Wednesday, May 20, 2015

পুরীর চন্দন যাত্রা ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী / ২০.০৫.২০১৫ /



     
     


পথে প্রান্তরে 



পুরীর চন্দন যাত্রা
ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী 



পুরীতে বারো মাসে তেরো যাত্রা । পুরীর চন্দন যাত্রা না দেখলে বোঝান সম্ভব নয় । তিন ঠাকুরের প্রতি মূর্তি কে সুসজ্জিত নৌকায় বসান হয় । নৌকাটি রাজ হাঁসের মতন হয় । পুরীতে নরেন্দ্র পুষ্করিণী তে এই চন্দন যাত্রা হয় । ঠাকুর নৌকা বিহার করেন নরেন্দ্র পুষ্করিণীতে । এই সময় পুরী উৎসব মুখরিত । প্রচুর তীর্থ যাত্রীর সমাগম হয় এই চন্দন যাত্রার সময়। অক্ষয় তৃতীয়া থেকে জগন্নাথের রথ যাত্রার রথ নির্মাণ এর শুভারম্ভ হয়। ওই পবিত্র দিন-থেকে আবার নরেন্দ্র পুষ্করিণীতে চন্দন যাত্রার শুরু । অক্ষয় তৃতীয়া থেকে ৪২ দিন ধরে চলে এই চন্দন যাত্রা । চন্দন যাত্রা দুভাগে বিভক্ত ১) বাহ্য চন্দন যাত্রা ২) অন্দরের চন্দন যাত্রা । চন্দন যাত্রার সময় তিন ঠাকুরের প্রতিমূর্তিকে জগন্নাথ মন্দির থেকে মহা আড়ম্বরে চন্দন পুষ্করিণীতে নিয়ে যাওয়া হয় । এরপর ঠাকুর চন্দন বারিতে স্নান করেন এবং নরেন্দ্র পুষ্করিণীতে নৌকা বিহার করেন । বলা বাহুল্য, জগন্নাথ এই বৈশাখ মাসের প্রচণ্ড রৌদ্র তাপ থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে ভক্তের সঙ্গে মহা আনন্দে নৌকা বিহার করেন। সারা চন্দন পুষ্করিণী নৌকা প্রদক্ষিণ করে। সুসজ্জিত নৌকায় তিন ঠাকুর বলভদ্র, মা সুভদ্রা এবং জগন্নাথ মহাপ্রভু মহা আনন্দে ভক্তের সঙ্গে নৌকা বিহারে মগ্ন থাকেন। নৌকাটির গঠন ঠিক একটি রাজ হাঁসের মতনই। সারা পুষ্করিণী আলোক সজ্জায় সজ্জিত হয়। জগন্নাথের বৈচিত্র্যের এক অধ্যায় এই চন্দন যাত্রা ।








অনুগল্প পকেটমার ঃ ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী / ২০.০৫.২০১৫ / সকাল ০৯.০১


 
  অনুগল্প পকেটমার ঃ 
ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী / ২০.০৫.২০১৫ / সকাল ০৯.০১ 

হাওড়া স্টেশনের কোন এক ওয়েটিং রুম । সময় ভোর ছটা । ৭০ এর দশকের কোন এক সময় ।... 
হাওড়া স্টেশনে পুরী এক্সপ্রেসে আমার দিদি জামাইবাবু আসবেন । ওনারা পুরী বেড়াতে গিয়েছেন। আমি হাওড়া স্টেশন এ প্ল্যাটফর্ম টিকিট কিনে অপেক্ষা করছি সেই ভোর ৫ টা থেকে । প্ল্যাটফর্মে আসার পর এনাউন্স হল গাড়ী এক ঘণ্টা লেট আছে। মানে সেই সকাল ৬ টার সময় আসবে । অগত্যা ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই কারন বাইরে মুশল ধারে বৃষ্টি পড়ছে। ওয়েটিং রুমেই কুকুর গুলোর উৎপাত। ঘেউ ঘেউ চিৎকার মাঝে মাঝে ভিখিরিদের আনাগোনা।এতবড় রেল স্টেশনে কোন সিস্টেম নেই। হটাত এক ভদ্রলোক এসে আমার পাসে বসে জিজ্ঞাসা করলেন দাদা ম্যাচিস হবে ?
আমি মনে মনে বিরক্ত হয়ে বলি , “না আমি সিগারেট খাই না” ও আচ্ছা বলে উঠে যান ভদ্রলোক । ভদ্রলোক দ্রুত পায়ে এগিয়ে উধাও হন । 
হটাত আমার কেমন সন্দেহ হয় । পেছনের পকেটে হাত দিয়ে দেখি আমার পার্সটা নেই। আমি টাইট জিন্স পরেছিলাম তাই পার্সটা বোধ হয় বাইরে দেখা যাচ্ছিল । আমি খেয়াল রাখিনি। আমি দৌড়ে লোকটিকে সনাক্ত করার চেষ্টা করি। পরে না পেয়ে জি.আর.পি কে বলি লোকটির বর্ণনা দিয়ে। আমার কথায় ওরা বেশ মজা পায় । হিন্দি মেশান বাংলায় বলে “ও এতক্ষণে নাস্তা করছে আপনার টাকায় । হামি কি করবো” বলে খৈনি দলতে লাগলো হাতের চেটোয়।
মনে মনে ভাবি আমাদের সরকার এদের মাইনে দিয়ে রেখেছে লোকে বিপদে পড়লে বিদ্রূপ করতে। 
লোকদের দৌড় দৌড়ীতে আমি বুঝি ট্রেন ইন করছে প্ল্যাটফর্মে । 
দিদি জামাইবাবুকে দেখে ধাতস্থ হই । আমার পার্স চুরি যাওয়ার কথা বলি জামাইবাবুকে। 
জামাইবাবু বলেন তোরা যা আমি আসছি । 
হাওড়ার পুলিশ সুপার যে জামাইবাবুর ক্লাসমেট তা দিদির কাছথেকে জানি । 
সেই জি.আর.পি. কন্সটেবেল টি আসে আমার কাছে । বলে, “আগে বলবেন ত । হামি কি করে জানবো আপনি সাহেবের পেহচান আছেন। উ হারামি বিশ টাকার খেয়ে লিয়েছে । এই লিন আপনার পার্স । ঠিক আছে কিনা গুনে দেখুন” 
আমি মনে মনে ভাবি আসল হারামিটা কে ........?

Friday, May 15, 2015

যন্ত্রমানব@ভালবাসা.কম ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী / ২৫.১২.২০১৪ / ১১.৪৮ / খৃষ্ট মাস / বৃহস্পতিবার /


   

     
      যন্ত্রমানব@ভালবাসা.কম 
 ত্রিভুবন জিৎ  মুখার্জী / ২৫.১২.২০১৪ / ১১.৪৮ / খৃষ্ট মাস / বৃহস্পতিবার /

“আমার দোসর যে জন ওগো তারে কে জানে
একতারা তার দেয় কি সাড়া আমার গানে কে জানে..."
এই আর্তির মধ্যেই ব্যক্তি জীবনের পথ চলা! স্বপ্ন সাধ সাধনায়, ভাব ভাবনা ভালোবাসাকে বিশেষ একজনের সাথে মিলিয়ে নিতে! কারণ কালের মন্দিরায় জীবনের বোল ফোটাতে পরস্পরের সঙ্গ লাগে! তখন সেই সঙ্গতে মন বলে "সব পথ এসে মিলে গেল শেষে তোমারই দুখানি নয়নে-" এই যে পরস্পরের মধ্যে জীবনের পথ খুঁজে পাওয়া, পরস্পরের মধ্যে বেঁচে ওঠা, পরস্পরের মধ্যে সত্য হওয়া; এখানেই প্রেমের সার্থকতা! এখানেই মানুষ চলেছে তার দোসরের খোঁজে, "কবে আমি বাহির হলেম তোমারই গান গেয়ে"! আসলে দোসর খুঁজে পাওয়ার সাধনায় দোসর হয়ে উঠতে পারার শক্তিটাই গুরুত্বপূর্ণ! সেখানেই মুক্তি!” .............
 “আমিও ত মানুষ কিন্তু তোমার মত যন্ত্র-মানুষ নই।“
“আমি আর এই মিথ্যে সম্পর্কটাকে বিশ্বাসহীনতার চোরাবালির ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে যেতে পারছিনা! অথচ যতবার এসব  বলতে গিয়েছি তোমার মুখের দিকে তাকিয়েছি , ভেসে গিয়েছি তোমার ভালোবাসার উচ্ছ্বাসে, মাদকতায়,সমর্পণে।“
    
প্রথম পর্ব


 আমার গল্পের নায়ক এক  মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে “সুদীপ্ত”  । মেধাবী ছাত্র । কম্প্যুটার ইঞ্জিনিয়ার । নায়িকা “সুদীপ্তা” সে’ও কম্প্যুটার ইঞ্জিনিয়ার এবং মেধাবী , বাবা মা আই.এ.এস অফিসার ।   অভাব কি জানেনা । দুজনেই ইনফোসিস , বেঙ্গালুরুতে চাকরীতে সবে ঢ়ুকেছে। এর পর...........

সুদীপ্ত বি.টেক.(কম্প্যুটার ইঞ্জিনিয়ারিং ) এর পর ইনফোসিস্ , বেঙ্গালুরুতে সফট্ওয়ের ইঞ্জিনিয়ার এর চাকরিতে জয়েন করে । এখানে বলে রাখা ভালো সুদীপ্ত , আই.আই.টি ,মুম্বাই থেকে ফার্স্ট ক্লাস ৯০% মার্ক্স পেয়ে  পাস করার পর চাকরীতে জয়েন করতে বাধ্য হয় । অন্য কোম্পানি তে   ভালো চাকরি পেয়েছিল কিন্তু জয়েন করে নি। ওর বাবা অনেক কম বয়েসে  হার্ট এটাকে হটাত মারা জান । ছোট ভাইয়ের পড়ার দায়িত্ব  সামলানোর জন্য ও বাধ্য হয় চাকরি করতে  । বাড়ীতে মা এবং ছোট ভাই ছাড়া আর কেউ নেই । অনেক ইচ্ছে ছিল এম.টেক্. এর পর ডক্টরেট করবে বলে, কারন ওর টিচিং জব পছন্দ ।  সে ইচ্ছেটা ওকে সর্বদা পড়াশোনার দিকে টানতো । আড্ডা দিতে মোটেই ভালোবাসেনা সুদীপ্ত । ওর প্রজেক্ট এর প্রোজেক্ট্ ম্যানেজার (পি.এম.)ওকে খুব স্নেহ করেন । ওর বুদ্ধিদীপ্ত চেহারার সঙ্গে ও কাজ ও খুব নিখুঁত ভাবে করে । সুদীপ্তা ওই একি প্রোজেক্ট্ এ , ওর সঙ্গে জয়েন করে একি দিনে। মাইসুরে তিন মাসের ট্রেনিং সেরে দুজনে বেঙ্গালুরুতে জয়েন করে । তাই সুদীপ্তার সঙ্গে আলাপ প্রায় তিন  মাসের ওপর । সুদীপ্ত র চেহারার আকর্ষণের সঙ্গে ওর প্রখর বুদ্ধি সহজেই নারীর মন আকর্ষণ করে ।  এটাই স্বাভাবিক । সুদীপ্তা এন.আই.টী., রাউরকেল্লা থেকে কম্প্যুটার ইঞ্জীনিয়ারিং এ  বি.টেক্.ফার্স্ট ক্লাস  কাজেই ও খুব ফেলনা নয়। দেখতে খুব সুন্দরী । বাবা মা দুজনেই আই.এ.এস অফিসার তাই টাকার অভাব নেই ।  তবে আই.আই.টি. পাস আউট দের ইনফোসিসে বেশি টাকা মাইনে দেয় । বেঙ্গালুরের ইনফোসিস্ এর নিয়ম অনুজাই মেয়েরা সন্ধ্যে ছটার পর অফিসে  থাকা মানা ছিল। এসব আমি ২০০৫ সালের কথা  বলছি ।
সুদীপ্ত কাজের মধ্যে মসগুল থেকে এক রকমের যন্ত্রমানবে পরিণত হয়ে গিয়েছিল । অফিস আর কাজ ছাডা কিছুই জানতোনা । প্রায় দিন বেলা ১.৩০ টার সময় সুদীপ্তা ক্যান্টিনে লাঞ্চ খেত সুদীপ্তর সঙ্গে দেখা করে। সুদীপ্তার ওখানে গল্প করার ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই কারন সুদীপ্ত  বিশেষ পাত্তা দিত না  ওসব ব্যাপারে । সর্বদা কাজে মসগুল থাকতো  কি করে অন্ সাইটে যাবে  । তারই  চিন্তায় থাকতো । একদিনের কথা, সুদীপ্তা , ওর নিজের  জন্মদিন সেলিব্রেট্ করার জন্য সব বন্ধু বান্ধবদের ডেকেছিল পার্টি তে  । সুদীপ্তকেও ডেকেছিল  । 
কিন্তু ফরমালিটি র জন্য পার্টি তে গিয়ে সুদীপ্ত , সুদীপ্তাকে  গিফট দিয়ে চলে যায়। এটা সুদীপ্তার  মনে লাগে । এমনিতেই  সফট ওয়ের ইঞ্জিনিয়ার রা পার্টি  , আড্ডা  , শুক্রবার রাতে এবং শনিবার দিন সাধারনতঃ করেথাকে । ওদের মতে সেটারডে নাইট মাস্ট বি ডিলাইট্ । সুদীপ্তা মনে দুঃখ পেলেও প্রকাশ করেনি কারন ও সুদীপ্ত কে মনে মনে ভালবাসত কিন্তু কখনো প্রকাশ করেনি।
এই অপ্রকাশিত প্রেম এবং বলতে গেলে এক তরফা প্রেম যেন অসহ্য লাগে সুদীপ্তার ।


একদিন সুদীপ্তকে বলে বসে, “তুমি আমাকে এভয়েড্ করছ কেন ? আমি লাঞ্চের সময় ডাকলে তুমি এসে খেয়ে বিল মিটিয়ে চলে যাও ।  কোন কথা কি তোমার মুখে আসেনা ?আমি তোমার প্রজেক্টে কাজ করছি ! তোমার সঙ্গে একসঙ্গে ট্রেনিং নিলাম ।  অন্য কলিগ্ রা ত এরকম নয় ! তুমি এরকম ডিফারেন্ট এটিচ্যুড দেখাও কেন?” এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে সুদীপ্ত র  দিকে তাকাল     উত্তরের অপেক্ষায় ।  
সুদীপ্ত বলে, “আমাকে ভুল বুঝোনা । আমার মাথায় অনেক চিন্তা । আমার মা বিধবা, ভাইয়ের পড়া আমার ওপর নির্ভর করছে । এই পরিপ্রেক্ষিতে আমার ওপর সংসারের সব দায়িত্ব , ও তুমি বুঝবেনা !”   তুমি মুখে সোনার চামচ নিয়ে জন্মেছ । তুমি কি করে জানবে নিম্নমধ্যবিত্তের জ্বালা যন্ত্রণা ? তোমার বাবা মা দুজনেই  আই এ এস অফিসার ! কি অভাব দেখেছ জীবনে ? বাবা অসময়ে চলে গেলেন । মা আমার ওপর ভরসা  করে আছেন । আমি আমার ছোট ভাই এর দায়িত্ব নব বলে । আমি আমার মা'কে প্রতারণা করতে পারিনা । তিনি এমনিতেই দুঃখ পেয়েছেন আর নতুন করে দুঃখ দিতে পারিনা।

ক্রমশঃ- 

Wednesday, May 13, 2015

উড়ালপুল ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী / ১৪.০৫.২০১৫/ বেলা ১০.২০/৩০শে বৈশাখ ১৪২২ (বৃহস্পতিবার)/


 
   উড়ালপুল
ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী / ১৪.০৫.২০১৫/ বেলা ১০.২০/৩০শে বৈশাখ ১৪২২ (বৃহস্পতিবার)/
সাউথ সিঁথি তে আমার শালীর বাড়ী । শালী বলে কথা, অনেক দিন পর ওদের ওখানে গিয়েছিলাম । ওখানেই রাতের খাওয়ারটা সেরে ফেললাম । ওখান থেকে ফিরতে ফিরতে তখন রাত প্রায় ১২ টা বাজে । ‘আরতাভ’ আমার ছেলের ড্রাইভার নাগের বাজার , সাউথ দম দম দিয়ে ভী আই পি ধরে ক্লাব টাউনের ফ্ল্যাটে পৌঁছনর সময় ওই উড়ালপুল এর এক ঘটনার কথা বলতে বলতে গাড়ী চালায় ।
সার নাগের বাজারের কাছে ওই আই এল এস হসপিটালের লাগাও একটা উড়ালপুল আছে দেখলেন ?
আমি বলি , না খেয়াল করিনি ।
গিন্নী বলেন , হ্যাঁ হ্যাঁ দেখেছি । কেন ! কি হল !!
আবার শুরু করে আরতাভ , ওই উড়ালপুলে এক বাইক আরোহী কিছুদিন আগে তার গার্ল ফ্রেন্ড কে নিয়ে হাইস্পিডে যাওয়ার সময় এক্সিডেন্টে হয় । ওই স্পটেই ওরা দুজনে মারাযায় । তারপর-থেকে ওই উড়ালপুলের ওপর-দিয়ে যে যায় তার কিছু না কিছু বিপদ হয় ।
সেকি ?
তা কি বিপদ হয় শুনি !
কাছে পিঠে যত ফ্ল্যাট আছে তাদের ওই ছেলে মেয়ে দুটো হয়রান করে ।
গাঁজাখুরি কথাতে মন না দিয়ে গান শুনছিলাম।
আরতাভ বলে কাকু বিশ্বাস করবেন না রাতে ওই উড়ালপুল দিয়ে যে গাড়ী যেত তার চাকা পাঙ্কচার হত নয় গাড়ীর স্টার্ট বন্দ হয়ে যেত । শেষে পুলিশ পাহারা দেয় । তাতেও সব অদ্ভুত কাণ্ড ঘটে । এক পুলিশের গালে কেউ থাপ্পড় মারে আবার অন্য পুলিশকে কেউ পিঠে কিল মারে । শেষে ওদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয় । তাই প্রশাসন ওই ফ্লাই ওভার বন্দ করে দেয় ... কি বলতে যাচ্ছিল কে যানে ...
আমরা ফেরার সময় বৃষ্টি সুরু হয়ে গিয়েছিল । গাড়ী ভী আই পি দিয়ে যাচ্ছিল হঠাৎ গাড়ীর সামনে কে যেন এসে দাঁড়ায় । তখন প্রায় রাত সাড়ে বারোটা বাজে । আবছা ঠিক দেখা যাচ্ছিল না । বৃষ্টিতে অস্পষ্ট । আরতাভ ঘাবড়ে যায় ।
আমি বুঝি , ও , অন্য কিছু ভেবেছে তাই বলি গাড়ী থামি-ওনা চল পাস কাটিয়ে । আমি এরকম অনেক ভুয়ো কথা শুনেছি কিন্তু ওই ছবিটা এখন মনে পড়ে গাড়ীর সামনে । হয়ত মনের ভুল হতে পারে বলা মুস্কিল । গিন্নী ভয়-পান না খুব একটা । উনি দুর্গা নাম জপেন মনে মনে ।
একটু এগিয়েই আবার সেই চেহারা । সুধু সাদা ধোঁয়াটে । হঠাৎ গাড়ীর মিউজিক সিস্টেম বন্দ হয়ে যায় ।
আরতাভ বলে সার ওই ছেলেটা ।
কি করে জানলে?
আমি জানি সার ।
আমার মনে হল ও মিছি মিছি বলছে আমাদের ভয় দেখানর জন্য । না ব্যাপারটা সুবিধে ঠেকছে না । তবুও আরতাভ কে বলি স্পীড বাড়াও ।
না সার ওটি হলে আর বিপদ ।
কি বিপদ এ-টাকি ভুতের ভবিষ্যৎ ?
তা জানিনা সার তবে আস্তে যাওয়াই ভালো ।
তুমি চালাও কিছু ভেবনা ।
আমার অভ্যাস আছে সার । আমার হামিদ চাচা একটা তাবিজ দিয়েছেন ওটা কাছে থাকলে কোন ভুত আমার কাছ ঘেঁসতে পারবে না ।
তবে ঘাবড়াচ্ছ কেন?
বৃষ্টির ছাঁটে ভালো দেখা যাচ্ছিলোনা । ওয়াইপার এর আওয়াজে একটা রিদিমিকাল আওয়াজ ।
বাড়ী প্রায় এসে-গেল । কিন্তু সামনে গাড়ীর হেড লাইটে যা দেখলাম তা নিজের চোখে দেখেও বিশ্বাস করতে পারলাম না । সামনে একটা লাশ । রক্তে ভেজা লাশ পড়ে আছে । রাস্তায় রক্ত । গা গুলিয়ে উঠল ।
আরতাভ বলে ওই ছেলেটা সার ।
দূর এখানে আসবে কি করে ? এত আমাদের বাড়ী এসে গেল ।
না সার সত্যি আমি ওকে চিনি ।
ঠিক আছে ঠিক আছে তুমি গাড়ী ঘোরাও । গিন্নী চুপ করে সব দেখছেন আর দুর্গা নাম জপ করছেন।
এ হেন কথা কাউকে বললে বিশ্বাস করবে না কিন্তু কি হল কে জানে আমার গায়ে কাঁটা দিল।
আর তখন ই একটা কান্নার শব্দ , মেয়ের গলার , বাঁচাও বাঁচাও .....

Friday, May 8, 2015

তির্যক / ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী / ১৪.০৮.২০১৪



 তির্যক 
ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী ১৪.০৮.২০১৪
আমার গল্পের নায়িকা উচ্চ মধ্যবিত্ত ঘরের এক মহিলা। তিনি সর্ব গুণসম্পন্না এক ভারতীয় নারী। শিক্ষিতা, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত ও ওড়িশি নৃত্যেও পারদর্শী । বলতে গেলে প্রতিভাসম্পন্না নারী । তা সেই মেয়েটিকে নিয়ে আমার গল্প লেখা কেন ? তার মনে , আচরণে প্রেম-প্রীতির যে ছবি আমি দেখেছিলাম সেটাই আমার গল্প লেখার অনুপ্রেরণা । মেয়েটির নাম ‘পায়েল’ ।
ঘটনাটা এইরকম ..... পায়েল তখন ইংলিশ অনার্স নিয়ে স্কটিশে পড়ছে । এমনিতে পায়েল ভাল ছাত্রী ছিল তাই ওর অনার্স পেতে অসুবিধে হলনা। একজন স্কচ্ লেডী হেড অফ দি ডিপার্টমেন্ট নাম ম্যাডাম এডিনা । ম্যাডাম এডিনা সেদিন উইলিয়াম্ সেক্সপিয়ারের ‘ওথেলোর‘ ক্লাস্ নিচ্ছিলেন । সুস্পষ্ট উচ্চারণ। ভদ্রমহিলা সেক্সপিয়ারের ড্রামা গুলে খেয়েছেন পড়ানোর ধরন থেকেই সহজে অনুমেয় ।
সকলে মন্ত্রমুগ্ধর মতন শুনছিল । পায়েল , ম্যাডাম এর ট্যুটোরিয়াল ক্লাসে কিছু প্রশ্ন করে, “কবে এবং কোথায় প্রথম ওথেলো ষ্টেজে দেখান হয় ইত্যাদি” । হঠাৎ কলেজের ঘণ্টা বাজে । ছেলে মেয়েরা ক্লাস থেকে বেরোয় । পায়েল তখন ঘোরে রয়েছে , শুধু ডেসডেমনার কথা ভাবছে । এই সময় ও’র প্রতীকের সঙ্গে কলেজ ক্যাম্পাসেই দেখা হয় ।
প্রতীক খুব সাধারণ ছেলে । কিছুটা ভাবুক ভাবুক কবি কবি ভাব । পরনে পায়জামা পাঞ্জাবী কাঁধে ব্যাগ । প্রতীক এপ্লায়েড ইকনমিক্স নিয়ে ইউনিভার্সিটিতে এম.এ. ফাইনাল ইয়ারে । নিজের পড়ার খরচ টিউশনি করে মেটায় । বাবা একটা প্রাইভেট ফার্মে কাজ করেন । যৎ সামান্য রোজগারে সংসার খুব কষ্টেই চলে । নিম্নমধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে প্রতীক। এসব ছেলেদের জীবনে অনেক সংগ্রাম করে বড় হতে হয় । এরা খুব একটা মেয়েদের সঙ্গে মেলা মেশা করে না। যদিও করে খুব মেপে জুপে কারন ওদের পকেট প্রায় ‘গড়ের মাঠ’ । একটিভ পার্টি পলিটিক্সে থাকে কিন্তু নিজেকে সে ভাবে জড়িয়ে রাখে না । প্রখর বুদ্ধি এবং বিচার শক্তি থাকে। কচু পাতার ওপর জল ভাসার মতন এদের প্রেম । নিজে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া অবধি এদের কাছে প্রেম-প্রীতি- ভালোবাসা এক বিলাসিতা ! তবে নারী সঙ্গতে আপত্তি থাকে না !!
এবার প্রসঙ্গে আসিঃ
- আজ কোথায় যাবে ? পায়েলের প্রশ্ন তে প্রতীক বিব্রত হয়ে পডে !
- ও ! হ্যাঁ তুমি ? না কোথাও নয় । সন্ধ্যে বেলায় টিউশন আছে । লোকালে যেতে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট । কথাগুলো অন্যমনস্ক ভাবে প্রতীক বলে ।
- আজ ভিক্টোরিয়া যাবে ?
- না । আমার অন্য কাজ আছে । কলেজ ষ্ট্রীটে কিছু পুরনো বই কিনতে যাব।
- চল না আমিও যাই সঙ্গে, আমার তো ওই দিকেই বাড়ী ।
প্রতীক পকেটে হাত ঢুকিয়ে দেখল কিছু খুচরো টাকা আছে । একটা সিগারেট - খেলে বাকি থাকছে ৫৫ টাকার মতন। ...। বইটার দাম টা৫০কা তো হবেই ...! হাতে কিছুই থাকছে না ....!!
- কি ভাবছ অত । চল তো । বাস এসে গেল।
- ওটাতো কলেজ স্ট্রীট যাবে ।
- হ্যাঁ আমিও ওই দিকেই যাব । নাও উঠে পড় ।
মন্ত্র মুগ্ধের মতন উঠে পড়লো প্রতীক । বাস ভাড়াটা প্রতীক দিতে যাচ্ছিল কন্ডাক্টর পেছনে ঈশারা করে কিছু বোঝাতে চেষ্টা করল। বাস ভাড়াটা কেন ও দিল ? আত্মসম্মানে বাধে । খুব বাজে লাগলো । কলেজ স্ট্রীট বাটার কাছে নেমে দুজনে হাঁটা দিল ।
- তুমি কিন্তু এটা ভারি অন্যায় করলে ! প্রতীক খুব অপ্রস্তুতে পড়ার মতন বলল !
- ছাড় তো ! ও আমাকে পরে পুষিয়ে দেবেখন , তুমি কি যেন বই এর কথা বলছিলে না ?
- প্রডাকশন ইকনমিক্সের বই ।
- আজকাল ইন্টারনেট থেকে অনেকে বই ডাউন-লোড করে পড়ে ।
- হ্যাঁ তা করে তবে আমার কিছু অন্য প্রয়োজন আছে ।
- কাউকে কি গিফট দেবে ?
- হ্যাঁ !
- কাকে ?
- আমার এক ছাত্রী কে ।
মুখটা লাল হয়ে গেল পায়েলের । খুব অপমান বোধ হল। আসলে প্রায় মেয়েরাই ওই এক ই কপ্লেক্সে ভোগে । মোটেই অন্য মেয়ের সংস্পর্শে তার প্রিয়তম কে আসতে দেয় না । সে ছাত্রী ই হোক কিম্বা অন্য কেউ হোক... নিছক সন্দেহ বাতিক থেকেই যায় । মনে জাগে অনেক প্রশ্ন...।
ঘটনা চক্রে প্রতীক খুব গম্ভীর ভাবে বলে বসে,“ও কিন্তু আমার মামাতো বোন পিয়ালী। ওর বইটা দরকার । আমাকে আসার সময় বলেছিল আনতে । আসলে ও আমার জন্যই ইকনমিক্স অনার্স নিয়েছে তাই ওর আবদার আমাকে রাখতেই হবে”।
কথাগুলো শোনার পর পায়েলের গালে যেন কেউ ঠাস করে একটা চড় মারল বলে তার মনে হল। প্রসঙ্গ বদলানোর জন্য বললো, “না না আমি এমনি জিজ্ঞাসা করছিলাম”।
ব্যাপারটা ঠাওরাতে প্রতীকের খুব একটা অসুবিধে হল না !
ও আসলে জানতো এই কথায় পায়েল একটু রাগ অভিমান করবে আর মিথ্যে সন্দেহ করবে যেটার মজা ও নেবে।
- তোমার কিন্তু এটা ভারি অন্যায় । আমাকে বলবে ত !
- কি বলব ? ...ও ওহ... !! হেঁসে ফেলে প্রতীক ।
- খুব না ! চোখে জল আসে পায়েলের। “আমাকে রাগাতে আর অপমান করতে তোমার এতটুকু খারাপ লাগে না” ?
- এতে অপমানের কি হল ? পিয়ালী আমার ছোট বোন ।
- কই আমাকে তো কোনদিন বলনি ওর কথা ।
- কি মুস্কিল । সব কথা কি বলা যায় ! না প্রয়োজন আছে বলার !
মিথ্যে অভিমানে পায়েল আলতো করে চাঁটি মারে প্রতীকের বাঁ হাতে । দুজনের কথোপকথনে পথচারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে । প্রতীক অপ্রস্তুত হয়ে বলে , “এখন থেকেই শাসন করবে তুমি”। হ্যাঁ কারণ তুমি শুধু আমার .. আর কারুর নয় ..’
- ওকে বস। ..... আমার বাস এসে গেছে বাই । এরকম অপ্রস্তুত মুহূর্তে পায়েল পড়বে ভাবতেও পারেনি।
কয়েকদিন পরে ...
কফি হাউসে কফির পেয়ালায় মুখ দিয়ে বসে আছে প্রতীক সঙ্গে বন্ধু রনবীর আরও দুজন। পার্টি আর খেলার কথাই বেশি হয় এখানে । হঠাৎ পায়েলের নাম্বার থেকে কল এলো প্রতীকের মোবাইলে ।
-কোথায় আছো ?
কেন?
- এখুনি এস আউট-রাম ঘাটে । খুব দরকার ।
- আমার হাতে সময় নেই একদম। প্রতীক কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই ফোন কেটে গেল। বাসে যেতে হলে এক ঘণ্টা লেগে যাবে, তাও বেরিয়ে পড়ল । কি হতে পারে ভেবে কূলকিনারা পেল না। মধ্যেখানে আবার ফোন ।
- কি তুমি বেরিয়েছ ?
- হ্যাঁ রে বাবা । কি হয়েছে বল-বেতো !
- এলেই জানবে ।
আউট-রাম ঘাট আস্তেই বাস থেকে নেমে পূর্ব পরিচিত স্থানে পৌঁছে দেখে পায়েল একটা বেঞ্চে বসে গঙ্গা দেখছে । জোড়ায় জোড়ায় কপোত কপোতীর ভীড় । সকলে মসগুল নিজের প্রেমিক/প্রেমিকার সাথে গল্প করতে । প্রতীক কে দেখে হাতে স্বর্গ পাওয়ার মত লাগলো পায়েলর । দৌড়ে এসে প্রতীক কে জডিয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল ।
- একি ছেলেমানুষি ! ছাড় । কি হয়েছে বল ? একটু অপ্রস্তুত বোধ করে ।
- কি না হয়েছে বল ! বাপী আমার বিয়ের ঠিক করেছেন এক সফট্ ওয়ার ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে ।
- কংগ্রাচুলেসন।
- তোমার বলতে লজ্জা করেনা ? শালা বাঁদর আমাকে নিয়ে ছেলে খেলা ! মহিলার মুখে ‘শালা’ শব্দ টা শুনে চমকে গেলেও আশ্চর্য হলনা কারণ এর আগেও একবার শুনেছে । কথাটার গুরুত্ব উপলব্ধি করে বলল ঃ
- রিল্যাক্স্ বেবি রিল্যাক্স্ !
- চল আমরা বিয়ে সেরে ফেলি কোথাও । আমরা দুজনেই এডাল্ট্ । আইনের দিক থেকে কোন অসুবিধে নেই।
- খেপেছ ! আমি একটা বেকার ছেলে , আমার মা বাবা আমাকে তেজ্য পুত্র করে দেবেন এসব শুনলে । তাছাড়া আমার নিচে বোন আছে ওর ভবিষ্যৎ কি হবে ? মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করতে হবে আমাকে। এত উতলা হলে চলবে না আমার। তোমাকে জীবন সঙ্গিনী করার কোন বাধা নেই কিন্তু পালিয়ে বিয়ে করা কে আমি কাপুরুষতার পর্য্যায়ে ফেলি । ওটা ভীরুতার লক্ষণ । খুব বাজে ব্যাপার । আমি তোমার বাবার সঙ্গে কথা বলতে চাই। আমিত কিছু অন্যায় করিনি.......!
....... ওরে আমার বীরপুরুষ রে ! হুঁ ! আমার বাপীকে ত চেনোনা ! উনি বাপীর সঙ্গে দেখা করবেন ! তার আগে বাপী তোমাকে লক আপে ভরে দিন আর আমি ওই ভোঁদাইয়ের সঙ্গে ...... । ফটো টা দেখেছি । কি বিচ্ছিরি ম্যাগো । আমি পারবোনা ওই ভোঁদাইয়ের সঙ্গে থাকতে । তুমি এক্ষুনি কিছু কর । তুমি না পুরুষ মানুষ ?
এই ! এটাই মহিলাদের প্রধান অস্ত্র ! প্রতীক জানে মহিলারা পুরুষদের পৌরুষত্বে আঘাৎ দিয়ে কথা বলে , যখন কিনা , তারা কোন কাজ সহজে তাদের দিয়ে হাসিল করাতে চায় , কিংবা যখন বিপাকে পড়ে । এখন ও কোন কথা শোনার মুডে নেই । কারন ওকে ডক্টরেট করতেগেলে এসব ছেঁদ কথায় মন দিলে ওর লক্ষ্য পুরন হবে না ।
কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে একটা সাদা রঙের স্করপিও এসে থামল । পায়েল গাড়ীটা দেখেই আঁতকে ওঠে । ও সঙ্গে সঙ্গে প্রতীকের হাথ ধরে এক হ্যাঁচকা টান দেয় । প্রতীক কিছু বোঝার আগেই এক বলিষ্ঠ ব্যাক্তিত্বের সুটেড বুটেড মাঝ বয়েসি ভদ্রলোক এসে ওকে বলে , ‘আপনি কি প্রতীক চৌধুরী’ ?
- আজ্ঞে হ্যাঁ । কিছু প্রয়োজন আছে ?
- প্রয়োজন না থাকলে কি এখানে আপনার কাছে আসি । আপনি কি করেন ?
- আমি ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটীর ছাত্র ; এই বছর এপ্পলায়েড ইকনমিক্সে মাস্টার ডিগ্রীর ফাইনাল দেব ।
- ও বেকার ! ইন্টেরেস্টিং । বাবা কি করেন?
প্রতিকের পাল্টা প্রশ্নঃ আপনার পরিচয় ? আপনি আমাকে এত সব প্রশ্ন করছেন কেন?
- আমি ! আমি পায়েলের বাবা , নৃসিংহ চক্রবর্তী , আই.পি.এস্ । তুমি আমার নাম শোননি ? আমি কমিশনার, ইন্টেলিজেন্স্ , কোলকাতা পুলিস্ । শোন নি আমার নাম ? স্ট্রেঞ্জ্ । একটা বিদ্রূপের হাঁসি মুখে নিয়ে ভদ্রলোক বললেন । তোমার জানা উচিৎ ছিল ।
- আমি অর্থনীতির ছাত্র পুলিসের খবর রেখে কি হবে আমার ? আপনি আমাকে বেকার কেন বলছেন ? আমার তো পড়া শেষ হয়নি এখনও । পড়া শেষ করে ডক্টরেট্ করবো । আমি ইউনিভারসিটিতে ফার্স্ট হয়ে ছিলাম অনার্সে । তাছাড়া আপনি আমার বাবাকে টানছেন কেন এর মধ্যে ! নিজের পায়ে না দাঁড়ানো অবধি আমি আমার কোন ব্যাপারে সিধ্যান্ত নব না ।
- ইয়ং ম্যান প্রেম করার আগে আপনার যাচাই করা উচিৎ ছিল আপনার আর্থিক স্বচ্ছলতা আছে কিনা ! আমার মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারেন , কিন্তু বিয়ে ? ইম্পসিবল্ । আপনি ত অর্থনীতির ছাত্র এটুকু আপনার কাছ থেকে আশা করেছিলাম। ওয়েল্ মাই বয় মাইন্ড ইওর স্টাডিস্ । ফার্স্ট এস্টাব্লিস্ ইয়োরসেলফ্ ইন দি সোসাইটি দেন থিংক অফ্ ম্যারেজ্। ওকে । ফরগেট্ হার সি ইস এ বেবি । স্টিল এ বেবি মাই বয় । গুড লাক্ । পায়েল থর থর করে কাঁপছিল ওর বাবা ওকে কাছে ডেকে বললেন, “আয় মা আমার কাছে আয়। শুনলিতো সব” ।
পায়েলের মুখ দিয়ে একটা কথাই বেরুল প্রতীকের উদেশ্যে .... কাওয়ার্ড.... কাপুরুষ... আমার সঙ্গে প্রতারণা । কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে পায়েল। বাবার সঙ্গে গাডিতে গিয়ে ওঠে ।
প্রতীক একটা সিগারেটে অগ্নি সংযোগ করে উদাস মনে আকাশের দিকে তাকায় আর এক রাশ ধোঁয়া মুখে নিয়ে একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে নিজেকে সামলে নেয় । তার পর প্রতীকের সঙ্গে আর পায়েলের দেখা হয় নি ।
পনের বছর পর ......
এরপর প্রায় ১৫ বছর কেটে গিয়েছে । প্রতীক এখন ইউনিভারসিটির এপ্লায়েড ইকনমিক্সের প্রফেসার । ডক্টর প্রতীক চৌধুরী । ওর ছাত্র ছাত্রীরা ওকে সম্মান করে । ওর কিন্তু ওই এক সাদা মাটা মাষ্টারী পোশাক , পায়জামা পাঞ্জাবী,ফ্রেঞ্চ কাট দাডী ,ঠোঁটে সিগারেট্ আর ভাবুক ভাবুক চেহারা । ওর বিয়ে হয় ওরই এক ছাত্রীর সঙ্গে নাম মধুমিতা সান্যাল ।
পায়েল জীবনে সুখি হল কিনা জানিনা । ওর বিয়ে হয়ে যায় সেই সফট্ওয়ার ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে। ওই বিয়েতে পায়েলের কোন মতা মতের ধার ধারেনি ওর বাবোর। পায়েলের মা অনেক বোঝাতে চেষ্টা করেন , কিন্তু কিছু ফল হয়নি । পায়েলের কথায় সেই ভোঁদাইয়ের সঙ্গেই োর বিয়ে হয়ে যায় । পায়েল একদমই পছন্দ করে না ওকে স্বামী হিসেবে। রাত দিন খটা খটি লেগেই থাকে । এর মধ্যে ওর মা মারা যান । বাবার রিটায়ারমেন্টের পর দুটো স্ট্রোক্ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন । পায়েল দেখা শোনা করে । বাবা বুঝতে পারেন মেয়ের মনের ব্যাথা । দু চোখ বেয়ে জল গডায় । পুরান দিনের স্মৃতি রোমন্থনে আর কোন লাভ নেই । একমাত্র মেয়ে, এতো টাকা পয়সা থেকেও শান্তিতে নেই তার কারণ তার মনের মতন বর পায়নি । যাকে পেল সে গ্রহণ যোগ্য নয় । পাঁড় মাতাল এক উচ্ছৃঙ্খল যুবক তার আরেকটি মেয়ের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক যেনে স্বামীকে ঘৃণা করে পায়েল। কিছু উপায় নেই। নিয়তির নিয়ম। মেনে নেয় সব কিছু । আজও প্রতীকের কথা মনে পড়ে । সেই রোগা লম্বা চেহারার ভাবুক ভাবুক লোকটি কাঁধে ব্যাগ আর ঠোঁটে সিগারেট্ । সব সময় অন্যমনস্ক কি যেন ভাবে ? এখন প্রতীক কি করছে ? ও কেমন আছে জানতে ইচ্ছে হয় পায়েলের । ওকে কি মনে রেখেছে ? মনটা ডুকরে কেঁদে ওঠে । কি হবে ওর কথা ভেবে ?
কলেজ স্ট্রীট বইয়ের দোকানের সামনেঃ-
কলেজ স্ট্রীটে বইয়ের দোকানে নতুন মারুতি ডিজায়ার গাড়ী থেকে নেমে হঠাৎ এক পায়জামা পাঞ্জাবী পরা ভদ্রলোক কে দেখে চিনে ফেলে পায়েল । বেশ কদিন আমেরিকার ডালাসে ছিল ওর স্বামীর সঙ্গে । অনেক দিন কলেজ স্ট্রীটে আসা হয় নি । কিন্তু ফ্রেঞ্চ কাট দাড়ি , চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা আর মন দিয়ে দেখছে কিছু পুরনো বই যে ভদ্রলোক ; সে যে প্রতীক তা ঠাওরাতে অসুবিধে হলনা । কাছে যাওয়ার সাহস হলনা । আবার মনে মনে লোকটার প্রতি আবেগ এলেও সেটা চেপে রাখল । মনের ভেতরটা ডুকরে উঠলো । মনে হল ঠাস করে গিয়ে গালে একটা চাঁটি মারি । অপদার্থ কাপুরুষ !! আবার নিজেকে সামলে নিল এ কি ভাবছে সে ? এঁর জন্যে-ইতো বসে আছে পথ চেয়ে কবে হবে তার সঙ্গে দেখা? ইনি তো তার মনের মানুষ !! আজ সেই ভ্যালেন্টাইন ডে । কিন্তু প্রতীক ওই সব একদম পছন্দ করতনা ! সে কি যাবে ওর কাছে ? ও কি চিনবে? যদি না চেনে ? চিনেও না চেনার ভান করে তাহলে লজ্জা ঘেন্নায় নিজেকে ছোট করবে ওর কাছে ? ওর প্রেম প্রীতি ভালবাসা তার কি কোন দাম নেই? রাবণের হাতে নিজেকে সঁপে দিয়েছে পায়েল । সে যখন পশুর মতন তার শরীরটাকে ছিঁড়ে খায় মনে হয় যেন ড্রাকুলা তার ধারল দাঁত দিয়ে ছিন্ন ভিন্ন করছে তার শরীরটাকে । কি নিয়ে দাঁড়াবে প্রতীকের কাছে ?বলবে প্রতীক আমি তোমাকে এখনো ভালবাসি । বলে কি লাভ ? ওকি মূল্য দেবে সেই ভালবাসার । ওকি জানে নারীর মনে যে প্রথম পুরুষ আসে সেই তার মনে আঁচড় দিয়ে যায়, যার ক্ষত ; ক্ষত বিক্ষত করলেও সে সেটাকেই আঁকড়ে ধরে । স্মৃতি টুকু তার মনে সান্ত্বনা দেয় । তাই সেই স্মৃতি নিয়ে ফিরে এল নিজের ঘরে ।
ভারতীয় রমণীর এটাই বৈচিত্র্য সে বহ্নি শিখায় জ্বলে পুড়ে মরে কিন্তু কাউকে বুঝতে দেয়না তার মনের ব্যথা । মনের ব্যথা মনেই থাক নাইবা তুমি জানলে ......। ভগবান তির্যক দৃষ্টিতে দেখেও দেখেন না । ওরা মেনে নেয় অদৃষ্ট বলে । আমরা পুরুষরা ওদের পুড়তে দেখেও না দেখার ভান করি ।

“ছোট গল্প” যন্ত্রমানব@ভালবাসা.কম ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী / ২৫.১২.২০১৪ / ১১.৪৮ / খৃষ্ট মাস / বৃহস্পতিবার



   “ছোট গল্প”
যন্ত্রমানব@ভালবাসা.কম 
ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী / ২৫.১২.২০১৪ / ১১.৪৮ / খৃষ্ট মাস / বৃহস্পতিবার /
“আমার দোসর যে জন ওগো তারে কে জানে
একতারা তার দেয় কি সাড়া আমার গানে কে জানে..."
এই আর্তির মধ্যেই ব্যক্তি জীবনের পথ চলা! স্বপ্ন সাধ সাধনায়, ভাব ভাবনা ভালোবাসাকে বিশেষ একজনের সাথে মিলিয়ে নিতে! কারণ কালের মন্দিরায় জীবনের বোল ফোটাতে পরস্পরের সঙ্গ লাগে! তখন সেই সঙ্গতে মন বলে "সব পথ এসে মিলে গেল শেষে তোমারই দুখানি নয়নে-" এই যে পরস্পরের মধ্যে জীবনের পথ খুঁজে পাওয়া, পরস্পরের মধ্যে বেঁচে ওঠা, পরস্পরের মধ্যে সত্য হওয়া; এখানেই প্রেমের সার্থকতা! এখানেই মানুষ চলেছে তার দোসরের খোঁজে, "কবে আমি বাহির হলেম তোমারই গান গেয়ে"! আসলে দোসর খুঁজে পাওয়ার সাধনায় দোসর হয়ে উঠতে পারার শক্তিটাই গুরুত্বপূর্ণ! সেখানেই মুক্তি!” .............
“আমিও ত মানুষ কিন্তু তোমার মত যন্ত্রমানুষ নই।“
“আমি আর এই মিথ্যে সম্পর্কটাকে বিশ্বাসহীনতার চোরাবালির ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে যেতে পারছিনা! অথচ যতবার এসব বলতে গিয়েছি তোমার মুখের দিকে তাকিয়েছি , ভেসে গিয়েছি তোমার ভালোবাসার উচ্ছ্বাসে, মাদকতায়,সমর্পনে।“
প্রথম পর্ব
আমার গল্পের নায়ক এক মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে “সুদিপ্ত” । মেধাবি ছাত্র । কম্পুটার ইঞ্জিনিয়ার । নায়িকা “সুদীপ্তা” সে’ও কম্পুটার ইঞ্জিনিয়ার এবং মেধাবি , বাবা মা আই.এ.এস অফিসার । অভাব কি জানেনা । দুজনেই ইনফোসিস , বেঙ্গালুরুতে চাকরীতে সবে ঢ়ুকেছে। এর পর...........
সুদীপ্ত বি.টেক.(কম্প্যুটার ইঞ্জিনিয়ারিং ) এর পর ইনফোসিস্ , বেঙ্গালুরুতে সফট্ওয়ের ইঞ্জিনিয়ার এর চাকরিতে জয়েন করে । এখানে বলে রাখা ভালো সুদীপ্ত , আই.আই.টি , মুম্বাই থেকে ফার্স্ট ক্লাস্ ৯০% মার্ক্স পেয়ে পাস করার পর চাকরীতে জয়েন করতে বাধ্য হয় । অন্য কম্পানি তে ভালো চাকরি পেয়েছিল কিন্তু জয়েন করে নি। ওর বাবা অনেক কম বয়েসে হার্ট এটাকে হটাৎ মারা জান । ছোট ভাইএর পড়ার দায়িত্ব সামলানোর জন্য ও বাধ্য হয় চাকরি করতে । বাড়ীতে মা এবং ছোট ভাই ছাড়া আর কেউ নেই । অনেক ইচ্ছে ছিল এম.টেক্. এর পর ডক্টরেট্ করবে বলে, কারন ওর টিচিং জব্ পছন্দ । সে ইচ্ছেটা ওকে সর্বদা পড়াশোনার দিকে টানতো । আড্ডা দিতে মোটেই ভালোবাসেনা সুদিপ্ত । ওর প্রজেক্ট্ এর প্রোজেক্ট্ মেনেজার (পি.এম্.)ওকে খুব স্নেহ করেন । ওর বুদ্ধিদীপ্ত চেহারার সঙ্গে ও কাজ ও খুব নিখুঁৎ ভাবে করে । সুদীপ্তা ওই একি প্রোজেক্ট্ এ , ওর সঙ্গে জয়েন করে একি দিনে। মাইসুরে তিন মাসের ট্রেনিং সেরে দুজনে বেঙ্গালুরুতে জয়েন করে । তাই সুদীপ্তার সঙ্গে আলাপ প্রায় তিন মাসের ওপর । সুদীপ্ত র চেহারার আকর্ষনের সঙ্গে ওর প্রখর বুদ্ধি সহজেই নারীর মন আকর্ষন করে । এটাই স্বাভাবিক । সুদীপ্তা এন.আই.টী., রাউরকেল্লা থেকে কম্পুটার ইঞ্জীনিয়ারিং এ বি.টেক্.ফার্স্ট ক্লাস্ কাজেই ও খুব ফেলনা নয়। দেখতে খুব সুন্দরী । বাবা মা দুজনেই আই.এ.এস্ ওফিসার তাই টাকার অভাব নেই । তবে আই.আই.টি. পাস আউট্ দের ইনফোসিসে বেশি টাকা মাইনে দেয় । বেঙ্গালুরের ইনফোসিস্ এর নিয়ম অনুযাই মেয়েরা সন্ধ্যে ছটার পর অফিসে থাকা মানা ছিল। এসব আমি ২০০৫ সালের কথা বলছি ।
সুদীপ্ত কাজের মধ্যে মসগুল থেকে এক রকমের যন্ত্রমানবে পরিনত হয়ে গিয়েছিল । অফিস আর কাজ ছাডা কিছুই যানতোনা । প্রায় দিন বেলা ১.৩০ টার সময় সুদীপ্তা ক্যান্টিনে লাঞ্চ খেত সুদীপ্তর সঙ্গে দেখা করে। সুদীপ্তার ওখানে গল্প করার ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই কারন সুদীপ্ত বিশেষ পাত্তা দিত না ওসব ব্যাপারে । সর্বদা কাজে মসগুল থাকতো কি করে অন্ সাইটে যাবে । তারই চিন্তায় থাকতো । একদিনের কথা, সুদীপ্তা , ওর নিজের জন্মদিন সেলিব্রেট্ করার জন্য সব বন্ধু বান্ধব্দের ডেকেছিল পার্টি তে । সুদীপ্তকেও ডেকেছিল ।
কিন্তু ফরমালিটি র জন্য পার্টি তে গিয়ে সুদীপ্ত , সুদীপ্তাকে গিফট্ দিয়ে চলে যায়। এটা সুদীপ্তার মনে লাগে । এমনিতেই সফট্ ওয়ের ইঞ্জিনিয়ার রা পার্টি , আড্ডা , শুক্রবার রাতে এবং শনিবার দিন সাধারনতঃ করেথাকে । ওদের মতে সেটারডে নাইট মাস্ট্ বি ডিলাইট্ । সুদীপ্তা মনে দুঃখ পেলেও প্রকাশ করেনি কারন ও সুদীপ্ত কে মনে মনে ভালবাস্তো কিন্তু কখনো প্রকাশ করেনি।
এই অপ্রকাশিত প্রেম এবং বলতে গেলে এক তরফা প্রেম যেন অসহ্য লাগে সুদীপ্তার ।
একদিন সুদীপ্তকে বলে বসে, “তুমি আমাকে এভয়েড্ করছ কেন ? আমি লাঞ্চের সময় ডাকলে তুমি এসে খেয়ে বিল মিটিয়ে চলে যাও । কোন কথা কি তোমার মুখে আসেনা ? আমি তোমার প্রজেক্টে কাজ করছি ! তোমার সঙ্গে একসঙ্গে ট্রেনিং নিলাম । অন্য কলিগ্ রা ত এরকম নয় ! তুমি এরকম ডিফারেন্ট এটিচ্যুড দেখাও কেন?” এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে সুদীপ্ত র দিকে তাকাল উত্তরের অপেক্ষায় ।
সুদীপ্ত বলে, “আমাকে ভুল বুঝনা । আমার মাথায় অনেক চিন্তা । আমার মা বিধবা, ভাইয়ের পড়া আমার ওপর নির্ভর করছে । এই পরিপ্রেক্ষিতে আমার ওপর সংসারের সব দায়িত্ব , ও তুমি বুঝবেনা !” তুমি মুখে সোনার চামচ নিয়ে জন্মেছ । তুমি কি করে জানবে নিম্নমধ্যবিত্তের জ্বালা যন্ত্রণা ? তোমার বাবা মা দুজনেই আই এ এস অফিসার ! কি অভাব দেখেছ জীবনে ? বাবা অসময়ে চলে গেলেন । মা আমার ওপর ভরসা করে আছেন । আমি আমার ছোট ভাই এর দায়িত্ব নব বলে । আমি আমার মা'কে প্রতারণা করতে পারিনা । তিনি এমনিতেই দুঃখ পেয়েছেন আর নতুন করে দুঃখ দিতে পারিনা।
সুদীপ্তাঃ- “এটা কিরকম কথা হল ?” আমিতো সে কথা বলিনি যে , তুমি তোমার মা'কে দুঃখ দাও ! আবার এটাও ঠিক নয় বান্ধবীর জন্ম দিনের পার্টি তে না খেয়ে গিফট দিয়ে চলে যাওয়া । এটা কিরকম ভদ্রতা ?
সুদীপ্ত:- আমি দুঃখিত কিন্তু নিরুপায় । আমি এখন শয়নে স্বপনে একটাই কথা ভাবি; কি করে অন সাইটে যাবো ? সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন । আমার টাকার প্রয়োজন তাও সৎ উপায়ে উপার্জন করে । আমাকে ভুল বুঝ না ।
সুদীপ্তাঃ- সেতো আমিও ভাবি , তুমি একা নও । আমার কি ইচ্ছে করেনা প্রোজেক্টের কাজে ইউ.এস.এ যাই ! আমরা হয়তো এক সঙ্গেই যেতে পারি । পি.এম. একা তোমাকে নয় আমাকেও রেকমেন্ড্ করেছেন । সে খেয়াল রাখো মিস্টার সুদীপ্ত রায় !
সুদীপ্ত:- আমি জানি । কংগ্রাচুলেসন্ মিস সুদীপ্তা বোস । হেঁসে ফেলে দুজনে ।
সুদীপ্তাঃ- আমি কিন্তু বাবা মাকে তোমার কথা বলেছি ।
সুদীপ্তঃ- মানে !! কি কথা ?
সুদীপ্তাঃ- মানে আবার কি ? আমি তোমাকে পছন্দ করি এর বেশি কিছু নয়। বুঝলে !
সুদীপ্তঃ- কিন্তু তুমি আমার মতা মত নাও নি ! আমার মা , আমার ভাই এদের ছেড়ে আমি কিছুই করতে পারিনা । আমরা এক ই সুতোয় বাঁধা । ওদের অমতে আমি ....... অসম্ভব !!!
সুদীপ্তাঃ- এই তো তোমার মতা মত নিলাম , আজকে , এখন ! আমি তোমাকে প্রপোস্ করছি ! যেটা কিনা ছেলেরা করে সেটা আমি করছি বেহায়ার মত !! ইয়েস্ আই এডমায়ার ইউ । কেঁদে ফেললো সুদীপ্তা । তুমি ভালো ছেলে বলে তোমার খুব গর্ব না ? কিন্তু আমি তোমাকে ভালোবাসি .. আই ! আই লাভ্ ইউ !! ফর হেভেন সেক্ ডোন্ট্ লিভ মি । তুমি আমাকে অনেক অপমান করেছ ! আর না !! এই বলে সুদীপ্তা কেঁদে ফেলল ।
সুদীপ্তা র মাথায় হাত দিয়ে বোঝানোর চেস্টা করে সুদীপ্ত । কুল ডাউন বেবি কুল ডাউন । এতো কনফিডেন্স্ ভালোনা । আমার মা কে না জিজ্ঞাসা করে আমি এ বিষয় কিছুই বলতে পারবোনা । আমার এখন কেরিয়ার আছে । কিছুই হতে পারলাম না । বাবার অনেক আশা ছিল আমি ডক্টোরেট্ করি । বাবা গত হয়েছেন মোটে এক বছর তার ধকল এখনো মা সামলে উঠতে পারেন নি । তুমি জান আমার ভাই এখন সবে ঢুকলো বি.টেক্. এ । ও , আই.আই.টি., খডগপুরে এডমিসন পেল । আরো ভালো রেসাল্ট্ করতে পারতো । আমি ওকে ভালো করে গাইড্ করতে পারিনি । যানিনা কি করবে ভবিষ্যতে! ওর পডাশুনোর জন্য আমাকে ফিনান্স্ করতে হবে । আমার ওপর সারা সংসারের সব দায়িত্ব । আমার এখন প্রেম করা সাজে না । আমাকে বুঝতে চেস্টা কর ।
সুদীপ্তাঃ- আমি সব জেনেই তোমাকে ভালবেসেছি । এখন ত বলছিনা ! আর কি বললে তুমি! , “বেবি!” আমি “বেবি !!” তুমি নিজেকে কি মনে কর ? এ্যাঁ !! দেখাচ্ছি তোমার মজা ।
এই বলে চট্ করে জডিয়ে ধরে চকাস করে চুমু খায় সুদীপ্তর ঠোঁটে । আমি তোমার কাছ থেকে এই টুকু কি আশা করি না ,“আই লাভ্ ইউ টু সুদীপ্তা” শুনতে !! ছেলেদের চোখ দেখলেই মেয়েরা বুঝতে পারে মোসাই । তুমি জতোই আমাকে শুরু থেকে এভোয়েড্ কর আমি জানি তুমি আমাকেই মনে মনে পছন্দ কর । আই এম্ মাচ কনফিডেন্ট এবাউট দ্যাট্। তাই আজ তার প্রাইজ্ দিলাম। কিরম লাগলো ? বলবে না ?
এতো কনফিডেন্স্ ভালোনা । তবে হ্যাঁ, যদি কোন দিন বিয়ে করি তবে আই প্রমিস্ ," I Sudipto Ray do herby testify, and give public notice of the covenant of marriage which we have entered into with each other in the presence of God and witnesses: based solely on the authority of God as found in His Holy word, The Bible in the name of GOD accept Mis Sudipta Bose as my wife" এই বোলে সুদিপ্ত , সুদিপ্তা কে জোডিয়ে ধরে গোভির ভাবে চুমু খায় । সকলের হাত তালিতে ওদের ঘোর ভাঙ্গে ।
সুদীপ্তা লজ্জায় মাথা নিচু করে । অদিতী,সুকন্যা,প্রিয়ঙ্কা, গুলশন,আবীর,ভেঙ্কাটেশ্ সকলে খুশিতে গান গাইতে আরম্ভ করে। ৫ পএন্ট্ স্পিকার লাগিয়ে ডিজিটাল হোম থিএটারে গান বাজিয়ে নাচ শুরুহয় অডিটোরিয়ামে ওদের মধ্যেখানে রেখে ।
এর পর সুদীপ্ত-সুদীপ্তা দুজনেই নাচতে শুরু করে গানের তালে তালে। আদিত্য-সুকন্যা সালসা ডেন্স্ আরম্ভ করে দর্শকদের দৃষ্টী আকর্ষন করে। পরে প্রিয়ঙ্কা-গুলশন ব্রাজিলিয়ান সাম্ভা ডেন্স্ দেখায়। সকলে সারাক্ষন এঞ্জয় করে ।
সেদিন ছিল খৃষ্ট মাস তাই পার্টি হয় রাত ৯.০০ টা তে শেষ হয় ১২ টাতে। আজ সুদীপ্ত-সুদীপ্তা দুজনে হোষ্ট আর প্রজেক্ট এর সব কোলিগ্ রা খোশ্ মেজাজে মুর্গা মসাল্লাম্,কোপ্তা,বাটার তন্দুর,প্রন্ পকোডা,বাটার স্কচ্ আইস্ ক্রিম্ পরে কিছু হট্ ড্রিঙ্ক নিয়ে একটু বেসামাল হয়। ওটা আই.টী. প্রফেসন্ এ চলে। কিছু বলার নেই। মেনে নিতেই হয় ।
সুদীপ্ত কে আজ যেন খুব চারমিং লাগছিল ঠিক সুদীপ্তাকে ও তাই । ওরা নিজেদের মধ্যে কিছু বলছিল যার দিকে কারুর নজর ছিলনা । সকলে মসগুল নিজেদের পার্টনার কে নিয়ে।
এরমধ্যে সুদীপ্তর হটাত কি হল কে যানে , সুদীপ্তার উদ্যশ্যে বলে ঃ
আমি এটা ঠিক করলাম না ! আমার মা জানলে খুব দুঃখ পাবেন। ঝোঁকের মাথায় তোমাকে কিস্ কোরতে গিয়ে সব গন্ডগোল হয়ে গেল । আমি কি জবাব দেব মা’কে, ভাইকে? ওরা আমাকে খুব ভরসা করে । এটা মোটেই ঠিক হলনা অনুশোচনায় ভেঙ্গে পডে সুদীপ্ত । আই মাস্ট লিভ দিস প্লেস । দিস ইস নট ফর মি !!!
সুদীপ্তাঃ- তুমি একা নও সুদীপ্ত । তোমার ভাই , আমার ও ভাই । তুমি কি করে ভুলে গেলে আমি কিছু না বুঝে আমার ডিসিসন নিয়েছি বলে ? আমি সব জানি ম্যান্ । কিছু ভেবোনা । আমি বাবা মাকে ডিটেল সব কথা বলেছি। বাবা আমাকে অনেক স্বাধিনতা দিয়েছেন । মা বাবা নিজেরাই মুসৌরিতে আই.এ.এস্ ট্রেনিং ইন্সটিট্যুটে গলা জডা জডি করে প্রেম করেন । তার পর বিয়ে সেরে ফেলেন । ওনাদের বাবা মা’কে না জানিয়ে । পরে অবশ্য দু পক্ষ রাজি হয়ে বিয়ের আয়োজন করেন। তুমি যানো , আমার মা বাবা জাত ফাত মানেন না ,এমনকি ধর্ম ফর্ম ও মানেন না। ওঁরা একটাই জাত যানেন মানুষ ! ওনারা আই এ এস্ অফিসার ! ওটাই ওঁদের গীতা,বাইবেল,গুরুগ্রন্থ আর কোরান সব এক !! দুজনে দু জায়গায় সাব কালেক্টার ছিলেন । দেখা করার জন্য শনিবার রাতে পালাতেন হেড কোয়ার্টার ছেডে । অবশ্য ওনাদের কালেক্টার যান্তেন সে কথা। বাবা আমাকে সব বলেছেন। খুব মজার দিন সব ওনাদের কেটেছে । ঠিক আছে তুমি তোমার মা’কে জিজ্ঞাসা কর। আমার কোন আপত্তি নেই। আমি কনফিডেন্ট্ উনি মত দেবেন। আমিত কিছু ভুল করিনি । পারলে না হয় পা জডিয়ে বলবো, “মা, মাগো আপনার কচি ছেলেটাকে নুন লঙ্কা মাখিয়ে খাবো” বলে হেঁসে ফেললো ।
সুদিপ্তঃ- কি বলছো যা’ তা ! তোমার কি মাথা খারাপ হল? মা কে আমি চিনি । মা রাজি হবেন না । আমার ভাই কি ভাববে বলত ? এতো তাড়া কিসের ? একটু সবুর কর । আমি তো পালাচ্ছিনা !
সুদীপ্তাঃ- পালাতে কে দিচ্ছে মসাই । তবে আমার তাড়া আছে । আমার পেছনে শকুনের চোখ আছে । তুমি বুঝবেনা সে কথা । বলার ও প্রয়োজন মনে করি না ।
সুদিপ্তঃ- সে আবার কি কথা ? যদি বলতে না চাও বোলনা । আই ডোন্ট মাইন্ড্ ।
সুদীপ্তাঃ- তুমি আমাদের পি .এম্.কে দেখেছো ! উনি কিরকম ছুঁক ছুঁক করেন আমাকে দেখে ! যেন গিলে খাবে !! বিচ্ছিরি !!! ইরেসিসস্টিবিল ।
সুদিপ্তঃ- ওটা তোমার ভুল ধারনা । নাও হতে পারে ।
ঊনি তোমাকে তাডা হুডো করে ইউ.এস .এ যাওয়ার রেকমেন্ড করেছেন আমার থেকে তোমাকে দুরে সরানোর জন্য । তুমি জান কিছু ! মাথায় ঢুক্লো কিছু !!
সুদিপ্তঃ- মোটেই নয় । ওটা তোমার ভুল ধারনা । আমি প্রজেক্ট্ এর জন্য বেশি সময় দি । সকলে যানে পি.এম. , এস. পি.এম. এবং অন্য সকলে । সেই কারনে আমাকে পাঠাচ্ছেন ওনারা । এতে আশ্চর্য হওয়ার কি আছে ?
সুদীপ্তাঃ- আমি অস্বিকার করছিনা তবে আমার কথাটা সত্যি কিনা, প্রিয়ঙ্কা বলবে তোমাকে । ওই আমাকে বলে সে সব কথা ।
সুদীপ্তঃ- দেখ এ সব বাজে মেয়েলি কথাতে আমি মোটেই ইন্তারেস্টেড নই । বকবাস্ । জাস্ট্ গসিপ্ ।
সুদীপ্তাঃ- ও কে । কাল ভিসার জন্য রেডি হও । আমাদের দুজনকে নিউ জার্শি তে পাঠাচ্ছে ইনফি । ইন ফেক্ট্ আমি বাপিকে আসতে বলেছি সঙ্গে মা থাকছেন । তোমাকে ওনারা দেখতে আসছেন কাল। মানা কোরনা কিন্তু !!
মন্ত্র মুগ্ধের মতন সুদীপ্ত বলে ফেললো আচ্ছা।
প্রমিস্
প্রমিস্
সুদীপ্তাঃ- দ্যাটস্ লাইক এ গুড বয় , মাই ডার্লিং বলে হাগ্ করে সুদীপ্তর গলা জোডিয়ে কিস্ করে।
সুদীপ্ত চোখ বন্দ করে নারীর সান্নিধ্য উপভোগ করছিল । স্বয়ং ভগবান ও বোধহয় এর থেকে নিস্তার পান নি। সুদীপ্ত তো ছেলে মানুষ । কিন্তু আবার মাথাতে চাডা দেয় মা এবং ভাইয়ের প্রতি দায়িত্ববোধ , নিজের কেরিয়ার , ইত্যাদি ভেবে সুদীপ্তার কাছথেকে ছাড়াপেতে চায়। ক্ষনিকের আবেগে নিজেকে এরকম ভাবে বিলিয়ে দিতে পারেনা। বিবেক দংশনে নিজেকে সামলানোর চেস্টা করে। পরক্ষনে বলে আজ আমাকে যেতে হবে , বাই ...।
সুদীপ্তা কিছু বোঝার আগেই সুদীপ্ত হাঁটা দেয় ইনফোসিটির হেরিটেজ্ বিল্ডিং এ । ওখানে ইনফীর চেয়ারম্যান নারায়ানাস্বামী, নন্দন নীল্কার্নী ,পাই ইত্যাদী টপ্ বস্ রা বসেন । তবে এঁদেরকাছ থেকে একটা বড় জিনিস সেখার আছে এঁনারা কেউ নিজেদের বস্ বলে বলেন না বরং কলিগ্ বলেন। সুদীপ্ত ওখান হয়ে বিল্ডিং নাম্বার ৪২ তে নিজের অফিসে চলে যায়।
সুদীপ্তা একটা সুইমিং পুলের ধারে বসে জলে নানা রঙের মাছ দেখছিলো । নানা রঙের মাছ মনকে শান্ত করে । বেঙ্গালুরুর ইনফোসিটির ভেতরটা এতো সুন্দর পরিবেশ আর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন মনে হয়না ওটা ভারৎবর্ষের মধ্যে অবস্থিত বলে । মনে হয় যেন আমেরিকাতে আছি। একটা কাগজের টুক্র কোথাউ কেউ খুঁজে পাবেনা। ক্যাম্পাসের ভেতর গাডী চালানো নিষেধ । সাইকেলে যেতে হয় এক যায়গা থেকে আরেক যায়গায়। ধুম্রপান নিষেধ । “স্মোকিং স্টৃক্লি প্রহিবিটেড্” বলে চারিদিকে লেখা । মাঝে মধ্যে ছোট ছোট গার্ডেন, লন্ , সুন্দর ডেকোরাটিভ ওর্কিড্স । একটা পরিচ্ছন্ন ইকোফ্রেন্ডলি মন মুগ্ধকর পরিবেশ । না দেখলে বোঝা জায়না ।
সুদীপ্ত সুদীপ্তার ভিসা ইন্টারভীউ চেন্নাই তে ৭ দিন পর । চেন্নাইতে ভিসা ইন্টারভীউ তে নানান প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয়। তার স্বঠিক জবাব দিতে হয় ওদের ।দুজনের ইন্টারভ্যু আলাদা আলাদা ভাবে হয় । সে সব সেরে ওরা দুজনেই কৃতকার্জ্য হয় । পাস্পোর্ট ভিসা স্টাম্পিং সেরে কোম্পানীর থেকে ওখানে থাকা , ফ্লাইটের টিকিট, সঙ্গে ২০,০০০ ডলার। লুফথান্সা ফ্লাইটের টিকিট আগাম কোম্পানি থেকে ওদের দুজন কেই দেওয়া হল। ওরা সঙ্গে গরম জামা কাপড় , অন্যান্ন শীত বস্ত্র এবং আনুসঙ্গিক যা যা নেওয়ার সব কিনে নেয় । এর মধ্যে সুদীপ্তার মা বাবা এসে ঘুরে গিয়েছেন । অনিচ্ছাসত্বেও সুদীপ্ত ওদের সঙ্গে দেখা করে । ফরমালি দেখা করতে বাধ্য হয়।
২ য় পর্ব
যাওয়ার আগে ওরা দুজনে তীরুপতি তীরুমালা ভেঙ্কেটেস্বরম্ মন্দীর দর্শনে যায় । বেঙ্গালুরু থেকে রাত ৯ টার সময় আন্ধ্র প্রদেশ টুরিস্ম এর লাক্সারী ভল্ভো এ.সী. বাস ছাডে পৌঁছোয় রাত ৩ টের সময় তীরুপতি তে । ওখানেই গেস্ট্ হাউসের ব্যাবস্থা থাকে গরম জল এ স্নানের জন্য । স্নান সেরে ফ্রেশ হয়ে তীরুমালা পাহাডের ওপোর যাত্রা । তীরুপতি থেকে তীরুমালা ২২ কিলোমিটার অন্য বাসে যেতে হয়। ভোর বেলার দর্শন ভী.আই.পীদের জন্য খুব কম সময় লাগে এবং লাইন ও ছোট থাকে। বেশ থান্ডা লাগে ওই সময় তীরুমালা পাহাডের ওপোরটা। প্রায় এক ঘন্টা লাগে লাইনে আস্তে আস্তে আঁকা বাঁকা পথে মন্দীরের ভেতরে প্রবেশ করতে । তারপর বালাজীর দর্শন অপূর্ব । চাপ চাপ সোনা । কস্টি পাথরের মুর্ত্তি । সোনার মুকুট , সোনার হার ইত্যাদি। ৩০সেকেন্ডের মধ্যে দর্শন সারতে হয় নাহলে , “গোবিন্দা গোবিন্দা” বলে ঠ্যালা মারবে পেছোন থেকে টেম্পল পুলিশ্ । এরপর তীরুপতির বিখ্যাত আসোল ঘীএর লাড্ডু জনা পিছু দুটো মন্দীর প্রশাসন দেয়। কেউ ইচ্ছে করলে আরো লাড্ডু কিনতে পারেন কাউন্টার থেকে । এরপর পদ্মাবতীর দর্শন । পাদ্মাবতী স্বয়ং মা লক্ষী ঠাকুর । অপুর্ব লাগে ওখানে দর্শনের সময় । তীরুপতি বালাজীর সারা মন্দীর সোনা তে মোডা। মন্দীরের চুডা, গাত্র , থাম ইত্যাদি । দক্ষীন ভারতের মন্দীরের ভাস্কর্য্য সুন্দর । চুডাতে তিনটে সোনার কলশ থাকে এবং ওপরটা ফ্লাট্ একটা ট্রেপিজিয়ামের মত ।
দর্শন সেরে সুদীপ্তা ফিরে আসে বেঙ্গালুরুতে।
সুদীপ্ত যায় মা আর ছোট ভাইকে দেখতে মামার বাডী ।
বাবার দেহান্তে র পর মাকে মামার বাডীতে থাকতে হয় । মা, যা টাকা পেয়েছিলেন তার ফিক্সড্ ডিপোসিটের সুধেতেই মা চলেন । সুদীপ্ত ভাইয়ের সমস্ত পডার খরচ দেয় হস্টেলে থাকার জন্য । যাওয়ার আগে মামা মামির আশীর্বাদ তা ছাডা দক্ষিনেশ্বরে মা কালীর দর্শন আর বেলুডে রামকৃষ্ণ পরমহংস,স্বামিজীর দর্শন সেরে শারদাশ্রমে মায়ের সঙ্গে যায় মায়ের আশির্বাদের জন্য । সব দুদিনের মধ্যে সেরে মায়ের আশির্বাদ নিয়ে ফিরে আসে বেঙ্গালুরু । ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলনা সুদীপ্তর সেটা বড আফশোষ থেকে গেল। ভাই ফোনে উইশ্ করল। বাডীথেকে যাওয়ার সময় মায়ের চোখ ছল ছল করে । মাকে সুদীপ্তার কথা বলে , কিন্তু মা কিছুই বলেন না। সেটাই সুদীপ্তর মনে ধাক্কা লাগে । বোঝে মা খুশি হন নি এতে । সুদীপ্ত ভারাক্রান্ত মনে শুধু বাবাকে মনে করে । আজ বাবা থাকলে হয়ত খুশি হতেন তার ছেলে আমেরিকা যাচ্ছে কম্পানীর প্রজেক্ট এর কাজে । তিন বছরের জন্য ভিসা পায় সুদীপ্ত সুদীপ্তা। সুদীপ্তা এর আগে মা বাবার সঙ্গে পাটেয়া গিয়েছে । ওর কিছুটা অভিজ্ঞতা আছে কিন্তু সুদীপ্ত নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে ওর জন্য সব নতুন । মনটাও ভালো নেই দেশ ছেডে যেতে ।
ফিরে কাজে জয়েন করে প্রজেক্টের সব বুঝে নেয় পি.এম্. এর কাছ থেকে । ওখানে গিয়ে কারা রিসিভ করবে কোথায় থাকবে ইত্যাদী .... সুদীপ্তার এক্সাইট্ মেন্টের সিমা নেই । ফোনে বাবা মাকে তীরুপতি বালাজীর দর্শনের গল্প , ভিসা ইন্টারভ্যু এর গল্প...ইত্যাদী...ইত্যাদী ।
যাওয়ার আগের দিন পার্টিতে ওরা দুজনে বন্ধুদের থেকে বিদায় নিল । এয়ারপোর্টে সব বন্ধুরা সি অফ্ করলো । চেক্ ইন সেরে , লাগেজ্ কনভেয়ারে পাঠিয়ে দুজনে বন্ধুদের থেকে বিদায় নিল । আর ওদের দেখা গেলনা ।এর পর সিক্যুরিটী চেক আপ্ সেরে ফাইনালি রান ও্যেতে বাস এয়ারক্রাফট্ অব্ধি নিয়ে যায় । মোবাইল স্বিচ্ অফ্ করে দুজনের নির্ধারিত সিটে চলে যায়। এয়ার হস্টেস্ গতানুগতিক ভাবে পেসেঞ্জারদের সুচনা দেয় ।
বেঙ্গালুরু থেকে বম্বে হয়ে দুবাইতে ঘন্টা খানেক থেকে পাডি দেয় ফ্রাঙ্কফুট্। ভারতিয় সময় রাত ১২ টায় এয়ারক্রাফট্ ছাডে ফ্রাঙ্কফুট্ । তারপর আটলান্টিক্ মহাসাগর সারা রাত । সকালে নেউয়র্ক এর , জন্ এফ কেনেডি এয়ারপোর্ট এ পৌঁছয় । এয়ারপোর্ট টারমিনালে অপেখ্যারত দুই বন্ধুকে আলিঙ্গন করে। ওএল্কাম টু আমেরিকা দুজনে জানায়। থ্যাঙ্ক ইউ প্রতিউত্তরে বলে। সুদিপ্তর এতোদিনে আশা চরিতার্থ হল। দুজনে নিউ জার্সিতে একটা আউদি কারে যায় । গেস্ট্ হাউসে পাসা পাসি রুমে দুজনে যেন কাছে থেকেও দূরে ! মাইনাস ২৫ টেম্পেরেচার । কাল থেকে নতুন কাজে জএন করছে দুজনে । এক প্রজেক্ট থাকাতে কাছেই থাকবে।
শনিবার রবিবার ওদের ছুটি । নিউজার্সি থেকে নেউ ইয়র্ক কাছেই । তাই বেড়াতে বেরয় । সুদীপ্তর পিস্তুতো ভাই এবং বউদি এখানে মস্ত ডাক্তার । ওঁরা ১৯৬২ থেকে আমেরিকা তে মানহাটেন স্টৃটে অনেক দিন আছেন । বাড়ীর নাম মায়ের নামে “শান্তী নিলয়”। ওঁদের দেখা করে চলে আসে । সঙ্গে সুদীপ্তা ছিল তাই লজ্যায় বেশিক্ষন থাকেনি ।
হটাৎ নোট্ প্যাডে মেল্ এলার্টঃ- ছোটভাইয়ের ই মেল্ , “SEND IF U CAN, 50K INR BY 15th ”Sushanta .
সুদীপ্ত অপ্রস্তুত মনে করে ফিরতে চাইল । আজকেই ফান্ড্ ট্রান্সফার করতে হবে এচ ডি এফ সি ব্যাঙ্ক থেকে সুশান্তর আকউন্টে। সুদীপ্ত কম্পানী থেকে $20,000 আসার সময় পেয়েছিল । ওর কাছে এখন $17680 আছে । তার থেকে$1000 ডলার অনায়াশে পাঠাতে পারে । ডলারের ভ্যা্লু পডে গিয়েছে । এখন $1= Rs 49.50P আছে । যদি আজকের দাম থাকে তাহলে টা ৪৯,৫০০হয়েযাবে আর সেটা তিন দিনের মধ্যে পেয়েযাবে । নিশ্চই ওর এডমিসন এর জন্য প্রয়োজন । ফান্ড ট্রান্সফার করেই মেল করবে ভাইকে । মনে মনে ভাবলো।
সুদিপ্তা বাবা মার সঙ্গে কথা বলেই যাচ্ছে । ও টের পায় নি সুশান্তর মেল্ এর ব্যাপারে.......ক্রমশঃ
সুদিপ্ত খুবই বিব্রত ছিল ওর ভাইকে টাকা পাঠানোর জন্য ।ওর দাদা বৌদির সঙ্গে সুদীপ্তাকে কথা বলতে দেখে দাদার সঙ্গে কম্পুটার এর কাছে গেল। ওর ছোট ভাইয়ের খডগপুরের এচ.ডি.এফ.সি ব্যাঙ্কের একাউন্টে ওর দাদার বাডীর কম্পুটার থেকেই $1050 ফান্ড ট্রান্সফার করে পাঠিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত হল।
ওর দাদা খুশি হয়ে বললেন, ছোট ভাইকে টাকা পাঠালি ? বাহ্ এটা মনে রাখবি ।এটা বিশেষ দরকার।
ওর কাছে এখন $16,630 অবশিষ্ঠ থাকলো তাতে বাডী ভাডা , খাওয়ার খরচ , গাডীর পেট্রল কত গেলন লাগবে তার আন্দাজ নেই। তবুও মোটা মুটি সব হয়ে যাবে মনেহচ্ছে । সুদীপ্তার কি চিন্তা ! টাকা লাগে দেবে গৌরিসেন ।
সুদীপ্তা হঠাৎ বলে উঠলো, “বাডি যাবে না ?”
হ্যাঁ চল ।
বলে ভাইকে মেল করে দিল “$1050 transferred to ur acct .Pl check after 3 days and confirm me” Dada
দুজনে ফিরে এলো ।
রাত ৯ টার সময় ইন্ডিয়া থেকে ফোন এলো সুদীপ্তার । নিশ্চই ওর বাবা মা কল করছেন !
সুদীপ্তার চোখে মুখে খুসির চেহারা সুদীপ্তর চোখ এঢ়ালোনা । ও অন্যখানে চোলে গেল।
সুদীপ্তা, “এই ! তোমাকে মা ডাকছেন।”
কেন ?
জানিনা । শোন ।
আচ্ছা যাচ্ছি ।
মোবাইল টা নিয়ে কল রিসিভ করে, “হ্যালো!” বলাতে ওপার থেকে উত্তর এল “ কেমন আছো?”
ভালো.
৩য় পর্ব
.............................................................................................................
সুদিপ্তর মা সল্ট লেকে মামার বাডিতে থাকেন এ জে ব্লকে । মামা র সিটি সেন্টারে দুটো দোকান । একটা গারমেন্টস্ এর আরেকটা ইলেক্ট্রনিক্স্ এর শো রুম। প্রচুর বিক্রি হয়। মামার ইছে ছিল সুদিপ্ত কে এম বি এ পডানোর । ওনার ছেলে নেই তাই সুদিপ্ত,সুশান্ত দুজন কেই ছেলের মোতন দেখেন। মা’র ঘর ঠাকুর ঘরে । মা পুজো আচ্ছা নিয়ে বেশির ভাগ সময় কাটান । প্রত্যেক মঙ্গল শনি দক্ষিনেশ্বর কালি বাডি গিয়ে পূজো দেন দুই ছেলের নামে। মামা গাডি দিতে চাইলে , মা’ গর রাজি হন বলেন “অত আডোম্বরে পুজো দিলে ঠাকুর গ্রহন করেন না”।মহিলাদের মাথায় কে যে এই সব ঢ়োকায় যানিনা । নিজেদের কষ্ট দিতে এদের জুডি নেই।সুশান্ত কিছুদিনের জন্য খডগপুর থেকে মায়ের কাছে এলো মাকে দেখা করতে । মা আনন্দে আটখানা ছেলেকে পেয়ে । আনন্দাশ্রু দুচোখ বেয়ে গডাতে লাগ লো । সুশান্ত ধির স্থির খুব শান্ত মেজাজের ছেলে । বাবার দেহান্তর পর আর যেন শান্ত। দাদা চলে যাওয়ার পর ওর দায়িত্ত বেডেছে । প্রায় দিন ফোনে মা'’র খবর নেয় ।
ঘরে ঢ়ুকে মাকে প্রনাম সেরে হাত পা ধুতে যায় ।
মা তোয়ালে দিতে দিতে বলেন, “রাস্তায় কষ্ট হয় নি ত বাবা” ।
কষ্ট কিসের মা ! তোমাকে ছেডে থাকার কষ্ট বলছো !! না অভ্যেস হয়ে গিয়েছে।
না না ট্রেন জার্নি করে এলি তো তাই বলছি ।
ও ওভ্যেস হয়ে গিয়েছে। এই টুকু ত পথ । সকলে ডেলি পেসেঞ্জারি করে কোলকাতা থেকে ।
হ্যাঁ তা করে । স্নান টা সেরে নে আমি খাবার বাডছি ।
এই সময় মামি এলেন এক থালা জলখাবার নিয়ে । লুচি ফুল কপির তরকারি , বেগুন ভাজা , পায়েস আর মিষ্টি ।
ধপাস করে প্রনাম মামিকে। কেমন আছো মামি ?
ভালো । তুই কেমন আছিস ? এতো রোগা হয়ে গেছিস কেনরে?
হস্টেলে কি খাস না ভালো করে?
কি যে বল । তোমরা মায়েরা শুধু আমাদের রোগা হতে দেখ । বন্ধুরা বলে মোটা হয়ে জাচ্ছিস খেয়াল রাখিস। জিম্ এ যা নয়তো ভুগবি।
কোন বন্ধু , ছেলে না মেয়ে ? মা বলেন ।
খুব অপ্রস্তুত মনে হল সুশান্ত কে। আমি দাদা নয় মা যে হুট্ করে....
থাক থাক । আর বলতে হবে না । উনি যাওয়ার এক বছর না হতেই ছেলে ............ চোখের জল পুঁছতে পুঁছতে মা .............
আহ্ কান্নার কি আছে মা আমি ত আছি !
হ্যাঁ সেই আসায় বসে আছি। তোরা মানুষ হলে আমি কি তোদের বিয়ে দিতাম না । আমার কত সখ ছিল .............।
ঠিক আছে ঠিক আছে । দাদা তো আমাকে হাজার ডলার পাঠিয়েছে ।
তা কি বেশি করেছে শুনি । ছোট ভাইয়ের জন্য উনি করেন নি । সারা জন্ম ভাই বোন কে দেখলেন তারা এখন মুখ ঘুরিয়ে থাকে । আমার কপালে জত কষ্ট !
ঠাকুরঝি তুমি খেয়ে নাও । “ও সব কথা থাক” মামি বলেন । রান্না ঘরে গেলেন রান্নার ঠাকুর (জগা ননা) কে ফরমাজ করতে দুপুরের রান্না র জন্য ।
জগা ননাকে অনেক দিন থেকে দেখি মামার বাডিতে রান্না করতে । জগা ননা র গ্রাম উডিষ্যা র ভদ্রকে । , মাছ মাংস দারুন করে।
সুশান্ত জলখাবার খেয়ে নেটে বোসলো । এফ বি খুলে বন্ধুদের সঙ্গে একটু চ্যাট্ করে দাদার কিছু ফটো দেখলো । দাদা সুদিপ্তা বৌদি স্ট্যাচু অফ্ লিবার্টি , নিউ ইয়র্কের আরো কিছু যায়গা , বিভিন্ন শপিং মল এর ফটো , হ্বাইট্ হাউসের কিছু ফটো র ব্যাক গ্রাউন্ডে ওদের ফটো পোষ্ট গুলো দেখলো । ভালোই হয়েছে ফটো গুলো । পিকাসা তে আপ্লোড্ করে এ্যাল্বাম বানাল "দাদা বৌদি এট স্টেটস্" ।
দাদাকে ফটো পাঠানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ওর কিছু কলেজের তোলা ছবি আপ্লোড্ করে পাঠালো । বৌদি কে হায় জানালো ।
দুপুরের খাওয়াতে জগা ননা , ইলিস মাছের ঝাল , মোচার ঘন্ট , ফুল কোপির তরকারি,পাঁপোড় ভাজা ,টমাটোর চাটনি , পায়েস , মিষ্টি ,দই ইত্যাদি ভালোই বানিয়েছিল । ভাতটা আমি এম্নিতেই কম খাই । এই বয়েসে মোটা হলে আর দেখতে হবে না। বন্ধুরা টিটকিরি মারবে ।
খেয়ে বিকেলে পার্কে বেরুলাম । রাস্তায় 'শ্রাবন্তির' সঙ্গে দেখা। ও পার্কে যাচ্ছিল ।আমাকে আগে থেকেই বলেছিল পার্কে যাওয়ার জন্য । আমার সঙ্গে পা মেলালো ।
শ্রাবন্তি আমার সঙ্গে স্কুল থেকে কলেজ ওব্ধি পডেছে । একি কলেজে একি ক্লাসে পডেছি ১২ক্লাস ওবধি । আমার সঙ্গে আই আই টি এন্ট্রান্স্ ও দিয়েছিল বেচারি পায়নি । খুব ভেঙ্গে পডেছিল। জয়েন্টের রেসাল্ট ভালো ছিল ও এখন শিবপুরে ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং পোডছে । ভালই পডে তবে বড্ড পাকা । কিন্তু মেয়েটা ভালো । আমাকে খুব ভাল বাসে । আমিও ।
কিরে কবে এলি?
আজকে ।
কত দিন থাকবি ?
পরশু চোলে যাবো।
কেন ওখানে কেউ নতুন বন্ধু হয়েছে বুঝি ?
তোদের মেয়েদের ওই এক কথা ! এতো জেলাস কেন বলতো তোরা ?
বাব্বা ! বিবেকানন্দ হলি নাকি? আমি কি জিজ্ঞ্যেস করছি তুই কি ভাবছিস ! আমি বলছি তোর নতুন কোন ছেলে বন্ধুর কথা ।
কেন তার সঙ্গে লাইন মারবি ?
দেখেছিস্ কে জেলাস্ !
ছাড । তোর সেমিষ্টার শেষ হয়েছে ?
হ্যাঁ । তোর ?
তাই জন্যই ত আস্তে পেরেছি।
তাই বল। হ্যাঁরে মাসিমা কেমন আছেন ?
ভালো ।
তোদের বাডি নিয়ে যাবি?
রক্ষে কর আর কেল করিসনা ! মা’ যা রেগে আছেন দাদার ব্যাপারে !!
কেন তোর বৌদি ত তোর দাদার প্রজেক্টে আছেন, না ? কি মজা দুজনে খুব এঞ্জয় করছে বল। তোর ইচ্ছে করে না স্টেস্ এ যেতে বি.টেক্ এর পর ?
না দাদা যে ভুল করেছে আমি তা কোরবোনা ।
তোর দাদা বৌদির ফটো দেখাবি।
কি হবে দেখে ?
ইন্সপায়ার্ড হব ! আমারাও যাবো ।
মানে ?
ওরে ভোঁদাই, বিবেকানন্দ !এই আমায় কিস্ করবি?
তুই খুব ফাজিল হয়ে গেছিস ।
কেন আমার পেছনে লেগে আছিস? দু দিনের জন্য এসেছি তাও তুই আমাকে সিডিউস্ করছিস ? কেন ?কলেজে ফোন ত করিস । হস্টেলে ছেলেরা আমাকে বলে তোর গার্ল ফ্রেন্ড্ !!
আমি কি বলি বল ?
কেন তুই বলবি হ্যাঁ । আমার হবু বৌ । দেখবি ওরা চুপসে যাবে। ঠিক কি না।
সুশান্ত চুপ করে যায়। ওর মা’র কথা বলে। ওর মা কত কষ্ট পাচ্ছে দাদা ওই কান্ড করাতে।
দেখ ‘সু’ আমাকে আর বোঝাস না ! তোর দাদা যা করেছেন ঠিক করেছেন । সুন্দর দেখতে বৌ আবার সেম প্রফেসেনে আছেন ওনারা । তোর বৌদির বাবা মা আই .এ.এস অফিসার । আর কি চাইতিস তোরা ?
ওইটাই তো মায়ের অসুবিধে । মা ঘরোয়া মেয়ে ...........
রাখ রাখ ওই গেঁও ..........
এটা খুব অব্জেক্সনেবিল কথা বলেছিস কিন্তু। আমি এটা পছন্দ করিনা কিম্বা আশা করিনা তোর কাছ থেকে অন্তত ।
এই ! আমি তোর মাকে মানে মাসিমাকে বলেছি নাকি ? আমি কথাটা শেষ করিনি ..........
ঝগডা করতে আমি ভালো বাসিনা।
সেত যানি বিবেকানন্দ ! মাই সুইট হার্ট । আই লাভ ইউ ।কিরে কিছু বোলছিস না যে। তুই কি রিতুপর্ণ ঘোস নাকি রে ?
দেখ বাডা বাডি হচ্ছে ।
তবে চুপ করে আছিস কেন? দেখ এখন সন্ধ্যে হয়ে গিয়েছে । পাসে তুই আর আমি। কি রোমান্টিক না !!
আমি যাচ্ছি ।
বোস না । আমি মেয়ে হয়ে বসেছি তুই কেন লজ্যা পাচ্ছিস ? সত্যি তোরা দুই ভাই এক কেটেগোরির !! ডিব্বা কোথাকার !! বলে হাঁসে ।
ওই ববির ডায়লগটা মনে রেখেছিস আর ওর এপ্লিকেসন্টাও তোর জানা।
তা কি করবো ? তোরা যদি চুপ করে থাকিস কিছু না বলে আমরা মেয়েরা কথা বলতে বাধ্য হই ।
প্রসঙ্গ বদলাতে চেষ্টা করলো সুশান্ত । তুই কখন পডাসোনা করিস ? আমার সেমিষ্টারের পরিক্ষার জন্য প্রিপারেসন করতে হবে । চল যাই । মা চিন্তা করবেন।
ওরে মাতৃভক্ত ছেলেরে । সত্যি তোদের মত ছেলে পাওয়া মুস্কিল । গুড গুড বয় । ওরে আমার ভোলা রে । বলে একটু আলত থাপ্পড দিল পেছনে।
তুই কিন্ত আমার কোকা কোলা হতে পারবিনা।
কেন ? আই আই টি তে পেলাম না বলে বলছিস ।
না তা কেন?
তবে?
তবে আবার কি !তুই নিজেই ভেবে দেখ। আমি এবার চলি। বাই ।
বাই । আবার কবে আসবি?
দেখি । ফাজলামি না করে পডাশুনোর দিকে মন দে ।
আমাকে একটু পায়ের ধুলো দিবি ? তোর মত ভালো ছেলে আমাদের কলেজে একটাও দেখিনি ! শালা মেয়ে দেখলে জিব দিয়ে জল পডে আর মাষ্টার গুলো আরো হারামি । খালি ছুঁক ছুঁক করে।
পায়ের ধুলোর দাম আছে। দিতে পারবি ?
হ্যাঁ । দিতে পারবো ।
তবে বি। টেক্ এ ফার্ষ্ট ক্লাস ফার্ষ্ট হয়ে দেখা।
আই এক্সেপ্ট্ ইট মাই লাভ্ । কিন্তু তোকেও তাই হতে হবে ।তার পর কিন্তু আমি যা বোলবো তোকে মানতে হবে ।
চেস্টা করবো । তারপর ঠাকুরের ইচ্ছা । মায়ের আশীর্বাদ থাকলে নিশ্চই হবে ।
দ?

রীতার ভাগ্য পরিবর্তন ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী / ০৮.০৫.২০১৫ / ০৬.৩৫ (সত্য ঘটনা অবলম্বনে)




                        
 
রীতার ভাগ্য পরিবর্তন 

                                                    ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী / ০৮.০৫.২০১৫ / ০৬.৩৫
                                                                   (সত্য ঘটনা অবলম্বনে) 

বিয়ের সানাই বাজছে । পাড়ার ছেলেদের হো হল্লা । রীতাদির বিয়ে। এই বছর মেয়েটি মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য ফর্ম ফিলাপ করেছিল। মেয়েটি স্কুলে ভালোই পড়ে । গ্রামের স্কুলের মালতী দিদিমণি , হেড মিস্ট্রেস , উনি অঙ্কের দিদিমণি । রীতাকে খুব ভালোবাসেন। রীতাকে ভাল ভাবে সব অঙ্ক বুঝিয়ে দেন। ওনার ধারনা এবারে স্কুলের রীতাই প্রথম হয়তো ৯০ শতাংশ মার্ক পেয়ে স্কুলের নাম রাখবে । অন্য দিদিমণিরাও মালতী দিদির অনুরোধে রীতাকে সমস্ত বিষয়গুলি ভালো ভাবে পড়াচ্ছিলেন। অঙ্ক, বিজ্ঞান , বাংলা , ইতিহাস , ভূগোল ,সংস্কৃত ....।
কিন্তু রীতার কপাল ! ওর বাবা কোথা থেকে এক পাঁড় মাতাল বর জুটিয়েছে । সে নাকি বিনা পণে রীতাকে বিয়ে করবে । রীতার বাবাকে আগাম দু হাজার টাকা দিয়েছে শাড়ী গয়না কেনার জন্য । রীতার বাবা নাছোড় বান্দা ওই বিয়ে দেবেই।
রীতা তার বাবাকে অনুনয় করে বিয়ে বন্দ করার জন্য । সারা দিন কাঁদে ।
বাবা বলেন , “বিয়ে না করে ওই পড়া করে কি দিগগজ হবি। কোথা থেকে টাকা পাবো পড়ানোর ?”
মা বলেন , “আমরা গরীব । বিনা পণে তোর বাবা পাত্র দেখেছেন । কাঁদিস না মা । বাবা মা’র কথা শুনে ঘর সংসার কর দেখবি সব দুঃখ দূর হবে”
চোদ্দ বছরের মেয়ে রীতা । ঘর সংসারের কি বোঝে ? তার এই অপরিপক্ব বয়েসে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিবাহ বাল্য বিবাহ আইনের চোখে অপরাধ সে সেটা জানে । তবুও প্রতিবাদের উপায় নেই । দারিদ্র এমন ই সাংঘাতিক সামাজিক রোগ । এর কোন প্রতিকার কি নেই?
গ্রামের কিছু লোকদের মধ্যে জল্পনা কল্পনা মেয়েটার বয়েস মোটে চোদ্দ পেরিয়ে পনেরো ।
“আজকাল কি এই বয়েসে মেয়ের বিয়ে দেয় !” প্রথম ব্যক্তি
“কি জানি বাপু !” দ্বিতীয় ব্যক্তি বলে ।
সকলে বলে দুখী-রামের ভীমরতি হয়েছে । অমন সুন্দর মেয়ে । পড়া শুনোয় ভালো । তাকে কিনা জগু মাতালের হাতে তুলে দেবে? দিদিমণিরা বলছিলেন রীতা এবারে মাধ্যমিকে স্কুলের নাম রাখবে ।
এই সময় কোথা-থেকে এক মহিলা স্বেচ্ছা সেবী দল একটি গাড়ি নিয়ে হাজির ।ওনারা সঙ্গে পুলিশ এনেছেন । নিয়ম অনুযায়ী আঠারো বছরের কম বয়েসের মেয়ে নাবালিকা । নাবালিকার বিবাহ আইন সম্মত নয়। তাই পুলিশ রীতার বাবাকে বিয়ে বন্দ করতে বলে । ওই পাঁড় মাতাল জামাই বাবাজী এবং রীতার বাবাকে পুলিশের গাড়ীতে উঠতে বলে।
রীতা হতভম্ব হয় সব ব্যাপার দেখে । তার চোখের জল শুকিয়ে যায় । কান্না থামে। তবে সেত চায়না তার জন্য তার বাবাকে পুলিশে নিয়ে যাগ ।
ভাবার আগেই পুলিশের গাড়ী চলে যায়।
রীতার কাছে মহিলা স্বেচ্ছা সেবী , লিঙ্কন সুবুদ্ধি গিয়ে বলেন ,“ভয় পাওয়ার কিছু নেই মা । আমি লিঙ্কন সুবুদ্ধি । তোমার মতন আমার ও একদিন ওই সম দশা হয়েছিল । তুমি আমাদের সঙ্গে আমাদের হস্টেলে চল। তোমার সম্পূর্ণ খরচ সরকার বহন করবেন। এখানে থাকলে আবার ওই লোকটি এসে তোমায় হয়রান করবে। তুমি জাননা তোমার গ্রামের স্কুলের মালতী দিদিমণি , হেড মিস্ট্রেস আমাদের ফোন করে সব জানান । উনি এও বলেন তোমাকে এখানে রাখলে বিপদ আছে।”
রীতা বলে , “কিন্তু আমার বাবা?”
..ও কিছু না । তুমি চলে গেলেই ওনাকে পুলিশ ছেড়ে দেবে। ওনার কাছ থেকে জবান বন্দী লিখিয়ে সই করিয়ে রাখা হবে।
রীতার মা গর রাজি হলেন । আবার পুলিশের ভয়ে রাজি হলেন।
রীতা চলে যায় লিঙ্কন সুবুদ্ধির সঙ্গে তাঁদের হস্টেলে। ওখানে অনেক কম বয়েসই মেয়ে আছে। সকলে পড়া শোনায় ব্যস্ত । রীতা এক নতুন জীবন সুরু করে।
আজ মাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরিয়েছে । চারটে বিষয়ে লেটার মার্ক্স পেয়ে রীতা পাস করেছে । লিঙ্কন তাকে নিজে গাইড করেছে । আজ রীতার চোখে আনন্দাশ্রু। তার মা’কে মনে পড়ছে । কিন্তু এখান থেকে ওদের গ্রাম যাওয়া মানা। এখানেই রীতার উচ্চ শিক্ষার সমস্ত ব্যবস্থা করা হবে। লিঙ্কনের ইচ্ছা সে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুক। ফিনান্সের অসুবিধা নেই। মিস লিঙ্কন সুবুদ্ধির মতন মহিলারা এগিয়ে এলেই এই দেশ থেকে বাল্য বিবাহর মূলোৎপাটন সম্ভব।
** মিস লিঙ্কন সুবুদ্ধি , দিল্লীতে “বাল্য বিবাহ” বন্ধকরার জন্য কিছু লোকের দ্বারা নিগৃহীত হয়েছিলেন। পরে ভুবনেশ্বর ফিরে আসেন । এখানে এসে একটি মেয়েদের হস্টেল করে সেখানে গরীব মেধাবী মেয়েদের সম্পূর্ণ বিনা খরচায় ভালো হস্টেলে রেখে পড়ান। সরকারি সাহায্য ছাড়া অন্য বিভিন্ন সংস্থা থেকে ফান্ড যোগাড় করেন এবং ওই হস্টেলটি চালান।