Sunday, November 18, 2012

মার ছোটবেলা কেটেছে বরাহনগরের আলমবাজারে। পুজোর মাস দুয়েক আগে কোনও একটা সপ্তাহান্তে বাবা আমাদের কলকাতায় নিয়ে যেতেন পুজোর বাজার করতে। সে ছিল আমাদের সব চাইতে বড় উত্তেজনার দিন

বিকেলের চায়ের জন্য ঢোকা হত অনাদি কেবিনে। সঙ্গে অবশ্যই অনাদির স্পেশাল মোগলাই পরোটা। এই একটা দিন বাবা বাইরের খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে আমাদের লাগাম ছেড়ে দিতেন। আর তখন কলকাতা এত পরিচ্ছন্ন ছিল যে বাইরের খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ভয় কম ছিল। এখন বাইরে খেতে গেলেই ভাবি ভাল জায়গায় যেতে হবে, এসি থাকতে হবে, ভাজাভুজি মোটেই নাহেলথ রুল মেনে খেতে হবে। খোলা জিনিস খাওয়া চলবে না ইত্যাদি।

এক বার বাবা আমাদের চাইনিজ রেস্তোরাঁ কারকো-য় নিয়ে গিয়েছিলেন। তখন কলকাতায় চিনে খাবারের চল সবে হচ্ছে। http://www.anandabazar.com/e_kolkata/2012/october/amar_sohor5-2.pngচাংওয়া, জিমিস কিচেন, পিপিং আর কারকোএই কটি রেস্তোরাঁতেই সাবেকি চিনে খাবার মিলত। আর চাইনিজ খাবারে ইন্ডিয়ানত্বের ছোঁয়াও ছিল অল্প, তাই আমাদের বরং অসুবিধেই হত। কেবল গোল্ডেন ফ্রায়েড প্রন ছাড়া আর কোনও পদই ভাল লাগত না। বাবা বলতেন, চাইনিজ খাবারের অভ্যেস করতেসহজ পাচ্য, তেল মশলাও কম। আর সস্ ভিত্তিক রান্না, তাই মুখ বদলানোর পক্ষে আদর্শ। কিন্তু আমরা তিন জন সে কথা মানতাম না। শুধুই গোল্ডেন ফ্রায়েড প্রনের দিকে হাত বাড়াতাম।

আমাদের স্কুল ছুটি পড়ে যেত পঞ্চমীর দিন। আর খুলত ভাইফোঁটার পর। পুজোর কদিন বইপত্র শিকেয় তোলা থাকত।

পুজোর প্রতি দিন সকালে বাবা নিয়ম করে চালাতেন গ্রামাফোন চেঞ্জার। আর একে একে সানাই, শরদ, সেতার, নতুন গানের এলপি রেকর্ডকলের গান বাজত। বছরের এই সময়টা নিয়ম করে বাবা সেই শব্দ যন্ত্রটির http://www.anandabazar.com/e_kolkata/2012/october/amar_sohor5-3.pngপরিচর্যা করতেন পুজোর কয়েক দিন আগে থেকেই। আজও সেই পুরনো আধুনিক গানগুলো রেডিওতে শুনলে মনটা যেন কেঁদে ওঠে। শিউলির গন্ধ, পুজোর ঢাকের আওয়াজ, শিশির ভেজা শরত্কাল ছুট্টে এসে মনের দরজায় কড়া নাড়ে। এক বার কেনা হয়েছিল হেমন্ত, মান্না, আরতি, প্রতিমা, শ্যামল, সন্ধ্যা, অনুপ ঘোষালের সাতটা ছোট ৪৫ আরপিএম-এর রেকর্ড, এইচএমভি থেকে বেরিয়েছিল। আর সবচেয়ে মজা হল দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর সাতটা ছোট রেকর্ড এক সঙ্গে ওই চেঞ্জারে বসিয়ে সেট করে ঘুমিয়ে পড়লে নিজের থেকেই একটা একটা করে বাজতে থাকবে। খুব মজা হতনতুন গান যা প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে বাজছে তা আবার আমাদের বাড়িতেও বাজছে। অনুপ ঘোষালের বিয়ে করবই না’, আরতি মুখোপাধ্যায়ের বন্য বন্য এ অরণ্য ভাল’, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের আমিও পথের মতো হারিয়ে যাব’, মান্না দের ফোঁটা চোখের জল ফেলেছ”, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গহন রাতি ঘনায়’— এই গানগুলো আমাকে তখন ছুঁয়ে গিয়েছিল, তাই বোধ http://www.anandabazar.com/e_kolkata/2012/october/amar_sohor5-4.pngহয় আজও মনের কোটরে পড়ে রয়েছে। সে বার এই গানগুলোই কিন্তু বেরিয়েছিল পুজোর গান হিসেবে, সালটা বোধ হয় ১৯৭৩ কি ১৯৭৪ হবে, ঠিক মনে নেই। এখনকার ছোটরা দেখি পুজোর সময়েও কম্পিউটার গেম খেলছে নয়তো টিভি খুলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কার্টুন দেখছে। তাদের ঠেলেঠুলে প্যান্ডেলে পাঠাতে হয় আরতি দেখতে আর অঞ্জলি দিয়ে প্রসাদ খেয়ে আসার জন্য।
সপ্তমীর দিন সকাল থেকেই সব প্যান্ডেলে পড়ে যেত নবপত্রিকার স্নান করানোর ধুম। আলমবাজার গঙ্গার ঘাট খুব কাছে বলে সকাল থেকেই শোনা যেত ঢাকের আওয়াজ। প্রত্যেক বার মা বলতেন নবপত্রিকার পুজো মানে আসলে মা দুর্গার পুজোই। অত বড় মৃন্ময়ী মূর্তি তো আর গঙ্গায় নিয়ে গিয়ে স্নান করানো যায় না, তাই নব পত্রিকা বা কলাবউকে নিয়ে যাওয়া হয়। আর ভাই কেবল বলত, ওটা তো গণেশের পাশে থাকে তাই গণেশের বৌ। মা দুর্গা কেমন করে গাছ হবে? মা তখন আবার ব্যাখ্যা করে দিতেন যে নরকমের উদ্ভিদ, যেমন, বেল, ডালিম, কচু, মান কচু, হরিদ্রা, অশোক, ধান, কদলী, আর জয়ন্তী গাছের চারাকে শ্বেত অপরাজিতা গাছ দিয়ে বেঁধে নবপত্রিকা বানানো হয়। শস্যপূর্ণ বসুন্ধরার প্রতীক রূপে চার দিন ধরে মা পূজিত হন। সপ্তমীর দিন বিশেষ আমিষ পদ রান্না হতমাছের মাথা দিয়ে ডাল, ফুলকপি দিয়ে ভেটকি মাছ, চিংড়ির মালাইকারি, আরও কত কি! সে দিন বিকেলে আড়িয়াদহে আর দক্ষিণেশ্বরে ঠাকুর দেখতে যেতাম রিকশা ভাড়া করে। বিরাট বিরাট পুজো হয় ওই দুটি অঞ্চলে। মাঝে মাঝে হল্টদেওয়া হত মামারবাড়িতে আর জ্যাঠামশায়ের বাড়িতে। জল যোগ এবং বিয়োগ করে ঠাকুর দেখার পর্ব চলত। অষ্টমীর দিন ভোর থেকেই চলত অঞ্জলির প্রস্তুতি। একে একে স্নান সেরে সবচেয়ে ভাল আর দামি জামাটি পরে অঞ্জলি দিতে যেতাম। বিয়ের আগে পর্যন্ত এ ভাবেই কাটত ষষ্ঠী, সপ্তমী আর অষ্টমী।

বিয়ের পর প্রথম বছর কেটেছিল দক্ষিণ কলকাতার পুজো দেখে। ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যুরিজমের বাসে চেপে দেখতে গিয়েছিলাম কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজো। আধুনিক থিমের দুর্গাপুজোর চেয়ে অনেক মন কাড়ে এই পুজোগুলি। সে বার সপ্তমীর দিন ধর্মতলা থেকে বাসে চড়ে দেখেছিলাম বড়িশার সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের পুজো, জানবাজারে রানি রাসমণির বাড়ির পুজো, শোভা বাজারের রাজবাড়ির পুজো, উত্তর কলকাতার বিখ্যাত লাটুবাবু-ছাতুবাবুদের পুজো। ডাকের সাজের প্রতিমা, চণ্ডীমণ্ডপে সুদৃশ্য চালচিত্রে বিশাল আয়োজন, বাড়ির মহিলাদের সাবেকি গয়না ও বেনারসি শাড়ি পরে মায়ের পুজো গোছানোসব কিছুতেই ঐতিহ্যের ছাপ।


...আরও সুন্দরী হয়ে ওঠে শারদোত্সবে
ত্রিভুবনজিৎ মুখোপাধ্যায়
(কলকাতা)
জ থেকে বহু বছর আগের কথা। তখন কলকাতা বলতে টালা থেকে টালিগঞ্জ বোঝাত। আমরা তখন বেলঘরিয়াতে থাকতাম, ভাড়া ঘরে। ১৯৫৯ সালের কথা। তখন স্টিম ইঞ্জিন চলত। নতুন পুজোর জামা বলতে স্কুল ড্রেসতাই পেয়েই খুশি। ষষ্ঠীর দিন মা কপালে চন্দনের টিপ দিয়ে আশীর্বাদ করতেন, “দীর্ঘজীবী হও।সপ্তমী থেকে পাড়ার পুজো দেখে আর ভোগ খেয়ে প্রতিমা দর্শন। তার পর পায়ে হেঁটে বেলঘরিয়া, মোহিনী মিল, পুকপাড়া, নিমতার পুজো।
http://www.anandabazar.com/e_kolkata/2012/october/amar_sohor4-1.jpg
পরের দিন অর্থাত্ অষ্টমীর দিন, হাঁটতে হাঁটতে রথতলা-সিঁথি ঘুরে পায়ের ব্যথা নিয়ে কখন ঘুমিয়ে পড়তাম। মা হয়তো পুজোর খরচের জন্য ১ আনা দিতেন তাতে রাস্তায় হয় চানাচুর নয় ঝুরিভাজা। সঙ্গে একটা বেলুন। মাইকে শ্যামল মিত্রর গান, ‘আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা...সেই গানের কলির অর্থ বুঝতাম না, তাও গাইতাম। আবার কখনও মিন্টু দাশগুপ্তের প্যারডি, ‘আমি তো পকেট কাটিনি কেন মোরে দাও শুধু প্যাদানিলতা মঙ্গেশকরের না যেও না রজনী এখনও বাকি, বলে রাত জাগা পাখিসলিল চৌধুরীর সাড়া জাগানো গান। কি বাচ্চা কি বুড়োসকলের মুখে ওই এক গান। গান শুনলেই মন ভরে যেত।

দুর্গা প্রতিমা দর্শনকুমোরটুলির ঠাকুর, বাগবাজার সর্বজনীনের পুজো, শোভাবাজারের ঠাকুর,আহিরিটোলা, পরে ফিরে দেশবন্ধু পার্ক, শ্যামবাজারের পুজো।

নবমীর পুজোর সময় ঢাকের বাদ্যির তালে ধুনুচি নাচ। কোথাও কোথাও পাঁঠা বলি হত তখনও। নবমীর দিন পাড়ার পুজো বেশি উপভোগ্য ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে হুটোপাটি, নাগরদোলনা চড়া, ফুচকা খাওয়াখুব হইচই। আর দশমীতে দেবীর বিদায়ের পালা। বিজয়ার প্রণাম সারতে সারতে পুজোও শেষ। অপেক্ষা আবার আরও একটা বছরের।

ছোটবেলার স্কুল ছুটি, কৈশোরের রাতজাগা, যৌবনের সদ্য ভালবাসা... দুর্গাপুজোর সঙ্গে যেন সেই সব দিনগুলি পরতে পরতে জড়িয়ে আছে।
অনেক দিন পেরিয়ে গেলেও তার স্মৃতি এখনও ঠোঁটের কোণায় এঁকে দেয় হাল্কা হাসি। পুজোর শহর, সেই কলকাতা নিয়ে আপনাদেরই কলমে...
http://www.anandabazar.com/e_kolkata/images/amar-shohor-logo.gif
http://www.anandabazar.com/e_kolkata/2012/october/notice-durga-logo.gif


লেখক পরিচিতি
সরকারি চাকরি থেকে প্রায় দেড় বছর হল অবসর নিয়েছেন। বদলির চাকরির ফলে পুরো ওড়িশাই ছিল পায়ের তলায়। ঘোরাঘুরির বহর এমনই যে তাঁকে ভবঘুরেও বলা যেতে পারে। কালাহান্ডিকোরাপুটমালকানগিরিজাজপুরপুরী— শেষে বারো বছর ভুবনেশ্বরে কাটানোর পর ওড়িশা-বাস শেষ হয়েছে। এখন স্বামী-স্ত্রীতে কলকাতায় ছেলের কাছেই থাকেন।

ফেলে আসা ছেলেবেলার পুজোর সাক্ষী
ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়
(খড়্গপুর)
http://www.anandabazar.com/e_kolkata/2012/october/amar_sohor5-5.jpg
আর এক বার আমরা একটা গাড়ি নিয়ে বেলুড় মঠে কুমারী পুজো দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানেও খুব নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো হয়। তবে আজকাল ধর্মের নামে যে হুজুগের স্রোতে আপামর বাঙালি মেতে উঠেছে তা বেলুড় মঠের ভিড় দেখলেও বোঝা যায়।

পুজো এখন ফ্যাশানেবল হয়ে উঠেছে। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে আলোর রোশনাইয়ের সঙ্গে অনুরণিত হয় এক দিকে মহিষাসুরমর্দিনীর স্তোত্র আর ডিজিট্যাল এলসিডি স্ক্রিনে রংচঙে বিজ্ঞাপন। আর সেই সঙ্গে থরে থরে সাজানো ফাস্টফুডের গরমাগরম হাতছানি। এক একটি বারোয়ারি পুজো এখন স্পনসর্ডপুজোকোনও এক কোম্পানির সম্পত্তি, কোনও একটি টেলিভিশন চ্যানেল তাদের কিনে নিয়েছে ওই পাঁচটি দিনের জন্য। প্রতিযোগিতার মাপকাঠিতে মা আসেন একটা প্যাকেজে! সেরা প্যান্ডেল, সেরা প্রতিমা, সেরা দর্শক শ্রীমতি, সেরা আরও কত কিছুর ভিড়ে কিন্তু আসল পুজো একটু একটু করে সরে যাচ্ছে। সরে যাচ্ছে পুজোর মূল, অনাদি আবেদন।

লেখক পরিচিতি
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্গ্যানিক কেমিস্ট্রিতে এমএসসি। কলকাতার বাসিন্দা তবে অধ্যাপক স্বামীর কর্মসূত্রে বর্তমানে খড়্গপুরে বাস। এক ছেলে, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে। সাহিত্যচর্চায় ভীষণই ঝোঁক। প্রথম গল্প প্রকাশিত হয় ২০১১ সালে, দেশ পত্রিকায়। এ ছাড়া আনন্দবাজার পত্রিকায় ভ্রমণকাহিনি প্রকাশিত একাধিকবার। গদ্যচর্চার পাশাপাশি কবিতার সঙ্গে নীরবে ওঠাবসা চলতেই থাকে। সঙ্গীতচর্চা, বেড়ানো এবং রান্নাঅবসর যাপনের আরও তিনটি ঠেক।

লেখক পরিচিতি
সরকারি চাকরি থেকে প্রায় দেড় বছর হল অবসর নিয়েছেন। বদলির চাকরির ফলে পুরো ওড়িশাই ছিল পায়ের তলায়। ঘোরাঘুরির বহর এমনই যে তাঁকে ভবঘুরেও বলা যেতে পারে। কালাহান্ডি, কোরাপুট, মালকানগিরি, জাজপুর, পুরীশেষে বারো বছর ভুবনেশ্বরে কাটানোর পর ওড়িশা-বাস শেষ হয়েছে। এখন স্বামী-স্ত্রীতে কলকাতায় ছেলের কাছেই থাকেন।

Saturday, November 10, 2012

মরিচিকা ৩ / ত্রিভুবনজিৎ

-তাই যেন হয় বাবা। রক্ষে কর । ওতে আলার্জি হলেই বাঁচি। হ্যাঁরে তা ওই শীতে কি করতিস?
- তোমার ওই এক ঘেয়ে প্যানর প্যানর ভাল লাগেনা মা। রুম হিটার লাগাতাম বুঝলে!খালি সন্দেহ আর সন্দেহ। ওই জন্য বাবা রাগ করেন।
- সন্দেহর কি আছেরে ! আচ্ছা আমি, মা হয়ে এটুকু জিজ্ঞাসা করার অধিকার নেই?
- নিশ্চই আছে ,তবে ওখানকার ভাল গুল শোন। ওরা কর্মঠো, অনেক স্বাবলম্বি, ডিসিপ্লিন্ড্, ওদের মধ্যে শততা আছে যেটা আমাদের দেশে নেই। আমাদের দেশের লোকেরা পর নিন্দা পর চর্চা ছাডা কিচ্ছু করেনা। ঠকামি,ভন্ডামি,জোচ্চোরি,রাহাজানি,চুরি,পরের ধন আত্মসাৎ করা,ভাই ভাইএর পিঠে ছুরি মেরে তার সম্পত্তি আত্মসাৎ করা ...। ছিঃ ঘেন্না লাগে এদের কথা ভাবলে।
- “ছেলের বিয়ের সময় গেস্ট্ আসবে বলে মিথ্যে কথা বলে ছোট ভাইএর ঘরের চাবি নিয়ে তার গ্যাস্ সিলিন্ডার চুরি করা,তার ঘরের সব জিনিস পত্র চুরি করা,তার খাট্ বিছানায় শুয়ে তার ই  ঘরের পাখার হাওয়া খেয়ে জীবন ধারন করা । তাকে ঘরে ঢুকতে না দেওয়া । এই ধরনের ছোটোলোক ও দেশে নেই। ভগবান করুন এই লকগুলো র জেনো সুমতি হয়। এরা এতোই ঘৃন্য যে এদের কথা লিখতেও ঘেন্না লাগে” । এরমধ্যে সকলের বিয়ে হয়ে গিয়েছে আমার ছেলের জন্য পাত্রি দেখতে হবে!    
 কথাগুলো বিড বিড করে বলছিলাম। ছেলে  জিজ্ঞাসা করাতে চুপ করে গেলাম।  
পরের দিন আনন্দবাজার পত্রিকা তে পাত্র পাত্রি কলমের জন্য বিঙ্গাপন দিলাম। “ভরদ্বাজ সুদর্শন ২৬+ সফট্ ও্যার ইঞ্জিনিয়ার ইনফোসিস্,বেঙ্গালোর।এক মাত্র সন্তান। সদ্য আমেরিকা ফেরৎ। ৭ লাখ্ বাৎসরিক আয়। কোন দাবি নেই। পাত্রী অবশ্যই ইঞ্জিনিয়ার সুদর্শনা ২৪ অনুর্ধ্য ।সত্তর বিবাহে আগ্রহি জোগাজোগ করুন”।   
রবিবারের পাত্র পাত্রি কলমে বেরুনর সঙ্গে সঙ্গে ফোনের পর ফোন আস্তে লাগলো। প্রায় ১০০ টা ফোন রেসিভ্ করে হাঁপিয়ে উঠলাম। এই এক সমশ্যা । সংসারে এলে সকলকে ওই এক ই কাজ করতে হবে । ছেলের জন্য পাত্রী না হয় মেয়ের জন্য পাত্র । 

Friday, November 9, 2012

মরিচিকা ১ম পর্ব। ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী

মরিচিকা 
ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী
পুরন লুনাটা নিয়ে আদিত্য বাবু বেরিয়ে পডলেন । আজ পেন্সন পাওয়ার তারিখ । তখন পেন্সন এর টাকা আনতে ব্যাঙ্কে যেতে হত ।   
-      স্ত্রী বললেন,  গাডীটা নিয়েই যাওনা !
-      আদিত্য ঃ না থাক । পেট্রোল এর যা  দাম বাডছে তাতে রিটায়ারের পর  আর গাডির সখ না করাই ভাল। 
-      -কেন ? রেক্স  তোমায় টাকা পাঠায় না ? আমেরিকা থেকে তোমার একাউন্টে ডলার তো ফি মাসে আসে । তবে কেন কষ্ট করবে তুমি ! খেয়ে যাওনা কিছু ! ওরম না খেলে শরীর খারাপ হলে কে দেখবে ? আমার কথাত তোমার কাছে টোকো বাশি পান্তা !
-         - দ্যাখ কোথাউ বেরুবার সময় গজ গজ করনা । ভাল লাগেনা তোমার ওই একঘেয়ে আমেরিকা র কথা । আজকাল কার বাডিতে কোন ছেলেমেয়ে  আমেরিকা না গিয়ে আছে ! আমাদের এ পাডাতে প্রত্যেকের ঘরে ঘরে হয় ইঞ্জিনীয়ার নয় ডাক্তার । হা ঘরের মত রাস্তায় ব্যাজ ব্যাজ কোরনাত।
-      ছেলে ! বাবার মুখে চুন কালি দিয়েছে ; ছেলে !!  মনে মনে গজরাতে লাগ্লেন আদিত্য বাবু ।   
-      -ওমা আমিকি তাই বোল্লাম নাকি?  কথার কি ছিরি দ্যাখ ? রিটায়ারমেন্টের পর  কি সবাই এই রকম কথা বলেন ! কিছু মুখে দিয়ে যাও না ?  
আদিত্য বাবু কথা কানে না দিয়ে জলখাবার না  খেয়েই চলে গেলেন  ছেলের বিয়ের কথা জানার পর ওর কাছ থেকে এক পয়সা নেওয়া বন্দ করে দিয়েছেন।
সেদিন ব্যাঙ্কের পুরন বন্ধুদের সঙ্গে দ্যাখা । চা সিগারেটের ফোয়ারা ছুটল । পকেটে প্রথম পেন্সেন জদিও নগন্ন্য মাত্র কিন্তু আদিত্য বাবুর কোন অভিজোগ নেই এ ব্যাপারে কারন রিটায়ারমেন্টের পর স্টেট্ ব্যাঙ্কে খুব কম টাকা পেন্সন দেয় । গ্রাচুইটির টাকা সব ফিক্সড ডেপসিট করে দিয়েছেন আদিত্য বাবু। কিছু বন্ধু ; ছেলের বিয়ের কথা পাডলেন । মেয়ে গছানোর লোকের ত অভাব নেই !  সব্বাই টোপ ফেলে আছেন যদি এই সুবাদে মেয়েকে গছানো যায়। ওসব কথায় আমল দিলেন না । ও প্রসংগ এডিয়ে ওন্য কথা বলতে লাগ্লেন । কারন ওনার ছেলে এক আমেরিকান সহ কর্মিকে বিয়ে করে ফেলেছে মাকে  যানিয়েছিল বাবকে যানায় নি। সেই থেকে আদিত্য বাবুর ছেলের ওপর অভিমান ।
-         দুটো বেজে গিয়েছে , অর্চনা দেবি ঘরে পায়চারি কোরতে কোরতে বললেন । মানুস টার এখনো   আসার সময় হলনা ? ৩ টে বাজল ৪ টে বাজল স্বামির আসার কোনআভাস  পেলেন না । তখন মোবাইল ছিল না । ল্যান্ড ফোন ই ভরসা । কি ভেবে,  ছোট জামাই    কে ফোন কোরলেন ।

মরিচিকা ২য় পর্ব। ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী

   হ্যাল   কে ? মিন্টু বলছো বাবা ? একটু ব্যাঙ্কে বাবার খোঁজ নেবে বাবা । উনি না খেয়ে বাডিথেকে বেরিয়েছেন  এখনো ফেরেন নি ! ৪ টে বেজে গেল কোথায় গেলেন কিছু হদিস পাচ্ছিনা।(মিন্টু , আদিত্য বাবুর ছোট জামাই,  পি এন বে তে স্কেল১ অফিসারসদ্য কেরানি থেকে অফিসার ) 
-      মিন্টু   হ্যাঁ মা ! (আজকাল জামাই বাবা জীবন রা নিজের মায়ের চেয়ে শাশুডী মার বেশি ভক্ত) এখুনি দেখছি । স্কুটার নিয়ে মিন্টু বেরিয়ে যায় ।   
মিন্টু ফোন করে ম্যানেজার কে জিজ্ঞেস করাতে উনি বলেন ,  সকলে পেনসন নিয়ে বাডি ফিরে গিয়েছেন। আদিত্য বাবু ত কখন চলেগিয়েছেন । বাডি ফেরেন নি ? মিন্টু র কেমন সন্দেহ হয় । ও সঙ্গে সঙ্গে থানাতে যায় ওখান থেকে যানতে পারে যে, এক ভদ্রলোক এর  মাথায় আঘাৎ লেগেছে ।ওনাকে সম্ভবতঃ একটা অটো রিক্সা পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছে।  উনি  হস্পিটাল এ এমারজেন্সি ওয়ার্ডেতে আছেন ।
মিন্টু এক বন্ধু কে সঙ্গে নিয়ে হস্পিটালে গিয়ে যা  দ্যাখে আকাশ থেকে পডে । ইনি তো শ্বশুর মশাই !  সম্পুর্ন সঙ্গাহীন অবস্থায় বাবা একটা বেঞ্চে শোয়ান । কেউ কোথাউ নেই। একটা গেঞ্জেল পুলিস কনষ্টেবল্ রোগি পাহারা দিচ্ছে বাকি সবাই খেতে গিয়েছেন
মিন্টু  , ডাক্তার বাবু কে অধৈর্জ্য  হয়ে জিঙ্গাসা করলো ,” পেসেন্ট আমার বাবা, মানে শ্বশুর মশাই । ওনার অবস্থা কেমন ? ওনাকে এক্ষুনি ট্রিটমেন্ট  করতে হবে । কি ইঞ্জেকশান ওসুধ আনতে হবে তাডাতডি বলুন । ওঁর মাথায় আঘাৎ লেগেছে দেখছি । এখানে কি ন্যুরো সার্জেন আছেন? আমি নার্সিং হোমে নিয়ে যাব। ওনার ছেলে নেই আমি ওনার সব দেখা শুন কোরব। মাকে খবর দি। খুবি ঘাবডে যায় আদিত্য ।এক সঙ্গে এতগুল প্রশ্ন বানে ডাক্তার বিরক্ত প্রকাশ করেন। 
-      কোথায় ছিলেন এতক্ষন? এটা সরকারি ডাক্তারখানা । এক্সিডেন্ট এর কেস্ ।আপনি জানেন না প্যারাফারনালিয়া আছে!  আমরা রেফার করছি ।  আমাদের ন্যুরো সার্জেন নেই এখানে। এস সি বি তে নিয়ে যান নয়তো ডাক্তার বসু ভাল ন্যুরো সার্জেন ওনাকে  দেখান । মাথায় চোট্ টা জো্রে লেগেছে । একটা অটো ড্রাইভার হস্পিটালে নিয়ে আসে । পুলিস ওকে আটকে রেখেছে ।  
-      আমি ; সি ডি এম্ ও কে দ্যখা করতে চাই। আমি ওনাকে এখান থেকে সিফট্ করাতে চাই ।  আমার কথা বলার সময় নেই প্লিজ কিছু করুন । মিন্টু এরমধ্যে অর্চনা  দেবিকে ফোন করেন । সব ঘটনা  জানিয়ে দেন। মা খুব শক্ত মনের মানুষ উনি সহজে বিচলিত হন না। কিছুক্ষনের মধ্যে মা চলে আসেন ডাক্তার খানা তে । বড জামাই সুব্রত আর বড মেয়ে বিনা । সকলে এসে পডাতে মিন্টু হাঁফ  ছাডে হস্পিটালের কাজ সেরে ওরা আ্যাপোলো হস্পিটালে আদিত্য বাবুকে শিফট্ করান ওখানে সঙ্গে সঙ্গে আই সি ইউ তে  ভর্ত্তি করার পর ডাক্তার বসু ন্যুরো সার্জেন আসেন । রোগীর চকিৎসা র কোন ত্রুটি হয়না । আমেরিকা তে রেক্স  কে খবর দেওয়া হয় । ও তিন দিনের মধ্যে এসে পৌঁছে যায় । সকলে উদ্গ্রিব কি হবে । রোগী কোমা তে থাকে প্রায় তিন দিন । পরে জ্ঞান আসে ।
এর মধ্যে রেক্স  এসে পডে স্বস্ত্রীক । রেক্স এর আমেরিকান বউ জিনি কিছু কিছু পরামর্স দেয় ডাক্তার কে । কিন্তু বহু চেস্টার পরও আদিত্য বাবুর কোমর থেকে পা ওব্ধি প্যারালিসিস্ হয়ে যায়। প্রায় চার মাস হস্পিটালে রেখে আদিত্য বাবু কে ঘরে আনা হয়। ভেন্টিলেটার  এ থাকার সময় ডাক্তার বলেন বন্দ করলে শেষ আপনার ছেলেকে জিজ্ঞাসা করুন সে কি বলে ? রেক্স রাজি হয়  না। বলে যতো টাকা লাগে দোব বাবার চিকিৎসা ভাল করে যেন হয় । তাই হল 
এর মধ্যে অর্চনা দেবি বাপের বাডির ভাইদের কাছ থেকে কেস্ করে তাদের  জমি বিক্রি বাবদ ১০ লাখ টাকা পান  তাতে স্বামির চিকিৎসা এবং ঘরের খরচ সব চলে । ব্যাঙ্কের নগন্য মাত্র পেন্ সন এর টাকা দিয়ে আগের ধার দেনা শোধ করেন। রেক্স   ভাল ছেলে তাই মাকে ডলার পাঠাতো। মা সেই টাকা দিয়ে ঘরটা বাডিয়ে তোলেন । তিন তালা ঘর বানান । ভাডা বসান । ভালই ভাডা পেতে লাগেন।ঘরে ঢুকলে আগে ভাডাটে পরে গৃহস্বামি । এর পর পুর্ব কির্তীর ফল ভোগ করেন কারন দুই জামাই ঘরের ভাগ চায় । অগত্যা তাদের চাহিদা পুরনের জন্য ছেলের পাঠান টাকা  দিয়ে দুট ফ্ল্যাট্ কিনে দুই জামাইকে দান করেন।
প্রায় ৫ বছর বেড্ রিডিন থাকার পর আদিত্য বাবুর স্বর্গ বাস হয়  আদিত্য বাবুর বড বউদি ছোট বেলা থেকে ওনাকে মানুস করেন। উনি এসে কান্নায় ভেঙ্গে পডেন। এক ভাই নাটাবাবু আর সকল  ভাইপো এবং অর্চনা দেবির ভাইরা এসে দাঁড়ান (জদিও তাদের সর্বস্য নিয়ে যান ওই বোন) দুই মেয়ে জামাই উপস্থিৎ থেকে কাজ উদ্ধার হয়। পারলৌকিক কাজ আটকায়না কখন ।


                                    
এর পর অর্চনা দেবি ঘর বিক্রি করে চলেজান ছোট মেয়ে জামাই এর কাছে । ছেলে আমার মস্ত বডলোক আর ভাইদের বলেন উনি প্রতিষ্ঠিত । তাই কোন ভাই আমল দেন না। এর পর ছেলের বাচ্চা সাম্লানোর জন্য আমেরিকা একাই যান । ফিরে তাঁর দিদিকে আমেরিকার গল্প শোনান । মাস মাস চলে আমেরিকা আর আমেরিকা র গল্প । দিদি আর থাকতে পারলেন না । তিনিও ভয়যার এর গ্রুপ এর সঙ্গে লন্ডন, গ্রীস, আয়ারল্যন্ড, ভেনিস, ইত্যাদি ঘুরে এলেন টা ১,৫০০০০কা খরচ করে । মানতে হয় ভাই এদের প্রতিযোগিতা আর টাকা অপব্যায়ের সমস্ত রাস্তা খুঞ্জে বার করা।এরা লোকের কাছে বিদেশে ্যাওয়ার গল্প ফাঁদার জন্য সব করতে পারে। 
দিদি এসেই সকল কে টেলিফনে জানায় আমেরিকার কথা । হাঁসব কি কাঁদবো জানিনা । হুঁ হাঁ তে উত্তর সেরে গিন্নী কে বললাম, গিন্নী কি বল, ইউরোপ আমেরকা যাবে নাকি ? 
- রক্ষে কর কাজ নেই ! বলি আদেকলা র হল ঘটি জল খেয়ে খেয়ে গেল প্রান্ টি । 
- আচ্ছা সব বউ রা কি তাদের ননদ কে টিটকিরি দেয় ?
- জানিনা বাপু । জা সত্যি তাই বললাম।এখন তোমার দিদি খারাপ লাগবেই । বেলা হল অফিস যাবেনা?
- না গেলে খাব কি ? আমার ছেলে ত এখনো পডা শেষ করেনি !আরেক বছর পর বি টেক্ শেষ  হবে তার পর এম বি এ যদি করে তো আর ডু বছর । আমার কি ডলার আছে বসে খাব?
- মুখ্যে আগুন ডলারের । দরকার নেই ওরকম ফিরিঙ্গী বউ এর ডলার ! লজ্যা ঘেন্না নেই গো ? 
  পয়সা টা কি এতই বড ? 
- পয়সা ক্যা না করতা ? গিন্নী ওটাই সব বাকি সব ফক্কা। 
ছেলে পাস করলো ভাল ভাবে । এম বি এর কোচিং নিতে শুরু করলো । এরমধ্যে ইনফসিস্ এর লিখিত পরীক্ষা তে ভাল করাতে মাইশুরে জএন্ করল ট্রেনিং এ । ছ মাস পর বেঙ্গালুরু তে ইনফো সিটি তে কাজে জয়েন করলো । ঢুকেই যা মাইনে পেল ভালই । আমার কোন প্রতিক্রিয়াই হল না। ওর মা যথা রিতি টেলিফোনে খবর নিত । মাস গেলে টেলিফোন এর বিল বাডতে লাগলো। নতুন চাকরি র প্রথম মাইনেতে ছেলে একটা মোবাইল কিনে দিল। তখন মোবাইলের অনেক দাম ছিল ।  ভালই লাগলো তবে আমার এই অপচয় ঠিক পছন্দ নয়। ৭৫০০ টাকা একটা মোবাইল্ এর দাম। নাইবা রাখলাম মবাইল   !   --ছেলে বলে, তোমার ল্যান্ড ফোন এর বিল্ টা তো বাঁচলো । 
-তোমার ওই হাড ভাঙ্গা পরিশ্রমের টাকায় আমার সখ্ এর কোন ইচ্ছে  নেই। টাকা জমাও এম বি এ র জন্য । 
- ঠিক আছে। 
- কিছুদিন পরেই ছেলে প্রজেক্ট এর কাজে কম্পানি থেকে আমেরিকা গেল । এক বছরের জন্য । 
রাত্তির ১২ টার ফ্লাইট্ । নেতাজী সুভাশ এয়ারপোরট্ থেকে দিল্লী, তারপর দিল্লী থেকে ফ্রাঁকফুট্ হয়ে নিউ ইয়রক্। আমি আর গিন্নী শুধু ভাবি কবে ফিরবে ! ব্রহ্মনের ছেলে ওখানে কি বলতে কি খাবে কে জানে? গিন্নীর পুজ বেডে গেল । উপোস তাপাস । আজ সংক্রান্তী কাল আমাবশ্যা লেগেই রইল । আমার ভয় আমেরিকান বউ না ঘরে তোলে ? যা জুগ পডল ?
- মনের কথা মনে রেখে আছি । হঠাৎ দিদির ফোন , হ্যাঁরে তোর ছেলে আমেরিকা গেল খবর দিস নি?
 - দেওয়ার মত খবর হলে নিশ্চই  দিতাম।
- ও! তা কোন্ টা তোদের দেওয়ার মত খবর শুনি!! 
- আগে মানুষ হোগ তার পর নিশ্চই দোব।
- হ্যাঁরে আমাদের পাডার সম্পাকে মনে আছে ?
- কে সম্পা ? না মনে নেই । কেন ?
- ওর সঙ্গে আমাদের ছেলে কে খুব মানাবে।
- এবার বুঝলি তো, কেন তোদের বলিনা কিছু !
- ২২ বছরের ছেলে কে তোরা বিয়ে দিয়ে গলায় একটা অপগন্ড মেয়ে ঝোলাবি? 
- এখন তো বলছি না ?
- প্রয়োজন নেই । আগে এম বি এ  করুগ । 
- ওর এম বি এর খরচ ওরাই দেবে।
-  দিদি প্রসঙ্গ বদলা । আমার এ সব মেটেরিয়ালিস্টিক্ কথা  শুনতে একদম ভাল লাগে না।
- আমি অফিস্ যাচ্ছি । ছাডলাম । 
- ছেলেকে ফোন করব যে তার উপায় নেই । সব হাঁ করে কথা শুনবে। আমাদের মনের অবস্থা কেউ বোঝে না। 
এক বছর ছ মাস পর ছেলে ফিরল। রাত্তির ২ টোর সময় ফ্লাইট্ এল। ওর মা'র চোখে জল। খুব ভাল চেহারা হয়ে গিয়েছে । একেই ফর্সা তাই ওখানকার হাওয়া বাতাসে খুব হ্যান্ডসাম লাগছিল । আসলে ছা পোসা বাঙ্গালির ঘরে একটু কেউ উন্নতি করলে ঢোল বাজানোর লোকের অভাব থাকেনা। এটাই বাঙ্গালির সবচেয়ে বাজে গুন। কস্মেটিক্স ইলেক্ট্রনিক্স এর জিনিস বোঝাই। সবাই এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ্ করে ঘরে ফিরলাম । ছেলের জন্য পাঁচ লিটার মিনারেল ওয়াটার কিনে রেখেছিলাম কারন ওখান থেকে এলেই আগে পেটের গন্ডগোল দ্যাখাদেয়
- বাডিতে মা রকমারি রান্না করেছিল। অনেক দিন পর ছেলেকে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা । 
-না ছেলে আমার খুব ভাল। ওখানে নিজে হাতে রেঁধে খেত। মাইক্রো ওভেন এর রান্না।  
-ছেলে বল্ল বাবা অখানে সব পাওয়া জায়, শুধু মানুষ পাওয়া জায় না। সব মেসিনের মত।
-তা যে দেশের যা নিতি? তুমি আমি কে? ওদের দেখার জন্য সব হুড হুড করে যাচ্ছে।
- বাবা ম্রিগাঙ্ক আর ম্রিনালিনির সঙ্গে নিউ ইয়র্কে দেখা করলাম । ওরা পার্টি দিল।
- হ্যঁারে পার্টি তে মদ গিলিস্নিতো?
- হ্যাঁ।
-মানে?
-মানে আবার কি ? সকলে খেল আমিও খেলাম! মুচকি হেন্সে বলল।
-আহ্! কি হচ্ছে ? সুরু হল তো? আমি চোটে গেলাম ! আরম্ভ হল এক ঘেয়ে কথা।
-তুমি কেন চিন্তা কর বলত ? আমার ওতে আলার্জি ।  
ক্রমশঃ-