Thursday, May 13, 2021

মুখাগ্নি (চতুর্থ পর্ব) ©ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী ✍️


      মুখাগ্নি (চতুর্থ পর্ব)
©ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী ✍️
প্রতিভা, টি. ভি. রিপোর্টার, বুম, টি ভি. ক্যামেরা ইত্যাদি নিয়ে হাজির এ. সি. পি. চক্রবর্তীর কাছথেকে গোটা অপারেশনের একটা রিপোর্ট সংগ্রহ করতে l
প্রতিভা বলেন, স্যার আপনি এইটুকু সময়ের মধ্যে আততীয়দের ডেরায় পৌঁছে যেমন ভাবে সমস্ত অপারেশনটা সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে পেরেছেন তার জন্য আমি জনমত টি. ভি. র তরফ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি l
- এ. সি. পি. বিরক্তি প্রকাশ করেন l আপনি কি আমায় পরিহাস করছেন?
- না স্যার l
- তবে? চারটে ছেলেকে এনকাউন্টার করতে পুলিশ বাধ্য হয়েছে l
- ক্যামেরা অফ করতে বলে প্রতিভা l ওপরের কথাটা ডিলিট করতে বলে l
-এ. সি.পি., প্রতিভা দেবীকে কে বলেন দেখুন
প্রতিভা দেবী আপনি আমার মেয়ের বয়েসি তাই আপনাকে একটা অনুরোধ করতে পারি কি?
-এদিকে মেয়ে বলছেন এদিকে অনুরোধ বলছেন! আপনি আদেশ করুন, আদেশ করুন l
-দেখ মা এই ছেলেদের মৃত্যু আমি চাইনি l এরা আমার অপারেশনে মারা গেলি তাতে আমি খুব আঘাত পেয়েছি l পাবলিক বোঝেনা পুলিশ ও মানুষ l নানা প্রশ্ন করে.....
-আপনি আসল কথাটা বলুন কাকু l
-তিনটে ছেলের ঠিকানা পেয়েছি কিন্তু চতুর্থ ছেলেটির কোন পরিচয় পাচ্ছিনা l কে তার বাবা মা? এটাই আমাকে ভাবিয়ে তুলছে l
এইসময় ল্যান্ড ফোনে একটা ফোন আসে l
- হ্যালো l
- ভগবান স্যার.... ভগবান কখনো মিথ্যে বলেনা l দেখলেনতো l সব কটাকে সাবাড় করে দিলেন... একেবারে যম পুরীতে!
কি স্যার আমার কথাটা ঠিক হলোতো? এক্ষুনি টি. ভি. তে দেখলাম আপনি একটা ভদ্র ঘরের ছেলেকে এনকাউন্টার করেছেন l
আপনার চাকরিটা থাকবেতো স্যার l
- চপ শালা l আমাকে ধমকাচ্ছিস?
-কাকুর ধমকে প্রতিভা চমকে ওঠে....
- দেখছিস মা দেখছিস?
- ওপার থেকে... আবার মা কথা থেকে এলো?
-আপনি টেনশন নেবেন না l মাতালে কি না বলে....?
- এ. সি. পি. বলেন কি মতলবে ফোন করেছিস ভগবান? তোকে এক্ষুনি উঠিয়ে আনবো l বল শিগগিরি l
- হ্যাঁ তা আপনি পারেন কিন্তু আমি যে আপনার চিন্তা লাগবের জন্য ফোন করেছি l
-আমার চিন্তা তুই লাঘব করবি? আশ্চর্য!
- স্যার এই ভগবান সব সময় সত্যি কথা বলে l মিলিয়ে নেবেন l
- বল কি বলছিস!
-স্যার ঐ যে ভদ্র ঘরের ছেলেকে আপনি এনকাউন্টার করেছেন ওর নাম রোহিত না l
- তুই কি করে জানলি?
- জানি জানি l ও আমার দোকানে মদ খেতে আসতো l সঙ্গে ড্র্যাগ ও নিত l কিন্তু আমিতো ড্র্যাগ বেচিনা l একদিন বলি এখানে ড্র্যাগ নিতে পারবেনা l ও আমাকে পিস্তল উঁচিয়ে দেখিয়ে বলে চুপ করে ভাগ এখনথেকে নাহলে খুলি উড়িয়ে দেবে l আমার ও কিছু সাক্রেদ আছে ওরা আমাকে রক্ষা করে স্যার l ওরা এসে ওকে বলে চুপ চাপ একগানে থেক্ড চলে যা l রংবাজি অন্যখানে দেখাবি l ওর গলায় একটা লকেট দেখি ওতে R লেখাছিল l আমার মনে পড়ে গেলl
ওর জন্মদিনে আমি রঞ্জিত বাবুর বাড়ি গিয়েছিলাম প্রেসেন্ট দিতে আমার মেয়েকে নিয়ে l রোহিতের তখন 5 বছর বয়েস l আমার মেয়ের 4 বছর l রোহিতের বাবা যে অফিসে চাকরি করতেন আমি সেখানে একাউন্টস এর কাজ করতাম l আমি বি. কম. পাস স্যার একদম মূর্খ নই l
সেজন্য ওদের বাড়িতে যাই l কিন্তু ওরা ভালো ব্যবহার করেন না বিশেষ করে রোহিতের মা সুনয়োনা দেবী l আমরা বাবা আর মেয়ে ফিরে আসি কিছু মুখে না দিয়ে l আসলে আমার মেয়েকে ওনার ছেলের কাছে যেতে দেন নি রোহিতের মা l আমি আমার মেয়েকে নিয়ে আসার সময় রোহিতের গলায় R লেখা লকেট দেখি l ঠিক সেই লকেট টা ওর গলায় দেখে রঞ্জিত বাবুকে ফোন করি কিন্তু উনি বলেন ওনার ছেলে নাকি সিলিকন সিটিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আছে l ও কি করে এখানে আসবে? আমার সন্দেহ হয় l আমি রোহিতকে ওর বাবার পরিচয় জিজ্ঞাসা করাতে ও ওখানথেকে দ্রুত গতিতে চলে যায় l ব্যাস আমি কনফার্ম হই ডাল মে কুছ কালা হ্যায়!
-যা বললে সত্যি?
- ভগবান কখনো মিথ্যে বলেনা l রঞ্জিত বাবুদের বাড়ির ঠিকানা পেয়েযাবেন l ওরা সল্ট লেক এফ. ড়ি. ব্লকে থাকেন l
-এ. সি. পি. প্রতিভা কে বলেন মা তুই এক্ষুনি টি. ভি. ক্যামেরা নিয়ে এফ. ড়ি. ব্লকে যা l গিয়ে সত্যা সত্য বুঝে আমাকে ফোন করবি l আজ শনিবার ঐ সুনয়না দেবী নিশ্চই থাকবেন বাড়িতে l
ক্রমশ
চিত্র ঋণ : গুগুল l
©ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী✍️🙏
Chakraborty Avik, Antara Ghosh and 6 others
22 Comments
Like
Comment

22 Comments

##মুখাগ্নি## পঞ্চম পর্ব লেখক ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী ✍️🙏


 ##মুখাগ্নি## পঞ্চম পর্ব
লেখক ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী ✍️🙏
প্রতিভা, এ. সি. পি. চক্রবর্তীর কথামতন এফ. ড়ি. ব্লকে গিয়ে রঞ্জিৎ চক্রবর্তীর বাড়ি সনাক্ত করে l বাড়িতে কলিং বেল টিপতে রিঙ্কি বেরিয়ে আসে l আগমনের উদ্দেশ্য বলে ওর মা সুনয়না দেবীকে ডাকতে বলে প্রতিভা l.পুরো টিম নিয়ে সুনয়না দেবীকে ইন্টারভিউ র জন্য পারমিশন চায় l ঐ সময় ক্যামেরা চালু ছিল l সুনয়না দেবীর মেয়ে রিঙ্কি এগিয়ে আসে l ও প্রতিভা দেবীর খুব ভক্ত l রিঙ্কি বলে ম্যাডাম আমি আপনার নিউজ রিপোর্টিং খুব মনোযোগ সহকারে দেখি l ভালো লাগে l
সুনয়না দেবী মেয়েকে বলেন জল অনতে প্রতিভাদের জন্য l
কাজের মাসি ট্রে তে জলের গ্লাস নিয়ে ঢোকে l টি. ভি. রিপোর্টার দেখে কাজের মাসি নিজেকে একটু ঠিক ঠাকে করে নেয় l রিঙ্কিও কাছে এসে মায়ের পাশে বসে l
প্রতিভা, সুনয়না দেবীকে জিজ্ঞাসা করে, ম্যাডাম আপনার ছেলে রোহিত কোথায়?
উনি চমকে জান তবে নিজেকে সামলে বলেন কেন ও তো সিলিকন ভ্যালিতে,কালিফরর্নিয়া তে l You know my son is very brilliant boy. He is a computer engineer at Silicon Valley. Ask her..my daughter. Yesterday I have sent him an email.বলে এক গ্লাস জল ঢক ঢক করে খান l
রিঙ্কি মায়ের কথায় মাথা নাড়িয়ে বলে হ্যাঁ দাদা... দাদাতো কালিফরর্নিয়াতে l
প্রতিভা রোহিতের একটা ফটো দেখিয়ে বলেন একে কি চিনতে পারেন দেখুন তো ম্যাডাম l
- না না চিনিনা l আপনি আসুন আমি স্কুলের খাতা দেখবো l রেসাল্ট বার করতে হবে তো l বুঝতেই পারছেন প্রিন্সিপাল, দায়িত্ব পূর্ণ কাজ তাই না! আসুন বলে নমস্কার করেন ভদ্রমহিলা l রিঙ্কি ওনাদের দোর অবধি পৌঁছে দেয় l
প্রতিভা...ভগবানের কথাটা ভাবে , "ডালমে কুছ কালা হ্যায়" মনেকরে কাকুকে ফোন করে l
কাকু, ভগবানের কথাটা ঠিক l সত্যি ডাল মে কুছ কালা হ্যায় l
এ. সি. পি. বলেন চলে এসো l
সেইদিন ই জনমত টি ভি. তে প্রতিভা রিপোর্ট করে কিছু ভিডিও ক্লিপিং সমেত l রোহিতের বাবা মা'র সন্ধান পাওয়া যাচ্ছেনা l ওর লাস পোষ্ট মর্টমের পর মর্গে আছে l জনমত টি. ভি আপনাদের এই বিষয় সবচেয়ে আগে রিপোর্ট দিচ্ছে দেবে l এ. সি. পি. চক্রবর্তী প্রাণ মূর্ছা করে চেষ্টা করছেন রোহিতের বাবা মার হাতে ওর বডি তুলে দেবেন সৎকারের জন্য l কিন্তু ওর বডি ক্লেম করতে কেউ আসছেন না l এইরকম পরিস্থিতি বেওয়ারিস লেসার মতন ওকে সৎকার করার জন্য ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রেসার আসছে কিন্তু তাকে ক্রমাগত এ. সি. পি. প্রতিহত করতে চেষ্টা করছেন l তাঁর এই প্রচেষ্টাকে জনমত টি. ভি. সেল্যুট করছে এবং আসা করছে রোহিতের বাবা মা তাঁদের সন্তানকে স্বীকৃতি দিয়ে তার শব সৎকার যথা যথ মর্যাদা দিয়ে করবে l
এদিকে পুলিশ কমিশনার অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে এ. সি. পি. চক্রবর্তীকে তাগাদা দেন যেহেতু বডির কেউ ক্লেমেন্ট নেই তাই রোহিতের লাস পুলিশ কাষ্টডিতে দাহ করতে l কিন্তু তার পর আইনের প্যাঁচ এ. সি. পি চক্রবর্তীকে ভুগতে হবে তখন কেউ পাশে থাকবেন না l
এ. সি. পি.চক্রবর্তী ফিরে আসেন অফিসে l ফোন আসে l ল্যান্ড ফোন ধরেন.. হ্যালো!
ওপার থেকে ভগবান বলেন স্যার আপনি রঞ্জিৎ চক্রবর্তীর অফিসে জান ওনাকে ওখানেই জিজ্ঞাসা করবেন l
- আমি কি করবো সেটা তুমি আমায় বলবে?
-আমি আপনার ভালোর জন্য বলছি স্যার l
দেখুন আপনি কি করেন!
কথাটা ফেলে দেওয়ার মতন নয় l
এ. সি. পি. গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন l সঙ্গে ইন্সপেক্টর শশাঙ্ক l
রঞ্জিৎ বাবু স্টেনো কে ডিকটেশন দিচ্ছিলেন l
এ. সি. পি. এপয়েন্টমেন্ট নিয়েই এসেছিলেন যদিও ইনভেস্টিগেশন এ ওসবের প্রয়োজন হয়না l
এ. সি. পি. কে বসতে বলে বলেন চা না কফি?
- আমি ডিউটিতে থাকার সময় কিছু খাইনা l thanks for your offer.
- You are most welcome. But I need a cup of coffee. May I?
- Sure. Why not.
- হ্যাঁ কিসের জন্যে এসেছিলেন বলুন রঞ্জিৎ বাবু বলেন l
- এই লোকটিকে চিনতে পারেন বলে ভগবান পান্ডের ফটো দেখান ?
- কে ইনি?
- ভগবান পান্ডে আপনার অফিসে কাজ করতেন l একাউন্টস ডিপার্টমেন্টে l Am i correct!
- ওহো হ্যাঁ হ্যাঁ l But he is a criminal. অনেক দিন আগের কথা আমাকে লোকটা এক লক্ষ টাকা ধার চায় l বুঝুন কি সাংঘাতিক! এক অফিসে ছিলাম বলে এক লক্ষ টাকা ওকে ধার দেব! বলে ওর মেয়ের বিয়েতে পণ দিতে হবে l আরে আমি কোথা থেকে পাবে যে ওকে টাকা দেব! আবদার! ওটা একটা ক্রিমিনাল ওর বৌকে ফাঁসি দিয়ে মেরেছে l জেল হয়েছিল l পরে বেল পায় l চাকরি গেলে একটা বার খোলে l ব্যাটা পাঁড় মাতাল l ওর কথা শুনবেন না l ওর মেয়ে সুইসাইড করেছে ও ওর বৌকে মেরেছে l ব্যাটা মাতাল l আমাকে ওর কথা শুনে এইসব বলছেন জেনে আশ্চর্য হচ্ছি l
- আপনিতো ওর ডিটেল হিস্ট্রি বলে গেলেন!
হুঁ l এই ছবিটা দেখুনতো l রাহুল আপনার ছেলে নয় কি?
- রাহুল কালিফরর্ণিয়াতে l ও এখানে কি করে আসবে l
- তবে যে এনকাউন্টারে মারা গিয়েছে পুলিশ একসনে সে আপনার কেউ নয়? He is a hard core criminal. Drug addict sharp shooter. ও আমার কেউ নয় l
- কেউ নয়? Strange! আপনাকে আমার সঙ্গে যেতে হবে মর্গে l
- আপনিকি আমায় বাধ্য করছেন l আমি একটা কোম্পানির জেনেরাল ম্যানেজার l
- Hell your general manager ! যে নিজের একমাত্র ছেলেকে সামলাতে পারেনা একটা ক্রিমিনাল হয় সে জেনেরাল ম্যানেজার? চলুন আমার সঙ্গে মর্গে l বডি আইডেন্টিফাই করবেন l
- দেখুন ঐ পান্ডে আমার ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে l আমি ওর মেয়ের বিয়েতে পণ এর জন্য এক লক্ষ টাকা দিইনি তাই l ঐ মাতালের কথা আপনি বিশ্বাস করছেন?
- হ্যাঁ করছি l
- যদি না যাই!
- বাধ্য হব এরেস্ট ওয়ারেন্ট অনতে l সেটাকি ভাল দেখাবে !
- চলুন l
- আসুন l পুলিশকে সহযোগিতা না করলে পুলিশ তার মতন কাজ করবে আপনার বোঝা উচিৎ l.....
ক্রমশ :-
চিত্র ঋণ :- গুগুল
©ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী✍️🙏

মুখাগ্নি (শেষ পর্ব) ✍️ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী


 

মুখাগ্নি (শেষ পর্ব)

✍️ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী

এ. সি. পি চক্রবর্তী , রঞ্জিত ব্যানার্জীকে সঙ্গে নিয়ে মর্গে পৌঁছন l ইন্সপেক্টার শশাঙ্ক সঙ্গে দুজন কনস্টেবল কে নিয়ে মর্গে জান পুলিশের জিপে l
এরমধ্যে খবর পেয়ে ভগবান পান্ডে এবং রিপোর্টার প্রতিভা টি. ভি. ইউনিট নিয়ে মর্গে পৌঁছন l প্রতিভা লাইভ টেলিক্সষ্টের আয়োজন করে এবং বুম নিয়ে সমস্ত খবর এইরকম ভাবে পরিবেশন করে..... আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমরা এখন মর্গে আছি যেখানে রোহিতের লাশ রাখা হয়েছে l কিছুক্ষনের মধ্যে আমরা আশা করছি রোহিতের বাবা মা এবং এ. সি. পি. চক্রবর্তী ও ইন্সপেক্টার শশাঙ্ক যারা জান লড়িয়ে সার্প সুটারদের এনকাউন্টার করতে বাধ্য হয়েছিলেন তাঁরা সকলে এসে পৌঁছোবেন l
এ. সি. পি. চক্রবর্তী বুম এবং ক্যামেরা সরাতে বলেন l এখন এই দুঃখের পরিস্থিতিতে লাইভ টেলিকাস্ট করতে দেওয়া অমানবিকতা হবে l
প্রতিভাকে বলেন দেখুন আপনি একটু মানবিক দিক থেকে ভাবুন একজন বাবা মা'র ওপর কি মানসিক চাপ থাকে সেটা নিশ্চই সহজে বুঝতে পারছেন l আমাদের একটু একা থাকতে দিন.. প্লিজ l
রঞ্জিৎ বাবুকে রোহিতের লাশ দেখানো হয় l উনি বলেন না না এ আমার ছেলে রোহিত নয় l এ অন্য কেউ l রোহিত তো সিলিকন সিটি তে l যাকে তাকে রোহিত বলে বললেই আমি মেনে নেবে l আমারতো কোন যমজ ছেলে ছিলোনা হিন্দী সিনেমার মতন বলে পেছনে ঘুরতেই ভগবান পান্ডের মুখো মুখি হন l
রঞ্জিৎ বাবু ভগবানের কলার ধরে বলেন তুই আমার ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এই ফাঁদ পেতেছিস l এ. সি. পি. কে আমাদের বিরুধ্যে বলে আমার সম্মান ক্ষুন্ন করতে চেষ্টা করছিস l তোর আমার ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার এই কি সময়!
ঠিক এই সময় সুনয়না দেবী এসে পৌঁছোন ওনার মেয়ে রিঙ্কিকে নিয়ে l রিঙ্কি দৌড়ে যায় মর্গে তার দাদাকে দেখতে l ওর মা ডাকেন মেয়েকে l কিন্তু মেয়ে ওনার ডাক না শুনেই টেবিলে শোয়ানো লাশ দেখে l ওনার মেয়ে মেডিকেলের স্টুডেন্ট লাশের মুখ দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়ে l
ভগবান বলে একটা কুকুর ও রাস্তায় মরে গেলে তার মা তাকে ঘিরে থাকে l কাউকে কাছে ঘেঁসতে দেয়না l আজ নিজের ছেলেকে মা বাবা চিনছে না শুধু সমাজের ভয়ে l এ. সি. পি স্যার আপনি দিন আমি ওর শব সৎকার করবো l ও আমার ছেলের মতন l ওর পারলৌকিক ক্রিয়া কর্ম আমি করবো l রঞ্জিৎ সাহেব তুমি থাকো তোমার ঝুটা সমাজ নিয়ে আমিতো মদ বিক্রি করি নিজে মাতাল আমি সমাজকে ভয় পাইনা কারণ আমার ইজ্জত আমার বৌ আত্মহত্যা করার পর চলে গিয়েছে l কিন্তু সত্যিটা হচ্ছে আমার মেয়েকে ওর শ্বশুর বাড়ির লোক এক লক্ষ টাকা পণ দিতে পারিনি বলে পুড়িয়ে মারে l আমার স্ত্রী সেই দুঃখে মেয়ের শোক ভুলতে না পেরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন l পুলিশ আমাকেই সন্দেহ করে কারণ এই রঞ্জিৎ ব্যানার্জী আমাকে আমার কোম্পনি থেকে বার করার সুব্যবস্থা করে বসকে ভুলিয়ে l রঞ্জিৎ বাবু তুমি কত লক্ষ টাকা খেয়েছো পারচেস ডিপার্টমেন্ট থেকে l আমি সব ফাঁশ করে দিতাম কারণ আমি কোম্পানির একাউন্টস টা ভালো করে দেখতাম l তুমি টাকাই রোজগার করতে কিন্তু মনুষত্য হারিয়েছিলে l আমার মেয়ে বৌ সব তোমার জন্য আমাকে একা রেখে চলেগেলো l আজ আমি মাতাল হয়েছি তোমার জন্য l কিন্তু আমি মানুষ, কুকুর নই তাই আমি তোমার রোহিতের শ্রাদ্ধ করবো l এ. সি. পি স্যার আমাকে বডি দিন...
না কখনো না.. চিৎকার করে ওঠেন সুনয়না দেবী l ও আমার ছেলে... ও আমার ছেলে... আমার গর্ভের সন্তান l আজ ওর এই পরিণতির জন্য আমি দায়ি.... হ্যাঁ আমি দায়ি l কেউ ওর বডি টাচ করবেনা l ওকে কেউ ছোঁবেনা l
রঞ্জিৎ ভগবানকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে l ভগবান আমায় ক্ষমা কর ভাই l আজ তোর বৌ আর মেয়ের অভিশাপে আমার পরিবার ছারখার হয়ে গেলো l আমার একমাত্র ছেলে এনকাউন্টারে মারা গেলো l আমি পাপি....আমি পাপি.... আমায় ক্ষমা কর l প্রতিভা কিন্তু সমস্ত ঘটনা রেকর্ডিং করে চলেছিল l কিন্তু কোন রিপোর্টিং করেনি l পরে এডিট করে সাউন্ড জুড়ে দেবে l
এ. সি. পি. চক্রবর্তী, ভগবানকে ধন্যবাদ দেন l উনি স্বীকার করেন আজ সমস্ত অপারেশন এর পেছনে ভগবানের হাত আছে l ও নাথাকলে আমরা কিছুতেই সফল হতে পারতামনা l
কেওড়াতলা শ্মশান :-
রঞ্জিৎ ব্যানার্জী কলসপূর্ন জল নিয়ে কাষ্ঠ খণ্ডিগুলির উপর রাখা নিজের একমাত্র পুত্রের শবের চারিদিকে তিনবার প্রদক্ষিণ করেন l তারপর কলসির জল ফেলেদিয়ে মৃতের মুখে অগ্নি সংযোগ করে মুখাগ্নি করেন l এরপর ব্রাহ্মণ মন্ত্র উচ্চারণ করেন
আমরা সনাতন ধর্মালম্বীরা বিশ্বাস করি যে মানুষ মৃত্যুর পর দেবলোকে যায়।কিন্তু তিনি দেবালোকে যাবেন কি করে?
কৃত্বাতু দূস্কৃতং কর্মং জানতা।
মৃত্যুকাল বশং প্রাপ্য নরং পঞ্চতমাগতম্ ধর্মাধর্ম মমাযুক্তং লোভ মোহ সমবৃত্তম দহেয়ং সর্বগাত্রানি দিব্যাং লোকান স গুচ্ছতু।
অনুবাদঃ- তিনি জেনে বা না জেনে অনেক দুষ্কর্ম করে থাকতে পারেন।কাল বশে মানুষ মৃত্যুবরণ করে থাকেন।এ দেহ ধর্ম-অধর্ম, লোভ -মোহ প্রভৃতি দ্বারা আচ্ছাদিত ছিল।হে অগ্নিদেব!আপনি তার সকল দেহ দগ্ধ করে দিব্যিলোকে নিয়ে যান।
অন্যেষ্টি ক্রিয়া :-
প্রতিভা বুম হাতে শুরু করেন ; আমি প্রতিভা জনমত টি. ভি. থেকে সঙ্গে ক্যামেরায় প্রদীপ্ত আর সুখেন্দু, রোহিতের অন্তেষ্টি ক্রিয়ার লাইভ কভারেজ টেলিকাষ্ট করছি l শেষ পর্যন্ত রোহিতের বাবা মা'র খোঁজ পাওয়াজায় তাঁরা মর্গ থেকে রোহিতের শব কেওড়াতলা শ্মশানে নিয়ে যান l পুলিশ সঙ্গে ছিলো l রোহিতের বাবা রঞ্জিৎ ব্যানার্জী এক মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানির জেনেরাল ম্যানেজার এবং মা সুনয়না দেবী কলকাতার এক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্রিন্সিপাল l বোন রিঙ্কি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী l সকলে উপস্থিত থেকে শব সৎকার হয় l
সমাজে যারা শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তিত্ব বলে নিজেদের মনে করেন তাঁরা নিজের সন্তানের প্রতি বেশি যত্নবান হওয়া প্রয়োজন l অহেতুক পুত্র সন্তানের প্রতি অধিক স্নেহ দেখিয়ে তার হাতে প্রয়োজনের অধিক টাকা দিলে তারা বিপথগামী হবেই l এতে কোন সন্দেহ নেই l রোহিতের হাতে তার মা প্রচুর টাকা দিতেন l সেই টাকায় সে ড্রাগের নেশা ধরে l মাদক চক্রের সঙ্গে মিশে সুপারী কিলারে পরিণত হয় l নিজের জীবন ছারখার হয়ে যায় এবং এমন ই অবস্থার সৃষ্টি হয় যে তাকে পুত্র বলে পরিচয় দিতে তার আপন পিতা মাতা অস্বীকার করেন l কিন্তু ভগবান পান্ডে মদের ব্যবসা করে মাতাল হয়েও প্রতি পদে পদে পুলিশকে সাহায্য করার সঙ্গে সঙ্গে শেষ মেস রঞ্জিৎ বাবুকে বলে যে সে রোহিতকে বেওয়ারিশ লাশ হতে দেবেনা সে তার সৎকার নিজে করবে l এখানেই বোঝাযায় যে শুধু পড়াশুনো করে সমাজে উচ্চপদে কেউ থাকলেই সে মানুষ পদবাচ্য হতে পারেনা যদি না সামান্য মনুষত্য তার মধ্যে থাকে l ভগবানকে বিনা কারণে রঞ্জিৎ ব্যানার্জী চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করেন কারণ সে রঞ্জিৎ এর কালো টাকা রোজগার ধরে ফেলেছিলো l তার মেয়ের বিয়েতে পণ না দিতে পারার জন্য মেয়েটিকে পুড়িয়ে মারে তার শ্বশুর বাড়ির লোক l সেই দুখঃ কষ্ট তার স্ত্রী সহ্য না করে আত্মহত্যা করে l ভগবানকে জেল খাটতে হয় স্ত্রীর মৃত্যুর দায় নিয়ে পরে সে জামিনে ছাড়া পায় l তারপর মদের ব্যবসা করে l রোহিত তার দোকানে ড্র্যাগ সেবন করতে আসতো সেই খবর সে রঞ্জিৎ বাবুকে দেয় l তখন যদি রঞ্জিৎ বাবু ছেলেকে নিয়ে যেতেন তাহলে হয়তো সে অকাল মৃত্যু বরণ করতোনা l এটা সমাজের এক কলংকিত অধ্যায় হয়ে থেকেগেলো l

---------সমাপ্ত---------


Wednesday, March 31, 2021

ছোট গল্প ঃ- তিন কন্যা , লেখক ত্রিভুবান জিৎ মুখার্জী

  ক্ষুদ্র গল্প তিন কন্যা👧👧👧
, লেখক ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী✍️🙏
  30.03.2021.

প্রথম কন্যা :-

বিশ্ব নারী দিবস কথাটা শুনে মঞ্জু মুখ টিপে হাঁসে l আমি বললাম কি হোলরে হাঁসছিস কেন?

- বলে হাঁসবোনা বল কি গো?

- কেন দেখছিসনা টিভির পর্দায় কেমন কবিতা আবৃত্তি হচ্ছে l লোকে হাত তালি দিচ্ছে l

- দুম করে আজকের খবরের কাগজটা মুখের সামনে ধরে বলে পড় l যাঁরা ঐ গলা বাজি করছেন আর নারী শিক্ষা, নারী স্বাধীনতা, নারীদের স্বাস্থ এই সব নিয়ে কথা বলছেন সব ভাঁওতা বাজি l যত মিথ্যে কথা l আমি মানিনা l আমায় দেখো আমি কি স্বাধীন?

-কেন তোর আবার কি হল? দিব্বি কাজ করছিস মাস গেলে 15,16 হাজার টাকা পাচ্ছিস, খাচ্চিস,দাচ্চিস নিজে স্বাধীন মতন ঘুরে বেডচ্ছিস তোকে লোকে ভালো বাসে তাই অনেকেই অনেক কিছু দেয়... তা তোর কি অভাব শুনি?

-মাসগেলে যে টাকা পাই সব বরের হাতে তুলে দি l বর মদ গিলে বাড়ি আসে আমাকে মারে l আমার কেন ছেলে হয়না? তিন মেয়ে আমি জন্ম দিয়েছি, সেটাকি আমার ভুল বলো? আমাকে তাদের দায় সামলাতে হচ্ছে l লেখা পড়া, জামা কাপড়, তাদের খাওয়ানো পরানো সব আমি l আমি যে ছেঁড়া শাড়ি পরছিলাম তাই পরছি l চোখে কি দেখতে পাওনা? উল্টো প্রশ্ন করে আমাকে l তাই আমাদের মতন গরিব মানুষের জন্য ঐ নারী দিবসের কোন মানে নেই l

দিন আনি দিন খাই

হরিনামে মন ভরাই,

সকাল হলে কাজে যাই

তবে দুটো খেতে পাই,

রেশনে পোকা চাল পাই

তাকেই বেছে ভাত খাই,

কাকে বলবো বল ভাই

চোর পুলিশে ভাই ভাই,

রোগ হলে ওষুধ নাই

ডাক্তার বলে পয়সা চাই,

পাঁচ বছরে ভোট আসে

নেতা দিনে পাঁচ বার আসে,

ভোট ফুরোলে দেখা নাই

এটাই এই দেশের নিয়ম তাই l

নিজের ভাগ্য নিজে গড়,

নিজেকে আরো শক্ত কর l

খেটে খাও ভাত মিলবে

নাহলে ডাক্তারকে টাকা গুনবে l

নারীর মুখে হাঁসি ফুটবে

তবেই জানো দেশ এগুবে l

-ওরে বাস তুই এই ছড়া বানিয়েছিস? এতো বুদ্ধি তোর মাথায় l তা মন্দ বলিসনি l কিন্তু কে তোর কথা শুনবে বল?

-কেন তুমি আছো মাসি আছো কি করতে? তোমরা আমাদের নিয়ে কিছু লিখতে পারোনা l 

-তা চেষ্টা করে দেখবো l দেখি তোকে নিয়ে একটা গল্প লিখি l কিন্তু কে পড়বে আমার লেখা?

-লিখেই দেখোনা!

দ্বিতীয় কন্যা :-

 গ্রামের মেয়ে সঞ্জু l মুখশ্রী সুন্দর l গড়নও ভালো কিন্তু কি হবে তার এই সুশ্রী চেহারার? উঠতি বয়েসে এক পাশের গ্রামের যুবকের সঙ্গে প্রেম হয় নাম সুধীর l নাম সুধীর কিন্তু কাজে শয়তানের চেয়েও মারাত্মক l সেকথা সরল মেয়ে সঞ্জু বুঝে উঠতে পারেনি l তার খেসারদ সারা জীবন দিতে হচ্ছে তাকে l

ঘটনাটা এই রকম : সুধীর শহরে ট্যাকসি চালায় l ঐ সুধিরের সঙ্গে সঞ্জু বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করে l সে বিয়ের কোন সাক্ষী প্রমান নেই l মন্দিরে মালা বদল আর একটা সেলফি ব্যাস l সঞ্জু তার মোবাইলে সেই সেলফিটাকে স্ক্রিন সেভার করে রাখে l সেটাই সঞ্জুর বিয়ের সাক্ষী l সুধীর,সঞ্জুকে নিয়ে সারা শহর ট্যাক্সিতে ঘুরে বেড়িয়েছে l সিনেমা, শপিং মল ঘুরে সঞ্জুকে প্রচুর উপহার দিয়েছে l ইমিটেশন গয়না, দামি প্রসাধন, শাড়ি ইত্যাদি তা ছাড়া ভালো হোটেলে খাওয়া l

কিছুদিন এই চললো l তারপর সঞ্জু জানতে পারে সুধীর বিবাহিত এবং তার একটি ছেলে আছে l ঐ ছেলের ফটো ওর ওয়ালেটে দেখে সন্দেহ হয় l ওকে জিজ্ঞাসা করাতে সুধীর তার নিজস্ব রূপ দেখায় l প্রচন্ড মারধোর করে সঞ্জুকে ঘরে গৃহ বন্দি করে রাখে l এরপর তার ওপর চলে অকথ্য অত্যাচার l কিছু বন্ধু বান্ধবদের ডেকে সঞ্জুর সঙ্গে তাদের দৈহিক সম্পর্কে বাধ্য করে l সঞ্জু চিৎকার করার সাহস পায়না কারণ সে এমনিতেই মার খেয়ে আধমরা l প্রায় এক মাস চলে এই অত্যাচার l সঞ্জুর মোবাইল সুধীর লুকিয়ে রাখে কিন্তু ঘটনা ক্রমে সেটা ও একদিন সুধীর মাতাল অবস্থায় থাকা কালীন পেয়ে যায় l মোবাইল পেয়ে ওর গ্রামের এক মাসিকে ফোনে সব বলে এবং কোনমোতে সেদিন ঘর থেকে পালতে সক্ষম হয় l ঘর থেকে পালিয়ে সোজা পুলিশ স্টেশনে যায় সেখানেই অচৈতণ্য হয়ে পড়ে l জ্ঞান ফেরার পর সমস্ত ঘটনা মহিলা পুলিশকে বলে l ওর বয়ান রেকর্ড হয় l ভগবানের আশীর্বাদ থানার ও. সি মহিলা ছিলেন l তাই ঘটনার তদন্ত তৎক্ষণাৎ হয় l সুধীরকে পুলিশ এক জুয়ার আড্ডা থেকে গ্রেফতার করে l সে এখন জেল হাজতে l কিন্তু সঞ্জু কাকে নিয়ে বাঁচবে? এটাই আমার প্রশ্ন l কি হবে এই দেশে নারী দিবস পালন করে যেখানে পদে পদে নারী শোষিত এবং লাঞ্চিত! তার আত্ম মর্যাদা লুন্ঠিত l সরলতার সুযোগ নিয়ে দুষ্কর্ম দিনের পর দিন চলেছে এর কোন সমাধান নেই l সরকার প্রশাসন এর সমাধান করতে অক্ষম l

তৃতীয় কন্যা :- তৃতীয় কন্যা নাম অঞ্জু l অঞ্জু পান গোসাবা, সুন্দরবন অঞ্চলে l ওরা তফাশীল ভুক্ত জাতি l কলকাতায় ওর কাকার কাছে থেকে পড়াশুনো করে l ছোটবেলা থেকেই অঞ্জু পড়াশুনোয় খুব ভালো ছিল l সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করে ভালো ভাবে তারপর উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান নিয়ে আশুতোষ কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ন হয় l কেমিস্ট্রি অনারর্স নিয়ে ভর্তি হয় বি. এস. সি 
পার্ট ওয়ান পরে ঐ আশুতোষ কলেজ থেকেই প্রথম শ্রেণীতে অনার্স গ্রাজুয়েট হয়ে বি. এড এ ভর্তি হয় স্কটিস চার্চ কলেজে l বি. এড. অনেক কষ্ট করে পাস করে কারণ টাকা পয়সারা টানা টানি পড়ে l
কাকার ফ্যাক্টরি লক আউট হয় l অঞ্জু টিউসনি করে ঘরের খরচ এবং নিজের পড়ার খরচ চালায় l কষ্টে মষ্টে দিন যায় l কাকাকে তাঁর দুঃসময় অঞ্জু ছেলের মতন পাশে থেকে উৎসাহ দেয় l কাকা কাকিমা দুজনেই অঞ্জুকে খুব ভালো বাসেন l নিজের মেয়ের মতন দেখেন l এরমধ্যে অঞ্জু টেট পরীক্ষা দেয় l লিখিত পরীক্ষায় ভালোই করে কিন্তু ওর নাম সিলেকশন লিস্টে না পেয়ে হতাশ হয় l কিন্তু ও ভেঙে পডার মেয়ে নয় l ওর এক বন্ধু বলে সিভিল সার্ভীস পরীক্ষায় বসতে l দুজনে চলে যায় দিল্লিতে l টিউশনি করে যা টাকা রেখেছিলো সব বই কিনে পরীক্ষা র জন্য কঠিন পরিশ্রম করে l একবেলা গুরুদ্বারা তে লঙ্গরে ( लंगर (पंजाबी : ਲੰਗਰ) सिखों के गुरुद्वारों में प्रदान किए जाने वाले नि:शुल्क, शाकाहारी भोजन को कहते हैं। लंगर, सभी लोगों के लिये खुला होता है चाहे वे सिख हो या नहीं। लंगर शब्द सिख धर्म में दो दृष्टिकोणों से इस्तेमाल होता है। ) ডাল রুটি সবজি খেত বেলা 1.30 র সময় l তাও ওদের বাড়ি বালার দয়ায় l বাড়িবালা নয়ডাতে একটা রুম দিয়েছিলো মাসে 5,000 টাকা ভাড়াতে l অনেক কষ্টে দুমাসের ভাড়া আগাম দিয়ে দুই বান্ধবী ছিল l দুমাস পর কি হবে অনিশ্চিত l এই বিদেশ কি খাবে কি পরবে সব অনিশ্চিৎ l একেই বলে জীবন সংগ্রাম l এরমধ্যে দুজনে এক ইংলিশ মিডিয়ামের দুটো টিউশনি জোগাড় করে l মাসে 10,000 টাকা দিতেন এক পাঞ্জাবী ব্যবসায়ী ভদ্রলোক l তাও ঐ বাড়িবালার দয়ায় l ঘরভাড়া দিয়ে ওদের হাতে মোটে 5000 থাকতো l ভাগ্যিস লঙ্গরে দিনের বেলায় মাগনা খাবার খেত l সালোয়ার পাঞ্জাবী পরা দুটো মেয়েকে এক বয়স্কা পাঞ্জাবী ভদ্রমহিলা দেখতেন l দুটো বিদেশী মেয়ে তারা লঙ্গরে রোজ খাচ্ছে l ভদ্রমহিলার একটু খটকা লাগে l তিনি কৌতূহলে জিজ্ঞাসা করেন, কাঁহাসে আই হো বেটি, নাম ক্যা l ইহাঁ রোজ আতে হো খানে তুমহারে মা বাপ্ কাহাঁ হ্যায় বোলো?

অঞ্জু বলে,মাজি হম সিভিল সার্ভিস একজাম কে লিয়ে প্রিপারেশন কর রাহে হ্যায় l জেব মে প্যায়সা নেহি হ্যায় ফিরে ভি হাম হারেঙ্গে নেহি l কিউঁকি হামারে লক্ষ পর পহোঁচনা হ্যায় l

মহিলা অবাক হয়ে দুজনের দিকে তাকান বলেন তুমহারে দোনোকি তাজরুবা ওর হিম্মত দেখকে মুঝে আশ্চর্য লাগতা হ্যায় কি বাঙালি বেটি কে পাস ইতনা হিম্মত হ্যায় l বা বেটি বা চলো হাম তুম্হে কুছ মদত করতে হ্যায় l 

অঞ্জু আর সোমা দুজনে দুজনের মুখের দিকে তাকালো l পরে বলে মৌসি আজ নেহি আজ হাম টিউশন পর জায়েঙ্গে.....

সমঝ গেয়ে বিটি শক কর রাহে হো হামে l হাম ইতনি গিরি হুই ঔরত নেহি হ্যায় l ঠিক হ্যায় আজ যাও কাল বুলা লেঙ্গে l मुझे खुशी है कि आप में हिम्मत है तजुर्बा हैं एक नयी शुरुआत कोरो l

অঞ্জু সোমা দুজনে চলে যায় l ওদের মনে সন্দেহ হয় কোন মতলব নেইতো!

বাড়িতে গিয়ে ওদের বাড়িবলি মাসিকে বলে সব ঘটনার কথা l উনি বলেন তুম দোনো তুম্হারী কাম করো কিসিকে বাতমে মত আনা l

পরের দিন বাড়িবালা মেসোর সঙ্গে ওনার অটোতে দুজনে যায় l লঙ্গরে খেয়ে ফিরে আসে কাউকে দেখতে পায়না l

এরপর থেকে ওরা সাবধানে যাতায়াত করে l যতোই হোক মেয়ে এই বিদেশে কোথায় কে কি মনে করে ওদের দুবাই টুবাই পাঠিয়ে দেবে নাতো l ভয়ে গা শিউরে ওঠে l তবুও মহিলার শেষ কথাটার গুরুত্ব আছে l

ক্রমে ওদের পরীক্ষার দিন চলে এলো l দুজনেই সিভিল সার্ভীস পরিক্ষায় বসলো l প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় দুজনে ভালো রেসাল্ট করলো l কিন্তু সিভিল সার্ভীস মেন খুব কঠিন l রাত দিন এক করে কি করে অধ্যাবসায় করে জীবনের লক্ষে পৌঁছোতে হয় তা এই দুই মহিলার কাছথেকে শিখতে হয় l

সিভিল সার্ভীস মেন দিল দুজনে l আশ্চর্য রকম ভাবে অঞ্জু এবং সোমা সিভিল সার্ভীস ফাইনাল পস করে l অঞ্জুর সিডিউল কাস্ট কোটাতে 85 ৱ্যাঙ্ক ছিল সোমা জেনেরাল কেটিগোরিতে 2235 ওরা ওদের সাফল্যের কথা বাড়িবালিকে বলে l উনি আর বাড়ি ভাড়া না নিয়ে ওদের বাড়িতেই খাওয়ার ব্যবস্থা করেন l বাড়িবালি মহিলা বলেন রোজ রোজ লঙ্গর মে জানেকা জরুরত ক্যা হ্যায়? বেটি তুমি দোনো মেরা ঘরমে খাও l হম পকায়েঙ্গে খানা তুমহারে লিয়ে l খুব খাও ঔর পড়ো l ভাইভার জন্য প্রিপারেশন করলো দুজনে l দুজনেই ভাইভা কোয়ালিফাই করে অঞ্জু আই. পি. এস. ও সোমা আই. আর. এস অফিসার এর নিযুক্তি পত্র পায় l ওদের খুশীর কোন শেষ ছিলোনা l সোমা,এসিস্টেন্ট কমিশনার ইনকাম ট্যাক্স, কটক l 

 অঞ্জু পান গোসাবার মেয়ে আই. পি. এস. অফিসার ভাবা যায় l

দেরাদুন এর বল্লভ ভাই পটেল পুলিশ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে ট্রেনিং সেরে অঞ্জু এ. সি. পি. কেন্দ্রাপাড়া, উড়িস্যা তে পোষ্টেড হয় l পুলিশের ইউনিফর্মে অঞ্জু কে চোখে না দেখলে ভাবা যায়না l

সেই সময় কেন্দ্রাপড়া তে হাইদর নামে এক ডন এর উৎপাত l অঞ্জু চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয় ওকে ধরার জন্য l এস. পি. ওকে অনেক বারণ করেন রিস্ক নিতে l একটা মারুতি জিপসী গাড়িতে ইউনিফর্ম পরে কোমরে রিভালভার নিয়ে এ. সি. পি. অঞ্জু ম্যাডাম বসে ড্রাইভারকে বলে পারাদ্বীপ এক্সপ্রেস হাই ওয়ে তে চালাতে l তখন বিকেল পাঁচটা l ড্রাইভার ফাঁকা রাস্তায় একটা হর্ন দেয় l অঞ্জু ম্যাডাম এর সন্দেহ হয় l ড্রাইভারকে কপালে রিভালভার এর নল লাগিয়ে গাড়ি থামাতে বলে এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘোরাতে বলে পেছনে l গাড়ি ঘোরার পর ড্রাইভারকে স্পিডে গাড়ি চালাতে বলে l ঠিক সেই সময় দূর থেকে অঞ্জু ম্যাডাম একটা হর্ণের শব্দ পায় l গাড়ি ফুল স্পিডে এগোয় কেন্দ্রাপাড়া l এস. পি.অফিসে নেমে এস. পি. র সামনে অঞ্জু ম্যাডাম ড্রাইভারের গালে শক্ত চড় বসায় l ড্রাইভারকে সাসপেন্ড করা হয় কারণ এই ড্রাইভার রাস্তায় হর্ন দিয়ে হাইদারের গ্যাঙ্গ কে জানায় এস. পি কিংবা অন্য সিনিয়ার পুলিশের অফিসার রাস্তায় আছেন বলে l ওরা ঐ সময় গাড়ি লক্ষ করে বোমা ছুঁড়ে মরনাত্মক আক্রমণ করার আগে ড্রাইভার পালায় গাড়ি ছেড়ে l এই ঘটনা ঘটেছিলো এর আগে সেই খবর অঞ্জু ম্যাডাম জানতেন সেটা আজ প্রমান করলেন l পুলিশের চাকরিতে পদে পদে বিপদ থাকে l তাকে উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে সমাধান করা পুলিশের প্রধান কাজ l আত্মরক্ষা এবং মানুষকে রক্ষা করা প্রতি মুহূর্তে পুলিশের প্রধান কাজ l

*** তিন কন্যা তিন রকমের কিন্তু অঞ্জু ম্যাডাম নামধারী এ. সি. পির ঘটনা একদম সত্যি ঘটনা l 

            




                     ********0********

Tuesday, February 2, 2021

বিশু খুডো লেখক ©ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী


  ##বিশু খুড়ো##
©ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী
✍️🙏


আজ বিশু খুড়ো কে খুব মনে পড়ছে l আজ ওনার জন্মদিন l ওনার পুরো নাম বিশ্বভূষণ ভট্টাচার্জী l আমরা প্রায় সকলে বিশু খুড়ো বলেই ডাকি l বিশু খুড়ো বিপত্নীক l বয়েস 78 হল এখন চোখে ভালো দেখতে পারেন না l তাই মেজাজটা সর্বদা খিট খিটে l অবসরের পরে আরো খিট খিটে হয়ে গিয়েছেন l ঘরে মানুষ জন বলতে উনি আর ওনার এক নাতি l সে মাঝে মধ্যে দাদুর কাছে আসে কিন্তু পরক্ষনেই ফিরে যায় নিজ গৃহে l
বিশু খুড়ো মানুষটা ভালো l কোলকাতা পোর্ট ট্রাস্টে চাকরি করতেন l একাউন্টস অফিসার হয়ে রিটায়ার করেন l রিটায়ারমেন্টের পর কলকাতায় একটা ছোট টু রুমের ফ্ল্যাট কিনে সেখানেই থাকেন l পেনশনের টাকায় ভালোই চলে উপরন্তু অবসর সময়ে সাহিত্য চর্চা চুটিয়ে করেন l অনেক ভালো ভালো কবিতা উনি উপহার দিয়েছেন সংগে রাজনৈতিক পর্যালোচনা, নাট্য সমালোচনা,গল্প উপন্যাস ইত্যাদি অনেক লেখা পরিবেষণ করে সুনাম অর্জন করেছেন l সুদূর বাংলাদেশ থেকে ওনার ডাক পড়ে সাহিত্য সমারোহে তা ছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ওনাকে বিশেষ অতিথী করে নিমন্ত্রণ করা হয় l বিশু খুড়ো কিন্তু অত্যন্ত সাদা মাটা মানুষ এবং নিরঅহংকার ও বটে l একটা পুরোনো মোবাইল তাও রাবার ব্যান্ড দিয়ে আটকানো তার কভার l আমাদের বলেন কি হবে ঐ স্মার্ট ফোন নিয়ে?
আবাসনের অন্য লোকেদের সংগে সম্পর্ক ভালো l সবাই বিশু খুড়ো বলেই ডাকেন l পাড়ার ছেলে ছোকরারা বিশু খুড়ো কে কোনদিন মন্দিরে যেতে দেখেন নি l উনি কট্টর বাম পন্থী l মন্দিরে যাওয়াটা নাকি অশিক্ষিতের লক্ষণ l তাই শ্রাবণ মাসে শিবের মাথায় জল ঢালাটা ওনার মতে হাস্যকর এবং অযুক্তিকর l
ঐ আবাসনের বয় জ্যেষ্ঠ সেক্রেটারি মহাশয়,নীলকণ্ঠ সমাদ্দার বলেন শ্রাবণ মাস মানেই শিবের আরাধনার মাস l শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার শিবের মাথায় জল ঢালেন অনেকেই ৷ নিজের সংসার, সন্তানের মঙ্গল কামনায় শিবের পুজো চলে শ্রাবণ মাসভর ৷ কথায় বলে দেবাদিদেব মহাদেব ৷ অর্থাৎ সব ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ শিব ! তিনি মহা যোগী, মহেশ্বর l
সেই ঈশ্বরের পুজোয় সব মনস্কামনা পূরণ হবে ৷ শান্তি প্রাপ্তি হবে জীবনে এবং সংসারে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে ৷
পুরাণ মতে এই শ্রাবণ মাসেই বিষ পান করেছিলেন মহাদেব ৷ বিষ পানের ফলে তাঁর সারা শরীর নীল হয়ে যায় ৷ সেই কারণেই তাঁর মাথায় জল বা দুধ ঢেলে পুজো করা হয় ৷ শ্রাবণ মাসের প্রতিদিনই এই আচার পালন করা হয় ৷ তবে যে হেতু সোমবার শিবের বার বলেই পরিচিত, তাই সোমবারেই বিশেষ পুজো হয় ৷ শ্রাবণ মাসের ৪টি বা ৫টি সোমবার ধূমধাম করে পুজো করা হয় ৷ প্রচলিত বিশ্বাস শিবের পুজোয় দূর হয় জীবনের সব সমস্যা ৷
বিশু খুড়ো এই যুক্তি শুনে হেঁসে গড়িয়ে যান বলেন মূর্খের দলকে কি বলে বোঝাবো l ওরে শিব বিষ খেয়েছিলেন বলে কোন পুরাণে আছে ? শিব পুরণে! ও ওগুলো কিছু ব্রাহ্মণ নিজেদের রোজগারের জন্য অন্ধ ভক্তদের মগজ ধোলাই করে মগজে বিষ ঢেলেছেন l কাজ কম্ম কিছু নেই রাস্তায় লম্বা লাইনে জল নিয়ে গাড়ি মোটর বন্ধ করে ধর্ম অর্জন l লজ্যা করেনা l
চাকরি করেছেন বটে তবে প্রায় নাকি খটা খটি লাগতো উপরিস্থ হাকিমের সংগে l
কথাটা শোনা তাই বিশেষ গুরুত্ব দিই না ঐ কথার ওপর l নিন্দুকেদের কিছু একটা রটালেই হল l
একদিন শীতের সকালে বিশুদার বাড়ির কাজের মাসি বেল বাজিয়েই যাচ্ছেন কিন্তু দরজা আর খোলেনা l বেলা 10 টা বাজলো তবুও দরজা খোলে না l কাজের মাসি সিকিউরিটি কে ডাকেন l সে এসে দর্জা ধাক্কায় কিন্তু কোন শব্দ হয়না l আবাসনের লোক জন জড়ো হতে আরম্ভ করেন l আমাদের আবাসনের সোসাইটির সেক্রেটারি নীলকণ্ঠ সমাদ্দার মহাশয় আসেন l দরজা ভেঙে ঢোকা হয় l সবাই দেখে অবাক বিশু খুড়ো অচৈতনি অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন l গায়ে জ্বর l উনি মেয়ের বাড়িতে একটা ফোন পর্যন্ত করতে পারেন নি বোধ হয় l তা নাহলে ওনার নাতি নিশ্চই চলে আসতো তার দাদুকে দেখতে l
নীলকণ্ঠ বাবু ধার্মিক মানুষ l সংগে সংগে এম্বুলেন্স ডেকে বিশু খুড়ো কে হাঁসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং ওনার মেয়ের বাড়িতে ফোন করেন l নীলকণ্ঠ বাবু প্রত্যেকের সংগে আন্তরিক সম্পর্ক রাখেন এবং আপদে বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েন l এটাই ওনার মহানতা l তাই ওনেকেই সোসাইটির সেক্রেটারি করেন সবাই l
যাইহোক ভগবানের দয়ায় বিশু খুড়োর করোনা টেস্টে নেগেটিভ দেখায় পরে ডাক্তারি চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরেন l
ওনার মেয়ে নাকি বাবা তারকনাথের কাছে মানত করেছিলেন বাবার সুস্থতা কামনা করে l বাবা তারকনাথ শুনেছেন মেয়ের ডাক তাই বিশু খুড়ো সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরেন l এই কথা কিন্তু কিছুতেই মানতে নারাজ আমাদের বিশু খুড়ো l বলেন ওরে ঠাকুর যদি বাঁচাতেন তবে ডাক্তাররা আছেন কি করতে?
মেয়ে বলে না বাবা ডাক্তাররাও মানেন এক ঐশ্বরিক শক্তি কাজ করে তাই তাঁরাও ভগবানকে ডাকেন অপারেশন করার আগে l পেসেন্টকে আশ্বাস দেন ভগবানের ওপর বিশ্বাস রাখুন আপনার রোগী নিশ্চই ভালো হয়ে যাবেন l আজ ঐ নীলকণ্ঠ জেঠু তোমার ফ্ল্যাটের দরজা না ভাঙলে তোমাকে আমরা বাঁচাতে পারতামনা, সে খেয়াল আছে! উনি ঈশ্বর বিশ্বাসী তাই তোমাকে ঈশ্বর ই বাঁচিয়েছেন এটা মাথায় রেখো l তিনি সর্ব শক্তিমান তাঁর ওপরে কেউ নেই l এখন থেকে একটু ঠাকুর পুজো কর l ব্রাহ্মণ সন্তান হয়ে গলায় পৈতে নেই তোমার, লোকে আমাকে যা তা বলে l
বিশু খুড়ো মেয়ের মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকেন আর তাঁর স্ত্রীর কথা মনে করেন... ঐ এক ই কথা তাঁর স্ত্রী বলতেন তাঁকে l বয়েস হয়েছে মেয়ের কথা শোনা উচিৎ মনে মনে ভাবেন কিন্তু না ঐ পৈতে ধারণ অসম্ভব l ওটা নতুন করে করা সম্ভব নয় ওনার কাছে l হ্যাঁ ঈশ্বর তিনি মানেন তবে তাঁকে আকারে সীমাবদ্ধ করতে নারাজ l তিনি নিরাকার পরম ব্রহ্ম l এটাই তাঁর বিশ্বাস ।
**চিত্র ঋণ গুগুল**
©ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী✍️

Comments

Friday, December 18, 2020

ঋণ শোধ ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী


 

     ঋণ শোধ 

 ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী

 


পাড়ার বাবলু দা যেমন মজার মানুষ ঠিক সেই রকম পরোপকারি।কারুর অসময়ে উনি নিশ্চই  পাসে থাকেন এবং শুধু তাই নয় সমস্যার সমাধান ও করেন। কিন্তু বাবলুদার বাড়ির লোকেরা ওনার এই পরোপকারী স্বভাবটা পছন্দ করেন না। ওনারা বলেন জমিদারের বংশের ছেলেরা পাড়ার কেউ মারাগেলে শ্মশানে যায়না শবদাহ করতে। কিন্তু বাবলুদা বলেন শ্মশান যাত্রা মহা পূণ্যের কাজ। শবদাহ করা আরো পূণ্যের । 

বাবলুদার বাবা মা দুজনেই বাবলুদাকে ঘরে ঢুকতে দেন না। বলেন ঐ সার্ভেন্ট কোয়ার্টারে থাক তুই। বাড়িতে ঢুকিসনা। আপদ অপদার্থ এক ছেলে জন্মেছে। বাবলুদার কিন্তু কোন রাগ দুঃখ নেই সে জন্য। বলেন অসময়ে লোকের কাছে থাকা তাকে সমবেদনা জানানো  মনুষ্যত্বের কাজ। এই মনুষত্ব মানুষের হৃদয় থেকে উবে যাচ্ছে দিন দিন।

আমি ওদের টাকা পয়সা দিতে পারবোনা কিন্তু অন্যভাবে সাহায্য করতে ক্ষতি কি? কতো মানুষের অভিশাপ এই বংশে আছে তা খণ্ডন করবো ঋণ শোধ করে  

বাবলুদাকে নিয়ে আমার লেখা শেষ হবেনা কারণ সত্যি বাবলুদা মহানl পাড়ায় পার্টির তরফ থেকে রক্ত দান শিবিরের আয়োজন হোলl বাবলুদা প্রধান উদ্যোক্তাl  বাবলুদার ব্লাড গ্ৰুপ AB -ve. খুব ই বিরল গ্রূপের ব্লাডl তাই বাবলুদা নির্দ্বিধায় এই বিরল রক্ত মানুষের জন্য দান করে সবাইকে বলেন ওরে আমি ঋণ শোধ করছিl এই জমিদারি রক্তে অনেক মানুষের রক্ত আছেl সেটা কিন্তু স্বেচ্ছায় দেওয়া নয় সেটা তাকে তিলে তিলে মেরে সংগ্রহ করাl আমি সেই বংশের দায়াদ, আমাকেই সেই পাপ খণ্ডন করতে 

হবেl তোরা ভাবছিস আমি বিরাট একটা কিছু করছিl কিন্তু না আমি ঋণ শোধ করছিl আমার বংশে আমার পূর্ব পুরুষরা যে পাপ করেছেন মানুষের মুখের আহার ছাড়িয়ে নিজের সম্পত্তি বাড়িয়েছেন আমি সেই বংশের বংশধর হয়ে নিজেকে ক্ষমা করতে পারছিনাl সর্বদা আমার মাথায় একটা চিন্তা কুরে কুরে খাচ্ছেl তাই বোধহয় ভগবান আমাকে একটা বিরল রক্তের গ্ৰুপ দিয়েছেনl আমি সেই রক্ত দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছিl

একবার চিন্তা করতো যে বাচ্চাটার AB-ve গ্ৰুপ সে আমার রক্ত পেয়ে যদি জীবনে বেঁচে যায় তবে আমার জীবন ধন্য হবেl এই বংশের পাপ কমবেl যদিও পাপের পরিমান এতো বেশি যে আমার শরীরের সমস্ত রক্ত দিলেও তার অবসান হবেনাl

 

 

Wednesday, November 11, 2020

ঠাকুমা ছোট গল্প লেখক ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী ১২.১১.২০২০ বৃহস্পতিবার


    ঠাকুমা
ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী
প্রত্যেক দিন কাঁচের গ্লাসে গ্লুকোজের জল খাওয়ানোর সময় ঠাকুমার কানে কানে ঠাকুরদা কি বলেন শুনতে ইচ্ছে হয় l ক্ষণিকের জন্য তাঁর নিষ্প্রভ মুখটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে আবার পরে ফিকে হাঁসিটা ঠোঁটের কোনে এসে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন ঠাকুমা, সেই ক্ষণিকের হাঁসিটা মিলিয়ে যায় পরক্ষণে l কিং কর্তব্য বিমূঢ় ঠাকুরদা ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকেন ঠাকুমার নিথর শরীরের দিকে l অশ্রুসিক্ত নেত্র থেকে টপ টপ করে পড়ে দু ফোঁটা অশ্রু l এই দেখে আসছে রীনা দিনের পর দিন l কেউ ডাকলে সাড়া দেন না ঠাকুমা কিন্তু ঠাকুরদা যখন গ্লুকোজের জল গোলান কাঁচের গ্লাসে ঐ শব্দ শুনে একটু চোখ খুলে দেখেন ঠাকুরদাকে l ঠিক সেই সময় ঠাকুমা মুখটা অনেক কষ্টে খুলে ঐ গ্লুকোজ এর জল টুকু খান আর ঠাকুরদাকে কি যেন বলতে চেষ্টা করেন সেটা তিনিই বোঝেন l ওটাই বুঝি ঠাকুমার মৃত সঞ্জীবনী সুধা l এই চলছে বেশ কয়েক মাস l সারাদিন চোখ বুজে ঐরকম পড়ে থাকেন ঠাকুমা l কেউ কখনো ডাকলে সাড়াও দেন না কি ঘুরেও তাকান না l ঠাকুরদা ছাড়া কি কেউ ওনার কষ্ট বোঝার নেই? আশ্চর্য লাগে রীনার l ওর খুব ইচ্ছে করে কি এমন কথা ঠাকুরদা ঠাকুমার মধ্যে হয় যা ওদের দুজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ l অন্য কেউ জানতে চাইলে ঠাকুরদা বলেন না, বরং গম্ভীর হয়ে বলেন ওগুলো তোমরা বুঝবে না l ওসব আমাদের আমলের কথা, বলার সংগে সংগে ওনার চোখ ছল ছল করে ওঠে চোখের জলে l রীনাকে এই নিয়ে ঠাকুরদাকে বিরক্ত করতে মানা করেন মা l বলেন ওদের বন্ডিং টা খুব পোক্ত l এখনকার ছেলে মেয়ে তোরা ওটা বুঝবিনা l ওটা ঐশ্বরিক প্রেম যা রাধা কৃষ্ণের মধ্যে ছিল l ঐ প্রেমে কোন খাদ নেইরে l ওটা দৈহিক নয় সম্পূর্ণ মানসিক বন্ধন একে অপরের প্রতি উত্তর দায়িত্ব প্রকৃত ভালোবাসা যা এই যুগে বিরল l রীনাকে মা বলেন দেখো মা তোমার বাবা পৈ পৈ করে মানা করেছেন ঠাকুরদাকে যেন রীনা বিরক্ত না করে l ওনার এমনিতেই মন খারাপ তার ওপর নানা প্রশ্ন করলে উনি আরও মনে দুঃখ পাবেন তার চেয়ে ওদের একা থাকতে দাও l কিন্তু রীনার কৌতূহল বেড়েই যায় দিন দিন l ঠাকুরদাকে রীনা বলে, ও দাদা তুমি কি বলছ ঠাম্মির কানে কানে বলোনা ? দাদা বলেন তুই কি বুঝবি রে মা আমাদের কথা ? ওটা আমাদের নিজস্ব l একান্তই নিজস্ব l বেঁচে থাকার মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র l তোরা মেকি সভ্যতার আড়ালে ভুলে যাস নর নারী ভগবানের এক অপূর্ব সৃষ্টি সেটা যৌবনের ক্ষুধা মেটানোর জন্য নয় রে মা সেটা ঐশ্বরিক প্রেম যা হৃদয়ের কোন থেকে সৃষ্টি তাতে আবেগ আছে মাধুর্য আছে তৃষ্ণা মেটানোর সুধা আছে l পরস্পরের আবশ্যকতাকে হৃদয় থেকে স্বীকৃতি দেয় প্রকাশ্যে নয় l সেটা বড়ই আপনার l তোরা বুঝবিনা রে মা l তুই যা এখান থেকে l রীনা বোঝে তাই বোধ হয় যেদিন থেকে ঠাম্মি অসুস্থ দাদা ঠাম্মির কাছ ছাড়েন না l দাদা আগে কতো হাঁসি খুশি এক প্রাণবন্ত মানুষ ছিলেন l এখন উনি কেন এতো মুষড়ে পড়েছেন রীনা বুঝে উঠতে পারছেনা l ঠাম্মির অসুস্থতা দাদাকে অস্থির করেছে l তবুও আশার আলোক ছাড়েনি দাদা l আঁকড়ে ধরে আছে তার পুরনো স্মৃতি আর মাঝে মাঝে সেটাই বলেন ঠাম্মির কানে কানে l সে এক অদ্ভুত অনুভূতি দুজনের অনাবিল প্রেমের মুহূর্ত প্রস্ফুটিত হয় স্মিত হাস্যের মাঝে l তাতেই তারা পরিতৃপ্তি l ঝরে পড়ে অজানা অশ্রুধারা l কি সেই স্মৃতি ? রীনার কৌতূহল থেকে যায় l......... ঠাকুমা শেষ পর্ব রীনার কৌতূহলের শেষ নেই l মাধ্যমিক দিয়ে বসে আছে রেজাল্ট বেরুনোর অপেক্ষায় l রীনা নাছোড় বান্দা l দাদাকে জিজ্ঞাসা করে কি এমন কথা জমে আছে তোমাদের হৃদয়ে যা আজও প্রকাশ করতে পারনি ঠাম্মিকে? দাদা এই কথায় রেগে গিয়ে মাকে ডাকেন, বৌমা তোমার মেয়েকে এখান থেকে নিয়ে যাও l বড্ড পাকা মেয়ে l রীনা দাদাকে চুপ চুপ বলে ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে চুপ করতে বলে l মাকে কেন ডাকছ? দাদার কাছে এসে হাত জোড় করে বলে, প্লিজ বলনা দাদা ওরকম কেন করছ? খাটের কাছে এসে দাদার মাথা টিপে দেয় l প্লিজ বলনা দাদা, কানে ততুমি কি এমন বলছ যে ঠাম্মি এতো কষ্টের মধ্যেও হাসছেন l যদিও হাঁসিটা ফিকে l ওসব কি তোদের মতন মডার্ন মেয়ে বুঝতে পারবে রে মা l ওটা মনের কথা প্রাণের কথা সকলের জন্য নয় l ওসব আমাদের পুরনো দিনের স্মৃতি l তুই কি বুঝবি সেসব আবেগের কথা, সেগুলো নিতান্ত ব্যক্তিগত কথা l আজকাল স্বামী স্ত্রী যতই ডার্লিং বলে একে অপরকে ডাকুক না কেন তাঁদের মনের মধ্যে অনেক অমিল দ্বন্দ্ব আবার মাঝে মাঝে একে অপরকে সন্দেহ করেন l ঐ সাহেবদের মতন সুইট হনি বলে ডাক পরক্ষনেই মানি মানি নিয়ে গণ্ডগোল প্লেট ছুঁড়তে ছুঁড়তে মেমসাহেব তার রাগের প্রতিক্রিয়া দেখাবে আর সাহেব বলবে কুল ডাউন বেবি কুল ডাউন l ঠিক তোদের এই প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা ঐ সাহেব ঘেঁষা হয়েছিস l ওরে মানি ছাড়া তোরা কিছুই বুঝলি না l জীবনকে সুন্দর ভাবে উপভোগ করতে তোরা জানিস? কি করে জানবি বল বৌ গেল চাকরি করে টাকা রোজগার করতে বর গেল এঁটো বাসুন মাজতে... ঘরে যদি বাবা মা আসেন তখন বুড়ি মাকে দিয়ে বাসুন মজাবে রান্না করাবে l এইতো তোদের ব্যক্তি চরিত্র ! তোরা জানিস জীবনকে উপভোগ করতে l পারবি তোরা অসুস্থ স্বামীর জন্য রাতের পর রাত জেগে থাকতে l তখন বাপের বাড়ি পালাবি নয় বাড়িতে সেন্টারের নার্স কে দিয়ে সেবা শুশ্রূষা করাবি l তার খরচ স্বামী দেবে l আসলে এই পৃথিবীতে মানুষের হৃদয় বলে বস্তু কমে যাচ্ছে l চারিদিকে পাপের আঁধার নেইকো কোথায় আলো...... আর বল বোনা l রীনা বলে দেখলে দাদা তুমি কেমন কায়দা করে আমার প্রশ্নের উত্তরটা এড়িয়ে গেলে l পারো বটে তুমি l আচ্ছা আমি তোমার কেউ নই ! বলে কেঁদে ফেলে l - এই এই মোটে কাঁদবিনা মা l তা কেন মা তুই তো আমার ঘর আলো করা লক্ষ্মী মা l তবে কি জানিস মা ঐ তোদের বয়েসের ছেলে মেয়েদের বেহায়া পনা রাস্তায় শপিং মলে ছেলে মেয়েদের বেলেল্লাপনা দেখে আমরা ভাবি... মনে হয়রে আমার অন্ধ হওয়া ছিল ভালো l তোরা বলবি সময়ের সাথে এগোও ঐ পুরনো দিনের স্মৃতি নিয়ে বসে থাকো তোমরা l না রে মা ওতেই আছে মাদকতা,আছে স্নেহের পরশ, আছে অব্যর্থ প্রেম যার তুলনা হয়না l তোর ঠাম্মি যখন আমার ঘরে আসে তখন আমি 400 টাকা মাইনে পেতাম l তারপর তোর বাবা আমাদের কোলে এলো l খুবই কষ্টে সংসার চলত কিন্তু তোর ঠাম্মি সব দুঃখ মাথা পেতে নিয়ে কি সুন্দর ঘর চালাত l অবশ্য আমার শাশুড়ি মাতা অনেক করেছেন আমার সংসারের জন্য l তাঁর অবদান আমি কখনো ভুলবো না l তোর বাবা তো তার মামার বাড়িতেই বেশি সময় থাকতো l আমি শ্বশুর বাড়ি ঐ জামাইষষ্ঠীতে যেতাম l এক পাল শালী l সবাই বলতো সিনেমা যাবো l কি করি বল অগত্যা প্রায় দেড়শ টাকা খরচ করে আমার শ্বশুর বাড়ির কাছের সিনেমা হলে যেতাম l তখন এন্টার দি ড্ৰেগন সিনেমাটা আমার দেখার ইচ্ছে ছিল l ব্রুশ লি র ছবি l খুবই চলে ছিল সিনেমাটা l সিনেমার পর মৌচাকে কবিরাজি খাওয়া l সে তুই বুঝবিনারে মা বড় জ্বালা আমার পকেট গডের মাঠ l কিচ্ছুটি বলার উপায় নেই তাহলেই বিপদ l সংগে আমার অবশ্য স্টেট ব্যাংকের ট্রাভেলার্স চেক থাকতো l তখন তো আর এ. টি. এম. ছিলোনা তাই ওটাই ভরসা ছিল l আমি জানি পকেটে টাকা থাকলে শালীদের নেক নজরে কর্পূরের মতন টাকা উবে যাবে l তাই কম টাকা রাখতাম l এখন তোর ঠাম্মিকে দেখছিস এই রকম কিন্তু ও খুব সুন্দরী ছিল l স্কটিশে পড়তো l আমরা খুব ঘুরতাম l আজ ভিক্টোরিয়া কাল বোটানিক্যাল গার্ডেন পরশু বেলুড় মঠ, মা ভবতারিণীর মন্দির l সব ই ঐ বাসে ট্রামে l তোর ঠাম্মির শরীর খারাপ হতে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছি রে মা l তুই বলছিলিসনা কি বলি বলে ! আমি কি বলি জানিস: কাঁচের গ্লাসে ঢালি পানি খাবে আমার রাধা রাণী ভালো হবে ওষুধ খেলে যাবো অনেক দূরে চলে কেউ পাবেনা মোদের টিকি ভালো হয়ে উঠে পড় দিকি - এ কেমন বোকা বোকা কথা l বড্ড সেকেলে l বৌকে কেউ রাণী বলে ? - তবে কি বলে? - সুইট হার্ট l - দেখ মা হার্ট টা যদি সুইট হয় তবে তাতে পিঁপড়ে লেগে যাবে l ঐসব সুইট ফুইট নয় l ও আবার ডায়াবেটিস এর লক্ষণ l তুই যা তো আমাকে একা থাকতে দে l - দাদা তুমি কি সবদিন ঠাম্মিকে কবিতা শুনিয়ে খাওয়াও l - না সে কবিতার বড় ভক্ত আমার এই ছেঁদো কবিতায় তার মন ভরেনা l তবুও আমার কথার সম্মান দেয় যাতে আমি মনে দুঃখ না পাই l ওটাই আমার কাছে বড় পাওয়ারে মা l তোদের কাছে যা কবিতা আমাদের কাছে সেটা মনের এক তারা l ঐ এক তারার তান শুনলে ও ফিরে তাকায় l ও জানে আমি কোনদিন কবিতা লিখতে পারিনা তাও কিন্তু ও কোন প্রতিবাদ করেনা l আমাকে উৎসাহ দেয় মাথা নাড়িয়ে l এই বলে দাদার চোখ থেকে জল পড়ে l গান শুনতে ও খুবই ভালোবাসে কিন্তু সেগুলো প্রায় রবীন্দ্র সংগীত l আমিতো কচু পোড়া জানি l আমি তাই শচীন কর্তার গান শোনালাম l মন দিলেনা বধূ মন নিল শুধু আমি কি নিয়ে থাকি? অনেকদিন পর ঠাম্মির মুখে একটু কথা বেরুলো l অভিযোগের সংগে দাদাকে বললেন, একি তুমি এসব কি বলছ বাচ্চা মেয়েটাকে ? এগুলো আমাদের ব্যক্তিগত কথা ওকে বলনা l ও বাচ্চা মেয়ে এসব কি ওকে বলা উচিৎ l দাদা খুশিতে নেচে ওঠেন ঐটুকু কথা শুনেই বলেন তোর ঠাম্মি কথা বলছে তোর ঠাম্মি ভালো হয়ে গিয়েছেন l এতদিন হোল ও আমার সংগে আছে কিন্তু কোন দিন কোন প্রতিবাদ করেনি কি ওর কোন চাহিদা রাখেনি l আমার সংগে তাল মিলিয়ে চলেছে l এই প্রথম ওর মুখে প্রতিবাদের সুর শুনলাম l আমি কিন্তু খুব খুশি ও সেরে গিয়েছে এবারে উঠে বসবে কি বল ? তাইতো? ওষুধ ঠিক কাজ করেছে l দাদা খুশিতে সারা ঘর নেচে বেড়ান আর ঠাম্মি মুখে হাত দিয়ে উঠে বসেন l রীনা লাফ মেরে মায়ের কাছে যায় খবরটা দিতে l ঠাম্মি সেরে উঠেছেন l দেখবে এসো মা l........... *******সমাপ্ত******