Monday, June 10, 2013

রম্য রচনাঃ- চিংড়ি মাছ:-/ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী /১০.০৬.২০১৩ / সন্ধ্যা০৭.৩৮ মি / জামাই ষষ্ঠী সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি /




রম্য রচনা ঃ চিংড়ি মাছ

আমার বিধবা পিসি র বাডিতে বেডাতে গেলাম দেখি 
পিসি রান্নাঘরে । আমি বৈঠকখানায় বসে আনন্দবাজার
পত্রিকা পডছি , এমন সময় পিসি এসে বললেন,”কখন এলি?” 
অনেকক্ষন ! তুমি কি রান্না করেছো ? 
লাউ ঘন্ট আর কুমডোর ছক্কা । খাবি !
যা স্নান সেরে আয় ।
বলে রাখি আমার পিসি খুব কিপ্টে । পিসেমোসাই রেলে কাজ
করতেন । মেলা টাকা রেখে গেছেন। পিসি হাত খুলে কাউকে
কিছু দেয়না । ভিসন ছুঁচিবাই তে ভোগে।
পাসের বাডির মাসিমা বললেন,কবে এলি ?
এইতো এখুনি।
আয় চিংড়ির চপ বানিয়েছি । খাবি ?
দাও । পিসি দেখলে ঘরে ঢুকতে দেবেনা।
আমি এম্নিতেই পেটুক তাতে চিংড়ি !!
একটা বুদ্ধি মাথায় এলো ।
দুটো চিংড়ি বারকরে পকেটে পুরলাম । দিব্বি ভালো ছেলের মত পিসির ঘরে স্নান সেরে ঢুকলাম।
পিসি ভাত বেডে খেতে ডাকলেন।
আমি দিব্বি খেতে লাগলাম গন্ডুশ করে , ব্রাহ্মনের ছেলে যত হলে । তারপর পকেট থেকে চিংডি বারকরে লাউঘন্টর কাছে রেখে খাচ্চি ঠিক সেইসময় পিসি এসে হাজির ।
পিসিকে দেখে বললাম পিসি তুমি লাউচিংড়িটা অদ্ভুৎ রেঁধেছ ।
পিসি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বললেন,“দূর হ হতচ্ছাডা। আমার ধম্ম নষ্ট করলেগা! বেরো !!
আমি, “দেখ পিসি পাডা সুদ্ধু সকলকে বলে দেব তুমি চিংড়ি খাও বলে । আমি এসেছি তোমার বাডীতে চিংড়ি কোথাথেকে এলো আমি কি করে যানবো”?
পিসি “ওরে তুই যা চাইবি নিবি কাউকে এ কথা বলিস না। আমার মাথা খা বাবা।এইনে টা১০০কা চুপ করে যা দিকিনি ।
খাওয়াও হল টাকাও গ্যাঁটে এলো ।
চলিগো পিসি।
যা পোডামুখো আর এদিকে আসবি না! হতচ্ছাডা কোথাকার আমার জাত ধম্ম গেলোগা ! মধুসুদন !! 


ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী /১০.০৬.২০১৩ / সন্ধ্যা০৭.৩৮ মিনিট







রম্যরচনা
**********

"জামাই ষষ্ঠী ও শ্বশ্রূমাতা বনাম জামাতা"
*****************************************
প্রাচীন বঙ্গভাষী হিন্দু সমাজে জামাইষষ্ঠী উপলক্ষ্যে গৃহে আগত জামাতাদিগ কে শ্বশ্রূমাতাগণ যেমন সাধ্যাতীত আদর অপ্যায়ন করিতেন,তেমন ই জামাতা ইচ্ছাপূরণে ব্যর্থ হইলে অর্থাৎ শ্বশ্রুমাতাকে দৌহিত্র বা দৌহিত্রী উপহার প্রদানে ব্যর্থ হইলে তাহার আদর ও মান সন্মান ক্রমশঃ হ্রাসমান হইত। এমনই একটি গল্প আপনাদের কাছে নিবেদন করিব। এই গল্পের কতখানি অংশ সত্য,বা কতখানি অংশ লেখকের কল্পনা প্রসূত তাহা নির্ণয়ের চেষ্টায় বিরত থাকিয়া গল্পকে না হয় গল্পের দৃষ্টিতেই দেখুন।
প্রাচীন কলিকাতা নিবাসী এক গৃহস্থ কোন এক সময়ে ভাগ্যের বিড়ম্বনায় তাহার পরমা সুন্দরী কন্যা কে হুগলী জেলার কোন এক অজ পাড়াগাঁয়ের এক দরিদ্র পরিবারে পাত্রস্থ করিয়াছিলেন। বিবাহের কয়েক মাস পরেই প্রথম জামাইষষ্ঠী তে ঐ গৃহস্থের কন্যা ও জামাতা নিমন্ত্রিত হইয়াছিলেন। গৃহস্থ পত্নী নতুন জামাতা কে যথাবিধি মান্যতা সহ ধান্য ও দূর্বা দ্বারা আশীর্বাদ করিয়া নানা স্নেহসূচক বাক্যে তাহার প্রীতি বর্ধন করিলেন। মধ্যাহ্নে মহার্ঘ উপাদেয় ভোজ্যবস্তু দ্বারা তাহাকে অপ্যায়িত করিলেন এবং জামাই ষষ্ঠীর আশীর্বাদী স্বরূপ জামাতাকে এক জোড়া জুতা,ধুতি,পাঞ্জাবি ও গাত্রবস্ত্র অর্থাৎ চাদর উপহার দিলেন।জামাতা ও কন্যার বিদায় কালে গৃহস্থ পত্নী পুনরায় তাহাদের আশীর্বাদ করিয়া বলিলেন-"সামনের জামাই ষষ্ঠীতে অবশ্যই সন্তান কোলে লইয়া আসিবে।"
বর্ষকাল পরে দ্বিতীয় বার কন্যা ও জামাতা জামাই ষষ্ঠীতে নিমন্ত্রিত হইলেন। ঐ জামাতার ঘোরতর আর্থিক অনটন ছিল এবং তিনি ছিলেন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন। তিনি হয়তো ভাবিয়াছিলেন - "আমার যা স্বল্প রোজগার,তাহাতে দুই জনেরই অন্নের সংস্থান হয় না,সন্তানের জন্ম হইলে কোন ক্রমেই তিন জনের ব্যয় সংকুলান হইবে না।শ্বশ্রুমাতা দৌহিত্রের মুখ দর্শন করিতে চাহেন তো আমার কি ? তাহার সাধ পূরণের সংকল্পে আমি কেন সংকটাপন্ন হইব?" তাই তিনি সন্তানের জন্ম যাহাতে কোনমতেই সম্ভব না হয়,সেই বিষয়ে যথেষ্ট যত্নবান ছিলেন। কন্যা ও জামাতাকে গৃহস্থ পত্নী এইবারেও যথেষ্টই অপ্যায়িত করিলেন। মধ্যাহ্নের ভোজ্যসকল পূর্বাপর উপাদেয় ও লোভনীয়ই ছিল। কেবল জামাই ষষ্ঠীর আশীর্বাদীতে পূর্বের ন্যায় এক জোড়া জুতা,ধুতি ও পাঞ্জাবি থাকিলেও গাত্রবস্ত্র অর্থাৎ চাদর অনুপস্থিত ছিল। আর ধান্য-দূর্বাদি দ্বারা জামাতা কে আশীর্বাদ কালে শ্বশ্রূমাতা কিঞ্চিত মলিন বদনে শুধু মাত্র জামাতা শুনিতে পায় এমন অনুচ্চ স্বরে মন্ত্র আওড়ানোর কায়দায় পুত্রবৎ জামাতাকে তিরস্কার করিলেন -
"সন্তানহীন, গেছো বাঁদর,
বাদ গেল তোর গায়ের চাদর।"
কেবল মাত্র জামাতা বাবাজী ই বুঝিতে পারিলেন,শ্বশ্রুমাতাকে দৌহিত্রদানের অক্ষমতার দণ্ডস্বরূপ তাহার প্রাপ্তি হইতে চাদর বাদ গেল। এবারেও বিদায় কালে শ্বশ্রুমাতা আশীর্বাদের সময় বলিলেন-"সামনের জামাই ষষ্ঠীতে অবশ্যই সন্তান কোলে লইয়া আসিবে।"
যথাবিধি বর্ষ গতে তৃতীয় বার কন্যা ও জামাতা জামাই ষষ্ঠীতে নিমন্ত্রিত হইলেন। কন্যা ও জামাতা কে গৃহস্থ পত্নী যথাবিধি অপ্যায়িত করিলেও, এবারের মধ্যাহ্ন ভোজে দুই একটি মহার্ঘ উপাদেয় পদের ঘাটতি ছিল। অবশ্য গৃহস্থ পত্নী দোষ খণ্ডন হেতু বারে বারেই ব্যক্ত করিলেন,তাহার শরীরটা না কি বেশ কয়েক দিন ধরিয়াই অসুস্থ। এবারে জামাই ষষ্ঠীর আশীর্বাদীতে শুধু এক জোড়া জুতা ও একটি ধুতি ছিল। চাদর তো আগের বৎসরেই বাদ পড়িয়াছিল,এবারে বাদ গেল পাঞ্জাবি। এবারে শ্বশ্রুমাতা ছায়াঘন বদনে ধান্য-দূর্বাদি দ্বারা আশীর্বাদ কালে জামাতাকে পূর্বোক্ত ভঙ্গীতে তিরস্কার করিলেন-
"ছেলে আমার হয় না মামা,
বাদ গেল তোর গায়ের জামা।"
জামাতা বাবাজী মনে মনে বলিলেন,"অদৃষ্টের কি পরিহাস,শ্বশ্রুমাতার পুত্র মামা হইতে পারে নাই,অর্থাৎ তাহার ভগিনীর কোন সন্তান জন্মে নাই,সেই অপরাধে আমার প্রাপ্তি হইতে পাঞ্জাবি বাদ গেল। চাদর বাদ গিয়াছে,পাঞ্জাবি বাদ গেল,না জানি অদৃষ্টে আরও কত দুর্ভোগ আছে।" এবারে বিদায় কালে শ্বশুর মহাশয় বারংবার জামাতাকে বলিলেন,"তোমার শরীর টা কেমন দুর্বল দেখিতেছি বাবাজী,চিকিৎসকের পরামর্শ মত চলিয়ো।" পিতৃবৎ শ্বশুর মহাশয়ের পক্ষে এর বেশী কিছু বলা সম্ভব নয়। শ্বশ্রুমাতা আশীর্বাদের সময় শ্লোক কটিয়া বলিলেন-
" সবার কপাল সোনায় মোড়া,
আমার জুটেছে বেতো ঘোড়া।
সামনের জামাই ষষ্ঠীতে অবশ্যই সন্তান কোলে লইয়া আসিবে।"
এববিধ সব বাক্য শ্রবণে জামাতা মর্মাহত হইলেন। ভাবিলেন,আর শ্বশুরালয়ে আসিবেন না। কিন্তু বাস্তব বড় রূঢ়,সন্মানের ধার ধারিলে তাহাকে আরও সঙ্কটে পড়িতে হইবে। এই দুর্মূল্যের বাজারে এক জোড়া জুতা ও একটি ধুতির মূল্য কম নহে। আপন রোজগার হইতে এতগুলি টাকা খরচ করা তাহার পক্ষে দুঃসাধ্য।
জীবনে হতাশ হইলে জগৎ মিথ্যা। যত দিন মানুষ বাঁচে,আশা লইয়াই বাঁচে। তাই চতুর্থ বার কন্যা ও জামাতা জামাই ষষ্ঠীতে নিমন্ত্রিত হইলেন। ভাঙ্গা চেয়ার টেবিলের পায়াটিও কোন গৃহস্থ মায়া বশতঃ ফেলেন না কখন কোন কাজে লাগে বলিয়া,আর এ তো জামাই বলিয়া কথা ! গৃহস্থ পত্নী যথারীতি জামাতাকে অপ্যায়িত করিলেন।শ্বশ্রুমাতার শরীর আর সারে নাই,তাই আয়োজনে এবারে ও ঘাটতি ছিল।এবারে জামাই ষষ্ঠীর আশীর্বাদীতে শুধু এক জোড়া জুতা পাওয়া গেল। প্রাপ্তি হইতে ধুতি বাদ গিয়াছে। শ্বশ্রুমাতা নির্লিপ্ত ভাবে ধান্য-দূর্বাদি দ্বারা আশীর্বাদ কালে জামাতাকে চাপা স্বরে তিরস্কার করিলেন-
"নপুংসক,মদ্দা হাতি,
বাদ গেল তোর পাছার ধুতি।"
জামাতা বাবাজী মনে মনে বলিলেন, "এ তো জানা কথাই,দণ্ড কেবল বাড়িয়াই চলিবে। তাই বলিয়া আমি পরের সুখের কারণে আত্মবলি দিতে পারিব না।" এবারে বিদায় কালে শ্বশুর মহাশয় বারংবার জামাতাকে উপদেশ দিলেন,"সময়ের কাজ সময়ে না করিলে পরে পস্তাইতে হয় বাবাজী, তুমি বুদ্ধিমান,তোমাকে অধিক বলা অশোভন।" শ্বশ্রুমাতা আশীর্বাদের সময় শ্লোক কাটিয়া বলিলেন-
"পুরুষ যারা, নড়েচড়ে-
মেদিমুখো ডরে মরে।
সামনের জামাই ষষ্ঠীতে অবশ্যই সন্তান কোলে লইয়া আসিবে।"
জামাতা মনে মনে বলিলেন, "আপনি মেদীমুখোই বলুন,আর যাই বলুন,আমার চিন্তাধারায় কোন রূপ পরিবর্তন হইবে না। আমি মেদিমুখো হইতে পারি,কিন্তু আপনার কন্যা আমার অঙ্গুলীহেলন ব্যতীত টুঁ শব্দ টি পর্যন্ত করিতে পারে না।"
কালচক্র নিয়ত ঘূর্ণায়মান, তাই আবার পঞ্চমবারের মত কন্যা ও জামাতা জামাই ষষ্ঠীতে নিমন্ত্রিত হইলেন। এবারের অপ্যায়নে আতিশয্য ছিল না,আর জামাতার জন্য কোন উপহারও ছিল না। শ্বশ্রূমাতা শুধু ধান্য-দূর্বাদি দ্বারা আশীর্বাদ কালে অনুচ্চ অথচ শ্লেষের স্বরে বলিলেন- "ঠিক ধরেছি জামাই খুঁতো,
শেষ বাদ তোর পায়ের জুতো।"
জামাতা বাবাজী মনে মনে বলিলেন,"ভাবিয়াছিলাম,দণ্ড হইতে নিস্কৃতি নাই,কিন্তু একেবারেই শূণ্যহস্তে ফিরিতে হইবে,এইরূপ ভাবি নাই।" এবারে বিদায় কালে শ্বশ্রমাতা শুধুমাত্র শ্লোক কাটিয়া বলিলেন-
"যতই না হও পাহাড় চূড়া,
মুখ দেখে না আঁটকুড়া।"
সামনের জামাই ষষ্ঠীতে অবশ্যই সন্তান কোলে লইয়া আসিবে-এই কথাটি শ্বশ্রূমাতা আর বলিলেন না।
জামাতা মনে মনে বলিলেন,"শ্বশ্রূমাতা স্থিরনিশ্চিত হইয়াছেন,আমি পুরুষত্বহীন,তাই এবারে আর বলিলেন না যে,সামনের জামাই ষষ্ঠীতে সন্তান কোলে আসিয়ো। উপরন্তু জ্ঞাত করিলেন,যতই তুমি পাহাড়ের চূড়ার মত উঁচুদরের মানুষ হও,আঁটকুড়া অর্থাৎ নিঃসন্তান লোকের মুখ কেহই দেখিতে চাহে না।শ্বশ্রুমাতাকে দোষ দিয়া লাভ কি ? এইরূপ চিন্তা তো আমার আত্মীয় স্বজন,বন্ধুবর্গও করিতে পারেন।সত্য বলিতে কি,আমার ও তো পরীক্ষা হয় নাই,আমার পক্ষে সন্তানের জনক হওয়া সম্ভব কি না ? যতই কষ্ট হউক, সন্তানের পিতা হইতে না পারিলে আমি আর শ্বশুরালয়ে পদার্পণ করিব না।" অতএব গৃহে প্রত্যাগমন করিয়াই জামাতা সন্তানের জন্মের ব্যাপারে বিশেষ যত্নবান হইলেন। উদ্যমী পুরুষের চেষ্টা বিফলে যায় না। তাই পুনরায় জামাইষষ্ঠীর পূর্বেই জামাতা এক দেবশিশু তুল্য পুত্র লাভ করিলেন।
পরবর্তী বৎসরে আবার কন্যা ও জামাতা জামাই ষষ্ঠীতে নিমন্ত্রিত হইলেন। এবারে কন্যা আর শূণ্য ক্রোড়ে আসেন নাই,তাহার ক্রোড়ে এবার এক ফুটফুটে সুন্দর শিশুপুত্র। শিশুর জন্মের সংবাদ শ্বশ্রূমাতা পূর্বেই অবগত হইয়াছেন। তাই এবারের আয়োজনে প্রাচুর্যের ছড়াছড়ি। অতি উপাদেয় ও মহার্ঘ সব খাদ্য সম্ভার।শ্বশ্রুমাতা এইবারে পুলকের আতিশয্যে জামাতাকে বারংবার ব্যজনী দ্বারা বাতাস করিলেন। উৎফুল্ল বদনে জামাতাকে ধান্য-দূর্বাদি দ্বারা আশীর্বাদ করিয়া বলিলেন,"চিরসুখী হও বাবা। ষাট ষষ্ঠীর ষাট,এতদিনে আমার ষষ্ঠী পূজা সফল হইয়াছে।" আশীর্বাদী স্বরূপ জামাতাকে একজোড়া জুতা,ধুতি,পাঞ্জাবি ও চাদর তো দিলেন ই,অতিরিক্ত উপহার স্বরূপ দিলেন একটি ওজনদার কারুকার্য খচিত সোনার আংটি। জামাতা বাবাজী এতদিনের অপমান বিস্মৃত হন নাই। তাই পূর্বেই একটি চির কুটে কিছু লিখিয়া রাখিয়াছিলেন, শ্বশ্রূমাতাকে প্রণামের ছলে চিরকুট টি তাহার পদতলে রাখিয়া দিলেন। শ্বশ্রূমাতা পড়িয়া দেখিলেন,তাহাতে লিখা আছে -
"পাঁচ বছরে ঢের শিখেছি,বেশ হয়েছে জ্ঞান,
হয়নি ছেলে,অবহেলে,দাও নি আমায় মান।
যার কারণে ফিরে পেলাম সকল উপহার,
আশীর্বাদ টা তাকেই ক'রো,জানাই নমস্কার।
নই আমি নপুংসক,নই তো আর আঁটকুড়া,
সংসারেতে টানাটানি,তাই তো দেরী করা।
নাতি দেবে স্বর্গে বাতি,নিয়ো তাহার ভার।
কর্ম আমার হলো সারা,আসবো না কো আর।"
হতবাক শ্বশ্রুমাতা নিরুত্তর রহিলেন। কিন্তু জামাতার যে সন্মানবোধ জন্মিয়াছে,সেই কারণে অতিশয় প্রীত হইলেন।

সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি
************************ *********



Tuesday, June 4, 2013


বিদ্রোহী কবি কাজি নজ্রুল ইস্লাম




Thursday, May 30, 2013

যন্ত্রমানব@ভালোবাসা.কম. / ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী/ ১৫.০৪.২০১৩ সকাল ১১.১৫ ।




যন্ত্রমানব@ভালোবাসা.কম.
 ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী ১৫.০৪.২০১৩ সকাল ১১.১৫ ।

"আমার দোসর যে জন ওগো তারে কে জানে
একতারা তার দেয় কি সাড়া আমার গানে কে জানে..."
এই আর্তির মধ্যেই ব্যক্তি জীবনের পথ চলা! স্বপ্ন সাধ সাধনায়, ভাব ভাবনা ভালোবাসাকে বিশেষ একজনের সাথে মিলিয়ে নিতে! কারণ কালের মন্দিরায় জীবনের বোল ফোটাতে পরস্পরের সঙ্গ লাগে! তখন সেই সঙ্গতে মন বলে "সব পথ এসে মিলে গেল শেষে তোমারই দুখানি নয়নে-" এই যে পরস্পরের মধ্যে জীবনের পথ খুঁজে পাওয়া, পরস্পরের মধ্যে বেঁচে ওঠা, পরস্পরের মধ্যে সত্য হওয়া; এখানেই প্রেমের সার্থকতা! এখানেই মানুষ চলেছে তার দোসরের খোঁজে, "কবে আমি বাহির হলেম তোমারই গান গেয়ে"! আসলে দোসর খুঁজে পাওয়ার সাধনায় দোসর হয়ে উঠতে পারার শক্তিটাই গুরুত্বপূর্ণ! সেখানেই মুক্তি!

সুদীপ্ত বি.টেক্.(কম্প্যুটার ইঞ্জীনিয়ারিং ) এর পর ইনফোসিস্ , বেঙ্গালুরুতে সফট্ওয়ের ইঞ্জীনিয়ার এর চাকরিতে জয়েন করে এখানে বলে রাখা ভালো সুদীপ্ত , আই.আই.টি , মুম্বাই থেকে ফার্স্ট ক্লাস্ ৯০% মার্ক্স পেয়ে  পাস করার পর চাকরিতে জয়েন করতে বাধ্য হয় । অন্য কম্পানি তে  ভালো চাকরি পেয়েছিল কিন্তু জয়েন করে নি। ওর বাবা হার্ট এটাকে হঠাত্ মারা জান এবং ছোট ভাইএর পডার দায়িত্ত সাম্লানোর জন্য ও বাধ্য হয় চাকরি করতে  । বাডীতে মা এবং ছোট ভাই ছাডা আর কেউ নেই । অনেক ইচ্ছে ছিল এম.টেক্. এর পর ডক্টরেট্ করবে বলে, কারন ওর টিচিং জব্ পছন্দ ।  সে ইচ্ছেটা ওকে সর্বদা পডাশোনার দিকে টানতো আড্ডা দিতে মোটেই ভালোবাসেনা সুদীপ্ত । ওর প্রজেক্ট্ এর প্রোজেক্ট্ মেনেজার (পি.এম্.)ওকে খুব স্নেহ করেন । ওর বুদ্ধিদীপ্ত চেহারার সঙ্গে ও কাজ ও খুব নিখুঁৎ ভাবে করে । সুদীপ্তা ওই একি প্রোজেক্ট্ এ , ওর সঙ্গে জয়েন করে একি দিনে। মাইসুরে তিন মাসের ট্রেনিং সেরে দুজনে বেঙ্গালুরুতে জয়েন করেতাই সুদীপ্তার সঙ্গে আলাপ প্রায় তিন  মাসের ওপোর । সুদীপ্ত র চেহারার আকর্ষনের সঙ্গে ওর প্রখর বুদ্ধি সহজেই নারীর মন আকর্ষন করে ।  এটাই স্বাভাবিক । সুদীপ্তা এন.আই.টী., রাউরকেল্লা থেকে কম্পুটার ইঞ্জীনিয়ারিং এ  বি.টেক্.ফার্স্ট ক্লাস্  কাজেই ও খুব ফেলনা নয়। দেখতে খুব সুন্দরী । বাবা মা দুজনেই আই.এ.এস্ ওফিসার তাই টাকার ও অভাব নেই ।  তবে আই.আই.টি. পাস আউট্ দের ইনফোসিসে বেশি টাকা মাইনে দেয় । বেঙ্গালুরের ইনফোসিস্ এর নিয়ম অনুযাই মেয়েরা সন্ধ্যে ছটার পর ওফিসে  থাকা মানা ছিল। এসব আমি ২০০৫ সালের কথা বলছি
সুদীপ্ত এক রকমের যন্ত্রমানবে পরিনত হয়ে গিয়েছিল । ওফিস আর কাজ ছাডা কিছু যানতোনাবেলা ১.৩০ টার সময় সুদীপ্তা ক্যান্টিনে লাঞ্চ খেত সুদীপ্তর সঙ্গে দেখা করে। ওখানে গল্প করার ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই কারন ও বিশেষ পাত্তা দিত না  ওসব ব্যাপারে । সর্বদা ঘোরে থাকতো  কি করে অন্ সাইটে যাবে । তারই  চিন্তায় থাকতো একদিনের কথা, সুদীপ্তা ওর জন্মদিন সেলিব্রেট্ করার জন্য সব বন্ধু বান্ধব্দের ডেকেছিল সুদীপ্ত ও ছিল ।  ফরমালিটি র জন্য পার্টি তে গিয়ে সুদীপ্ত গিফট্ দিয়ে চলে যায়। এটা সুদীপ্তার মনে লাগে । এম্নিতেই সফট্ ওয়ের ইঞ্জীনিয়ার রা পার্টী , আড্ডা শুক্রবার রাতে এবং শনিবারদিন সাধারনতঃ করেথাকে । ওদের মতে সেটারডে নাইট মাস্ট্ বি ডিলাইট্ । সুদীপ্তা মনে দুখঃ পেলেও প্রকাশ করেনি কারন ও সুদীপ্ত কে মনে মনে ভালবাস্তো কিন্তু কখনো প্রকাশ করেনি।
এই অপ্রকাশিত প্রেম এবং বলতে গেলে এক তর্ফা প্রেম যেন অশহ্য লাগে সুদীপ্তার । একদিন সুদীপ্তকে বলে বসে, “তুমি আমাকে এভয়েড্ করছো কেন ? আমি লাঞ্চের সময় ডাকলে তুমি এসে খেয়ে বিল মিটিয়ে চোলে যাও ।  কোন কথা কি তোমার মুখে আসেনা ? আমি তোমার প্রজেক্টে কাজ করছি ! তোমার সঙ্গে একসঙ্গে ট্রেনিং নিলাম ।  অন্য কলিগ্ রা ত এরকম নয় ! তুমি এরকম ডিফারেন্ট্ এটিচ্যুড দেখাও কেন?” এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে সুদিপ্ত র  দিকে তাকালো     উত্তরের অপেক্ষায় ।    
সুদীপ্ত বলে, “আমাকে ভুল বুঝোনা । আমার মাথায় অনেক চিন্তা । আমার মা বিধবা, ভাইএর পডা আমার ওপোর নির্ভর করছে । এই পরিপ্রেক্ষিতে আমার ওপোর সংসারের সব দায়িত্ত , ও তুমি বুঝবেনা !”  তুমি মুখে সোনার চামচ নিয়ে জন্মেছ তাই তুমি কি করে যানবে নিম্নমধ্যবিত্তের জ্বালা জন্ত্রনা ? তোমার বাবা মা আই এ এস্ অফিসার !
 সুদীপ্তা , “এটা কিরকম কথা হল ?”
সুদীপ্ত ,“দেখ আমি এখন সয়নে স্বপনে একটাই কথা ভাবি;  কি করে অন সাইটে যাবো ?”
সুদীপ্তা, “সেত আমিও ভাবি , তুমি একা নও । আমার কি ইচ্ছে করেনা প্রোযেক্টের কাজে ইউ.এস.এ যাই! আমরা হয়তো এক সঙ্গেই যেতে পারি । পি.এম্. একা তোমাকে নয় আমাকেও রেকমেন্ড্ কোরেছেন সে খেয়াল রাখো মিস্টার সুদীপ্ত রায় !”
আমি জানি ।  কংগ্রাচুলেসন্ মিস্ সুদীপ্তা বোস্হেঁসে ফেলে দুজনে ।
 আমি কিন্তু বাবা মাকে তোমার কথা বলেছি ।
 মানে !!
মানে আবার কি ? আমি তোমাকে পছন্দ করি এর বেশি কিছু নয় । 
কিন্তু তুমি তো আমার মতা মত নাও নি !
এই তো নিলাম , আজকে , এখন ! আমি তোমাকে প্রপোস্ করছি। যেটা কিনা ছেলেরা করে সেটা আমি করছি বেহায়ার মত । ইয়েস্ আই এডমায়ার ইউ । কেঁদে ফেললো সুদীপ্তা । তুমি ভালো ছেলে বলে তোমার খুব গর্ব না ? কিন্তু আমি তোমাকে ভালো বাসি .. আই ! আই লাভ্ ইউ !! ফর হেভেন সেক্ ডোন্ট্ লিভ মি । তুমি আমাকে অনেক অপমান করেছো !  আর না !!
সুডীপ্তা র মাথায় হাত দিয়ে বোঝানোর চেস্টা করে সুদীপ্ত । কুল ডাউন বেবি কুল ডাউন । এতো কনফিডেন্স্ ভালোনা । আমার মা কে না জিজ্ঞাসা করে আমি এ বিষয় কিছুই বলতে পারবোনা । আমার এখন কেরিয়ার আছে । কিছুই হতে পারলাম না । বাবার অনেক আশা ছিল আমি ডক্টোরেট্ করি । বাবা গত হয়েছেন মোটে এক বছর তার ধকল এখনো মা সাম্লে উঠতে পারেন নি ।  তুমি জান আমার ভাই এখন সবে ঢুকলো বি.টেক্. এ । ও ,  আই.আই.টি.,  খডগপুরে এডমিসন পেল । আরো ভালো রেসাল্ট্ করতে পারতো ।  আমি ওকে ভালো গাইড্ করতে পারিনি । যানিনা কি করবে ভবিষ্যতে! ওর পডাশুনোর জন্য আমাকে ফিনান্স্ করতে হবে । আমার ওপোর সারা সংসারের সব দায়িত্ত । আমার এখন প্রেম করা সাজে না ।আমাকে বুঝতে চেস্টা কর ।  
  আমি সব জেনেই তোমাকে ভালোবেসেছি ।  এখন তো বলছিনা! আর কি বললে, “বেবি!” আমি “বেবি !!”  তুমি নিজেকে কি মনে কর ? এ্যাঁ !! দেখাচ্ছি তোমার মজা । এই বলে চট্ করে জডিয়ে ধরে চকাস করে চুমু খায় ঠোঁটে ।  আমি তোমার কাছ থেকে এই টুকু কি আশা করি না ,“আই লাভ্ ইউ টু সুদীপ্তা” শুনতে !!  ছেলেদের চোখ দেখলেই মেয়েরা বুঝতে পারে মোসাই । তুমি জতোই আমাকে শুরু থেকে এভোয়েড্ কর আমি জানি তুমি আমাকেই মনে মনে পছন্দ কর । আই এম্ মাচ কনফিডেন্ট এবাউট দ্যাট্। তাই আজ তার প্রাইজ্ দিলাম। কিরম লাগলো ? বলবে না ?
এতো কনফিডেন্স্ ভালোনা । তবে হ্যাঁ,  যদি কোন দিন বিয়ে করি তবে আই প্রমিস্ , আই সুদীপ্ত রায়  do herby testify, and give public notice of the covenant of marriage which we have entered into with each other in the presence of God and witnesses: based solely on the authority of God as found in His Holy word, The Bible  ইন দি নেম অফ গড্ এক্সেপ্ট্ মিস্ সুদীপ্তা বোস এস মাই ওয়াইফ্এই বোলে সুদীপ্ত , সুদীপ্তা কে জোডিয়ে ধোরে গোভির ভাবে চুমু খায় । সকলের হাত তালিতে ওদের ঘোর ভাঙ্গে ।
সুদীপ্তা লজ্জায় মাথা নিচু করে । অদিতী,সুকন্যা,প্রিয়ঙ্কা, গুলশন,আবীর,ভেঙ্কাটেশ্ সকলে খুশিতে গান গাইতে আরম্ভ করে। ৫ পএন্ট্ স্পিকার লাগিয়ে ডিজিটাল হোম থিএটারে গান বাজিয়ে নাচ শুরু হয় ওদের মধ্যেখানে রেখে । গান বাজেঃ-                   তোমার প্রেমের বাত্তি জ্বালাই
আমার মনের ঘরে,
ইদানিং তো চার্জে রাখি
লোডশেডিংয়ের ডরে...”
এর পর সুদীপ্ত সুদীপ্তা দুজনেই নাচতে শুরু করে গানের তালে তালে। আদিত্য- সুকন্যা সালসা ডেন্স্ আরম্ভ করে দর্শকদের দৃষ্টী আকর্ষন করে। পরে প্রিয়ঙ্কা-গুলশন ব্রাজিলিয়ান সাম্ভা ডেন্স্ দেখায়। সকলে সারাক্ষন এঞ্জয় করে ।
সেদিন পার্টি হয় রাত ৯.০০ টা তে শেষ হয় ১২ টাতে। আজ সুদীপ্ত-সুদীপ্তা দুজনে হোষ্ট আর প্রজেক্ট এর সব কোলিগ্ রা খোশ্ মেজাজে মুর্গা মসাল্লাম্,কোপ্তা,বাটার তন্দুর,প্রন্ পকোডা,বাটার স্কচ্ আইস্ ক্রিম্ পরে কিছু হট্ ড্রিঙ্ক নিয়ে একটু বেসামাল হয়। ওটা আই.টী. প্রফেসন্ এ চলে। কিছু বলার নেই।  মেনে নিতেই হয় ।
সুদীপ্ত কে আজ যেন খুব চারমিং লাগছিল ঠিক সুদীপ্তাকে ও তাই । ওরা নিজেদের মধ্যে কিছু বলছিল যার দিকে কারুর নজর ছিলোনা । সকলে মসগুল নিজেদের পার্টনার কে নিয়ে।
সুদীপ্ত বলে আমি এটা ঠিক করলাম না আমার মা জানলে দুখঃ পাবেন। ঝোঁকের মাথায় তোমাকে কিস্ কোরতে গিয়ে সব গন্ডগোল হয়ে গেল । আমি কি জবাব দোব মাকে,ভাইকে? ওরা আমাকে খুব ভর্সা করে । এটা মোটেই ঠিক হলনা অনুশোচনায় ভেঙ্গে পডে সুদীপ্ত ।
তুমি একা নও সুদীপ্ত ও আমারো ভাই । তুমি কি করে ভুলে গেলে আমি কিছু না বুঝে আমার ডিসিসন নিয়েছি বলে ? আমি সব জানি ম্যান্ । কিছু ভেবোনাআমি বাবা মাকে ডিটেল সব কথা বলেছি। বাবা আমাকে অনেক স্বাধিনতা দিয়েছেন । মা বাবা নিজেরাই মুসৌরিতে আই.এ.এস্ ট্রেনিং ইন্সটিট্যুটে গলা জডা জডি করে প্রেম করেন । তার পর বিয়ে সেরে ফেলেন বাবা মাকে না জানিয়েপরে অবশ্য দু পক্ষ রাজি হয়ে বিয়ের আয়োজন করেন। তুমি যানো , আমার মা বাবা জাত ফাত মানেন না ,এমনকি ধর্ম ফর্ম মানেন না। ওঁরা এক্টাই জাত যানেন ,ওরা আই এ এস্ ! ওটাই ওঁদের গীতা,বাইবেল,গুরুগ্রন্থ আর কোরান !!  দুজনে দু জায়গায় সাব কালেক্টার ছিলেন । দেখা করার জন্য শনিবার রাতে পালাতেন হেড কোয়ার্টার ছেডে । অবশ্য ওনাদের কালেক্টার যান্তেন সে কথা। বাবা আমাকে সব বলেছেন। খুব মজার দিন সব ওনাদের কেটেছে । ঠিক আছে তুমি তোমার মাকে জিজ্ঞাসা কর। আমার কোন আপত্তি নেই। আমি কনফিডেন্ট্ উনি মত দেবেন। আমিত কিছু ভুল করিনি । পারলে না হয় পা জোডিয়ে বলবো, “মা, মাগো আপনার কচি ছেলেটাকে নুন লঙ্কা মাখিয়ে খাবো” বলে হেঁসে ফেলে ।
কি বলছো যা তা ! তোমার কি মাথা খারাপ হল?  মা কে আমি চিনি । মা রাজি হবেন না । আমার ভাই কি ভাববে বলত ? এতো তাডা কিসের ? একটু সবুর কর । আমি তো পালাচ্ছিনা !
পালাতে কে দিচ্ছে মসাই । তবে আমার তাডা আছে । আমার পেছনে শকুনের চোখ আছে । তুমি বুঝবেনা সে কথা । বলার ও প্রয়োজন মনে করি না ।
সে আবার কি কথাযদি বলতে না চাও বোলোনা । আই ডোন্ট মাইন্ড্ ।
তুমি আমাদের পি .এম্.কে দেখেছো ।  উনি কিরকম ছুঁক ছুঁক করেন  আমাকে দেখে! যেন গিলে খাবে !! বিচ্ছিরি !!! ইরেসিসস্টিবিল ।
ওটা তোমার ভুল ধারনা । নাও হতে পারে ।
ঊনি তোমাকে তাডা হুডো করে ইউ.এস .এ যাওয়ার রেকমেন্ড করেছেন আমার থেকে তোমাকে দুরে সরানোর জন্য তুমি জান কিছু ! মাথায় ঢুক্লো কিছু !!
মোটেই নয় । ওটা তোমার ভুল ধারনা । আমি প্রজেক্ট্ এর জন্য বেশি সময় দি । সকলে যানে  পি.এম. , এস. পি.এম. এবং অন্য সকলে । সেই কারনে আমাকে পাঠাচ্ছে । এতে আশ্চর্‍্য্য হওয়ার কি আছে ?
আমি অস্বিকার করছিনা তবে আমার কথাটা সত্যি কিনা,  প্রিয়ঙ্কা বলবে তোমাকে । ওই আমাকে বলে সে সব কথা ।
দেখ এ সব বাজে মেয়েলি কথাতে আমি মোটেই  ইন্তারেস্টেড নই । বকবাস্ । জাস্ট্ গসিপ্ ।
ও কে । কাল ভিসার জন্য রেডি হও । আমাদের দুজনকে নিউ জার্শি তে পাঠাচ্ছে ইনফি । ইন ফেক্ট্ আমি বাপিকে আস্তে বলেছি সঙ্গে মা থাকছেন । তোমাকে ওরা দেখতে আসছেন কাল। মানা কোরোনা কিন্তু
মন্ত্র মুগ্ধের মতন সুদীপ্ত বলে ফেললো আচ্ছা।
প্রমিস্
প্রমিস্
দেটস্ লাইক এ গুড বয় , মাই ডার্লিং বলে  হাগ্ করে সুদীপ্তর গলা জোডিয়ে কিস্ করে সুদীপ্তা
সুদীপ্ত চোখ বন্দ কোরে নারীর সান্নিধ্য উপভোগ করছিল । স্বয়ং ভগবান ও বোধহয় এর থেকে নিস্তার পান নি। সুদীপ্ত তো ছেলে মানুষ । কিন্তু আবার মাথাতে চাডা দেয় মা এবং ভাইয়ের প্রতি দায়িত্ববোধ,নিজের কেরিয়ার,ইত্যাদি ভেবে সুদীপ্তার কাছথেকে ছাডাপেতে চায়। ক্ষনিকের আবেগে নিজেকে এরকম ভাবে বিলিয়ে দিতে পারেনা। বিবেক দংশনে নিজেকে সাম্লানোর চেস্টা করে।
পরক্ষনে বলে আজ আমাকে জেতে হবে , বাই ...
কিছু বোঝার আগেই সুদীপ্ত হাঁটা দেয় ইনফোসিটির হেরিটেজ্ বিল্ডিং এ ।  ওখানে ইনফীর  চেয়ারম্যান নারায়ানাস্বামী, নন্দন নীল্কার্নী ,পাই  ইত্যাদী টপ্ বস্ রা বসেন । তবে এঁদেরকাছ থেকে  একটা বড জিনিস সেখার আছে এঁনারা কেউ নিজেদের বস্ বলে  বলেন না বরং কলিগ্ বলেন। সুদীপ্ত ওখান হয়ে  বিল্ডিং নাম্বার ৪২ তে নিজের অফিসে চলে জায়।
সুদীপ্তা একটা সুইমিং পুলের ধারে বোসে জলে নানা রঙের  মাছ দেখছিলো । নানা রঙের মাছ মঙ্কে শান্ত করে । বেঙ্গালুরুর ইনফোসিটির ভেতোরটা এতো সুন্দোর পরিবেশ আর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন মনে হয়না ওটা ভারৎবর্ষের মধ্যে অবস্থিত বলে মনে হয় যেন আমেরিকাতে আছি। একটা কাগজের টুক্র কোথাউ কেউ খুঁজে পাবেনা। কেম্পাসের ভেতর গাডী চালানো নিষেধ । সাইকেলে জেতে হয় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়। ধুম্রপান নিষেধ । “স্মোকিং স্টৃক্লি প্রহিবিটেড্” বলে চারিদিকে লেখা । মাঝে মধ্যে ছোট ছোট গার্ডেন,লন্ , সুন্দর ডেকোরাটিভ ওর্কিড্স । একটা পরিচ্ছন্ন ইকোফ্রেন্ডলি মন মুগ্ধকর পরিবেশ । না দেখলে বোঝা জায়না ।
সুদীপ্ত সুদীপ্তার ভিসা ইন্টারভীউ চেন্নাই তে ৭ দিন পর । চেন্নাইতে ভিসা ইন্টারভীউ তে নানান প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয়। তার স্বঠিক জবাব দিতে হয় ওদের  ।দুজনের ইন্টারভ্যু আলাদা আলাদা ভাবে হয় ।  সে সব সেরে ওরা দুজনেই কৃতকার্জ্য হয় । পাস্পোর্ট ভিসা স্টাম্পিং সেরে কোম্পানীর থেকে ওখানে থাকা,ফ্লাইটের টিকিট, সঙ্গে ২০,০০০ ডলার। লুফথান্সা ফ্লাইটের টিকিট আগাম কোম্পানি থেকে ওদের দুজন কেই দেওয়া হল। ওরা সঙ্গে  গরম জামা কাপোড, অন্যান্ন  শীত বস্ত্র এবং আনুসঙ্গিক যা যা নেওয়ার সব কিনে নেয় । এর মধ্যে সুদীপ্তার মা বাবা এসে ঘুরে গিয়েছেন । অনিচ্ছাসত্বেও সুদীপ্ত ওদের সঙ্গে দেখা করে । ফরমালি দেখা করতে বাধ্য হয়।
যাওয়ার আগে ওরা দুজনে তীরুপতি তীরুমালা ভেঙ্কেটেস্বরম্ মন্দীর দর্শনে যায় । বেঙ্গালুরু থেকে রাত ৯ টার সময় আন্ধ্র প্রদেশ টুরিস্ম এর লাক্সারী ভল্ভো এ.সী. বাস ছাডে পৌঁছোয় রাত ৩ টের সময় তীরুপতি তে । ওখানেই গেস্ট্ হাউসের ব্যাবস্থা থাকে গরম জল এ স্নানের জন্য । স্নান সেরে ফ্রেশ হয়ে  তীরুমালা পাহাডের ওপোর যাত্রা । তীরুপতি থেকে তীরুমালা ২২ কিলোমিটার অন্য বাসে যেতে হয়। ভোর বেলার দর্শন ভী.আই.পীদের জন্য খুব কম সময় লাগে এবং লাইন ও ছোট থাকে।  বেশ থান্ডা লাগে ওই সময় তীরুমালা পাহাডের ওপোরটা। প্রায় এক ঘন্টা লাগে লাইনে আস্তে আস্তে আঙ্কা বাঙ্কা পথে মন্দীরের ভেতোর প্রবেশ করতে । তারপর বালাজীর দর্শন অপূর্ব । চাপ চাপ সোনা । কস্টি পাথরের মুর্ত্তি । সোনার মুকুট , সোনার হার ইত্যাদি।  ৩০সেকেন্ডের মধ্যে দর্শন সারতে হয় নাহলে গোবিন্দা গোবিন্দা  বলে ঠ্যালা মারবে পেছোন থেকে টেম্পল পুলিশ্ । এরপর তীরুপতির  বিখ্যাত আসোল ঘীএর লাড্ডু জনা পিছু দুটো মন্দীর প্রশাসন দেয়। কেউ ইচ্ছে করলে আরো লাড্ডু কিনতে পারেন কাউন্টার থেকে । এরপর পদ্মাবতীর দর্শন । পাদ্মাবতী স্বয়ং মা লক্ষী ঠাকুর । অপুর্ব লাগে ওখানে দর্শনের সময় । তীরুপতি বালাজীর  সারা মন্দীর সোনা তে মোডা। মন্দীরের চুডা, গাত্র , থাম ইত্যাদি  । দক্ষীন ভারতের  মন্দীরের ভাস্কর্য্য সুন্দর ।  চুডাতে তিনটে সোনার কলশ থাকে এবং ওপরটা ফ্লাট্ একটা ট্রেপিজিয়ামের মত ।
দর্শন সেরে  সুদীপ্তা ফিরে আসে বেঙ্গালুরুতে
 সুদীপ্ত যায় মা আর ছোট ভাইকে দেখতে মামার বাডী ।
বাবার দেহান্তে র পর মাকে মামার বাডীতে থাকতে হয় । মা, যা টাকা পেয়েছিলেন তার ফিক্সড্ ডিপোসিটের সুধেতেই মা চলেন । সুদীপ্ত ভাইয়ের সমস্ত পডার খরচ দেয় হস্টেলে থাকার জন্যযাওয়ার আগে মামা মামির আশীর্বাদ তা ছাডা দক্ষিনেশ্বরে মা কালীর দর্শন আর বেলুডে রামকৃষ্ণ পরমহংস,স্বামিজীর দর্শন সেরে শারদাশ্রমে মায়ের সঙ্গে যায় মায়ের আশির্বাদের জন্য । সব দুদিনের মধ্যে সেরে মায়ের আশির্বাদ নিয়ে ফিরে আসে বেঙ্গালুরু । ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলনা সুদীপ্তর সেটা বড আফশোষ থেকে গেল। ভাই ফোনে উইশ্ করল। বাডীথেকে যাওয়ার সময় মায়ের চোখ ছল ছল করেমাকে সুদীপ্তার কথা বলে , কিন্তু মা কিছুই বলেন না। সেটাই সুদীপ্তর মনে ধাক্কা লাগে । বোঝে মা খুশি হন নি এতে । সুদীপ্ত ভারাক্রান্ত মনে শুধু বাবাকে মনে করে । আজ বাবা থাকলে হয়ত খুশি হতেন তার ছেলে আমেরিকা যাচ্ছে কম্পানীর প্রজেক্ট এর কাজে । তিন বছরের জন্য ভিসা পায় সুদীপ্ত সুদীপ্তা। সুদীপ্তা এর আগে মা বাবার সঙ্গে পাটেয়া গিয়েছে । ওর কিছুটা অভিজ্ঞতা আছে কিন্তু সুদীপ্ত নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে ওর জন্য সব নতুন । মনটাও ভালো নেই দেশ ছেডে যেতে ।
ফিরে কাজে জয়েন করে প্রজেক্টের সব বুঝে নেয় পি.এম্. এর কাছ থেকে । ওখানে গিয়ে কারা রিসিভ করবে কোথায় থাকবে ইত্যাদী .... সুদীপ্তার এক্সাইট্ মেন্টের সিমা নেই । ফোনে বাবা মাকে তীরুপতি বালাজীর দর্শনের গল্প , ভিসা ইন্টারভ্যু এর গল্প...ইত্যাদী...ইত্যাদী ।
যাওয়ার আগের দিন পার্টিতে ওরা দুজনে বন্ধুদের থেকে বিদায় নিল । এয়ারপোর্টে সব বন্ধুরা সি অফ্ করলো । চেক্ ইন সেরে , লাগেজ্ কনভেয়ারে পাঠিয়ে দুজনে বন্ধুদের থেকে বিদায় নিল । আর ওদের দেখা গেলনা ।এর পর সিক্যুরিটী চেক আপ্  সেরে ফাইনালি রান ও্যেতে বাস এয়ারক্রাফট্ অব্ধি নিয়ে যায় । মোবাইল স্বিচ্ অফ্ করে দুজনের নির্ধারিত সিটে চলে যায়। এয়ার হস্টেস্ গতানুগতিক ভাবে পেসেঞ্জারদের সুচনা দেয় ।
বেঙ্গালুরু থেকে বম্বে হয়ে দুবাইতে ঘন্টা খানেক থেকে পাডি দেয় ফ্রাঙ্কফুট্। ভারতিয় সময় রাত ১২ টায় এয়ারক্রাফট্ ছাডে ফ্রাঙ্কফুট্ ।  তারপর আটলান্টিক্ মহাসাগর সারা রাত । সকালে  নেউয়র্ক এর , জন্ এফ কেনেডি এয়ারপোর্ট এ  পৌঁছয় এয়ারপোর্ট টারমিনালে অপেখ্যারত দুই বন্ধুকে আলিঙ্গন করেওএল্কাম টু আমেরিকা দুজনে জানায়। থ্যাঙ্ক ইউ প্রতিউত্তরে বলে। সুদিপ্তর এতোদিনে আশা চরিতার্থ হল। দুজনে নিউ জার্সিতে একটা বি এম্ ডব্লু কারে যায় । গেস্ট্ হাউসে পাসা পাসি রুমে দুজনে যেন কাছে থেকেও দূরে! মাইনাস ২৫ টেম্পেরেচার । কাল থেকে নতুন কাজে জএন করছে দুজনে । এক প্রজেক্ট থাকাতে কাছেই থাকবে।
শনিবার রবিবার ওদের ছুটি । নিউজার্সি থেকে নেউ ইয়র্ক কাছেই । তাই বেডাতে বেরয় । সুদীপ্তর পিস্তুতো ভাই এবং বউদি এখানে মস্ত ডাক্তার । ওঁরা ১৯৬২ থেকে আমেরিকা তে  মানহাটেন স্টৃটে অনেক দিন আছেন । বাডীর নাম মায়ের নামে “শান্তী নিলয়”ওঁদের দেখা করে চলে আসে । সঙ্গে সুদীপ্তা ছিল তাই লজ্যায় বেশিক্ষন থাকেনি ।
হটাৎ নোট্ প্যাডে মেল্ এলার্টঃ- ছোটভাইয়ের ই মেল্ , “SEND IF U CAN, 50K INR BY 15th Sushanta .
সুদীপ্ত অপ্রস্তুত মনে করে ফিরতে চাইল । আজকেই ফান্ড্ ট্রান্সফার করতে হবে এচ ডি এফ সি ব্যাঙ্ক থেকে সুশান্তর আকউন্টেসুদীপ্ত কম্পানী থেকে $20,000 আসার সময় পেয়েছিল । ওর কাছে  এখন $17680 আছে । তার থেকে $1000 ডলার অনায়াশে পাঠাতে পারে । ডলারের ভ্যা্লু পডে গিয়েছে এখন  $1= Rs 49.50P আছে ।  যদি আজকের দাম থাকে তাহলে টা৪৯,৫০০হয়েযাবে আর সেটা তিন দিনের মধ্যে পেয়েযাবে নিশ্চই ওর এডমিসন এর জন্য প্রয়োজন । ফান্ড ট্রান্সফার করেই মেল করবে ভাইকে । মনে মনে ভাবলো।
সুদিপ্তা বাবা মার সঙ্গে কথা বলেই যাচ্ছে । ও টের পায় নি সুশান্তর মেল্ এর ব্যাপারে.......ক্রমশঃ 


সুদিপ্ত খুবই বিব্রত ছিল ওর ভাইকে টাকা পাঠানোর জন্য ।ওর দাদা বৌদির সঙ্গে সুদীপ্তাকে কথা বলতে দেখে দাদার সঙ্গে কম্পুটার এর কাছে গেল। ওর ছোট ভাইয়ের খডগপুরের এচ.ডি.এফ.সি ব্যাঙ্কের একাউন্টে ওর দাদার বাডীর কম্পুটার থেকেই $1050 ফান্ড ট্রান্সফার করে পাঠিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত হল।
ওর দাদা খুশি হয়ে বললেন, ছোট ভাইকে টাকা পাঠালি ? বাহ্ এটা মনে রাখবি ।এটা বিশেষ দরকার।
ওর কাছে এখন $16,630 অবশিষ্ঠ থাকলো তাতে বাডী ভাডা , খাওয়ার খরচ , গাডীর পেট্রল কত গেলন লাগবে তার আন্দাজ নেই। তবুও মোটা মুটি সব হয়ে যাবে মনেহচ্ছে । সুদীপ্তার কি চিন্তা ! টাকা লাগে দেবে গৌরিসেন ।
সুদীপ্তা হঠাৎ বলে উঠলো, “বাডি যাবে না ?”
হ্যাঁ চল ।
বলে ভাইকে মেল করে দিল “$1050 transferred to ur acct .Pl check after 3 days and confirm me” Dada
দুজনে ফিরে এলো ।
রাত ৯ টার সময় ইন্ডিয়া থেকে ফোন এলো সুদীপ্তার । নিশ্চই ওর বাবা মা কল করছেন !
সুদীপ্তার চোখে মুখে খুসির চেহারা সুদীপ্তর চোখ এঢ়ালোনা । ও অন্যখানে চোলে গেল।
সুদীপ্তা, “এই ! তোমাকে মা ডাকছেন।
কেন ?
জানিনা । শোন ।
আচ্ছা যাচ্ছি ।
মোবাইল টা নিয়ে কল রিসিভ করে, “হ্যালো!বলাতে ওপার থেকে উত্তর এল কেমন আছো?”
ভালো....ক্রমশ
২য় পর্ব
.............................................................................................................
সুদিপ্তর মা সল্ট লেকে মামার বাডিতে থাকেন এ জে ব্লকে । মামা র সিটি সেন্টারে দুটো দোকান । একটা গারমেন্টস্ এর আরেকটা ইলেক্ট্রনিক্স্ এর শো রুম। প্রচুর বিক্রি হয়। মামার ইছে ছিল সুদিপ্ত কে এম বি এ পডানোর । ওনার ছেলে নেই তাই সুদিপ্ত,সুশান্ত দুজন কেই ছেলের মোতন দেখেন। মার ঘর ঠাকুর ঘরে । মা পুজো আচ্ছা নিয়ে বেশির ভাগ সময় কাটান । প্রত্যেক মঙ্গল শনি দক্ষিনেশ্বর কালি বাডি গিয়ে পূজো দেন দুই ছেলের নামে। মামা গাডি দিতে চাইলে , মাগর রাজি হন বলেন অত আডোম্বরে পুজো দিলে ঠাকুর গ্রহন করেন না।মহিলাদের মাথায় কে যে এই সব   ঢ়োকায় যানিনা । নিজেদের কষ্ট দিতে এদের জুডি নেই।সুশান্ত কিছুদিনের জন্য খডগপুর থেকে  মায়ের কাছে এলো মাকে দেখা করতে । মা আনন্দে আটখানা ছেলেকে পেয়ে । আনন্দাশ্রু দুচোখ বেয়ে গডাতে লাগ লো । সুশান্ত ধির স্থির খুব শান্ত মেজাজের ছেলে । বাবার দেহান্তর পর আর যেন শান্ত। দাদা চলে যাওয়ার পর ওর দায়িত্ত বেডেছে ।  প্রায় দিন ফোনে মা'’র খবর নেয় ।
ঘরে ঢ়ুকে মাকে প্রনাম সেরে হাত পা ধুতে যায় ।
মা তোয়ালে দিতে দিতে বলেন, “রাস্তায় কষ্ট হয় নি ত বাবা
কষ্ট কিসের মা !  তোমাকে ছেডে থাকার কষ্ট বলছো !! না অভ্যেস হয়ে গিয়েছে।
না না ট্রেন জার্নি করে এলি তো তাই বলছি ।
ও ওভ্যেস হয়ে গিয়েছে। এই টুকু ত পথ । সকলে ডেলি পেসেঞ্জারি করে কোলকাতা থেকে ।
হ্যাঁ তা করে ।  স্নান টা সেরে নে আমি খাবার বাডছি ।
এই সময় মামি এলেন এক থালা জলখাবার নিয়ে । লুচি ফুল কপির তরকারি , বেগুন ভাজা , পায়েস আর মিষ্টি ।
ধপাস করে প্রনাম মামিকে। কেমন আছো মামি ?
ভালো । তুই কেমন আছিস ? এতো রোগা হয়ে গেছিস কেনরে?
হস্টেলে কি খাস না ভালো করে?
কি যে বল । তোমরা মায়েরা শুধু আমাদের রোগা হতে দেখ । বন্ধুরা বলে মোটা হয়ে জাচ্ছিস খেয়াল রাখিস। জিম্ এ যা নয়তো ভুগবি।
কোন বন্ধু , ছেলে না মেয়ে ? মা বলেন ।
খুব অপ্রস্তুত মনে হল সুশান্ত কে। আমি দাদা নয় মা যে হুট্ করে....
থাক থাক । আর বলতে হবে না ।  উনি যাওয়ার এক বছর না হতেই  ছেলে ............ চোখের জল পুঁছতে পুঁছতে মা .............
আহ্ কান্নার কি আছে মা আমি ত আছি !
হ্যাঁ সেই আসায় বসে আছি। তোরা মানুষ হলে আমি কি তোদের বিয়ে দিতাম না । আমার কত সখ ছিল .............।
ঠিক আছে ঠিক আছে । দাদা তো আমাকে হাজার ডলার পাঠিয়েছে ।
তা কি বেশি করেছে শুনি । ছোট ভাইয়ের জন্য উনি করেন নি । সারা জন্ম ভাই বোন কে দেখলেন তারা এখন মুখ ঘুরিয়ে থাকে । আমার কপালে জত কষ্ট !
ঠাকুরঝি তুমি খেয়ে নাও । ও সব কথা থাকমামি বলেন ।  রান্না ঘরে গেলেন রান্নার ঠাকুর (জগা ননা) কে ফরমাজ করতে দুপুরের রান্না র জন্য ।
জগা ননাকে অনেক দিন থেকে দেখি মামার বাডিতে রান্না করতে । জগা ননা র গ্রাম উডিষ্যা র  ভদ্রকে । মাছ মাংস দারুন করে।
সুশান্ত জলখাবার খেয়ে নেটে বোসলো । এফ বি খুলে বন্ধুদের সঙ্গে একটু চ্যাট্ করে দাদার কিছু ফটো দেখলো । দাদা সুদিপ্তা বৌদি স্ট্যাচু অফ্ লিবার্টি , নিউ ইয়র্কের আরো কিছু যায়গা , বিভিন্ন শপিং মল এর ফটো , হ্বাইট্ হাউসের কিছু ফটো র ব্যাক গ্রাউন্ডে ওদের ফটো পোষ্ট গুলো দেখলো । ভালোই হয়েছে  ফটো গুলো । পিকাসা তে আপ্লোড্ করে এ্যাল্বাম   বানাল "দাদা বৌদি এট স্টেটস্" ।
দাদাকে ফটো পাঠানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ওর কিছু কলেজের তোলা ছবি আপ্লোড্ করে পাঠালো । বৌদি কে হায় জানালো ।
দুপুরের খাওয়াতে  জগা ননা  , ইলিস মাছের ঝাল , মোচার ঘন্ট , ফুল কোপির তরকারি,পাঁপোড় ভাজা , টমাটোর চাটনি , পায়েস , মিষ্টি ,দই ইত্যাদি ভালোই বানিয়েছিল । ভাতটা আমি এম্নিতেই কম খাই । এই বয়েসে মোটা হলে আর দেখতে হবে না। বন্ধুরা টিটকিরি মারবে ।
খেয়ে বিকেলে পার্কে  বেরুলাম । রাস্তায় 'শ্রাবন্তির'  সঙ্গে দেখা। ও পার্কে যাচ্ছিল ।আমাকে আগে থেকেই বলেছিল পার্কে যাওয়ার জন্য ।  আমার সঙ্গে পা মেলালো ।
শ্রাবন্তি আমার সঙ্গে স্কুল থেকে কলেজ ওব্ধি পডেছে ।  একি কলেজে  একি ক্লাসে পডেছি ১২ক্লাস ওবধি । আমার সঙ্গে  আই আই টি  এন্ট্রান্স্ ও  দিয়েছিল বেচারি পায়নি । খুব ভেঙ্গে পডেছিল। জয়েন্টের রেসাল্ট ভালো ছিল  ও এখন শিবপুরে ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং পোডছে । ভালই পডে তবে বড্ড পাকা । কিন্তু মেয়েটা ভালো । আমাকে খুব ভাল বাসে । আমিও ।
কিরে কবে এলি?
আজকে ।
কত দিন থাকবি ?
পরশু চোলে যাবো।
কেন ওখানে কেউ নতুন বন্ধু  হয়েছে বুঝি ?
তোদের মেয়েদের ওই এক কথা ! এতো জেলাস কেন বলতো তোরা ?
বাব্বা ! বিবেকানন্দ হলি নাকি? আমি কি জিজ্ঞ্যেস করছি তুই কি ভাবছিস ! আমি বলছি তোর নতুন কোন ছেলে বন্ধুর কথা ।
কেন তার সঙ্গে লাইন মারবি ?
দেখেছিস্ কে জেলাস্ !
ছাড । তোর সেমিষ্টার শেষ হয়েছে ?
হ্যাঁ । তোর ?
তাই জন্যই ত আস্তে পেরেছি।
তাই বল। হ্যাঁরে মাসিমা কেমন আছেন ?
ভালো ।
তোদের বাডি নিয়ে যাবি?
রক্ষে কর আর কেল করিসনা ! মাযা রেগে আছেন দাদার ব্যাপারে !!
কেন তোর বৌদি ত তোর দাদার প্রজেক্টে আছেন, না ? কি মজা দুজনে খুব এঞ্জয় করছে বল। তোর ইচ্ছে করে না  স্টেস্ এ যেতে বি.টেক্ এর পর ?
না দাদা যে ভুল করেছে আমি তা কোরবোনা ।
তোর দাদা বৌদির ফটো দেখাবি।
কি হবে দেখে ?
ইন্সপায়ার্ড হব ! আমারাও যাবো ।
মানে ?
ওরে ভোঁদাই, বিবেকানন্দ !এই আমায় কিস্ করবি?
তুই খুব ফাজিল হয়ে গেছিস ।
কেন আমার পেছনে লেগে আছিস? দু দিনের জন্য এসেছি তাও তুই আমাকে সিডিউস্ করছিস ? কেন ? কলেজে ফোন ত করিস । হস্টেলে ছেলেরা আমাকে বলে তোর গার্ল ফ্রেন্ড্ !!
আমি কি বলি বল ?
কেন তুই বলবি হ্যাঁ । আমার হবু বৌ । দেখবি ওরা চুপসে যাবে। ঠিক কি না।
সুশান্ত চুপ করে যায়। ওর মার কথা বলে। ওর মা কত কষ্ট পাচ্ছে দাদা ওই কান্ড করাতে।
দেখ সুআমাকে আর বোঝাস না ! তোর দাদা যা করেছেন ঠিক করেছেন । সুন্দর দেখতে বৌ আবার সেম প্রফেসেনে আছেন ওনারা । তোর বৌদির বাবা মা আই .এ.এস অফিসার । আর কি চাইতিস তোরা ?
ওইটাই তো মায়ের অসুবিধে । মা ঘরোয়া মেয়ে ...........
রাখ রাখ ওই গেঁও ..........
এটা খুব অব্জেক্সনেবিল কথা বলেছিস কিন্তু। আমি এটা পছন্দ করিনা কিম্বা আশা করিনা তোর কাছ থেকে অন্তত ।
এই ! আমি তোর মাকে মানে মাসিমাকে বলেছি নাকি ? আমি কথাটা শেষ করিনি ..........
ঝগডা করতে আমি ভালো বাসিনা।
সেত যানি বিবেকানন্দ ! মাই সুইট হার্ট । আই লাভ ইউ ।কিরে কিছু বোলছিস না যে। তুই কি রিতুপর্ণ ঘোস নাকি রে ?
দেখ বাডা বাডি হচ্ছে ।
তবে চুপ করে আছিস কেন? দেখ এখন সন্ধ্যে হয়ে গিয়েছে । পাসে তুই আর আমি। কি রোমান্টিক না !!
আমি যাচ্ছি ।
বোস না । আমি মেয়ে হয়ে বসেছি তুই কেন লজ্যা পাচ্ছিস ? সত্যি তোরা দুই ভাই এক কেটেগোরির !! ডিব্বা কোথাকার !! বলে হাঁসে ।
ওই ববির ডায়লগটা মনে রেখেছিস আর ওর এপ্লিকেসন্টাও তোর জানা।
তা কি করবো ? তোরা যদি চুপ করে থাকিস কিছু না বলে আমরা মেয়েরা  কথা বলতে   বাধ্য হই ।
প্রসঙ্গ বদলাতে চেষ্টা করলো সুশান্ত ।  তুই কখন পডাসোনা করিস ? আমার সেমিষ্টারের পরিক্ষার জন্য প্রিপারেসন করতে হবে । চল যাই । মা চিন্তা করবেন।
ওরে মাতৃভক্ত ছেলেরে । সত্যি তোদের মত ছেলে পাওয়া মুস্কিল । গুড গুড বয় । ওরে আমার ভোলা রে । বলে একটু আলত থাপ্পড দিল পেছনে।
তুই কিন্ত আমার কোকা কোলা হতে পারবিনা।
কেন ? আই আই টি তে পেলাম না বলে বলছিস ।
না তা কেন?
তবে?
তবে আবার কি !তুই নিজেই ভেবে দেখ। আমি এবার চলি। বাই ।
বাই । আবার কবে আসবি?
দেখি । ফাজলামি না করে পডাশুনোর দিকে মন দে ।
আমাকে একটু পায়ের ধুলো দিবি ? তোর মত ভালো ছেলে আমাদের কলেজে একটাও দেখিনি ! শালা মেয়ে দেখলে জিব দিয়ে জল পডে আর মাষ্টার গুলো আরো হারামি । খালি ছুঁক ছুঁক করে।
পায়ের ধুলোর দাম আছে। দিতে পারবি ?
হ্যাঁ । দিতে পারবো ।
তবে  বি। টেক্ এ  ফার্ষ্ট ক্লাস ফার্ষ্ট হয়ে দেখা।
আই এক্সেপ্ট্ ইট মাই লাভ্ । কিন্তু তোকেও তাই হতে হবে ।তার পর কিন্তু আমি যা বোলবো তোকে মানতে হবে ।
চেস্টা করবো । তারপর  ঠাকুরের ইচ্ছা । মায়ের আশীর্বাদ থাকলে নিশ্চই হবে ।
দু জনে দু দিকে চলে গেল ।

ক্রমশঃ-