মন কেন যে আমার , 
কেন বসে আছি ...বল এক বার , 
যেওনা তুমি গো প্রিয়া শোন একবার .................(২) 
তোমার সুরের ইন্দ্রজালে মুগ্ধ যে তাই , 
সুরের আকাশে তোমাকে দেখি যে তাই , 
আমি কত যে তোমাকে ভালোবাসি, 
আকাশের চাঁদ তারা... তারাও খুসি, 
মেঘের পরশে যে শীতল হলাম , 
এবার বলনা ... তোমার , দেখা কি পেলাম। .....................(৪) 
ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী / ২৮.০৮.২০১৪ /
গানটা মোবাইলে আপলোড করে সেভ করে রাখলো পরে শুনবে ।
শালুঃ কি হল গান শুনছো যে , আমার ফোন বেজেই যাচ্ছে ...!
অয়নঃ বল তোমার কথাই ভাবছিলাম ।
টিকিট কেটেছ ?
সে আর বলতে ! তোমার বলার অপেক্ষা রাখি নাকি ! কাতা হয়ে গিয়েছে । তুমি তৈরি থেক আমি তোমায় পিক উপ করে নেব। কেমন ।
ঠিক আছে । আমার কিছু কেনা কাটার আছে সেগুল সেরে নিতে হবে ডিনারের আগে । (অয়নের সঙ্গে আজ দেখা হওয়ার কথা । রাতের ডিনার এক সঙ্গে খাবে ওরা ।)
ওকে । তুমি অন্যসব জিনিষ পত্র গুছিয়ে নিয়েছ ?
সব গোছান হয়ে গিয়েছে ‘চাঁদ’ । এসে দেখতে পার ।
শালুর গলায় হঠাৎ ‘চাঁদ’ কথাটা শুনে অয়নের আশ্চর্য লাগলো । পরে ভাবে ভালো মুডে আছে রাগিয়ে কাজ নেই ।
আজ ওদের দুজনের কোলকাতা ফেরার কথা । দুজনে এক সঙ্গে ফিরছে অনেক দিন পর । মনটা দুজেনেরি খুশী । বাড়ী ফিরে অনেক কাজ ।
শালুকে খুব শান্ত সুন্দর দেখাচ্ছিল । ফ্লাইটে দুজনে পাশা পাশি সিটে বসে গল্প করছিল।
প্লেনটা , রান ওয়েতে ল্যান্ড করার আগে সিট বেল্ট পোঁরে নিল । আঃ স্বস্তির নিঃশ্বাস নীল দুজনে । ঘর ছেড়ে থাকতে ভালো লাগে না । ওদের ই বা লাগবে কেন ?
শালিনীর জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে ।
বাড়ী ফিরে শালু দ্যাখে বিয়ের পুরো ধুম ধাম আয়োজন । অদের আত্মীয় স্বজন সব এসে গিয়েছেন । দুই মামা মামি , মেস মাসি , এক কাকা উনি অবিবাহিত । মামাতো , মাসতুত ভাইরা সবাই এসেছে । দিদি জিজু টুকাই আছে । জিজুর মাথায় সব দায়িত্ব । ক্যাটারার যোগাড় , হলদিরামের ব্যাঙ্কে-ট হলে বিয়ের আয়োজন হয়েছে । সমস্ত কেনা কাটা ... দিদি জিজু মিলে করেছে । শালুকে, মা সব দেখাচ্ছিলেন ... শালুর মনটা অন্যমনস্ক দেখে বোঝেন ওর নিশ্চই বাবার কথা ভাবছে ।
কিরে কি হল মা ... অমন অন্য মনস্ক কেন তুই ?
কিছুনা ত ... ! কি আবার হবে ?
তবে গয়না গুল দেখছিস না কেন ? ডিজাইন টা দ্যাখ !!
(মুখ ফিরিয়ে নিয়ে) তুমিত যান আমার ও সব একদম ভালো লাগে না । এত টাকা খরচের কি ছিল ? তোমার ভবিষ্যৎ , তোমার শরীর অসুস্থ হলে কে দেখবে মা ? যদি ডাক্তার ওষুধের হঠাৎ প্রয়োজন হয় । তুমি ত সব শেষ করে দিয়েছ দেখছি ! টাকাগুলো এরকম ভাবে নষ্ট করলে ? আমরা কে কখন কোথায় থাকি !
মেয়ের কথা দ্যাখ ! ওরকম বলে না । নষ্ট আবার কি রে ? মেয়ের বিয়ে একবার ই হয় । আমার যা গয়না ছিল সেগুলো তোদের দুই বোন কে দিয়েছি । গড়ানোর মজুরি যা লেগেছে । ওরে তোরা সুখে থাকলেই আমার সুখ । আমার আবার কি হবে ? দিব্বি থাকবো । তখন ত আর তোর চিন্তা থাকবে না ! ঠাকুরের নাম নেব আর গুরুদেবের আশ্রমে যাব ।
এত টাকা নষ্ট করেছ তোমরা । সাধারণ ভাবে কি বিয়ে হয়না ? এ’ত এলাহি আয়োজন !!
জিজু দিদি ঘরে ঢ়কে । কিরে পছন্দ হয়েছে তোর ? দিদি বলে ।
তুইকি আমায় নতুন দেখছিস দিদি ? আমি এসব পরি কোন দিন ! সং সেজে যাত্রা করতে যাব ? সাধারণ ভাবে কি বিয়ে হয় না ।
না হয় না ... মা বলেন । কেন হবে ? আমার কি নেই কিছু ! হা ঘরের মত বিয়ে দিতে হবে কেন?
গায়ে হলুদঃ-
গায়ে হলুদের দিন বরের বাড়ী থেকে তত্ত্ব এল । সকলে হুমড়ি খেয়ে দেখছে কি এল বলে ।
শালু , কি সুন্দর তত্ত্ব পাঠিয়েছে । খুব সুন্দর হয়েছে ।
শালু বলে, “তোরা খুশি ত , তাহলেই হল।” আমি ওসবের কিছু বুঝি না ।
সমাজের সব রীতি সময় নির্ভরশীল । সমস্ত রীতির মধ্যে সময়ের ছাপ পড়ে তাই নাকি গয়না ছাড়া বিয়ে হয়না । তাই বাঙ্গালীদের বিবাহ উৎসবে শাড়ী গয়না এসবের আকর্ষণ এখন ও প্রচলিত । শালিনী যত বোঝালেও এদের মগজে ওই ব্যাপারটা থাকবেই কেউ ঘোচাতে পারবেনা
আজ শালিনীর বিবাহ উৎসবঃ-
এই দিনটার জন্য শালুর মা বসেছিলেন । আজ তিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন। তার প্রধান দায়িত্ব সুচারু রূপে পালন করতে পারলে দক্ষিণেশ্বরে মায়ের পুজো দেবেন । মেয়ে যে বিয়েতে রাজি হয়েছে এটাই তাঁর চোদ্দ পুরুষের ভাগ্য । অয়নের মতন জামাই তাদের মতন ঘর পাবেন বলে আশা করেন নি । তবে মেয়ে তাঁর ‘মা সরস্বতীর’ প্রতীক । তার সুপাত্র জুটেছে তার ই পছন্দ অনুসারে । সেটাই সব চাইতে বড় কথা । সারা পাড়া সানাইয়ের সুরে মুখরিত ।

সানাইয়ের সুর আমায় বলে
ছোট বেলাকে যাচ্ছ ফেলে ,
সুরু হবে নতুন জীবন ,
হিয়ার মাঝে থাকবে স্বজন ,
ফুল ফুটবে হৃদয় মাঝে ,
স্মৃতিটুকু থাক তার ই মাঝে ।
সব আত্মীয় স্বজন রা বিয়ের আয়োজন এবং খাওয়ার প্রশংসায় পঞ্চ মুখ । বর বধূকে আশীর্বাদ করে যে যার ঘরে ফিরে গেলেন । শালিনী তার নতুন জীবন আরম্ভ করবে শ্বশুর বাড়ীতে । শ্বশুর বাড়ীতে ওর সুখ্যাতিতে সব্বাই আনন্দে আত্মহারা । মোটা মুটি বিবাহ সুসম্পন্ন হল। বর বধূ বিদায় নিল কন্যা ঘর হইতে । সকলের চোখে জল । মা দিদি টুকাই সকলের কান্না কাটি দেখে শালিনী সামলাতে পারলোনা নিজেকে । তার ও চোখে জল ! বিদায় ত একদিন নিতেই হবে এটাই হিন্দু ধর্মের নিয়ম । কনকাঞ্জলি র সময় কন্যা পেছন থেকে এক মুঠো চাল ছুঁড়ে পিতৃ মাতৃ ঋণ শোধ করা হাস্যস্কর ব্যাপার । কি মনে করতো এই পুরন দিনের ব্রাহ্মণ সমাজ ? এটা যে বাবা মাকে কত অপমান করা তা তাদের ঘটে ছিলনা ! আজ এই সমাজে তাই মহিলাদের প্রত্যেক পদক্ষেপে ঘাৎ প্রতিঘাৎ সহ্য করে চলতে হয় । শিক্ষার প্রসার ঘটেছে কিন্তু কুসংস্কার এখন মানুষের মনে আছে । মানুষ শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের বিচার ধারা পাল্টান প্রয়োজন ।
বিবাহ বাসরঃ-
বিবাহ বাসরে অয়ন শালিনী র জুড়ী সকলের পছন্দ । অয়নের বন্ধুরা এই প্রথম শালিনীকে দ্যাখে । ওর বিষয় আগে শুনেছিল তবে চাক্ষুষ দেখেনি । খুব জাঁক যমকে ওদের বিয়ের রিসেপপ্সন এখানে হয় । বাপের বাড়ীর গয়না আবার শ্বশুর বাড়ীর গয়নার ভারে শালিনী খুব অস্বস্তি বোধ করছিল । এগুলো সত্যি বাড়া বাড়ি লোক দেখান বলে মনে হয় শালুর । মুখে কিছু না বললেও পরের দিন মনে মনে ভাবে শাশুড়ি মায়ের হাতে তুলে দেবে সে সব গয়না। কি হবে তার এগুলো ? মা বারে বারে বলে দিয়েছেন, ওখানে এমন কিছু না করতে যা তাদের সম্মান হানীর কারন হতে পারে । এ সব নিছক লোক দেখানি সেকেলে । এ সব সম্পূর্ণ বন্দ করা উচিৎ । যে দেশে এখন মানুষ দু মুঠো মুখে ভাত দিতে পারেনা অভাবের তাড়নায় সেখানে এগুলো তার মতে বিলাসিতা ।
মনে মনে ভাবছিল ওইসময় আরও গহনার প্রেসেন্টেসন আসে । অয়নের মাসি,পিসী,মামা মামি,কাকা সকলে যেন কম্পিটিশন করে গয়না দিতে লাগেন । অয়ন কে তার বিরক্তির কথা জানায় চুপি চুপি। ও বলে আজকের দিনটা চুপ থাকতে । পরে সব সমাধান হয়ে যাবে । অয়ন ওর মাকে ও বলে রেখেছে আগে থেকে ।
যাইহোক ক্রমে রাত অনেক হল । বর বধূ বাসর ঘরে গেল। সকলের হাঁসির ফোয়ারা ।
অয়ন , শালুর জন্য হীরের আংটি কিনে রেখেছে বাসরে দেওয়ার জন্য কিন্তু দেওয়ার সাহস নেই কারন ও জানে শালু খুব অসন্তুষ্ট হবে । ওটা ওর মতে টাকা নষ্ট করা । তবুও একবার দেখানোর ইচ্ছা ।
অয়নঃ- শালু , আমি তোমার জন্য একটা হীরের আংটি কিনেছি দেখবে ।
শালুঃ- ওই আংটি টাকি তোমার চেয়ে বেশি দামি ?
অয়নঃ- সত্যি বলছ !
শালুঃ- কেন মিথ্যের কি আছে শুনি !
অয়নঃ- তুমি সত্যি কি ধাতে গড়া ভগবান জানেন। মেয়েরা প্রেসেন্টেসেন দিলে খুশী হয় আর তুমি ?
শালুঃ- কে খুশী হয় আমার জানার ইচ্ছে নেই তবে আমি খুশী হইনা ।
অয়নঃ- তবে কিসে খুশী শুনি ?
শালুঃ- তোমার সান্নিধ্য । তোমার ভালোবাসা । ব্যাস আর কিছু চাই না ।
অয়ন:- ফ্যাল ফ্যাল করে দ্যাখে তার শালুকে । তার শালুর প্রতি গভীর শ্রধ্যা আসে । সত্যি আজকালকার মেয়েদের চেয়ে ও কত আলাদা । ওর মধ্যে লোভ নেই আছে আত্ম মর্যাদা , স্বাভিমান , সততা । অয়ন ধন্য শালুর মত স্ত্রী পেয়ে । সে নতুন ভাবে আবিষ্কার করলো শালুকে । সে শালুর ‘আবিষ্কারের নেশাকে’ মর্যাদা দেয় দেবে । এটাই তার প্রতিজ্ঞা ।
সমাপ্ত

আবিষ্কারের নেশা ১৪ দশ পর্ব ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী / ২৯.০৮.২০১৪ / বেলা ১১.৪৪



আবিষ্কারের নেশা
১৪ দশ পর্ব 

ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী / ২৯.০৮.২০১৪ / বেলা ১১.৪৪
শালিনী সত্যি খুব দুঃখ পেয়েছে অয়নের ওই ব্যাবহারে । তার প্রাণে হয়ত সঙ্গীতের মুর্ছনা নেই কিন্তু কিছু শব্দ বেরিয়ে আসে সেগুল জুড়লে বোধ হয় একটা গান লেখা হয়ে যাবে । মনে ব্যাথা পেলে বোধ হয় আপনা হতে বেদনার গান লেখনির মাধ্যমে বেরিয়ে আসে । শালিনী তার ব্যতিক্রম নয় কথাগুল ভাবতে ভাবতে ওর চোখে জল আসে ।
আজ শ্রাবণের ধারার মত অশ্রু ঝরে
তোমার বিরহের বেদনা তে রক্ত ঝরে
মুখে নেই ভাষা আছে সুধু ভালোবাসা
বুঝি আমি তোমার চোখের যে ভাষা ...... .......(১)
অশনি সঙ্কেত ওই আকাশে গুরু গম্ভীর নাদে
মেঘের পরশে আজ বাতাস যে কাঁদে
তবু ঝরে মোর আঁখি হতে অবিশ্রান্ত ধারা
কম্পিল যে আজ মৃদু তালে ধরণী ধরা ......... (২)
তোমারি ছবি দেখি মনের আঙ্গিনায়
ভুলিনিগো তোমারে ভুলিনি যে হায়
বিরহ যাতনা যে আর নাহি সয়
স্মৃতিটুকু রেখেছি মনে এই ভরসায়
ফিরিয়া আসিবে তুমি সেই ভরসায় .............( ৩ )
আজ শ্রাবণের ধারার মত অশ্রু ঝরে
তোমার বিরহের বেদনা তে রক্ত ঝরে
.
এই বিশাল পৃথিবীতে একলা মহিলা নিজের সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে তার সমস্ত কাজ সুচারু রূপে করা এক কঠিন পরীক্ষার মত । তাতে উত্তীর্ণ হওয়া শক্ত । তার মনকে শক্ত করতে হবে । ভেঙ্গে পড়লে চলবে না । অয়ন বুঝতে পারলোনা যে এটা এমন এক প্রতিষ্ঠান যেখানে কোন রকম অশালীনতা বরদাস্তর বাইরে । সামান্য কিছু ঘটলে শালিনীর ক্যারিয়ারের ওপর আঁচ পড়বে সেটা সে কিছুতেই বরদাস্ত করতে পারবে না । কারুর কাছে মুখ দেখাতে পারবে না সেটা কি অয়ন বোঝেনা !!
অয়নকে বোঝানর জন্য ফোন করে কিন্তু ও কেটে দেয়। বাড়ীতে কাউকে বোঝাতে পারবেনা । মা তাকেই দুসবে বারে বারে । এটাই বোধ হয় মেয়েদের প্রধান সমস্যা । অগত্যা বাড়ী যাওয়ার কথা ভুলে নিজের কাজে মন দেয় । ডঃ ভট্টাচার্য সত্যি ভদ্র লোক । উনি কিন্তু শালিনীর অনেক খারাপ ব্যাবহার সহ্য করেছেন । কিছু কখন মুখ ফুটে বলেন নি। বেশ কিছুদিন এরকম চলে । শালিনী বেঙ্গালুরুর ট্রেনিং টা পরে যেতে চায় । ওর মন একদম ভালো-না কদিন ধরে । মেয়েদের মনে প্রথম বসন্তে কোন পুরুষের আগমন হলে সাধারণত সেই আঁচড়টা থেকেযায় । সেটা ভুলতে পারে না ওরা । ওটাই অনাবিল প্রেমের নিদর্শন । ওতে কিছু খামতি থাকে না । এটাই বোধ হয় প্রকৃতির নিয়ম। তাই শালিনীর জীবনের প্রথম প্রেম তার মনে দাগ রেখে গেল। ও সেটা শত চেষ্টা করেও মুছতে পারছেনা ।
এক রবিবারে মা ; জিজু , দিদি , টুকাইকে সঙ্গে করে হাজির হলেন ভুবনেশ্বর । শালিনী ওদের দেখে আশ্চর্য হয় । বলে কিগো তোমরা কিছু না বলে চলে এলে যে । আমাকে খবর দেবে ত !
মা বলেন:- সবাই তোকে সারপ্রাইজ দেব ভাবলাম । কোই অয়নদের বাড়ীথেকে ত কেউ এলেন না ।
শালিনী:- আমি কি করে বলব মা এখানে বসে ? ওরা আসবে কি না আসবে ওদের ব্যাপার । ওরা বড়লোক ওদের খেয়াল খুশী অনুজাই চলে । খেয়াল হয়েছিল আমাকে বিয়ে করবে বলে এখন সে খেয়াল মাথা-থেকে চলে গিয়েছে । ব্যাস । আমি দিব্বি আছি । আমাকে আর কেউ আর বিরক্ত করবেনা বিয়ের ব্যাপারে । তোমরা সব একে একে ফ্রেশ হয়ে নাও । দুটো বাথ রুম আছে ।
একটা বন্দ থাকে । তোমরা এলে ভালই হল । আজ চল সকলে মিলে পুরী যাই ।
টুকাইকে পেয়ে শালু খুব খুশি ।
একটা টয়টা ইনো-ভা ভাড়া করে সকলে পুরী বেড়াতে গেল বেলা ১২ টা নাগাদ । ওখানে , “হলিডে রিসোর্ট হোটেলে” জিজু .. দুটো রুম বুক করেছিল । জিজু , দিদি দুজনে ব্যাঙ্কের থেকে এল টি সি পায় তাই ওরা প্রত্যেক বছর কোথাও না কোথাও বেড়াতে যায় । শালিনীকে অনেকবার বলেছে ওরা ওদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য কিন্তু ওত অন্য ধাতের মেয়ে । ওসব বেড়াতে যাওয়া ওর ভালো লাগে না । কিন্তু এবারে মা সঙ্গে তাই মানা করলনা । তাছাড়া এমনিতেই ওর কেমন দম বন্দ লাগছিল ।
পুরী বেড়ানটা ভালই লাগছিল । সমুদ্র , নুলিয়া , জগন্নাথ ঠাকুর দর্শন এর বিশেষ আকর্ষণ । মা মানত করেছেন শালুর বিয়ে হলে পূজো দেবেন। মা সত্যি উতলা হচ্ছেন ওর জন্য । তার-পরদিন শালুর ক্লাস ও সকাল সকাল মাকে নিয়ে ট্রেনে ফিরে আসে ভুবনেশ্বর । দিদিরা ওখানে আরও দুদিন থাকবে ।
অনেক দিন পর মাকে পেয়ে শালু খুব খুশি ।
অনেক দিন বাদে মায়ের হাতের রান্না খাবে । সত্যি মা না-থাকলে ওর খুব বাজে লাগে ।তাই নিজে বাজার থেকে সব গুছিয়ে কিনে এনেছে । বাজার থেকে ফেরার সময় মা’কে ওর কোয়ার্টারের সামনে ডঃ ভট্টাচার্য র সঙ্গে কথা বলতে দেখে আশ্চর্য হয়। কিছু প্রতিক্রিয়া না দেখিয়েই সারকে “গুড মর্নিং সার বলে উইশ করে” ।
আপনার মা এসেছেন বলেন-নিত মিস সান্যাল !
হ্যাঁ সার , মা আজ আমার সঙ্গে এসেছেন ।
বাঃ এত আনন্দের কথা । আমার কথা বলার লোক এসে-গিয়েছেন । আমার একটু সময় কাটবে । কোন আপত্তি নেইত আপনার !
মা বলেন, “ওমা সে কি কথা ! এত আনন্দের কথা । আমাদের ও সময় কাটবে”। আপনার মা বাবা কি দেশে ?
না মাসিমা ছোট বেলা থেকেই আমি পিতৃ হারা । মা স্কুলের টিচার ছিলেন । তিনি অনেক কষ্টে আমাকে মানুষ করেন। এখন উনি কলকাতায় আছেন মামার বাড়ীতে ।
মাকে নিয়ে আসেন না কেন ?
মায়ের বয়েস হয়েছে তাই উনি ওখানেই থাকতে ভাল বাসেন।
ও তাই বুঝি । তুমি বাছা একদিন আমার এখানে আমার হাতের রান্না খেও । আমি গুছিয়ে নি তারপর তোমায় খবর দেব কেমন !
শালিনী ও ঘর-থেকে সব শুনছিল । মায়ের আক্কেল দেখে অর গা রি রি করে উঠলো । একদম সেকেলে । হুট করে সকলকে আপন করে ফেলে । আগু পিছু ভাবে না কি হতে পারে !
তোমার বিয়ে হয়েছে বাবা ? সার লজ্জায় বলেন না মাসিমা হয়নি । আমি পরে আসবো একদিন । এখন জাই । কাল ক্লাসের জন্য পড়াশুনো করতে হবে ।
সার জাওয়ার পর শালু মায়ের ওপর খড়গ হস্ত । কি দরকার তোমার ওনার সঙ্গে এত কথার শুনি ? তুমি এখানেও ওই এক কান্ড করবে দেখছি । সকলকে ধরে ধরে জিজ্ঞাসা করবে তার বিয়ে হয়েছে কিনা ! কি তুমি মা ! কেন বোঝ না এসব বলতে নেই। আমি পারব না তোমাকে বোঝাতে । শালু খুব আস্তে তার মা’কে বিদ্রূপের সঙ্গে বলে, “তা তোমার নতুন জামাইকে কবে খাওয়াচ্ছ শুনি ?”
মা হতবাক হয়ে-জান ওর কথা শুনে । ওই ছেলেটি খুব ভাল শালু । ওর সঙ্গে কথা বলতে ভাল লাগছিল তাই বললাম । তুই রাগ করছিস কেন মা ? ওত তোদের এখানেই পড়ায় । পাত্র হিসেবে-ত ভালই ।
মা .. মা .. তোমাকে নিয়ে আমার মাথা খারাপ হয়ে জাবে । গর্জে ওঠে শালু। যাকেই দেখবে ওমনি পাত্র হিসেবে তাকে গ্রহণ করবে । আমি কি এতই ফেলনা তোমার কাছে । আমার কোন মতা মত নেওয়ার প্রয়োজন হয় না দেখি তোমার ! কি ভাবো মেয়েদের তোমরা ! মেয়ে হয়ে জন্মান কি এতই পাপ !
মা চুপসে জান । জানেন মেয়ের রাগের কথা ।
পরের দিন শালু যথারীতি কলেজে চলে জায় ।
ডঃ ভট্টাচার্য র সঙ্গে দেখা হয়নি কিম্বা কোন কথা হয়নি। ডাইরেক্টারের অফিস থেকে শালিনীর ডাক আসে । সেখানে গিয়ে ও বেঙ্গালুরুর ট্রেনিং এর চিঠি পায় এক মাসের ট্রেনিং আই আই এস সি
তে .ওখানে প্রফেসার অনুরাগ কুমার , ডাইরেক্টর আছেন । টিকিট সমেত জার্নি এক্সপেন্সেস এবং এক মাসের আগাম মাইনে একটা খামে ভরে অফিসে দিয়ে দেয় শালিনীর হাতে । আর তিন দিন সময় আছে রওনা হওয়ার ।
জিজু , দিদি, টুকাই আজই এসে পৌঁছয় । মাকে ওদের সঙ্গে যেতে হয় কারন এখানে মা একলা থাকা সম্ভব না । শালিনী IIST তে থাকা কালীন ওখানে চেষ্টা করবে কোন জবের জন্য । অয়নের কাছে থাকতে পারবে । অয়ন ও ওর ওপর রাগ করবে না।
অয়নকে ওর মেল আই ডি তে একটা মেল পাঠায় বেঙ্গালুরু যাওয়ার আগের দিন। তাছাড়া ওকে এস এম এস করে স্টেশনে থাকতে বলে । শালিনী যানে , অয়ন কখনই না এসে থাকতে পারবে না । ৩২ ঘণ্টা ট্রেন জার্নির পর ওর খুব টায়ার্ড লাগছিল । স্টেশনে অয়ন আসবে কিনা জানেনা কিন্তু ওর দৃঢ় বিশ্বাস অয়ন আসবেই । সত্যি অয়ন এসেছিল । খুব গম্ভীর দেখাচ্ছিল। অয়নকে দেখে শালু ধাতস্থ হল ।ওকে বোঝাতে চেষ্টা করল বিগত ঘটনার জন্য দুঃখিত কিন্তু ও নিরুপায় ছিল। অয়ন ও এক গুঁয়ে ছেলে। ও কিছুতেই ওটাকে সহজ ভাবে নিতে পারলোনা ।
কালকে IIST তে জএন করতে হবে । তাই আজ কোথাউ রেস্ট নেবে শালু । Krishinton Suites হোটেল IIST র কাছে । তাই ওখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিল শালিনী ।
ও নিজে সব ফর্মালিটির পর নিজের নামে রুম নিলো PAN কার্ড দেখিয়ে। অয়ন বারুণ করলনা কারন ও যানে শালিনী কারুর অনুগ্রহ পছন্দ করে না । দুজনের মধ্যে সেরকম কোন কথা হলনা ।
শালিনী রুমে গিয়ে আগে ফ্রেশ হয় পরে কিছু জলখাবার খায় । এখানে ইডলীর চল বেশি । তাই খেল দুজনে । তারপর সব ঘটনা অয়নকে একে একে বলল । অয়ন শুনে সেরকম খুশি হলনা । কিন্তু অখুশিও হলনা কারন ও সত্যি শালুকে ভালবাসে । শালু কিন্তু বিশাল বিয়ের আয়োজনের পক্ষে নয়। খুব কম লোকের আয়োজনের মধ্যে বিয়ে সারতে চায়। মায়ের ইচ্ছে দিদির বিয়ের মতন ওর বিয়ের ও আয়োজন করবেন এক ই ভাবে কিন্তু সেটা এখন সম্ভব নয় । এসব খর্চা বিলাসিতা মনে করে শালিনী তাই ও অয়নের মতা মত নিলো।
অয়ন হ্যাঁ না কিছুই বললনা । শুধু বললো , আমি বাবা মায়ের একটাই ছেলে , তাঁদের ইচ্ছার বিরুধ্যে কিছু করা আমার পক্ষে সম্ভব নয় ।
শালুর নিজের কেরিয়ার আছে । ও এখন এই সব টাকা নয় ছয় করতে পারবে না সেটাও অয়নকে জানিয়ে দিল।
দুজনের মধ্যে কেউ ই কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারলোনা । যে যার যুক্তিতে অনড় ।
শালু খুব ক্লান্ত ছিল । ও হোটেলে গিয়ে রেষ্ট নিল। অয়ন চলেগেল ওর অফিসে । রাতে মার ফোন এল শালুর কাছে । অয়নের মা এসেছিলে শালুদের বাড়ী বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে । ছেলের কথায় ৫০ জন বর যাত্রীতে ওনারা রাজি হলেন কারন ছেলে বলেছে শালুকে ছাড়া আর কাউকে ও বিয়ে করবে না । বিয়ের দিন ঠিক হয়ে গিয়েছে ১৫ ই বৈশাখ । ভাল দিন আছে । প্রায় এক মাসের ওপর বাকি। এর মধ্যে সব প্রস্তুতি।
শালু সব শুনল । কিছুই মন্তব্য করলনা । হুঁ হাঁ তে কথা সারল মায়ের সঙ্গে ।
এর মধ্যে শালুর ট্রেনিং শেষ হতে চলেছে ।
অয়নের সঙ্গে মাঝে মধ্যে দেখা হয় । ওর কাজের চাপ বেড়েছে । রাতে ফোন করে । শালু এখানে প্রচুর ব্যস্ত থাকে । বাইরে যাওয়ার সময় পায়না । আজকাল অয়ন খুব চুপ চাপ হয়ে গিয়েছে আগের চেয়ে অনেক পাল্টে গিয়েছে এই কদিনে । রবিবার আসে শালুকে নিতে । কেনা কাটা করে । বেঙ্গালুরুর ইস্কনের মন্দীরে যায় দুজনে । যায়গাটা ওদের দুজনের ই ভাল লাগে । শালু মায়ের জন্য চন্দন কাঠ নিয়েছে । দিদির জন্য স্যান্ডেল উড সেন্ট ইত্যাদি।
এবার ফেরার প্রস্তুতি । ওদের বিয়ের কার্ড ছাপান হয়ে গিয়েছে । আর মাত্র ৭ দিন বাকি ।
*** শেষ পর্ব পরের সপ্তাহে ***

Monday, September 8, 2014

আবিষ্কারের নেশা / ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী / ১২শ পর্ব / ০৮.০৯.২০১৪ ।



আবিষ্কারের নেশা

ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী
১২শ পর্ব
ডঃ ভট্টাচার্য কেন শালিনীর প্রতি ঘনিষ্ঠ হতে চাইছিলেন সেটা ওর জানার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই তবুও কেন যেন মনে হল ওনার থেকে আপাতত দূরে  থাকা শ্রেয়। কিন্তু শালিনী যা ভাবছে সেটা নাও হতে পারে। উনি হয়ত নেহাত বন্ধুত্বের খাতিরেই ওর কাছে বন্ধুত্বর হাত বাড়িয়েছিলেন। শালিনীর কি ওইরকম ব্যাবহার করা কি উচিৎ হল! বোধ হয় না। 
ক্লাসের সময় হয়ে যাচ্ছে। কি সব আজে বাজে চিন্তা তার মাথায় আসছে!
যথারীতি ক্লাসে গিয়ে ক্লাস আরম্ভ করল। সকলকে বারে বারে জিজ্ঞাসা ,“আর ইউ ক্লিয়ার। শ্যাল আই রিপিট এগেন। ডোন্ট হেজিটেট টু টেল মি ইফ ইউ  কান্ট আন্ডারস্তেন্ড। ওকে ” এটা বলা ওর স্কটিশে পড়ানো থেকেই অভ্যাস।   
ক্লাসের পর কমন রুমে যায় লাইব্রেরী থেকে এক গাদা বই নিয়ে। কমন রুমে ঢ়ুকতেই একটা বই পড়েযায় হাত থেকে। খুব অপ্রস্তুত বোধ করে , কারন ডঃ ভট্টাচার্য বইটা নিঃশব্দে তুলে দেন শালুর হাতে।  
 ডঃ ভট্টাচার্য:- আপনি এত রেফারেন্স বই পড়ার সময় পান?
শালিনী:- হ্যাঁ সার। সময় করে নিতে হবেই। আপনারা সিনিয়ার, আপনাদের কথা আলাদা , তাছাড়া আপনি কত ছেলে মেয়েকে তাদের রিসার্চে গাইড করেছেন তারা আপনার আন্ডারে ডক্টরেট করেছে। আমিত নতুন সার। আমি  না পড়লে নিজে বিষয়টার প্রতি ক্লিয়ার কনসেপ্ট না থাকলে ছাত্র ছাত্রীদের পড়াব কি করে? আমার পড়াশুনো বিশেষ প্রয়োজন। তাই ক্লাসের পর কমন রুমে এসে রেফারেন্স বইগুলো পড়েনি। নিজের নোট নিজে তৈরি করি।  
ঠিক বলেছেন। এটা অনেকেই করে না। ছাত্র ছাত্রীকে লাইব্রেরী-থেকে বই  নিয়ে পড়তে বলেন। কিছু রেফারেন্স ও দিয়ে দেন। তবে আমাদের এখানে  সকলে সম্পূর্ণ প্রস্তুতির পর ক্লাসে যান। এটা এখানকার সিস্টেম। আমার দেখে ভাল লাগল আপনি এখানকার সিস্টেম ফলো করছেন। ডার্টস গুড।  কিপ ইট আপ। ইফ  ইউ নিড এনি রেফারেন্স প্লিজ টেল মি। ওকে। আসি তাহলে। 
হ্যাঁ সার। শালুর ঘাম ছুটছিল কথা বলতে বলতে।  তা ছাড়া  সকালের ব্যবহারে ও খুব লজ্জিত কিন্তু সার কিছু মনে করেন নি মনে হচ্ছে। এখানে ও ছাড়া মৌসুমি মিশ্র নামে আরেকজন মহিলা আছেন উনিও নতুন। কিন্তু উনি এখানকার বাসিন্দা তাই ওঁর সঙ্গে প্রায় দেখা হয়না। ওনার ফ্যাকাল্টি আলাদা। 
সারাদিনের ক্লাস সেরে সন্ধ্যাতে ফেরে।  সন্ধ্যার সময় খুব টায়ার্ড থাকে। মা থাকলে চায়ের কাপটা এগিয়ে দিতেন মুখের সামনে। এই সময় চায়ের বিশেষ প্রয়োজন। মাকে খুব মিস করছে শালু। কিন্তু কিছু করার নেই নিজেকে কষ্ট করতে হবে মা ত চিরদিন থাকবেন না ওর মুখে মুখে জোগাতে। 
মায়ের কথ ভাবতেই মায়ের ফোন। এটা কি টেলিপ্যাথি না কি?  
হ্যালো! হ্যালো!! শালু মা। কেমন আছিস? তোর কোন খবর না পেয়ে ফোন করছি। 
আমি ভাল আছি মা। এখুনি তোমার কথা মনে করছিলাম। তোমাকে আরেকটু পরেই ফোন করতাম। তোমরা কেমন আছ মা? টুকাই , দিদি , জিজু সব কেমন আছে? তোমাদের কথা সব সময় মনে করি মা।  একটা কথা তোমাকে বলি। অয়নের বাবা মা তোমার ওখানে যাবেন। ওরা গেলে সব যানতে পারবে। আমি এখন স্নান সেরে একটু পড়াশুনো করব। এখন রাখি।  
আমার কথা না শুনে , “অমনি রাখি”। তুই কি রে? তোর হৃদয় বলে কি কিছু নেই! আমার কথা কি মনে পড়ে না!!   ওনারা কেন আসবেন বল ত মা?  
হৃদয় আছে মা। তোমার কথা ভাবি। সকলের কথা ভাবি।  আমি কি করে বলব বল ওনারা কেন আসছেন? 
তুই সব জানিস। কি হয়েছে শালু বলনা?
আমার বলতে লজ্জা করে। তুমি সব জানবে। বললাম ত ওনারা আসবেন। আমি রাখি এবার।  
আচ্ছা বাবা আচ্ছা। মেয়ে আমার এতদিন পর কথা বলবে ...তাও  সব পেটে রেখে কথা বলে। কিছু খুলে বলতে পারে না। কি হয়েছে তোর?  
কি আবার হবে? ভালই আছি। আমার ঘুম পাচ্ছে মা।
এই বললি পড়বি আবার এখন ঘুম পাচ্ছে। কি হয়েছে তোর বলত? 
বললাম ত অয়নের মা বলবেন বলে।
কেন তোমার মুখ থেকে শুন-বোনা কেন? 
আমি জানিনা। তুমি বিরক্ত করো নাতো?
ও বুঝেছি! তা ভাল। ঠিক আছে কবে আসবে তারা? 
আমি কি করে বলব এসবের উত্তর। ওই জন্য আমি কিছু বলতে চাইনা তোমাদের। আমি রাখছি মা। ভাল থেকো। নিজের দিকে নজর দিও। আমার কথা ভেবনা। 
না তোমার কথা ভাববোনা! ঠিক আছে খেয়ে ঘুমিয়ে  পড়। ও হ্যাঁ ভাল কথা , অয়ন ফোন করে তোকে? 
হ্যাঁ অয়ন ফোন করে , বারে বারে করে। ফোন ধরলে তোমার মত ছাড়তে চায়না। সব সমান তোমরা। কথাগুলো একটু জোরেই বলল। তারপর ভাবল পাশের ঘরে  লোক শুনলে কি ভাববে? রাখছি মা। ভাল থেক।
চলবে
গল্প বিভাগটি কেমন লাগছে, অনলাইনে মতামত লিখে জানান