Thursday, May 21, 2015

পথে প্রান্তরে শ্রী জগন্নাথ মহাপ্রভুর নবকলেবর যাত্রা, ২০১৫ (বঙ্গাব্দ ১৪২২ সাল) ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী



 

পথে প্রান্তরেঃ ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী

Posted in 










পথে প্রান্তরে 



শ্রী জগন্নাথ মহাপ্রভুর নবকলেবর যাত্রা, ২০১৫ (বঙ্গাব্দ ১৪২২ সাল)

ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী 



পুরী কেবল মাত্র সমুদ্র, মন্দির, অন্যান্য সুন্দর সুন্দর দর্শনীয় স্থানের ক্ষেত্রই নয়, বরং নানা উৎসব এবং যাত্রার মাধ্যমে পুরীর বৈচিত্র্য এক আলাদা তীর্থ স্থানের উপলব্ধি দেয় । শ্রী জগন্নাথ মহাপ্রভুর রথ যাত্রা বিশ্ব প্রসিদ্ধ । ভারতবর্ষের প্রায় প্রত্যেক শহরে এর অনুকরণে রথ যাত্রার আয়োজন মহা আড়ম্বরে হয়। কিন্তু পুরীর রথ যাত্রার মহাত্ম আলাদা । পুরীকে শঙ্খ ক্ষেত্র, নীলাচল ক্ষেত্র, পুরুষোত্তম ক্ষেত্র ইত্যাদি বহু নামে নামিত করা হয়েছে । যুগ যুগ ধরে কোটি কোটি ভক্তের সমাগম হয় শ্রী জগন্নাথ মহাপ্রভুর দর্শন অভিলাষে। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু , শিখ ধর্ম গুরু, গুরু নানক, এই শ্রীক্ষেত্রে তাঁদের স্মৃতি রেখে গিয়েছেন । পুরীর স্বর্গ দ্বারের কাছে এক চৌ মাথার মোড়ে, শ্রী চৈতন্য দেবের মূর্তি আছে। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু গৌড় বাট সাহীর রাস্তায় শ্রী মন্দিরে রোজ দর্শনে যেতেন, তাই ওই রাস্তার নাম গৌড় বাট (বাট= রাস্তা )। 

ভারতবর্ষের চার ধাম (১) পশ্চিমে,‘দ্বারকা ধাম’ গুজরাটের দ্বারকায় , ‘দ্বারকাধিশ’ শ্রী কৃষ্ণর মন্দির বিদ্যমান। (২) উত্তরে ‘কেদারনাথ ধাম’ । কেদারনাথের মন্দির বিখ্যাত শিবের মন্দির, হিমালয়ের গাড়োয়াল অঞ্চলে উত্তরাখণ্ডের মন্দাকিনী নদীর ধারে অবস্থিত । (৩) পূর্বে শ্রী জগন্নাথের, “পুরুষোত্তম ক্ষেত্র” (৪) দক্ষিণে “রামেশ্বরম”। রামেশ্বরমের মন্দির ভগবান শিবের মন্দির। হিন্দু মতে এই চার ধামই ভারতের সর্ব বৃহৎ তীর্থস্থান । চার ধামের দর্শনে মহা পুণ্য সাধন হয় । এর মধ্যে শ্রী ক্ষেত্র অন্যতম । 


নব-কলেবরঃ- 
সাধারণ ভক্তের মনে নব-কলেবর কেন হয় এবং এর বিশেষত্ব কি এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক । যে বছর জোড়া আষাঢ় পড়ে সেই বছরটি শ্রী জগন্নাথ, বলভদ্র ও মা সুভদ্রার নব-কলেবর হয় । নব-কলেবর অর্থাৎ প্রভু জগন্নাথ, বলভদ্র, দেবী সুভদ্রা ও সুদর্শনের নতুন বিগ্রহ প্রস্তুতির পরে ব্রহ্ম পরিবর্তন, নবযৌবন দর্শন এবং রথ যাত্রা উৎসব । বিগ্রহর প্রস্তুতির জন্য দারু অন্বেষণ যা কাকটপুরের মা মঙ্গলার স্বপ্নাদেশে বনযাগ যাত্রা নামে বলা হয় । এই যাত্রা থেকে নব-কলেবরের প্রস্তুতি পর্ব আরম্ভ ।

নব-কলেবর সম্বন্ধে কিছু তথ্য:- 
যে বছর জোড়া আষাঢ় পড়ে সেই বছরটি শ্রী জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার নব-কলেবর হয় । সাধারণত জোড়া আষাঢ় ৮, ১২ , ১৬ কিম্বা ১৯ বছর পর পড়ে । এই বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে ১৯ বছর পর তিন ঠাকুরের নব-কলেবর যাত্রা সম্পন্ন হবে। বিংশ শতাব্দীর নব-কলেবর যাত্রা প্রথমে ১৯১২, ১৯৩১, ১৯৫০, ১৯৬৯, ১৯৭৭ এবং ১৯৯৬ সালে হয়েছিল। 

বনযাগ যাত্রা:- 
পুরীর গজপতি রাজা শ্রী দিব্য-সিংহ দেব রাজগুরুকে পৈতে, বস্ত্র এবং সুপুরি প্রদান করে বঞ্জাগ যাত্রার জন্য আদেশ দেন । এই পরম্পরাকে গজপতি “রাজার আজ্ঞা” বলে বলা হয়। অর্থাৎ রাজা আদেশ দিলেন রাজগুরুকে, তিন ঠাকুরের জন্য দারু অন্বেষণে বনে যাওয়ার আয়োজন কর । সেই থেকে বনযাগ যাত্রার শুভারম্ভ হল । যে বছর নব-কলেবর যাত্রা থাকে তার পূর্ব বৎসরের চৈত্র মাসের শুক্ল দশমী থেকে সুরু হয় বনযাগ যাত্রা । অর্থাৎ ১৪২১ চৈত্র মাসের শুক্লা দশমী তে আরম্ভ হল ১৪২২ এর নব-কলেবর যাত্রার জন্য। 

রাজগুরু যিনি জগন্নাথ মন্দিরের মুখ্য সেবায়ত, তিনি এই সংকল্প সুপারি দইতাপতি(রথের সময় এরা তিন ঠাকুরের সেবায়ত) দলপতি শ্রী হলধর দাস-মহাপাত্র কে প্রদান করেন । এই পরম্পরাকে শ্রী ক্ষেত্রে “গুয়া টেকা” বলে। এই সমস্ত পদ্ধতি গত ২৯ মার্চ ২০১৫(রবিবার) চৈত্র শুক্ল দশমী তে সুসম্পন্ন হয়েছে । এর পর জগন্নাথ মন্দিরের সিংহ দ্বার থেকে বনযাগ যাত্রা সুরু হল। শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের তিন ঠাকুরের মধ্যাহ্ন ভোগের পর অপরাহ্ণ ৩ টের সময় দারু-গৃহ অনুকূলের পর এই যাত্রা শুরু হয় ।

এই যাত্রাতে বরিষ্ঠ দইতাপতি হলধর দাস মহাপাত্রর সঙ্গে দলপতি অধ্যাপক দুর্গা-প্রসাদ দাস মহাপাত্র, ৯৬ জন দইতাপতি, ১৪ জন ব্রাহ্মণ, ১০ জন বিশ্বকর্মা(কাষ্ঠ শিল্পী), শ্রী মন্দিরের ২ জন পুরোহিত, ২ জন রাজগুরু, ১ জন পতি-মহাপাত্র, ১ জন লেঙ্কা, ১ জন দেউল করণ(কায়স্থ), ১ জন তঢ়উ করণ, সর্ব মোট ১৩০ জন, মন্দিরের পুলিশ, ডাক্তার এবং দারু পরিবহনের জন্য তিনটি বিশেষ ভাবে সজ্জিত গরুর গাড়ী । এখানে উল্লেখ যোগ্য সকলে পদব্রজে এই যাত্রা পুরী থেকে কাকটপুর মঙ্গলা মন্দির অবধি পুরী- কোণার্ক মেরিন ড্রাইভের রাস্তায় যাত্রা করেন । ২৯ শে মার্চ ২০১৫(রবিবার) সকলে পুরীর জগন্নাথ বল্লভ মঠে রাত্রিযাপন । 

রাস্তায় বিভিন্ন যায়গায় বিশ্রাম এবং শ্রী মন্দির প্রশাসন থেকে খাদ্যের ব্যবস্থা আছে । সকলে মাটিতে শয়ন করবেন এবং সাত্ত্বিক মন্দিরের প্রসাদ সেবন করবেন । দিনের বেলায় ফল মূল ছাড়া অন্য কিছু আহার নিষিদ্ধ । রাত্রে বিশ্রাম এবং মহা-প্রসাদ সেবন।

এর পরদিন অর্থাৎ ৩০ শে মার্চ ২০১৫(সোমবার) শ্রী জগন্নাথ বল্লভ মঠ থেকে বিলম্বিত রাত্রিতে বেরিয়ে পুরীর সন্নিকটে নুআনই, বালিঘাই হয়ে রামচন্ডী মন্দিরে তে ৩১ শে মার্চ ২০১৫(মঙ্গলবার) রাত্রিযাপন এবং বিশ্রাম । ১ লা এপ্রিল ২০১৫(বুধবার) পূর্বাহ্ণে যাত্রা শুরু এবং রাত্রে কুঢেই গ্রামের “শঙ্করেশ্বর মন্দিরে” রাত্রিযাপন । 

১ লা এপ্রিল ২০১৫(বুধবার) পূর্বাহ্ণে যাত্রা শুরু এবং রাত্রে কুঢেই গ্রামের “শঙ্করে-শ্বর মন্দিরে” রাত্রিযাপন । 

২রা এপ্রিল ২০১৫ তে কাকটপুর “মা মঙ্গলার মন্দিরে” পৌঁছে মা মঙ্গলার মন্দিরের “দেউলি মঠে” রাত্রিযাপন ।

৩রা এপ্রিল ২০১৫ থেকে মা মঙ্গলার পূজার্চনা শুরু হবে । এর পর মা মঙ্গলা প্রসন্ন হলে স্বপ্নাদেশ হবে দারুর অবস্থিতি সম্পর্কে সূচনা । এসব প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন হওয়ার পর দারুর সন্ধানে বনযাগ যাত্রীরা যাত্রা করবেন নির্দিষ্ট স্থানে ।

নব-কলেবর নিমিত্ত তিন ঠাকুরের জন্য যে বৃক্ষ চিহ্নিত করা হয় বা ব্যাবহার করা হয় তার লক্ষণ গুলি নিম্ন লিখিত অনুসারে নির্বাচন করা হয়:- 

১. বৃক্ষ টি নিম বৃক্ষ হওয়া প্রয়োজন ।

২. বৃক্ষের অনতিদূরে ঊই ঢ়িপি , নদী , শ্মশান কিম্বা পুষ্করিণী থাকা অনিবার্য । বৃক্ষের কাছে বেল গাছ, তুলসী গাছ থাকা প্রয়োজন । 

৩. বৃক্ষে কোন পাখির বাসা থাকবে না, ঊই ঢ়িপির কাছে নাগ সাপ গাছটিকে পাহারা দিতে দেখা যাবে । 

৪. বৃক্ষের কোন অংশ কীট পতঙ্গ দ্বারা আক্রান্ত, কিম্বা বজ্র পাতের চিহ্ন থাকবে না । পূর্বে কোন ডাল কাটা না হওয়া প্রয়োজন । কোন রকম খুঁত থাকা চলবে না । 

৫. সেই বৃক্ষে শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্ম চিহ্ন থাকা প্রয়োজন । 

৬. বৃক্ষটি অন্যূন ১২ ফুট লম্বা সোজা এবং মোটা হওয়া প্রয়োজন যাতে অনায়াসে বিশ্বকর্মার দ্বারা মূর্তি নির্মাণ কর্ম সুসম্পন্ন হবে । 

উপরোক্ত লক্ষ্মণ গুলি অনিবার্য এবং তারপর অন্বেষণকারী দল পবিত্র দারু নির্বাচন করেন। এরপর দারু নির্বাচন কার্য সুসম্পন্ন হয় । বিশ্বকর্মা এরপর মাপজোপ করেন । এরপর যথাবিধি যজ্ঞশালা, যজ্ঞকুণ্ড, অঙ্কুরারোপণ গৃহ নির্মিত হয়ে বনযাগ হোম আরম্ভ হয় । এরপর আচার্য অস্ত্র-পূজায় বসে সোনা, রুপো ও লৌহ কুড়ুলকে যথাক্রমে বিদ্যাপতি, বিশ্বাবসু ও বিশ্বকর্মা সেবকদের সহায়তায় বৃক্ষ ছেদন করা হয় । 


দারু ঘোষনাঃ- 
বর্তমানের প্রশাসনের নির্দেশানুযায়ী কোন টিভি চ্যানেল কিম্বা অন্য মিডিয়ার লোক গণমাধ্যমে পূর্ব সূচনা দিতে পারবেন না । দারুর ফটো চিত্র উত্তোলন কিম্বা ভিডিও রেকর্ডিং নিষেধ । কোন সেবায়তের সঙ্গে সাক্ষাৎকার নিষিদ্ধ । প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এইসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । পবিত্র দারু সরকারী স্তরে ঘোষণা হবে এবং সেবায়ত ব্যতীত কোন জনসাধারণের স্পর্শ নিষেধ । দারু উত্তর দ্বার পথে শ্রী মন্দিরে প্রবেশ হবে।

প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সূচনাঃ-
একবিংশ শতাব্দীর এই প্রথম নব-কলেবর যাত্রার প্রারম্ভে প্রশাসনের গুরু দায়িত্ব যাত্রীদের সুরক্ষা, সুব্যবস্থা এবং সুচারু রূপে যাত্রা সুসম্পন্ন করা, যার প্রস্তুতি এবং ঘন ঘন মিটিং শুরু হয়েছে বৎসরের প্রারম্ভ থেকেই । এর জন্য পুরী টেম্পল এডমিনিস্ট্রেশনের মুখ্য প্রশাসক শ্রী সুরেশ চন্দ্র মহাপাত্র-আই.এ.এস, পুরীর জেলা প্রশাসক (কালেক্টর) শ্রী অরবিন্দ অগরওয়াল-আই.এ.এস, পুরীর গজপতি রাজা, মহামান্য শ্রী শ্রী দিব্য-সিংহ দেব(চলন্ত বিষ্ণু বলে বলা হয় তাঁকে), পুরীর বিধায়ক শ্রী মহেশ্বর মাহান্তী এবং পুরীর সাংসদ শ্রী পিনাকী মিশ্র । তা ছাড়া মন্দিরের মুখ্য পাণ্ডা, দইতাপতি ও সেবায়তদের নিয়ে দফায় দফায় মিটিং চালিয়ে যাচ্ছেন । এর থেকে সহজেই অনুমেয় প্রশাসনের ব্যগ্রতা শ্রী জগন্নাথ মহাপ্রভুর নব-কলেবর যাত্রা যাতে সুসম্পন্ন হয় নির্বিঘ্নে ।

২০১৫ সাল জগন্নাথ রথ যাত্রার এক বিশেষ উৎসবের দিক হল ‘নব-কলেবর’ এবং এর জন্য রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকার উভয়েই প্রশাসনিক দিক থেকে তৎপর যাতে শ্রী জগন্নাথের নব-কলেবর যাত্রা সুচারু রূপে সম্পন্ন হয়। তাই কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী শ্রীযুক্ত ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং পর্যটন মন্ত্রী ডক্টর মহেশ শর্মা র নেতৃত্বে এ বছরের জগন্নাথের রথ যাত্রার বিশেষ নামকরণ করা হয়েছে যার নাম সরকারি স্তরে ধার্য হয়েছে “নব-কলেবর রথ যাত্রা” । এজন্য কেন্দ্র সরকার-থেকে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে । আশা করা হচ্ছে এই বছর নব-কলেবরের সময় ২০ – ২৫ লক্ষ ভক্তের সমাগম হবে । তাই প্রত্যেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের যাত্রীদের সুব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার উভয় কিছু নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন। ভুবনেশ্বর থেকে পুরী যাওয়ার নতুন করে ৪ লেনের রাস্তা সম্পূর্ণ হয়ে-গিয়েছে তাই পুরী যেতে সময় লাগছে কম । রেল লাইন দোহরিকরন হয়েছে । বাস টার্মিনাল, কার পার্কিং ইত্যাদি নতুন করে মালতিপাটপুরের কাছে তৈরি হয়েছে। প্রায় প্রত্যেকটা ছোট ছোট যায়গা যেমন পিপিলি, সাক্ষীগোপাল, চন্দন-পুর বাইপাস করে রাস্তা তৈরি হয়েছে । ভুবনেশ্বর থেকে রেড লাইন নন স্টপ বাতানুকূল বাস চালু হয়েছে পুরী পর্যন্ত যাত্রীদের সুবিধের জন্য ।

২০১৫ নব-কলেবরের জন্য কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের বিশেষ বাজেট:- 

১) শ্রী জীউ জগন্নাথ,বলভদ্র, দেবী সুভদ্রার নব-কলেবরের নীতির জন্য ২১ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দ হয়েছে 

২) শ্রী মন্দিরের চতুষ্পার্শ্বের রাস্তা মেরামত এবং সম্প্রসারন যার ব্যয় বরাদ্দ রাশি ২০ কোটি টাকা 

৩) জয়-বিজয় দ্বারের রুপোর ছাউনির জন্য ২ কোটি টাকা 

৪) প্রভুর দৈনন্দিন নীতি সম্পাদন এবং সেবা পূজার উদ্দেশ্যে ১৫ কোটি ৩২ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা ব্যয় বরাদ্দ হয়েছে 

৫) শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের কর্মচারীদের মাস মাহিনা এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাবদ ২৫ কোটি ২৫ লক্ষ ৭৪ হাজার ৮৫০ টাকা ব্যয় বরাদ্দ 

৬) সেবায়তদের পুত্র সন্তানদের বৈদিক শিক্ষা বাবদ এক আদর্শ বিদ্যালয় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠা হবে 

৭) প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ৩ কোটি ২৭ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ব্যয় বরাদ্দ 

৮) শ্রী গুন্ডিচা মন্দিরের সংগ্রহালয় নির্মাণের প্রস্তাব, আনন্দ বাজার পুনরুজ্জীবিত, আঠার নালার গরুড় মূর্তি প্রতিষ্ঠা, শ্রী গুন্ডিচা ভক্ত-নিবাস নির্মাণ 

২০১৫ নব-কলেবরের কার্য্যসূচীঃ- 
২৯ মার্চ ২০১৫ রবিবার, বনযাগ যাত্রা আরম্ভ ২০১৫ নব-কলেবর কার্য্যসূচীঃ-

১. ২৯ মার্চ ২০১৫ রবিবার, বনযাগ যাত্রা আরম্ভ (সম্পূর্ণ যাত্রা পদব্রজে), চৈত্র মাসের শুক্ল দশমী থেকে সুরু হয় বনযাগ যাত্রা । জগন্নাথ বল্লভ মঠে রাত্রিযাপন ।

২. ৩০ মার্চ ২০১৫ সোমবার, মধ্য রাত্রিতে দইতাপতিরা জগন্নাথ বল্লভ মঠ ছেড়ে 'নুয়ানোই' নদীর কূল সংলগ্ন আশ্রমে রাত্রিযাপন

৩. ৩১ মার্চ ২০১৫ মঙ্গলবার, আশ্রম থেকে বেরিয়ে মেরিন ড্রাইভ রাস্তায় পদব্রজে রামচন্ডী মন্দিরে রাত্রি যাপন ।

৪. ১ লা এপ্রিল ২০১৫ বুধবার পূর্বাহ্ণে যাত্রা সুরু এবং রাত্রে 'কুঢেই' গ্রামের “শঙ্করেশ্বর মন্দিরে” রাত্রিযাপন ।

৫. ২রা এপ্রিল ২০১৫ বৃহস্পতিবার কাকটপুর “মা মঙ্গলার মন্দিরে” পৌঁছন । মা মঙ্গলার মন্দিরের “দেউলি মঠে” ২ তারিখে সকলে পৌঁছে রাত্রিযাপন ।

৬. ৩রা এপ্রিল ২০১৫ শুক্রবার থেকে মা মঙ্গলার পূজার্চনা সুরু হবে । এর পর মা মঙ্গলা প্রসন্ন হলে স্বপ্নাদেশ হবে দারুর অবস্থিতি সম্পর্কে সূচনা । 

৭. ৪ঠা এপ্রিল ২০১৫ শনিবার থেকে দারু অন্বেষণে ৬ টি দলে বিভক্ত হয়ে পবিত্র দারু সন্ধানে যাত্রা সুরু। 

৮. প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে দারু চিহ্নট ক্রিয়া সম্পন্ন । প্রশাসনের দ্বারা পবিত্র দারু সম্বন্ধে ঘোষণা । 

৯. ২ জুন ২০১৫ মঙ্গলবার দেব-স্নান পূর্ণিমা । তিন ঠাকুরের জ্বর হয়, তাকে 'অণসর ঘরে বাস' বলে। এখানে ঠাকুরকে রাজবৈদ্য দ্বারা ঔষধাদির প্রলেপ এবং সেবা শুশ্রূষা করা হয় । এরপর ঠাকুরের জ্বর ছাড়ে এবং ঠাকুর সুস্থ হন । 

এরপর বিগ্রহ পরিবর্তন রুদ্ধ দ্বারে । সম্পূর্ণ রুদ্ধ দ্বারে নতুন বিগ্রহ বিশ্বকর্মার দ্বারা সুসম্পন্ন । সর্বসাধারণ এবং প্রশাসনের কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়না এইসময় । 

১৫ ই জুন ২০১৫ সোমবার, বলরাম, মা সুভদ্রা ও জগন্নাথ মহাপ্রভুর ব্রহ্ম পরিবর্তন । বড় পাণ্ডা করেন । 

এর পর পুরানো বিগ্রহ কৈলি বৈকুণ্ঠে স্থানান্তরিত এবং সমাধি । উত্তর দ্বারের সংলগ্ন কৈলি বৈকুণ্ঠ । 

১৭ ই জুলাই ২০১৫, শুক্রবার, তিন ঠাকুরের নব যৌবন দর্শন । এই দর্শনে অত্যন্ত পুণ্য অর্জিত হয়, তাই লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয় ।

১৮ ই জুলাই ২০১৫ শনিবার শ্রী গুন্ডিচা যাত্রা বা জগন্নাথের রথ যাত্রা । 

২৬ শে জুলাই ২০১৫ রবিবার উল্টো রথ যাত্রা । 

২৭ শে জুলাই ২০১৫ সোমবার তিন ঠাকুরের সোনা বেশ ।



















Wednesday, May 20, 2015

ছোটগল্প পারমিতা ... ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী



 



ছোটগল্প
পারমিতা ... 
ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী 

 আকাঙ্ক্ষা ,পারোমিতা দুই বোন । দুজনের বয়েসের ব্যবধান মাত্র
এক বছর। দুই বোনই এক ইংলিশ মিডিয়াম কোএড্ স্কুলে পডে । স্কুল
বাস আসে সকাল ৭.৩০ টার সময় । শীতে কুঁকড়ে দুজনে বিছানা থেকে
ওঠে সকাল ৬.৩০ টার সময়। সটান বাথরুমে ঢুকে নিত্যকর্ম সেরে বেরুনোর
সময় ৭.০০ টা বেজে পাঁচ কি দশ মিনিট । তার পর খাওয়া সেরে বাসের
জন্য অপেক্ষা । আরম্ভ হয় সারা দিনের জমে থাকা কিছু গল্প আর
বয় ফ্রেন্ডদের নিয়ে কিছু ছুঁক ছুঁকুনির কথা । যাকে বলে চুলবুলি লেড়কি
হিন্দিতে । উপায় নেই যুগের টানে এরকমটা হবেই । মানুষের কিছু জেনে-টিক
আর একুয়ার্ড ক্যারেক্টার থাকে । কোন কোন সময় একুয়ার্ড
ক্যারেক্টারটা বেশি মাত্রায় প্রকাশিত হয় ।সেগুল ভাল হতে পারে আবার
খারাপ ও হতে পারে । যদি খারাপের দিকে যায় তবে সর্বনাশ। সামাজিক
দিক থেকে ভয়ঙ্কর ও হতে পারে। যা বাবা মা ভাই বোনের মাথা ব্যথার
কারন হয়। ধরাযাগ সেইরকম ই ক্যারেক্টারের মেয়ে পারোমিতা ।
আকাঙ্ক্ষা একটু আলাদা ও পড়াশুনোর গল্প বেশি করে বন্ধুদের সঙ্গে
। কিছু প্রব্লেমের কথা যা হয়তো সল্ভ হচ্ছেনা বা অন্য কিছু । ও
পড়াশুনোতে ভাল । ক্লাসে বরা বর ফার্স্ট হয়
পারোমিতা ঠিক তার উল্টো। টিভি প্রোগ্রাম , সারুখ্ সলোমন হৃত্তিক
আর বাংলার দেব ছাডা ভাবতেই পারিনা ।ও বলে মাস ক্লাস বাঙ্ক করে সিনেমা
যাওয়া র এক্সাইটমেন্ট ই আলাদা । । টিচারকে এফ বি তে জন্মদিনে
গিফট পাঠানো । লিটিল হনি বলে বয় ফ্রেন্ড কে চুমু খাওয়া । এসবে থৃল
আছে বল । কথা-গুল বলে দম নেয় ।ওর দিদি এসব শুনেও শোনেনা ।
এরমধ্যে আকাঙ্ক্ষা সি বি এস সি র ১০ম শ্রেণিতে ৯৮% নাম্বার রেখে পাস করেছে ।
কলেজে সাইন্স নিয়ে পড়ছে ।
সেদিন আকাঙ্ক্ষা খবরের কাগজে খবরটা পডে আতঙ্কিত হয় কারন ও
প্রত্যেক দিন বাসে কলেজ যায় ফেরে প্রায় রাত ৭ টার পর । খবরটা এই
রকম ঃ-:-“সকাল দশটায় ওদের কলেজের কাছা কাছি এক এলাকায় চলন্ত বাসের ভিতরেই এক
তরুণীর হাত ধরে টানাটানি শুরু করে দিল জনা চারেক মদ্যপ যুবক ।
উপায় না দেখে চলন্ত বাস থেকেই লাফ দিয়ে নেমে ছুটতে ছুটতে
কলেজে পৌঁছলেন ওই তরুণী। জনা কয়েক সহপাঠীকে কোনও
মতে ঘটনাটা জানিয়ে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে জ্ঞান হারালেন তিনি।
রক্তাক্ত অবস্থায় হাঁসপাতালে ভর্তি করা হয় কলেজের ছেলেদের প্রচেষ্টায় ।
এই শহরের বুকে দিনের বেলায় আরও এক বার এই ঘটনা , শহরের রাস্তায়
মহিলাদের নিরাপত্তার অভাবটাকেই ফের বেআবরু করে দিল। দিল্লির
বাসে তরুণীকে গণ-ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দেশ জুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ
উঠেছে, সে প্রতিবাদে গলা মিলিয়েছে আমাদের শহরেও । কিন্তু তার পাশাপাশি
এই শহরের বাস এবং রাস্তাই বা আলাদা কিসের , এ প্রশ্নটাও
ক্রমশ জোরালো হচ্ছে”।
কাকে বলবে বোন তো পাত্তা দেয়না। বলে তোর বয় ফ্রেন্ড থাকলে
ওই তোকে প্রটেক্ট করবে । দিদি তুই ভারি আন-স্মার্ট আর ভীতু । মা'কে 
বললে বলবেন আর পাঁচটা মেয়েদের মতন তুমি হতে চেষ্টা কর । এসব
কথা মনের ভেতর রেখে গুমরচ্ছিল আকাঙ্ক্ষা । ও কি সত্যি আর পাঁচটা মেয়ের
মতন নয় ? তবে ওর পড়াশুনো কি বৃথা ! মনের মধ্যে তোল্পাড করে
সব প্রশ্ন । আয়নার সামনে নিজেকে দেখে । ভরা যৌবনে মেয়েদের যা
সৌন্দর্যের বিকাশ হয় ওর ক্ষেত্রে সেরকম কিছু পরি-প্রকাশ পায়নি।
খুব সাধা মাটা মেয়ে । সাজতে জানেনা বললেই চলে । এতো সাধারণ মেয়ে
আজকাল খুব একটা চোখে পড়েনা।
পরোমিতা ঠিক উল্টো। প্রসাধনের সামগ্রী কেনার চেয়ে গিফট বেশি
পায়। বয়ফ্রেন্ডের অভাব নেই । পারমিতা কে দেখতে সুন্দর এবং চোখ
ধাঁদানো চেহার । কস্মেটিক্স এর বাহারে ভুরু ভুরু গন্ধ । ছেলেদের
মন ভোলানো চেহারা । এখন থেকেই ডেঁপো । পডাশুনোয় অষ্টরম্ভা ।
কোনমতে পাস করে । টুকলি করতে ওস্তাদ্ বোধহয় । কিন্তু বুদ্ধি
প্রখর । ছেলেদের মাথায় টুপি পরাতে ওস্তাদ ।
আগেই বলেছি আকাংক্ষা ক্লাসে ফার্স্ট হয় । রিপোর্ট কার্ডে সই করার সময় বাপি
আকাংক্ষা কে খুব উৎসাহ দিয়ে বলেন ১২ ক্লাসে সাইন্সে রেঙ্ক্
রাখতেই হবে । এখন থেকে আই. আই . টির এন্ট্রান্সের জন্য তৈরি হও
। তোমাকে খডগপুর আই আই টি তে ইঞ্জিনিয়ারিং পডাবো । ভাল রেসাল্ট
করলে জি. আর . ই দিয়ে আমেরিকা পাঠাবো। বি .টেক্ এর পর হয় গেট্
দাও নয় ক্যাট্ দাও । যদি এগুলো না দাও তবে ভাল রেসাল্ট করলে জি.
আর . ই টা দেবে । এখন থেকে তৈরি হও আমেরিকা যাওয়ার জন্য ।
পারোমিতা ভয়ে ভয়ে বাবার কাছে যায় । বাপী জানেন ওর রেসাল্টের ব্যাপার ।
বাপী বলেন , মেয়েদের পড়াশুন যে কত প্রয়োজন তা এখন থেকে না বুঝলে
পরে আর সময় থাকবেনা মা । পড়াশুনোতে মন দাও । মেয়েদের রূপ যৌবন
গুন তিনটে দিয়ে বিচার করার সময় রূপ যৌবন দুটোই কিন্তু বয়স আধিক্যে ফুরিয়ে যায় মা;
থাকে শুধু গুনটা । ওটাই শেষ জীবনের ভরসা । তোমার বন্ধুদের
জিজ্ঞাসা কর ; ওরা কি ক্লাসে লাস্ট্ বেঞ্চে বসা মেয়েকে ভাল বলবে !
বাপীর টাকা মধু দাদার ভাঁড় নয় যে অফুরন্ত থাকবে । চিরদিন তো আমি
আর তোমার মা থাকবেন না । যাও মাকে দিয়ে সই করাও । ওঁচা মেয়েদের
আমি পছন্দ করিনা । তোমার ত সব বায়না শুনি তবুও তোমার এতো
অধঃপতন কেন? লজ্জা করেনা ? দিদিকে দেখে সেখ ।
বাপীর কথা শুনে ওর চোখে জল আসে । চোখে জল নিয়ে বলে পরের বার ভাল করব । 
গড প্রমিস্ বাপি । এবারের মত সই করে দাও !
থাক আর গড্ কে টেনোনা ! তিনি তোমাকে অহোরাত্র দেখছেন।
তোমার প্রাইভেট ট্যুটার এর প্রয়োজন হলে রাখ ।কিন্তু রেসাল্ট ভাল হওয়া
চাই।
মা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে আঁচল ঠিক করতে করতে বলেন , “রাম
রাম , প্রাইভেট টিউটর ? রক্ষে কর ! আরেক ফ্যাসাদ বাঁধাবে । ও যা পডছে পডুক । না
পডলে হেঁসেল ঠেলবে!” আমার সময় কোথায় ওকে দেখার ?
এটাত কথা নয় । তুমি না দেখলে কে দেখবে ? বাপী বলেন।
কেন ওর দিদির কাছে বসে পডতে পারেনা ?
দেখ সুমি (মায়ের নাম সুমিতা , বাপী ‘সুমি’ বলে ডাকেন) তোমার মেয়েদের
প্রতি দায়িত্ব বোধ না থাকলে ওরা কি করবে ভবিষ্যতে? মা’র নজর
মেয়েদের দিকে বেশি থাকা উচিৎ । নাহলে পরে পস্তাবে ।
কেন? আমার একার দায়িত্ব কেন? তোমার মেয়ে নয় ওরা ? তোমার কোন দায়িত্ব নেই !
‘দায়িত্ব’ শব্দটা খুব জোরদিয়ে বিদ্রূপের সঙ্গে উচ্চারণ করলেন সুমিতা দেবী ।
আহ্ ! আমি কি তাই বলছি ! বোঝ না কেন? আর সেরকম বুঝলে চাকরি
ছেডেদাও । তুমি ত সখের জন্য চাকরী কর ! ওটার কি কিছু প্রয়োজন আছে? যদি মেয়েরা মানুষ
না হলে ওই চাকরী থাকার চেয়ে না থাকা ভাল !
কি ? আমি সেক্রিফাইস্ করবো আর উনি প্রাইভেট সেক্রেটারি কে নিয়ে
টুরে যাবেন ; আজ মুম্বাই কাল দিল্লী পরশু সিঙ্গাপুর । অফিস ছাড়া বাডীর হাল কি হচ্ছে
বুঝেছ কখন ! বাহ ! সুন্দর !! চমৎকার সল্যুশন । পারবোনা চাকরী
ছাডতে !! ও মেয়ের এমনিতেই বারোটা বেজে গিয়েছে ।
দ্যাখো যা যাননা সে বিষয় নিয়ে কথা বোলনা। আমার চাকরীটা খাটুনির
আর দায়িত্ব সম্পন্ন কাজ । তুমি ভাল করে যান সেটা । ওটা ঊল বোনার
চাকরী নয় যে মেয়েরা পাস করলো কি না করলো মাস গেলে জমা খাতায়
মাইনে ঢুকে যাবে গুঁতো মেরে । চাকরী ? আর চাকরী দেখিওনা !! মেয়েদের
সামনে কি করে কথা বলতে হয় সেটাই তো শিখলে না? যত্তো সব । বাবা
গাড়ীর চাবি নিয়ে বেরিয়ে গেলেন গজ্ গজ্ করতে করতে ।
মা বাপির কথা কাটা কাটির মধ্যে পারোমিতা মাকে দিয়ে টুক করে সই
করিয়ে নেয় । মা অজান্তে সই করে দেন । কিছুটা নিশ্চিন্ত এবারের মতন।
এবার পডাশুন টা করতে হবে মন দিয়ে। মোবাইলে কল আসে সুমিতের ।
স্বিচ্ অফ করে দেয় । না আর সুমিতের সঙ্গে যাবেনা সে । শেষে কিনা
হেঁসেল ঠেলতে হবে ! ম্যা গো !! মাথাটা টন টন করছে । দিদিকে দেখ ? খুব
খুশী আমাকে বাপী বকেছেন বলে ।
ঈশ্বর প্রেমিক প্রেমিকাকে একি ছাঁচে বানান না । কিছু তার তম্য থাকে ।
আদর্শ শব্দটি অভিধান থেকে মুছে গিয়েছে । সিটি সেন্টারে ওরকম অনেক
যুগল ই ঘুরে বেডান । আমি একটা ঘটনার কথা বলি । সেদিন রাজার হাট্
দিয়ে ফিরছিলাম আমার কারে । তখন বাজে রাত ১১ টা । হঠাৎ আমাদের
কারটাকে দুটো বাইক্ সম্ভবতঃ হিরো মোটর্সের লেটেস্ট মডেল নামটা
বলতে পাচ্ছিনা , যাইহোগ বাইকে দুই প্রেমি জুগল যাচ্ছেন । পিলিওনে
যে মেয়েটি ছিলো সে বোসে নয় ফূট রেস্টে দাঁড়িয়ে । বিদ্যুৎ গতিতে
বাইক্ দুটি আমাদের ক্রস করে বেরিয়ে যায় । যদি এতোটুকু অসাবধান
হয় মৃত্যু সুনিস্চিৎ । এটা কি স্টান্ট্ না কি আমি বুঝলাম না । এদের মা
বাবা এদের কি শিক্ষা দিয়েছে? অবিশ্যি মা বাবা কে দোস দিয়ে কাজ নেই
ওনারা কি যানেন? আমি ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করলাম ও বোল্ল , আপ
নেয়া হ্যায় সাব । এ তো হামেশা দেখনেকো মিল্তা হ্যায় । মনে মনে ভাব
লাম আমরা কতো গ্রাম্য, এরা কতো সভ্য । এই যদি সভ্যতা হয় তবে
হে ঈশ্বর আমাকে গেঁয়ো করেই রাখো! সে দিন থেকে আমি আর কাউকে
কিছু জিজ্ঞাসা করিনা । কান মুলছি নাক মুলছি আর না ।নিজের মেয়েদের
কথা ভাবছি ! পরোমার কি হবে ? ওর কি ভবিষ্যৎ ? আমার সময় নেই
এনার্জি ও নেই । সুমি তার স্কুল আর বান্ধবীদের নিয়ে ব্যাস্ত । পার্টীর জন্য
আজ ধারনা তো কাল বন্ধ ।ছারখার হয়ে গেল এই দেশটা এসবের জন্য ।
সর্ব শিক্ষা অভিজানের লেকচার দেয় সুমি আর নিজের মেয়ে গোল্লায় যাচ্ছে । 
কি মারে বাবা । কিছু বলার উপায় নেই আমার । মেয়েটা উচ্ছন্নে যাচ্ছে । 
দেখেও কিছু বলার উপায় নেই ।আমি নিরুপায়। কোম্পানির সার্ভিস । 
একটু এদিক ওদিক হলে সর্বনাশ । কাকে বোঝাব ? কথাটা উল্লেখ করলাম
 এইজন্য যে হামেশা নাকি এরকম হয় । আমরা
ত দেখতে অভ্যস্ত নই তাই বোধ হয় আমার দৃষ্টিকটু লাগলো । মানুষ
সহজ ভাবে নিচ্ছে। আমি বোধহয় গেঁয়ো হয়ে গেলাম বয়েসের সঙ্গে
সঙ্গে। আমার বন্ধুরা বলে তুই এইসব নিয়ে ভাবিস না। ও সব মডার্ন ছেলে
মেয়ে। মনে মনে ভাবি আমার ত দুটো মেয়ে আছে ! তাদের মধ্যে ছোটটাই
মাথা ব্যাথার কারন হচ্ছে ।
আমিত দেখছি আকাংক্ষার মতন মেয়েরাই বিপদে পডে কারন ওরা
নিজেদের নিরাপত্তার দিকে নজর দেয়না। পডাশুনোতে এত ব্যস্ত থাকে
যে ওদের অন্য দিকে মন যায় না তার সুযোগ নেয় অসামাজিক ব্যাক্তি
। তাই বলি জুডো ক্যারাটে টা মেয়েদের যানা নিতান্ত জরুরি । ওদের বন্ধু
হাতে গোনা হয় আর ছেলে বন্ধু থাকলেও তারা পাত্তা পায় না এদের কাছে
। কিন্তু পারোমিতা ! তার বন্ধু শয়ে শয়ে । বাপী লেটেস্ট এপেলের আই ফোন্
সিঙ্গাপুর থেকে কিনে এনেছেন একটা মা আরেকটা পারোমিতার জন্যে ।
বাপি কি জানেন মেয়ের কীর্তি !
বলেন রেসাল্ট ভাল হওয়া চাই কিন্তু । আইফোন দিতে আপত্তি নেই।
‘কচু’ রেসাল্ট না ছাই । মা বলেন । ওই মেয়ে গোল্লায় গেছে ।
এম.এম .এস এ ছবি পাঠান মেসেজ বক্স এ জোক লাভ এস .এম। .এস
সব ভর্তি । কে দেখবে? দেখার সময় কার আছে । বাপি সকাল থেকে
বেরিয়ে যান ফেরেন রাতে। মা স্কুল টিচার অন্যকে জ্ঞান বিতরণে ব্যস্ত
নিজের মেয়েকে দেখার সময় কোই ? সোসিয়াল সার্ভিস করে ক্লান্ত ।
স্কুলথেকে এসে এতোই ক্লান্ত যে মেয়ে কি পোডলো কি খেলো দেখার সময় নেই ।
টিভি, সিনেমার ম্যাগাজিন,তারপর খাওয়া ,ঘুম । ঘরে রান্না বান্না করতে হয়্না কারন রাঁধুনী আছেন ।
 ২৪ ঘণ্টার কাজের লোক আছেন। মঞ্জু মাসি । 
ঘরে গার্জেন বলতে ঠাকুমা তাঁর তো বয়েস ৭৯+ অতএব তিনি কি
করবেন? ঠাকুরপুজো তেই তাঁর সময় কাটে । ছেলে,বৌ,নাত্নীদের জন্য
সব পুজো । ওনার ঘরে কেউ যায়না । কখনো কখনো বাবা যান আর
মঞ্জু মাসী খাবার দিতে যায় । পারোমিতা কে একদম দেখতে পারেন না
ঠাকুমা । বলেন শুভ( শুভজিত বাবার নাম) গোল্লায় যাচ্ছে তোর মেয়ে 
। মেয়ের ডানা গজিয়েছে । এখন থেকে দ্যাখ নাহলে ওই মেয়ে ভোগাবে
তোকে । আমি বলে রাখলাম শুভ ।
আমি কতোক্ষণ থাকি মা ? আপনি বলুন ? আমার সময় কোথায় ?
তবুও তোর শাসন প্রয়োজন । ওকে মোবাইল কেন দিলি ? ওই অলক্ষুণে
মোবাইল ই ওর উচ্ছৃঙ্খলতার  কারন । আমাকে ত হুটা হুট্ করে দেয় । 
আপনি শাসন করুন মা । আমি কতক্ষণ ই বা থাকি ? একটু শান্তি না
হলে আমার কি ভাল লাগে ? ওইসব শুনতে ভাল লাগে না। সমত্ত মেয়েদের
মা শাসন করবেন না বাবা কি পারে? না মানায় ! আপনি বলুন! শুভ এক
নিশ্বাসে কথাগুল বলে হাঁফ্ ছাডলো ।
সব ই অদৃষ্ট বাবা । হ্যাঁরে মঙ্গল বার দিন একটু সময় করে দক্ষিণেশ্বর
নিয়ে চল না বাবা। কতদিন মায়ের মুখটা দেখিনি। আহা মা সদয় হলে তোর
কোন দুঃখ থাকবেনা।
মঙ্গলবার ! আচ্ছা দেখছি ! টেবলেট পিসিটা তে কি দেখে বললো, মা
একদম ভোরে আপনাকে নিয়ে যাব ।
আমিত সেই ভোর ৪ টেতে উঠি তুই উঠতে পারবিত ?
হ্যাঁ মা পারবো ।
আকাংক্ষা স্কুল থেকে বাসে ফিরছিল বেলা তখন ৪ টে । রাস্তাতে
হট্টগোল আর জ্যাম্ দেখে আঁতকে ওঠে । ৪.৩০ এর সময় রাস্তা ফাঁকা
হয় ।
ছাত্র ছাত্রী এবং অধ্যাপকদের নিরাপত্তার দাবিতে দুপুর দেড়টা থেকে
ঘণ্টা তিনেক রাস্তা অবরোধ করেন কলেজের শতাধিক
ছাত্রছাত্রী। তাতে হাজির ছিলেন শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। সকলেরই
অভিযোগ, সন্ধ্যার পর কলেজ ক্যাম্পাস থেকে
বেরোনোর পর প্রায় রোজ দুষ্কৃতীদের অসভ্যতা ও কটূক্তির মুখে
পড়তে হয় তাঁদের। সন্ধ্যার পর রাস্তায় বেরোলে রীতিমতো ভয়ে ভয়ে
থাকতে হয়। ‘আর মোমবাতি নয়, এবার কিছু করে দেখানোর সময়’,
অবরোধে দাবি তোলেন ছাত্রীরা।
কোমল হৃদয়ের শান্ত মেয়ে ‘আকাংক্ষা’ তার মনে এই সব গভীর ক্ষত
সৃষ্টি করে । অনেক প্রশ্ন আলোডন করে বুকের মধ্যে । কেন এই অসভ্য
মানুষগুল প্রশ্রয় পায় ! আর কেনইবা মেয়েদের নিরাপত্তা থাকবেনা এই
শহরে ? প্রশাসন কি নীরব? এরকম অনেক প্রশ্ন ।
বাপীকে কিছুই বলা যায়না এ বিষয় । মা’ ! তিনি তো ব্যস্ত নিজেকে নিয়ে
। ঠাকুমা ! তিনি ই বা কি করবেন? তবে কাকে বলবে সে ? বোন ! ও শুনলে
হাঁসবে । মজা পাবে ।
বাডীতে ফিরে একটা ডাইরিতে আজকের ঘটনা সম্পর্কে লিখে রাখল।
বাপীর কথাগুল মনে রেখে খুব মন দিয়ে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি করতে
লাগলো । ম্যাথ্, ফিজিক্স্, কেমিস্ট্রি সব বিষয় গুল ভাল করে রিভিশন
দিয়ে রাখলো। গত দশ বছরের সমস্ত প্রশ্ন র উত্তর শেষ করে ফেলেছে
।খাতা ভর্তি অঙ্ক আর ফিসিক্স্ এর প্রব্লেম সলভ্ করে রেখেছে ।
ইংলিস্ টা আরেকটু রিভিসন করতে হবে । এইরকম ভাবছিল ...।
মা বললেন হ্যাঁরে পারু কোই ? ৭ টা বেজে গেল মেয়টা কোথায় যায়?
তোর সঙ্গে আসেনি?
এতোগুল প্রশ্নের উত্তর কি দেবে ভেবে পেলনা । আমি জানিনা ...
জানিসনা মানে ?
বারে আমি স্কুল সেরে বাডী ফিরে এলাম । এমনিতেই আমাদের এক্সট্রা
ক্লাস হচ্ছে । আমি কি করে জানবো ওর কথা ?
তুমি তোমাকে ছাডা আর কোন কিচ্ছু কোরনা মা ! বাপের আহ্লাদি
মেয়ে ! বোনটা কোথায় গেল খোঁজ নিবিনা একটু ! জানি তুমি দিগ্গজ্
মেয়ে , তা বলে বোনটার কোন খোঁজ খবর নেবে না?
সরি মা ভুল হয়ে গিয়েছে । আমাকে ভুল বুঝ না।
সুমিতা মোবাইলে নম্বর ডায়াল করতে লাগলেন ... এই অর্পিতা শোন
ভাই তোর বর কে একটু বলনারে ... আমার ছোট মেয়ে পারোমিতা যে তোর
ছেলের বার্থ ডে পার্টি তে নেচেছিল মনে আছে ... হ্যাঁ !... ও এখন পর্য্যন্ত
আসেনিরে । কি করি বল তো?... ইনি দিল্লী গেছেন ফিরবেন কালকে ।
এলেই ত আমার ওপর হম্বি তম্বি করবেন। আমার হয়েছে যত জ্বালা...।
দাঁড়া চিন্তা করিসনা ...। আমি একটু পরে তোকে খবর দিচ্ছি।
রাত ৯ টার সময় পুলিসের জিপ্ এল । এটাকি সুভজিৎ ব্যানার্জীর বাডী ?
ভয়ে তটস্থ সব্বাই । হ্যাঁ ...। কি হয়েছে ?
দেখুন চিনতে পারেন কিনা ?
আমার বুক টা দুরু দুরু করতে লাগলো । মা গিয়ে যা দ্যাখেন । হতভম্ব
হয়েযান । পুলিসের জীপের পেছনে দুটি ছেলে মেয়ে । তার মধ্যে একটি চেনা
। সে আমাদের পরমা ...পারোমিতা.... ।অন্যটিকে চিনিনা ।...
ত্রিভুবনজিত  মুখার্জী ।
৩১.০১.২০১৩ বিকেল ৫ টা ।
১৭ই মাঘ ১৪১৯ বৃহস্পতিবার বেলা ৫ টা


পুরীর চন্দন যাত্রা ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী / ২০.০৫.২০১৫ /



     
     


পথে প্রান্তরে 



পুরীর চন্দন যাত্রা
ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী 



পুরীতে বারো মাসে তেরো যাত্রা । পুরীর চন্দন যাত্রা না দেখলে বোঝান সম্ভব নয় । তিন ঠাকুরের প্রতি মূর্তি কে সুসজ্জিত নৌকায় বসান হয় । নৌকাটি রাজ হাঁসের মতন হয় । পুরীতে নরেন্দ্র পুষ্করিণী তে এই চন্দন যাত্রা হয় । ঠাকুর নৌকা বিহার করেন নরেন্দ্র পুষ্করিণীতে । এই সময় পুরী উৎসব মুখরিত । প্রচুর তীর্থ যাত্রীর সমাগম হয় এই চন্দন যাত্রার সময়। অক্ষয় তৃতীয়া থেকে জগন্নাথের রথ যাত্রার রথ নির্মাণ এর শুভারম্ভ হয়। ওই পবিত্র দিন-থেকে আবার নরেন্দ্র পুষ্করিণীতে চন্দন যাত্রার শুরু । অক্ষয় তৃতীয়া থেকে ৪২ দিন ধরে চলে এই চন্দন যাত্রা । চন্দন যাত্রা দুভাগে বিভক্ত ১) বাহ্য চন্দন যাত্রা ২) অন্দরের চন্দন যাত্রা । চন্দন যাত্রার সময় তিন ঠাকুরের প্রতিমূর্তিকে জগন্নাথ মন্দির থেকে মহা আড়ম্বরে চন্দন পুষ্করিণীতে নিয়ে যাওয়া হয় । এরপর ঠাকুর চন্দন বারিতে স্নান করেন এবং নরেন্দ্র পুষ্করিণীতে নৌকা বিহার করেন । বলা বাহুল্য, জগন্নাথ এই বৈশাখ মাসের প্রচণ্ড রৌদ্র তাপ থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে ভক্তের সঙ্গে মহা আনন্দে নৌকা বিহার করেন। সারা চন্দন পুষ্করিণী নৌকা প্রদক্ষিণ করে। সুসজ্জিত নৌকায় তিন ঠাকুর বলভদ্র, মা সুভদ্রা এবং জগন্নাথ মহাপ্রভু মহা আনন্দে ভক্তের সঙ্গে নৌকা বিহারে মগ্ন থাকেন। নৌকাটির গঠন ঠিক একটি রাজ হাঁসের মতনই। সারা পুষ্করিণী আলোক সজ্জায় সজ্জিত হয়। জগন্নাথের বৈচিত্র্যের এক অধ্যায় এই চন্দন যাত্রা ।








অনুগল্প পকেটমার ঃ ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী / ২০.০৫.২০১৫ / সকাল ০৯.০১


 
  অনুগল্প পকেটমার ঃ 
ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী / ২০.০৫.২০১৫ / সকাল ০৯.০১ 

হাওড়া স্টেশনের কোন এক ওয়েটিং রুম । সময় ভোর ছটা । ৭০ এর দশকের কোন এক সময় ।... 
হাওড়া স্টেশনে পুরী এক্সপ্রেসে আমার দিদি জামাইবাবু আসবেন । ওনারা পুরী বেড়াতে গিয়েছেন। আমি হাওড়া স্টেশন এ প্ল্যাটফর্ম টিকিট কিনে অপেক্ষা করছি সেই ভোর ৫ টা থেকে । প্ল্যাটফর্মে আসার পর এনাউন্স হল গাড়ী এক ঘণ্টা লেট আছে। মানে সেই সকাল ৬ টার সময় আসবে । অগত্যা ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই কারন বাইরে মুশল ধারে বৃষ্টি পড়ছে। ওয়েটিং রুমেই কুকুর গুলোর উৎপাত। ঘেউ ঘেউ চিৎকার মাঝে মাঝে ভিখিরিদের আনাগোনা।এতবড় রেল স্টেশনে কোন সিস্টেম নেই। হটাত এক ভদ্রলোক এসে আমার পাসে বসে জিজ্ঞাসা করলেন দাদা ম্যাচিস হবে ?
আমি মনে মনে বিরক্ত হয়ে বলি , “না আমি সিগারেট খাই না” ও আচ্ছা বলে উঠে যান ভদ্রলোক । ভদ্রলোক দ্রুত পায়ে এগিয়ে উধাও হন । 
হটাত আমার কেমন সন্দেহ হয় । পেছনের পকেটে হাত দিয়ে দেখি আমার পার্সটা নেই। আমি টাইট জিন্স পরেছিলাম তাই পার্সটা বোধ হয় বাইরে দেখা যাচ্ছিল । আমি খেয়াল রাখিনি। আমি দৌড়ে লোকটিকে সনাক্ত করার চেষ্টা করি। পরে না পেয়ে জি.আর.পি কে বলি লোকটির বর্ণনা দিয়ে। আমার কথায় ওরা বেশ মজা পায় । হিন্দি মেশান বাংলায় বলে “ও এতক্ষণে নাস্তা করছে আপনার টাকায় । হামি কি করবো” বলে খৈনি দলতে লাগলো হাতের চেটোয়।
মনে মনে ভাবি আমাদের সরকার এদের মাইনে দিয়ে রেখেছে লোকে বিপদে পড়লে বিদ্রূপ করতে। 
লোকদের দৌড় দৌড়ীতে আমি বুঝি ট্রেন ইন করছে প্ল্যাটফর্মে । 
দিদি জামাইবাবুকে দেখে ধাতস্থ হই । আমার পার্স চুরি যাওয়ার কথা বলি জামাইবাবুকে। 
জামাইবাবু বলেন তোরা যা আমি আসছি । 
হাওড়ার পুলিশ সুপার যে জামাইবাবুর ক্লাসমেট তা দিদির কাছথেকে জানি । 
সেই জি.আর.পি. কন্সটেবেল টি আসে আমার কাছে । বলে, “আগে বলবেন ত । হামি কি করে জানবো আপনি সাহেবের পেহচান আছেন। উ হারামি বিশ টাকার খেয়ে লিয়েছে । এই লিন আপনার পার্স । ঠিক আছে কিনা গুনে দেখুন” 
আমি মনে মনে ভাবি আসল হারামিটা কে ........?

Friday, May 15, 2015

যন্ত্রমানব@ভালবাসা.কম ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী / ২৫.১২.২০১৪ / ১১.৪৮ / খৃষ্ট মাস / বৃহস্পতিবার /


   

     
      যন্ত্রমানব@ভালবাসা.কম 
 ত্রিভুবন জিৎ  মুখার্জী / ২৫.১২.২০১৪ / ১১.৪৮ / খৃষ্ট মাস / বৃহস্পতিবার /

“আমার দোসর যে জন ওগো তারে কে জানে
একতারা তার দেয় কি সাড়া আমার গানে কে জানে..."
এই আর্তির মধ্যেই ব্যক্তি জীবনের পথ চলা! স্বপ্ন সাধ সাধনায়, ভাব ভাবনা ভালোবাসাকে বিশেষ একজনের সাথে মিলিয়ে নিতে! কারণ কালের মন্দিরায় জীবনের বোল ফোটাতে পরস্পরের সঙ্গ লাগে! তখন সেই সঙ্গতে মন বলে "সব পথ এসে মিলে গেল শেষে তোমারই দুখানি নয়নে-" এই যে পরস্পরের মধ্যে জীবনের পথ খুঁজে পাওয়া, পরস্পরের মধ্যে বেঁচে ওঠা, পরস্পরের মধ্যে সত্য হওয়া; এখানেই প্রেমের সার্থকতা! এখানেই মানুষ চলেছে তার দোসরের খোঁজে, "কবে আমি বাহির হলেম তোমারই গান গেয়ে"! আসলে দোসর খুঁজে পাওয়ার সাধনায় দোসর হয়ে উঠতে পারার শক্তিটাই গুরুত্বপূর্ণ! সেখানেই মুক্তি!” .............
 “আমিও ত মানুষ কিন্তু তোমার মত যন্ত্র-মানুষ নই।“
“আমি আর এই মিথ্যে সম্পর্কটাকে বিশ্বাসহীনতার চোরাবালির ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে যেতে পারছিনা! অথচ যতবার এসব  বলতে গিয়েছি তোমার মুখের দিকে তাকিয়েছি , ভেসে গিয়েছি তোমার ভালোবাসার উচ্ছ্বাসে, মাদকতায়,সমর্পণে।“
    
প্রথম পর্ব


 আমার গল্পের নায়ক এক  মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে “সুদীপ্ত”  । মেধাবী ছাত্র । কম্প্যুটার ইঞ্জিনিয়ার । নায়িকা “সুদীপ্তা” সে’ও কম্প্যুটার ইঞ্জিনিয়ার এবং মেধাবী , বাবা মা আই.এ.এস অফিসার ।   অভাব কি জানেনা । দুজনেই ইনফোসিস , বেঙ্গালুরুতে চাকরীতে সবে ঢ়ুকেছে। এর পর...........

সুদীপ্ত বি.টেক.(কম্প্যুটার ইঞ্জিনিয়ারিং ) এর পর ইনফোসিস্ , বেঙ্গালুরুতে সফট্ওয়ের ইঞ্জিনিয়ার এর চাকরিতে জয়েন করে । এখানে বলে রাখা ভালো সুদীপ্ত , আই.আই.টি ,মুম্বাই থেকে ফার্স্ট ক্লাস ৯০% মার্ক্স পেয়ে  পাস করার পর চাকরীতে জয়েন করতে বাধ্য হয় । অন্য কোম্পানি তে   ভালো চাকরি পেয়েছিল কিন্তু জয়েন করে নি। ওর বাবা অনেক কম বয়েসে  হার্ট এটাকে হটাত মারা জান । ছোট ভাইয়ের পড়ার দায়িত্ব  সামলানোর জন্য ও বাধ্য হয় চাকরি করতে  । বাড়ীতে মা এবং ছোট ভাই ছাড়া আর কেউ নেই । অনেক ইচ্ছে ছিল এম.টেক্. এর পর ডক্টরেট করবে বলে, কারন ওর টিচিং জব পছন্দ ।  সে ইচ্ছেটা ওকে সর্বদা পড়াশোনার দিকে টানতো । আড্ডা দিতে মোটেই ভালোবাসেনা সুদীপ্ত । ওর প্রজেক্ট এর প্রোজেক্ট্ ম্যানেজার (পি.এম.)ওকে খুব স্নেহ করেন । ওর বুদ্ধিদীপ্ত চেহারার সঙ্গে ও কাজ ও খুব নিখুঁত ভাবে করে । সুদীপ্তা ওই একি প্রোজেক্ট্ এ , ওর সঙ্গে জয়েন করে একি দিনে। মাইসুরে তিন মাসের ট্রেনিং সেরে দুজনে বেঙ্গালুরুতে জয়েন করে । তাই সুদীপ্তার সঙ্গে আলাপ প্রায় তিন  মাসের ওপর । সুদীপ্ত র চেহারার আকর্ষণের সঙ্গে ওর প্রখর বুদ্ধি সহজেই নারীর মন আকর্ষণ করে ।  এটাই স্বাভাবিক । সুদীপ্তা এন.আই.টী., রাউরকেল্লা থেকে কম্প্যুটার ইঞ্জীনিয়ারিং এ  বি.টেক্.ফার্স্ট ক্লাস  কাজেই ও খুব ফেলনা নয়। দেখতে খুব সুন্দরী । বাবা মা দুজনেই আই.এ.এস অফিসার তাই টাকার অভাব নেই ।  তবে আই.আই.টি. পাস আউট দের ইনফোসিসে বেশি টাকা মাইনে দেয় । বেঙ্গালুরের ইনফোসিস্ এর নিয়ম অনুজাই মেয়েরা সন্ধ্যে ছটার পর অফিসে  থাকা মানা ছিল। এসব আমি ২০০৫ সালের কথা  বলছি ।
সুদীপ্ত কাজের মধ্যে মসগুল থেকে এক রকমের যন্ত্রমানবে পরিণত হয়ে গিয়েছিল । অফিস আর কাজ ছাডা কিছুই জানতোনা । প্রায় দিন বেলা ১.৩০ টার সময় সুদীপ্তা ক্যান্টিনে লাঞ্চ খেত সুদীপ্তর সঙ্গে দেখা করে। সুদীপ্তার ওখানে গল্প করার ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই কারন সুদীপ্ত  বিশেষ পাত্তা দিত না  ওসব ব্যাপারে । সর্বদা কাজে মসগুল থাকতো  কি করে অন্ সাইটে যাবে  । তারই  চিন্তায় থাকতো । একদিনের কথা, সুদীপ্তা , ওর নিজের  জন্মদিন সেলিব্রেট্ করার জন্য সব বন্ধু বান্ধবদের ডেকেছিল পার্টি তে  । সুদীপ্তকেও ডেকেছিল  । 
কিন্তু ফরমালিটি র জন্য পার্টি তে গিয়ে সুদীপ্ত , সুদীপ্তাকে  গিফট দিয়ে চলে যায়। এটা সুদীপ্তার  মনে লাগে । এমনিতেই  সফট ওয়ের ইঞ্জিনিয়ার রা পার্টি  , আড্ডা  , শুক্রবার রাতে এবং শনিবার দিন সাধারনতঃ করেথাকে । ওদের মতে সেটারডে নাইট মাস্ট বি ডিলাইট্ । সুদীপ্তা মনে দুঃখ পেলেও প্রকাশ করেনি কারন ও সুদীপ্ত কে মনে মনে ভালবাসত কিন্তু কখনো প্রকাশ করেনি।
এই অপ্রকাশিত প্রেম এবং বলতে গেলে এক তরফা প্রেম যেন অসহ্য লাগে সুদীপ্তার ।


একদিন সুদীপ্তকে বলে বসে, “তুমি আমাকে এভয়েড্ করছ কেন ? আমি লাঞ্চের সময় ডাকলে তুমি এসে খেয়ে বিল মিটিয়ে চলে যাও ।  কোন কথা কি তোমার মুখে আসেনা ?আমি তোমার প্রজেক্টে কাজ করছি ! তোমার সঙ্গে একসঙ্গে ট্রেনিং নিলাম ।  অন্য কলিগ্ রা ত এরকম নয় ! তুমি এরকম ডিফারেন্ট এটিচ্যুড দেখাও কেন?” এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে সুদীপ্ত র  দিকে তাকাল     উত্তরের অপেক্ষায় ।  
সুদীপ্ত বলে, “আমাকে ভুল বুঝোনা । আমার মাথায় অনেক চিন্তা । আমার মা বিধবা, ভাইয়ের পড়া আমার ওপর নির্ভর করছে । এই পরিপ্রেক্ষিতে আমার ওপর সংসারের সব দায়িত্ব , ও তুমি বুঝবেনা !”   তুমি মুখে সোনার চামচ নিয়ে জন্মেছ । তুমি কি করে জানবে নিম্নমধ্যবিত্তের জ্বালা যন্ত্রণা ? তোমার বাবা মা দুজনেই  আই এ এস অফিসার ! কি অভাব দেখেছ জীবনে ? বাবা অসময়ে চলে গেলেন । মা আমার ওপর ভরসা  করে আছেন । আমি আমার ছোট ভাই এর দায়িত্ব নব বলে । আমি আমার মা'কে প্রতারণা করতে পারিনা । তিনি এমনিতেই দুঃখ পেয়েছেন আর নতুন করে দুঃখ দিতে পারিনা।

ক্রমশঃ- 

Wednesday, May 13, 2015

উড়ালপুল ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী / ১৪.০৫.২০১৫/ বেলা ১০.২০/৩০শে বৈশাখ ১৪২২ (বৃহস্পতিবার)/


 
   উড়ালপুল
ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী / ১৪.০৫.২০১৫/ বেলা ১০.২০/৩০শে বৈশাখ ১৪২২ (বৃহস্পতিবার)/
সাউথ সিঁথি তে আমার শালীর বাড়ী । শালী বলে কথা, অনেক দিন পর ওদের ওখানে গিয়েছিলাম । ওখানেই রাতের খাওয়ারটা সেরে ফেললাম । ওখান থেকে ফিরতে ফিরতে তখন রাত প্রায় ১২ টা বাজে । ‘আরতাভ’ আমার ছেলের ড্রাইভার নাগের বাজার , সাউথ দম দম দিয়ে ভী আই পি ধরে ক্লাব টাউনের ফ্ল্যাটে পৌঁছনর সময় ওই উড়ালপুল এর এক ঘটনার কথা বলতে বলতে গাড়ী চালায় ।
সার নাগের বাজারের কাছে ওই আই এল এস হসপিটালের লাগাও একটা উড়ালপুল আছে দেখলেন ?
আমি বলি , না খেয়াল করিনি ।
গিন্নী বলেন , হ্যাঁ হ্যাঁ দেখেছি । কেন ! কি হল !!
আবার শুরু করে আরতাভ , ওই উড়ালপুলে এক বাইক আরোহী কিছুদিন আগে তার গার্ল ফ্রেন্ড কে নিয়ে হাইস্পিডে যাওয়ার সময় এক্সিডেন্টে হয় । ওই স্পটেই ওরা দুজনে মারাযায় । তারপর-থেকে ওই উড়ালপুলের ওপর-দিয়ে যে যায় তার কিছু না কিছু বিপদ হয় ।
সেকি ?
তা কি বিপদ হয় শুনি !
কাছে পিঠে যত ফ্ল্যাট আছে তাদের ওই ছেলে মেয়ে দুটো হয়রান করে ।
গাঁজাখুরি কথাতে মন না দিয়ে গান শুনছিলাম।
আরতাভ বলে কাকু বিশ্বাস করবেন না রাতে ওই উড়ালপুল দিয়ে যে গাড়ী যেত তার চাকা পাঙ্কচার হত নয় গাড়ীর স্টার্ট বন্দ হয়ে যেত । শেষে পুলিশ পাহারা দেয় । তাতেও সব অদ্ভুত কাণ্ড ঘটে । এক পুলিশের গালে কেউ থাপ্পড় মারে আবার অন্য পুলিশকে কেউ পিঠে কিল মারে । শেষে ওদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয় । তাই প্রশাসন ওই ফ্লাই ওভার বন্দ করে দেয় ... কি বলতে যাচ্ছিল কে যানে ...
আমরা ফেরার সময় বৃষ্টি সুরু হয়ে গিয়েছিল । গাড়ী ভী আই পি দিয়ে যাচ্ছিল হঠাৎ গাড়ীর সামনে কে যেন এসে দাঁড়ায় । তখন প্রায় রাত সাড়ে বারোটা বাজে । আবছা ঠিক দেখা যাচ্ছিল না । বৃষ্টিতে অস্পষ্ট । আরতাভ ঘাবড়ে যায় ।
আমি বুঝি , ও , অন্য কিছু ভেবেছে তাই বলি গাড়ী থামি-ওনা চল পাস কাটিয়ে । আমি এরকম অনেক ভুয়ো কথা শুনেছি কিন্তু ওই ছবিটা এখন মনে পড়ে গাড়ীর সামনে । হয়ত মনের ভুল হতে পারে বলা মুস্কিল । গিন্নী ভয়-পান না খুব একটা । উনি দুর্গা নাম জপেন মনে মনে ।
একটু এগিয়েই আবার সেই চেহারা । সুধু সাদা ধোঁয়াটে । হঠাৎ গাড়ীর মিউজিক সিস্টেম বন্দ হয়ে যায় ।
আরতাভ বলে সার ওই ছেলেটা ।
কি করে জানলে?
আমি জানি সার ।
আমার মনে হল ও মিছি মিছি বলছে আমাদের ভয় দেখানর জন্য । না ব্যাপারটা সুবিধে ঠেকছে না । তবুও আরতাভ কে বলি স্পীড বাড়াও ।
না সার ওটি হলে আর বিপদ ।
কি বিপদ এ-টাকি ভুতের ভবিষ্যৎ ?
তা জানিনা সার তবে আস্তে যাওয়াই ভালো ।
তুমি চালাও কিছু ভেবনা ।
আমার অভ্যাস আছে সার । আমার হামিদ চাচা একটা তাবিজ দিয়েছেন ওটা কাছে থাকলে কোন ভুত আমার কাছ ঘেঁসতে পারবে না ।
তবে ঘাবড়াচ্ছ কেন?
বৃষ্টির ছাঁটে ভালো দেখা যাচ্ছিলোনা । ওয়াইপার এর আওয়াজে একটা রিদিমিকাল আওয়াজ ।
বাড়ী প্রায় এসে-গেল । কিন্তু সামনে গাড়ীর হেড লাইটে যা দেখলাম তা নিজের চোখে দেখেও বিশ্বাস করতে পারলাম না । সামনে একটা লাশ । রক্তে ভেজা লাশ পড়ে আছে । রাস্তায় রক্ত । গা গুলিয়ে উঠল ।
আরতাভ বলে ওই ছেলেটা সার ।
দূর এখানে আসবে কি করে ? এত আমাদের বাড়ী এসে গেল ।
না সার সত্যি আমি ওকে চিনি ।
ঠিক আছে ঠিক আছে তুমি গাড়ী ঘোরাও । গিন্নী চুপ করে সব দেখছেন আর দুর্গা নাম জপ করছেন।
এ হেন কথা কাউকে বললে বিশ্বাস করবে না কিন্তু কি হল কে জানে আমার গায়ে কাঁটা দিল।
আর তখন ই একটা কান্নার শব্দ , মেয়ের গলার , বাঁচাও বাঁচাও .....

Friday, May 8, 2015

তির্যক / ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী / ১৪.০৮.২০১৪



 তির্যক 
ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী ১৪.০৮.২০১৪
আমার গল্পের নায়িকা উচ্চ মধ্যবিত্ত ঘরের এক মহিলা। তিনি সর্ব গুণসম্পন্না এক ভারতীয় নারী। শিক্ষিতা, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত ও ওড়িশি নৃত্যেও পারদর্শী । বলতে গেলে প্রতিভাসম্পন্না নারী । তা সেই মেয়েটিকে নিয়ে আমার গল্প লেখা কেন ? তার মনে , আচরণে প্রেম-প্রীতির যে ছবি আমি দেখেছিলাম সেটাই আমার গল্প লেখার অনুপ্রেরণা । মেয়েটির নাম ‘পায়েল’ ।
ঘটনাটা এইরকম ..... পায়েল তখন ইংলিশ অনার্স নিয়ে স্কটিশে পড়ছে । এমনিতে পায়েল ভাল ছাত্রী ছিল তাই ওর অনার্স পেতে অসুবিধে হলনা। একজন স্কচ্ লেডী হেড অফ দি ডিপার্টমেন্ট নাম ম্যাডাম এডিনা । ম্যাডাম এডিনা সেদিন উইলিয়াম্ সেক্সপিয়ারের ‘ওথেলোর‘ ক্লাস্ নিচ্ছিলেন । সুস্পষ্ট উচ্চারণ। ভদ্রমহিলা সেক্সপিয়ারের ড্রামা গুলে খেয়েছেন পড়ানোর ধরন থেকেই সহজে অনুমেয় ।
সকলে মন্ত্রমুগ্ধর মতন শুনছিল । পায়েল , ম্যাডাম এর ট্যুটোরিয়াল ক্লাসে কিছু প্রশ্ন করে, “কবে এবং কোথায় প্রথম ওথেলো ষ্টেজে দেখান হয় ইত্যাদি” । হঠাৎ কলেজের ঘণ্টা বাজে । ছেলে মেয়েরা ক্লাস থেকে বেরোয় । পায়েল তখন ঘোরে রয়েছে , শুধু ডেসডেমনার কথা ভাবছে । এই সময় ও’র প্রতীকের সঙ্গে কলেজ ক্যাম্পাসেই দেখা হয় ।
প্রতীক খুব সাধারণ ছেলে । কিছুটা ভাবুক ভাবুক কবি কবি ভাব । পরনে পায়জামা পাঞ্জাবী কাঁধে ব্যাগ । প্রতীক এপ্লায়েড ইকনমিক্স নিয়ে ইউনিভার্সিটিতে এম.এ. ফাইনাল ইয়ারে । নিজের পড়ার খরচ টিউশনি করে মেটায় । বাবা একটা প্রাইভেট ফার্মে কাজ করেন । যৎ সামান্য রোজগারে সংসার খুব কষ্টেই চলে । নিম্নমধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে প্রতীক। এসব ছেলেদের জীবনে অনেক সংগ্রাম করে বড় হতে হয় । এরা খুব একটা মেয়েদের সঙ্গে মেলা মেশা করে না। যদিও করে খুব মেপে জুপে কারন ওদের পকেট প্রায় ‘গড়ের মাঠ’ । একটিভ পার্টি পলিটিক্সে থাকে কিন্তু নিজেকে সে ভাবে জড়িয়ে রাখে না । প্রখর বুদ্ধি এবং বিচার শক্তি থাকে। কচু পাতার ওপর জল ভাসার মতন এদের প্রেম । নিজে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া অবধি এদের কাছে প্রেম-প্রীতি- ভালোবাসা এক বিলাসিতা ! তবে নারী সঙ্গতে আপত্তি থাকে না !!
এবার প্রসঙ্গে আসিঃ
- আজ কোথায় যাবে ? পায়েলের প্রশ্ন তে প্রতীক বিব্রত হয়ে পডে !
- ও ! হ্যাঁ তুমি ? না কোথাও নয় । সন্ধ্যে বেলায় টিউশন আছে । লোকালে যেতে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট । কথাগুলো অন্যমনস্ক ভাবে প্রতীক বলে ।
- আজ ভিক্টোরিয়া যাবে ?
- না । আমার অন্য কাজ আছে । কলেজ ষ্ট্রীটে কিছু পুরনো বই কিনতে যাব।
- চল না আমিও যাই সঙ্গে, আমার তো ওই দিকেই বাড়ী ।
প্রতীক পকেটে হাত ঢুকিয়ে দেখল কিছু খুচরো টাকা আছে । একটা সিগারেট - খেলে বাকি থাকছে ৫৫ টাকার মতন। ...। বইটার দাম টা৫০কা তো হবেই ...! হাতে কিছুই থাকছে না ....!!
- কি ভাবছ অত । চল তো । বাস এসে গেল।
- ওটাতো কলেজ স্ট্রীট যাবে ।
- হ্যাঁ আমিও ওই দিকেই যাব । নাও উঠে পড় ।
মন্ত্র মুগ্ধের মতন উঠে পড়লো প্রতীক । বাস ভাড়াটা প্রতীক দিতে যাচ্ছিল কন্ডাক্টর পেছনে ঈশারা করে কিছু বোঝাতে চেষ্টা করল। বাস ভাড়াটা কেন ও দিল ? আত্মসম্মানে বাধে । খুব বাজে লাগলো । কলেজ স্ট্রীট বাটার কাছে নেমে দুজনে হাঁটা দিল ।
- তুমি কিন্তু এটা ভারি অন্যায় করলে ! প্রতীক খুব অপ্রস্তুতে পড়ার মতন বলল !
- ছাড় তো ! ও আমাকে পরে পুষিয়ে দেবেখন , তুমি কি যেন বই এর কথা বলছিলে না ?
- প্রডাকশন ইকনমিক্সের বই ।
- আজকাল ইন্টারনেট থেকে অনেকে বই ডাউন-লোড করে পড়ে ।
- হ্যাঁ তা করে তবে আমার কিছু অন্য প্রয়োজন আছে ।
- কাউকে কি গিফট দেবে ?
- হ্যাঁ !
- কাকে ?
- আমার এক ছাত্রী কে ।
মুখটা লাল হয়ে গেল পায়েলের । খুব অপমান বোধ হল। আসলে প্রায় মেয়েরাই ওই এক ই কপ্লেক্সে ভোগে । মোটেই অন্য মেয়ের সংস্পর্শে তার প্রিয়তম কে আসতে দেয় না । সে ছাত্রী ই হোক কিম্বা অন্য কেউ হোক... নিছক সন্দেহ বাতিক থেকেই যায় । মনে জাগে অনেক প্রশ্ন...।
ঘটনা চক্রে প্রতীক খুব গম্ভীর ভাবে বলে বসে,“ও কিন্তু আমার মামাতো বোন পিয়ালী। ওর বইটা দরকার । আমাকে আসার সময় বলেছিল আনতে । আসলে ও আমার জন্যই ইকনমিক্স অনার্স নিয়েছে তাই ওর আবদার আমাকে রাখতেই হবে”।
কথাগুলো শোনার পর পায়েলের গালে যেন কেউ ঠাস করে একটা চড় মারল বলে তার মনে হল। প্রসঙ্গ বদলানোর জন্য বললো, “না না আমি এমনি জিজ্ঞাসা করছিলাম”।
ব্যাপারটা ঠাওরাতে প্রতীকের খুব একটা অসুবিধে হল না !
ও আসলে জানতো এই কথায় পায়েল একটু রাগ অভিমান করবে আর মিথ্যে সন্দেহ করবে যেটার মজা ও নেবে।
- তোমার কিন্তু এটা ভারি অন্যায় । আমাকে বলবে ত !
- কি বলব ? ...ও ওহ... !! হেঁসে ফেলে প্রতীক ।
- খুব না ! চোখে জল আসে পায়েলের। “আমাকে রাগাতে আর অপমান করতে তোমার এতটুকু খারাপ লাগে না” ?
- এতে অপমানের কি হল ? পিয়ালী আমার ছোট বোন ।
- কই আমাকে তো কোনদিন বলনি ওর কথা ।
- কি মুস্কিল । সব কথা কি বলা যায় ! না প্রয়োজন আছে বলার !
মিথ্যে অভিমানে পায়েল আলতো করে চাঁটি মারে প্রতীকের বাঁ হাতে । দুজনের কথোপকথনে পথচারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে । প্রতীক অপ্রস্তুত হয়ে বলে , “এখন থেকেই শাসন করবে তুমি”। হ্যাঁ কারণ তুমি শুধু আমার .. আর কারুর নয় ..’
- ওকে বস। ..... আমার বাস এসে গেছে বাই । এরকম অপ্রস্তুত মুহূর্তে পায়েল পড়বে ভাবতেও পারেনি।
কয়েকদিন পরে ...
কফি হাউসে কফির পেয়ালায় মুখ দিয়ে বসে আছে প্রতীক সঙ্গে বন্ধু রনবীর আরও দুজন। পার্টি আর খেলার কথাই বেশি হয় এখানে । হঠাৎ পায়েলের নাম্বার থেকে কল এলো প্রতীকের মোবাইলে ।
-কোথায় আছো ?
কেন?
- এখুনি এস আউট-রাম ঘাটে । খুব দরকার ।
- আমার হাতে সময় নেই একদম। প্রতীক কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই ফোন কেটে গেল। বাসে যেতে হলে এক ঘণ্টা লেগে যাবে, তাও বেরিয়ে পড়ল । কি হতে পারে ভেবে কূলকিনারা পেল না। মধ্যেখানে আবার ফোন ।
- কি তুমি বেরিয়েছ ?
- হ্যাঁ রে বাবা । কি হয়েছে বল-বেতো !
- এলেই জানবে ।
আউট-রাম ঘাট আস্তেই বাস থেকে নেমে পূর্ব পরিচিত স্থানে পৌঁছে দেখে পায়েল একটা বেঞ্চে বসে গঙ্গা দেখছে । জোড়ায় জোড়ায় কপোত কপোতীর ভীড় । সকলে মসগুল নিজের প্রেমিক/প্রেমিকার সাথে গল্প করতে । প্রতীক কে দেখে হাতে স্বর্গ পাওয়ার মত লাগলো পায়েলর । দৌড়ে এসে প্রতীক কে জডিয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল ।
- একি ছেলেমানুষি ! ছাড় । কি হয়েছে বল ? একটু অপ্রস্তুত বোধ করে ।
- কি না হয়েছে বল ! বাপী আমার বিয়ের ঠিক করেছেন এক সফট্ ওয়ার ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে ।
- কংগ্রাচুলেসন।
- তোমার বলতে লজ্জা করেনা ? শালা বাঁদর আমাকে নিয়ে ছেলে খেলা ! মহিলার মুখে ‘শালা’ শব্দ টা শুনে চমকে গেলেও আশ্চর্য হলনা কারণ এর আগেও একবার শুনেছে । কথাটার গুরুত্ব উপলব্ধি করে বলল ঃ
- রিল্যাক্স্ বেবি রিল্যাক্স্ !
- চল আমরা বিয়ে সেরে ফেলি কোথাও । আমরা দুজনেই এডাল্ট্ । আইনের দিক থেকে কোন অসুবিধে নেই।
- খেপেছ ! আমি একটা বেকার ছেলে , আমার মা বাবা আমাকে তেজ্য পুত্র করে দেবেন এসব শুনলে । তাছাড়া আমার নিচে বোন আছে ওর ভবিষ্যৎ কি হবে ? মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করতে হবে আমাকে। এত উতলা হলে চলবে না আমার। তোমাকে জীবন সঙ্গিনী করার কোন বাধা নেই কিন্তু পালিয়ে বিয়ে করা কে আমি কাপুরুষতার পর্য্যায়ে ফেলি । ওটা ভীরুতার লক্ষণ । খুব বাজে ব্যাপার । আমি তোমার বাবার সঙ্গে কথা বলতে চাই। আমিত কিছু অন্যায় করিনি.......!
....... ওরে আমার বীরপুরুষ রে ! হুঁ ! আমার বাপীকে ত চেনোনা ! উনি বাপীর সঙ্গে দেখা করবেন ! তার আগে বাপী তোমাকে লক আপে ভরে দিন আর আমি ওই ভোঁদাইয়ের সঙ্গে ...... । ফটো টা দেখেছি । কি বিচ্ছিরি ম্যাগো । আমি পারবোনা ওই ভোঁদাইয়ের সঙ্গে থাকতে । তুমি এক্ষুনি কিছু কর । তুমি না পুরুষ মানুষ ?
এই ! এটাই মহিলাদের প্রধান অস্ত্র ! প্রতীক জানে মহিলারা পুরুষদের পৌরুষত্বে আঘাৎ দিয়ে কথা বলে , যখন কিনা , তারা কোন কাজ সহজে তাদের দিয়ে হাসিল করাতে চায় , কিংবা যখন বিপাকে পড়ে । এখন ও কোন কথা শোনার মুডে নেই । কারন ওকে ডক্টরেট করতেগেলে এসব ছেঁদ কথায় মন দিলে ওর লক্ষ্য পুরন হবে না ।
কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে একটা সাদা রঙের স্করপিও এসে থামল । পায়েল গাড়ীটা দেখেই আঁতকে ওঠে । ও সঙ্গে সঙ্গে প্রতীকের হাথ ধরে এক হ্যাঁচকা টান দেয় । প্রতীক কিছু বোঝার আগেই এক বলিষ্ঠ ব্যাক্তিত্বের সুটেড বুটেড মাঝ বয়েসি ভদ্রলোক এসে ওকে বলে , ‘আপনি কি প্রতীক চৌধুরী’ ?
- আজ্ঞে হ্যাঁ । কিছু প্রয়োজন আছে ?
- প্রয়োজন না থাকলে কি এখানে আপনার কাছে আসি । আপনি কি করেন ?
- আমি ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটীর ছাত্র ; এই বছর এপ্পলায়েড ইকনমিক্সে মাস্টার ডিগ্রীর ফাইনাল দেব ।
- ও বেকার ! ইন্টেরেস্টিং । বাবা কি করেন?
প্রতিকের পাল্টা প্রশ্নঃ আপনার পরিচয় ? আপনি আমাকে এত সব প্রশ্ন করছেন কেন?
- আমি ! আমি পায়েলের বাবা , নৃসিংহ চক্রবর্তী , আই.পি.এস্ । তুমি আমার নাম শোননি ? আমি কমিশনার, ইন্টেলিজেন্স্ , কোলকাতা পুলিস্ । শোন নি আমার নাম ? স্ট্রেঞ্জ্ । একটা বিদ্রূপের হাঁসি মুখে নিয়ে ভদ্রলোক বললেন । তোমার জানা উচিৎ ছিল ।
- আমি অর্থনীতির ছাত্র পুলিসের খবর রেখে কি হবে আমার ? আপনি আমাকে বেকার কেন বলছেন ? আমার তো পড়া শেষ হয়নি এখনও । পড়া শেষ করে ডক্টরেট্ করবো । আমি ইউনিভারসিটিতে ফার্স্ট হয়ে ছিলাম অনার্সে । তাছাড়া আপনি আমার বাবাকে টানছেন কেন এর মধ্যে ! নিজের পায়ে না দাঁড়ানো অবধি আমি আমার কোন ব্যাপারে সিধ্যান্ত নব না ।
- ইয়ং ম্যান প্রেম করার আগে আপনার যাচাই করা উচিৎ ছিল আপনার আর্থিক স্বচ্ছলতা আছে কিনা ! আমার মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারেন , কিন্তু বিয়ে ? ইম্পসিবল্ । আপনি ত অর্থনীতির ছাত্র এটুকু আপনার কাছ থেকে আশা করেছিলাম। ওয়েল্ মাই বয় মাইন্ড ইওর স্টাডিস্ । ফার্স্ট এস্টাব্লিস্ ইয়োরসেলফ্ ইন দি সোসাইটি দেন থিংক অফ্ ম্যারেজ্। ওকে । ফরগেট্ হার সি ইস এ বেবি । স্টিল এ বেবি মাই বয় । গুড লাক্ । পায়েল থর থর করে কাঁপছিল ওর বাবা ওকে কাছে ডেকে বললেন, “আয় মা আমার কাছে আয়। শুনলিতো সব” ।
পায়েলের মুখ দিয়ে একটা কথাই বেরুল প্রতীকের উদেশ্যে .... কাওয়ার্ড.... কাপুরুষ... আমার সঙ্গে প্রতারণা । কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে পায়েল। বাবার সঙ্গে গাডিতে গিয়ে ওঠে ।
প্রতীক একটা সিগারেটে অগ্নি সংযোগ করে উদাস মনে আকাশের দিকে তাকায় আর এক রাশ ধোঁয়া মুখে নিয়ে একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে নিজেকে সামলে নেয় । তার পর প্রতীকের সঙ্গে আর পায়েলের দেখা হয় নি ।
পনের বছর পর ......
এরপর প্রায় ১৫ বছর কেটে গিয়েছে । প্রতীক এখন ইউনিভারসিটির এপ্লায়েড ইকনমিক্সের প্রফেসার । ডক্টর প্রতীক চৌধুরী । ওর ছাত্র ছাত্রীরা ওকে সম্মান করে । ওর কিন্তু ওই এক সাদা মাটা মাষ্টারী পোশাক , পায়জামা পাঞ্জাবী,ফ্রেঞ্চ কাট দাডী ,ঠোঁটে সিগারেট্ আর ভাবুক ভাবুক চেহারা । ওর বিয়ে হয় ওরই এক ছাত্রীর সঙ্গে নাম মধুমিতা সান্যাল ।
পায়েল জীবনে সুখি হল কিনা জানিনা । ওর বিয়ে হয়ে যায় সেই সফট্ওয়ার ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে। ওই বিয়েতে পায়েলের কোন মতা মতের ধার ধারেনি ওর বাবোর। পায়েলের মা অনেক বোঝাতে চেষ্টা করেন , কিন্তু কিছু ফল হয়নি । পায়েলের কথায় সেই ভোঁদাইয়ের সঙ্গেই োর বিয়ে হয়ে যায় । পায়েল একদমই পছন্দ করে না ওকে স্বামী হিসেবে। রাত দিন খটা খটি লেগেই থাকে । এর মধ্যে ওর মা মারা যান । বাবার রিটায়ারমেন্টের পর দুটো স্ট্রোক্ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন । পায়েল দেখা শোনা করে । বাবা বুঝতে পারেন মেয়ের মনের ব্যাথা । দু চোখ বেয়ে জল গডায় । পুরান দিনের স্মৃতি রোমন্থনে আর কোন লাভ নেই । একমাত্র মেয়ে, এতো টাকা পয়সা থেকেও শান্তিতে নেই তার কারণ তার মনের মতন বর পায়নি । যাকে পেল সে গ্রহণ যোগ্য নয় । পাঁড় মাতাল এক উচ্ছৃঙ্খল যুবক তার আরেকটি মেয়ের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক যেনে স্বামীকে ঘৃণা করে পায়েল। কিছু উপায় নেই। নিয়তির নিয়ম। মেনে নেয় সব কিছু । আজও প্রতীকের কথা মনে পড়ে । সেই রোগা লম্বা চেহারার ভাবুক ভাবুক লোকটি কাঁধে ব্যাগ আর ঠোঁটে সিগারেট্ । সব সময় অন্যমনস্ক কি যেন ভাবে ? এখন প্রতীক কি করছে ? ও কেমন আছে জানতে ইচ্ছে হয় পায়েলের । ওকে কি মনে রেখেছে ? মনটা ডুকরে কেঁদে ওঠে । কি হবে ওর কথা ভেবে ?
কলেজ স্ট্রীট বইয়ের দোকানের সামনেঃ-
কলেজ স্ট্রীটে বইয়ের দোকানে নতুন মারুতি ডিজায়ার গাড়ী থেকে নেমে হঠাৎ এক পায়জামা পাঞ্জাবী পরা ভদ্রলোক কে দেখে চিনে ফেলে পায়েল । বেশ কদিন আমেরিকার ডালাসে ছিল ওর স্বামীর সঙ্গে । অনেক দিন কলেজ স্ট্রীটে আসা হয় নি । কিন্তু ফ্রেঞ্চ কাট দাড়ি , চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা আর মন দিয়ে দেখছে কিছু পুরনো বই যে ভদ্রলোক ; সে যে প্রতীক তা ঠাওরাতে অসুবিধে হলনা । কাছে যাওয়ার সাহস হলনা । আবার মনে মনে লোকটার প্রতি আবেগ এলেও সেটা চেপে রাখল । মনের ভেতরটা ডুকরে উঠলো । মনে হল ঠাস করে গিয়ে গালে একটা চাঁটি মারি । অপদার্থ কাপুরুষ !! আবার নিজেকে সামলে নিল এ কি ভাবছে সে ? এঁর জন্যে-ইতো বসে আছে পথ চেয়ে কবে হবে তার সঙ্গে দেখা? ইনি তো তার মনের মানুষ !! আজ সেই ভ্যালেন্টাইন ডে । কিন্তু প্রতীক ওই সব একদম পছন্দ করতনা ! সে কি যাবে ওর কাছে ? ও কি চিনবে? যদি না চেনে ? চিনেও না চেনার ভান করে তাহলে লজ্জা ঘেন্নায় নিজেকে ছোট করবে ওর কাছে ? ওর প্রেম প্রীতি ভালবাসা তার কি কোন দাম নেই? রাবণের হাতে নিজেকে সঁপে দিয়েছে পায়েল । সে যখন পশুর মতন তার শরীরটাকে ছিঁড়ে খায় মনে হয় যেন ড্রাকুলা তার ধারল দাঁত দিয়ে ছিন্ন ভিন্ন করছে তার শরীরটাকে । কি নিয়ে দাঁড়াবে প্রতীকের কাছে ?বলবে প্রতীক আমি তোমাকে এখনো ভালবাসি । বলে কি লাভ ? ওকি মূল্য দেবে সেই ভালবাসার । ওকি জানে নারীর মনে যে প্রথম পুরুষ আসে সেই তার মনে আঁচড় দিয়ে যায়, যার ক্ষত ; ক্ষত বিক্ষত করলেও সে সেটাকেই আঁকড়ে ধরে । স্মৃতি টুকু তার মনে সান্ত্বনা দেয় । তাই সেই স্মৃতি নিয়ে ফিরে এল নিজের ঘরে ।
ভারতীয় রমণীর এটাই বৈচিত্র্য সে বহ্নি শিখায় জ্বলে পুড়ে মরে কিন্তু কাউকে বুঝতে দেয়না তার মনের ব্যথা । মনের ব্যথা মনেই থাক নাইবা তুমি জানলে ......। ভগবান তির্যক দৃষ্টিতে দেখেও দেখেন না । ওরা মেনে নেয় অদৃষ্ট বলে । আমরা পুরুষরা ওদের পুড়তে দেখেও না দেখার ভান করি ।