Monday, March 3, 2014

যূথিকা রায় : তাঁর গান ও সেই সময় ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়



যূথিকা রায় : তাঁর গান ও সেই সময় 

ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়

নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে কলকাতার মানুষ যখন দক্ষিণ কলকাতার রামকৃষ্ণ সেবাপ্রতিষ্ঠান হাসপাতাল চত্বরে হামলে পড়েছে অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের শারীরিক অবস্থা জানার জন্য, তখনই ঐ হাসপাতালের কোন একটি ওয়ার্ডে সুচিত্রা সেন অভিনীত ‘ঢুলি’ ছায়াছবির এক নেপথ্য সঙ্গীত শিল্পী, ৯৩ বছরের এক বৃদ্ধা মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে শায়িত ছিলেন সকলের আগ্রহের অন্তরালে । 

সুচিত্রা সেনের মৃত্যুর তিন সপ্তাহ পরে তিনি মারা গেলেন ৬ই ফেব্রুয়ারি রাত্রি এগারোটায় । চলে গেলেন আধুনিক ‘মীরা বাঈ’ যূথিকা রায় । না, ‘ছায়াছবির নেপথ্য গায়িকা’ এটা কোন পরিচয়ই নয় যূথিকা রায়ের । বাঙালি যখন সবে গান শুনতে শুরু করেছে রেডিও বা কলের গানে, যূথিকা রায় সেই সময়ের সঙ্গীত শিল্পী । বলা সঙ্গত যে, বাংলা গানের যথার্থ আধুনিক হয়ে ওঠা বা বাংলা গানে পরিশীলিত সাঙ্গীতিক রুচি তথা আধুনিকতার নির্মাণ যাঁদের হাতে হয়েছিল তাদেরই একজন ছিলেন যূথিকা রায় । 

১৯৫০/৫২এ আট কি দশ বছর বয়সে তখনও গান শোনার কান তৈরী হয়নি । একটা চারচৌকো কাঠের বাক্স যাকে রেডিও বলা হ’ত, তাতে যখন মীরার ভজন ভেসে আসতো ‘মায়নে চাকর রাখো জী’ কিংবা ‘মেরে তো গিরিধারি গোপাল’ তখন কে মীরা বাঈ এসব জানার কথা নয় আমার । এবং বলতে লজ্জা নেই এইসব গান যিনি গাইতেন তাঁকেই ‘মীরাবাঈ’ বলে জানতাম । অনেক পরে চিতোর বেড়াতে গিয়ে গাইড যখন একটা ছোট ঘরের ভগ্নাবশেষ দেখিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিল ঐ ঘরে বসেই নাকি মীরা তাঁর গিরিধারী নাগরের ভজনা করতেন, তখন যূথিকা রায়ের কথা আর তাঁর কন্ঠস্বর সামনে ভেসে আসতো । একেই বোধহয় ‘লিজেন্ড’ হয়ে যাওয়া বলে ! কিন্তু মীরার ভজন দিয়ে শুরু হয়নি তাঁর সাঙ্গীতিক জীবন, শুরু হয়েছিল আধুনিক বাংলা গান দিয়ে । 

যূথিকা রায়ের জন্ম ১৯২০র ১৬ই এপ্রিল হাওড়া জেলার আমতায় । ঐ একই বছরে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা গানের দুই প্রবাদপ্রতীম সঙ্গীত শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায় আর মান্না দে । মাত্র সাত বছর বয়সে বাবার হাত ধরে কলকাতায় এসেছিলেন বেতারে গান গাইতে । কলকাতা বেতারের তখন নিতান্ত শৈশব কাল । মাত্র একবছর আগে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র, বাণীকুমার, পঙ্কজ কুমার মল্লিক প্রমুখের ব্যক্তিগত উদ্যোগে কলকাতা রেডিওর পত্তন হয়েছে ১৯২৭এর ১৬ই অগস্ট । ঐ বছরেই বৃটিশ ভারতে প্রথম রেডিও সম্প্রচার শুরু হয় বোম্বাই বেতার কেন্দ্র থেকে ২৩শে জুলাই । তখনও প্রায় কারো ঘরেই রেডিও সেট পৌঁছায়নি । কানে হেডফোন লাগিয়ে বেতারের সম্প্রচারিত কথা শোনা যেতো । কিছু সম্ভ্রান্ত ঘরে রেডিও সেট ঢুকলো আরো কিছুদিন পরে । তখন বিনোদন মূলক বাংলা গান বলতে গ্রামফোন রেকর্ডে লালচাঁদ বড়াল, কৃষ্ণ ভামিনী, ইন্দুবালা, হরিমতী, কমলা ঝরিয়ার প্রেম ও ছলনামূলক ও দেহতত্বের গান, কৃষ্ণ চন্দ্র দের কীর্তনাঙ্গের গান, আর ক্বচ্চিত ‘রবিবাবুর গান’ লেবেলে দু একটি রবীন্দ্রনাথের লেখা গান । তখনও বাংলা গানের পরিশীলিত গায়ন-রুচি তৈরী হয় নি । বাংলা রেকর্ডের গানের বয়সই তখন মাত্র ছাব্বিশ বছর । ১৯০২ সালে কলের গানের প্রথম রেকর্ড চালু হওয়ার পর পরিশীলিত গায়ন-রুচি তৈরী হতে লেগে গিয়েছিল আরো কুড়ি পঁচিশটা বছর । 

মাত্র ১৪ বছর বয়সে যূথিকা রায় প্রথম গ্রামফোন রেকর্ডে গান গাইলেন ১৯৩৪এ কাজী নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে । নজরুল তখন কাব্যভুবন থেকে চলে এসে গ্রামোফোন কোম্পানির মাস মাইনের সঙ্গীত পরিচালক । গ্রামোফোন কোম্পানির সর্বময় কর্তা । বস্তুত বাংলা গানের স্বর্নযুগের সূচনা হয়েছিল নজরুলের হাতেই । কুকুর-মার্কা এইচ এম ভি’র লেবেলে যুথিকা দুটি গান রেকর্ড করলেন প্রণব রায়ের কথা ও কমল দাশগুপ্তের সুরে, ‘আমি ভোরের যূথিকা’ এবং ‘সাঁঝের তারকা আমি পথ হারায়ে’ । যূথিকা রায়ের সেই প্রথম রেকর্ডের গান প্রসঙ্গে বাংলা গানের জীবন্ত তথ্যকোষ প্রয়াত বিমান মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণ উদ্ধৃত করি, 

“যূথিকা রায়ের নামে বাজারে রেকর্ড বেরুল - আমি ভোরের যূথিকা আর ওই বিখ্যাত সাঁঝের তারকা আমি পথ হারায়ে - যে গানটাকে এখনকার গবেষক বিশেষজ্ঞরাও অনেকে, আধুনিক বাংলা গান সরণীটির প্রথম মাইলফলক বলে চিহ্নিত করেছেন। কারুর কাছে এটা হয়ত প্রশ্নাতীত নাও হতে পারে, তবু এ গান যে ইতিহাসের উপাদান হয়ে গেছে - তাতে কিন্তু কোনরকম দ্বিমত নেই। সেই বোধহয় রেকর্ডের বাংলা গানে, প্রথম অর্কেস্ট্রা তৈরি হল।... তা, রেকর্ডখানা বাজারে বেরুল। আর মাত্র তিন মাসের মধ্যে যূথিকাদির এই রেকর্ডখানা ষাট হাজার কপি বিক্রী হয়ে গিয়ে বাজারে রীতিমত হৈ চৈ ফেলে দিল। রাতারাতি যূথিকাদি হয়ে গেলো আর্টিস্ট, স্টার।’’ (‘বিমানে বিমানে আলোকের গানে” : শীতাংশুশেখর ঘোষ, পৃ ১৫৪-৫৫)। 

তিরিশের দশক বাংলা গানের সুবর্নযুগের সূচনাকাল । ১৯৩২এ শচীন দেববর্মণ প্রথম বেতার ও গ্রামফোনের গানে প্রবেশ করলেন, ১৯৩২এই বাংলা চলচ্চিত্র নির্বাক যুগ পেরিয়ে সবাক হ’ল, ১৯৩৭এ ‘মুক্তি’ ছায়াছবিতে সঙ্গীত পরিচালক পঙ্কজ কুমার মল্লিক ছায়াছবিতে রবীন্দ্রনাথের গানের প্রয়োগ ঘটালেন । শচীন দেববর্মণ ও সুরসাগর হিমাংশু দত্তের যুগলবন্দির সুরবৈচিত্রে বাংলা গান যথার্থ অর্থেই আধুনিক হয়ে উঠলো। বাংলা গানের কথায় কাব্যের লাবণ্য এল এই সময়ের গানে । এই পর্বেই যূথিকা রায় আধুনিক বাংলা গানের সুবর্ন যুগের নির্মাণে অবিসংবাদী ভূমিকা রেখে গেলেন তাঁর স্বকীয় গায়নশৈলী ও কন্ঠ মাধুর্যের গুনে । ১৪বছর বয়সে প্রথম রেকর্ডের অভূতপূর্ব সাফল্যের পর গ্রামফোন কোম্পানি একের পর এক কমল দাশগুপ্তর সুরে আধুনিক বাংলা গানের রেকর্ড করাতে লাগলেন । সুরকার কমল দাশগুপ্তর প্রতিষ্ঠার পেছনে যূথিকা রায়েরও অবদান বড় কম ছিলনা । কারণ যূথিকা রায়ের প্রায় সব গানের সুরকার ছিলেন তিনি । যূথিকা রায়ের সংগীতজীবনের প্রায় সবটাই জুড়ে ছিলেন কমল দাশগুপ্ত । নজরুল ইসলাম তাঁকে নিয়ে এসেছিলেন আর পরবর্তীতে শুধুই কমল দাশগুপ্ত । প্রথম রেকর্ড করেছিলেন নজরুল ইসলামের লেখা ও সুরে কিন্তু যে কোন কারণে সেই রেকর্ড প্রকাশিত হয়নি । হয়তো স্বয়ং নজরুলেরই তা পছন্দ হয়নি । তিনিই তখন কমল দাশগুপ্ত কে সুর করতে বলেন । ১৯৩৯এ নজরুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়লেন । তারপর তো বাক-শক্তিই হারালেন । 

যূথিকা রায় নজরুলের অনেকগুলি গান রেকর্ডে গেয়েছিলেন । তাঁর গাওয়া নজরুলের গানের মধ্যে নিজের সবচেয়ে প্রিয় গান ছিল ‘ওরে নীল যমুনার জল’ এবং ‘তোমার কালো রূপে যাক না ডুবে সকল কালো মম, হে কৃষ্ণ প্রিয়তম’ । দুটি গানেরই সুর করেছিলেন কমল দাশগুপ্ত । 

এই সময় থেকে যূথিকা আধুনিক বাংলা গান থেকে ভক্তিমূলক – প্রধানতঃ ভজন গানে চলে এলেন । যুথিকা স্মৃতিচারণ করেছেন “এরপর প্রথমে কমল দাশগুপ্ত আমাকে একটা মীরার ভজন শেখালেন, সেই মীরার ভজন যখন দাঁড়িয়ে গেল, পপুলার হলো, ফার্স্ট যখন ‘মীরা কে প্রভু সাঁচী দাসী বানাও’ - এই গানটা বেরিয়ে পপুলার হলো, তখন ওই গ্রামোফোন কোম্পানির থেকে বলা হলো, যতগুলো মীরার ভজন আছে সব যূথিকাকে দিয়ে গাওয়ানো হবে । 

চল্লিশের দশক –বাংলা গানের ভুবন যেন পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে । হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, জগন্ময় মিত্র, সত্য চৌধুরী, সুধীরলাল চক্রবর্তী, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য, বেচু দত্ত প্রমুখ অনেক শিল্পী, শৈলেশ দত্তগুপ্ত, মোহিনী চৌধুরী, অজয় ভট্টাচার্যর মত গানের কথাকার, দুর্গা সেন, অনুপম ঘটক, নচিকেতা ঘোষ, সলিল চৌধুরীর মত সুরকার সেই সময়ের ফসল । 

হেমন্ত মুখোপাধ্যায় পনেরো বছর বয়সে প্রথম বেতারে গান গাইলেন ১৯৩৫এ, ১৯৩৭ এ তাঁর প্রথম গ্রামোফোন রেকর্ড বেরিয়ে গেল ‘কথা কয়োনাকো, শুধু শোন’ ও ‘জানিতে যদিগো তুমি’ । বাংলা গানের ভুবনে অনেক শিল্পীর আবির্ভাব সত্বেও আধুনিক বাংলা গানের বাইরে যে অন্য ধারার গান সেখানে গায়নশৈলীর স্বকীয়তায় উজ্জ্বল হয়ে রইলেন যূথিকা রায় । 

তাঁর সঙ্গীত জীবনের প্রথম পর্বের গানগুলিতে রোমান্টিকতার সঙ্গে পাওয়া যায় একটা বিষাদ বিষন্নতার ছবি, আর ভজন গানে তাঁর গায়কীতে বিভোর, তন্ময় আত্মনিবেদন । একের পর এক মীরার ভজন গাইতে গাইতে ‘আধুনিক মীরা বাঈ’এর পরিচিতি পেয়ে গেলেন যূথিকা রায় । প্রায় তাঁর সমকালেই পন্ডিত ডিভি পালুশকর কিংবা অনেক পরে অনুপ জলোটা এবং আরো অনেক শিল্পী ভারতজোড়া খ্যাতি পেয়েছেন কিন্তু মীরার ভজন গানে যূথিকা রায়ের যে শ্রদ্ধার আসন তাকে স্পর্শ করতে পারেননি কেউ । এই ‘আধুনিক মীরা’ হয়ে ওঠা তাকে বিরল সম্মান এনে দিয়েছিল । সেসব কথা যুথিকা নিজেই লিখে গেছেন তার স্মৃতিচারণ মূলক বই “আজও মনে পড়ে”তে এবং নানান সাক্ষাৎকারে । 

১৯৪৭এর পনেরোই অগষ্ট । সেদিন রেডিওতে যুথিকার গানের সিটিং ছিল । ঘটনাক্রমে সেদিন লালকেল্লায় স্বাধীন ভারতে প্রথম জাতীয় পতাকা তুলবেন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু । যুথিকার পনেরো মিনিটের রেডিও সিটিং শেষ হয়েছে, ফিরে যাবার জন্য প্রস্তুত । তখনই টেলিফোনে সংবাদ এলো, প্রধান মন্ত্রী নেহেরু চাইছেন জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পুরো সময়টা রেডিওতে যেন যুথিকা রায় গান গাইতে থাকেন । নেহেরু তখন তিনমূর্তি ভবন থেকে লালকেল্লার পথে রওনা দিয়েছেন । যূথিকা আবার বসলেন গান গাইতে । গান্ধীজীর প্রিয় রামধুন ভজন ও দেশভক্তিমূলক সহ সাত/আটটি গান গেয়েছিলেন জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় । যূথিকার এমনই প্রবল জনপ্রিয়তা ছিল । নেহেরু নিশ্চয়ই জানতেন গান্ধীজী তাঁর দৈনিক প্রার্থনার আগে যূথিকার ভজন শুনতেন । 

১৯৪৬এ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় গান্ধীজী কলকাতায় এসেছিলেন সত্যাগ্রহে । মঞ্চে ডেকে নিয়েছিলেন যূথিকাকে, তাঁর ভাষণের আগে গান গেয়েছিলেন যূথিকা রায় । 

তখন ছায়াছবিতে গান গাওয়া যে কোন শিল্পীর খুব কাঙ্খিত ছিল, শিল্পীর জনপ্রিয়তার একটা মাপকাঠি ছিল ছায়াছবিতে গান করা । কিন্তু ছায়াছবিতে গান করা যূথিকাকে টানেনি একদম । তিনি যে তন্ময়তায় ভজন গাইতেন তেমন পরিবেশ তখনকার সিনেমায় থাকতো না বলেই মনে করতেন যূথিকা । এ ব্যাপারে তাঁর মায়ের রক্ষণশীলতাও তাঁর সিনেমায় গান না করার একটা কারণ ছিল । তবু দুটি ছায়াছবিতে তিনি নেপথ্য সঙ্গীতে ছিলেন । তখনকার প্রখ্যাত চিত্র পরিচালক দেবকী কুমার বসুর হিন্দি ছবি ‘রত্নদীপ’ ছবিতে, মুক্তি পেয়েছিল ১৯৫১তে এবং পিনাকী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গীতপ্রধান ছবি ‘ঢুলি’, ১৯৫৪ তে । তাঁর দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে আর কোন বাংলা বা হিন্দি ছায়াছবিতে তিনি গান করেননি । 

বস্তুত পঞ্চাশ দশকের শেষ থেকেই তিনি অনুষ্ঠানে গান করা ছাড়া রেকর্ডের গান করা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন । তাঁর প্রায় সব গানের সুরকার কমল দাশগুপ্তের সৃষ্টিশীলতাও কমে যায় । অসুস্থতার কারণে রেকর্ডে সুর করা বন্ধ করে দিলেন । যূথিকাও গানের নতুন গান রেকর্ড করা বন্ধ করে দিলেন । এই সময় শ্যামল গুপ্তর লেখা কয়েকটি গানে নিজে সুরও দিয়েছিলেন যূথিকা । আর অন্যকোন সুরকারের সুরে যূথিকাতো গানই করেনইনি । কমল দাশগুপ্ত রেকর্ডের গানে সুর করা বন্ধ করে দেওয়ার পর গ্রামফোন কোম্পানী তাঁর ইচ্ছামত যে কোন ট্রেনারের সঙ্গে গান করার অনুরোধ করেছিলেন কিন্তু যূথিকা অন্য কোন ট্রেনারের প্রশিক্ষণে গান করায় সম্মত হননি যদিও তখনও তাঁর কন্ঠে গান ছিল আর তাঁর গানের জনপ্রিয়তা ও চাহিদা ছিল । তখন তিনি রজনীকান্ত ও অতুলপ্রসাদের গানে চলে এলেন । এইসময় বাংলা ও হিন্দি ছাড়া উর্দু ও তামিল ভাষাতেও ভক্তিমূলক গান করেছিলেন তিনি । কিন্তু রবীন্দ্রনাথের গান করেননি । অবশ্য যূথিকা রায়ের সঙ্গীত জীবনের শীর্ষ সময়ে রবীন্দ্রনাথের গান বাঙ্গালির কাছে এখনকার মত সর্বগ্রাসী ছিলই না বরং বলা ভালো ১৯৬১তে তাঁর শতবার্ষিকীর আগে বাঙ্গালির রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনার কানই তৈরী হয়নি । অথচ মজার কথা সাত বছর বয়সে বেতারে যূথিকার প্রথম গানটিই ছিল রবীন্দ্র নাথের ‘আর রেখোনা আঁধারে, আমায় দেখতে দাও’ । 

জন্ম হাওড়া জেলার আমতা, পরিবারের আদিবাড়ি খুলনা জেলার সেনেটি গ্রাম । শৈশবশিক্ষা, গানকে ভালোবাসার শুরু সেখানেই, তারপর ১৯৩০ থেকে কলকাতায় পাকাপাকি বাস । আর গানেরতো কোন দেশ কাল হয় না । বয়সও হয়না । বিস্ময় লাগে, এই সেদিন, ২০১৩র পূজোর ঠিক আগে, ৯৩বছর বয়সে মুম্বাইতে গানের অনুষ্ঠান করলেন । সেটাই তাঁর শেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান । রেকর্ডে গান করা ছেড়ে দেবার অনেকদিন পরে বিশেষ অনুরোধে একটি সাঁইবাবার ভজন রেকর্ড করেন ১৯৭৬এ এবং এটি তাঁর শেষ রেকর্ডের গান । 

সময়ের স্রোত হয়তো আমাদের অনেক কিছুই ভুলিয়ে দেয়, তার মধ্যে অস্বাভাবিকতাও নেই কিছুমাত্র, তবু শিল্পীর সৃষ্টি বেঁচে থাকে । যতদিন গানশোনা মানুষ ‘মীরার ভজন’ শুনতে চাইবেন, তাঁকে বোধকরি ‘আধুনিক মীরা’ যূথিকা রায়ের গানের কাছে যেতে হবে ।

Saturday, March 1, 2014

অজিতেশের সন্ধানে... উজ্জ্বল চক্রবর্তী

অজিতেশের সন্ধানে...
সুদূর শিল্পাঞ্চল থেকে কলকাতায় আসার পর অল্প দিনের মধ্যেই বাংলা থিয়েটারে তাঁর নাম জুড়ে গিয়েছিল শম্ভু মিত্র এবং উৎপল দত্তের সঙ্গে। একের পর এক মঞ্চসফল প্রযোজনার পাশাপাশি চলচ্চিত্র, যাত্রা, রেডিও— অভিনয় শিল্পের প্রতিটি মাধ্যমেই নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছেন। নাট্যকার হিসেবেও তিনি খ্যাত। বাংলা নাট্যমঞ্চে তিনি, অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও মিথ। লেখা ও সাক্ষাৎকার: উজ্জ্বল চক্রবর্তী
বিশ্বের খ্যাতনামা নাট্যকারদের নাটক এই বঙ্গে বসে দেখছেন বাঙালি দর্শক। দেখে হাসছেন, কাঁদছেন, রেগে যাচ্ছেন, কখনও বা ভয়ে শিউরে উঠছেন। বিষয় বৈচিত্রে বা ভাবনাগত নতুনত্বে চমকে উঠছেন। বিভিন্ন চরিত্রকে ঘরের মানুষ বলে মেনে নিচ্ছেন। তর্ক জুড়ছেন নিজেদের মধ্যে। অর্ধশতাব্দীরও আগে বঙ্গ থিয়েটারকে বিশ্ব থিয়েটারের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছিলেন যিনি তাঁর নাম অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজস্ব কৌশলে আমৃত্যু তিনি সেই কাজটাই করে গিয়েছেন। ছ’ফুটের উপর লম্বা। বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। আশ্চর্য চাহনি। প্রাণখোলা হাসি। দাপিয়ে অভিনয় করছেন মঞ্চে, গান গাইছেন, নাচছেন। প্রযোজনা নিয়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন কলকাতা থেকে সারা বাংলা। বাংলার বাইরে। নেপথ্যে চলছে নাটক লেখা, নাটক নির্মাণ, নির্দেশনা, সংগঠন সামলানো, স্কুলে পড়ানো। অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগে এমন শিল্পমুখী প্রতিভা বাঙালি দেখেছে কি না সন্দেহ। শুধু কি বাংলা থিয়েটার! রেডিও নাটক, সিনেমা, যাত্রা, কবিতা লেখা, সবেতেই নিমজ্জিত ছিলেন বাংলা মঞ্চের এই ‘শের আফগান’।
জন্ম, ছেলেবেলা ও পড়াশোনা
অধুনা পুরুলিয়া তখন মানভূম। ১৯৩৩-এর ৩০ সেপ্টেম্বর সেখানকার রোপো গ্রামে মামাবাড়িতে জন্মালেন অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশ কয়েক বছর পরে কলকাতায় পা রেখে যে নাম পরিবর্তিত হবে অজিতেশে। নাট্যব্যক্তিত্ব রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত মজা করে বললেন, “সে সময় বাংলা রঙ্গমঞ্চে বেশ কয়েক জন অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় কাজ করছেন। আমার মনে হয়, অজিত বুঝতে পেরেছিল, ওর খুব নাম হবে। ভবিষ্যতে যাতে দর্শক বাকি অজিতদের সঙ্গে গুলিয়ে না ফেলে তাই ও অজিতেশ হয়েছিল।”

‘তিন পয়সার পালা’য় অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কেয়া চক্রবর্তী।
ভুবনমোহন ও লক্ষ্মীরানির বড় ছেলে অজিত। বাবা কোলিয়ারিতে কাজ করেন। আসানসোল শিল্পাঞ্চলের রামনগরে। একটু বড় হতেই অজিত দেখলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। সেটা ১৯৪২, তখন তার বয়স বছর নয়েক। জাপানি বোমার ভয়ে ভুবনমোহন তাঁকে পুরুলিয়ার ঝালদায় এক আত্মীয়ের বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। সেখানে অজিত তিনটি বিষয়ের প্রেমে পড়ে গেলেন— ফুটবল, রাজনীতি এবং থিয়েটার। প্রথমটির ঘোর অল্প দিনের মধ্যেই কেটে যায়। দ্বিতীয়টিতে প্রভাবিত করে গাঁধীজির লেখা। কিন্তু পরের দিকে কমিউনিজমের দিকে ঝুঁকেছিলেন। বেশ কিছু কাল সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নিয়েছিলেন। তবে থিয়েটারের মগ্নতা আমৃত্যু কাটাতে পারেননি অজিত। ঝালদা থেকে বছরখানেকের মধ্যেই ফিরে এলেন রামনগর। কুলটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হলেন। অষ্টম শ্রেণিতে ওঠার পর ভুবনমোহন বদলি হয়ে গেলেন ঝরিয়ার কাছে চাসনালায়। সেখানেই নাট্যগুরুর দেখা পেলেন অজিত। নাম প্রবোধবিকাশ চৌধুরী। তাঁর সঙ্গেই পাথরডি রেলওয়ে ইনস্টিটিউটে ‘টিপু সুলতান’-এ জীবনের প্রথম অভিনয় করেন অজিত। হস্টেলে থেকে চলতে থাকে পড়াশোনা এবং নাটক। স্কুল শেষে অজিত ভর্তি হলেন আসানসোলের বিবি কলেজে। সেখান থেকে আইএ পাশ করে কলকাতা এলেন ১৯৫৩ সালে। ভর্তি হলেন মণীন্দ্র কলেজে।
গণনাট্য সঙ্ঘ থেকে নান্দীকার
ইংরেজির স্নাতক অজিত শিক্ষক হিসেবে কাজে যোগ দিলেন। পাশাপাশি তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য। বাগুইআটির হিন্দু বিদ্যাপীঠের ইংরেজির শিক্ষক, পার্টি কর্মী, তথা গণনাট্য সঙ্ঘ পাতিপুকুর শাখার শিল্পী অজিতকে তখন সবাই এক ডাকে চেনে। দমদম আঞ্চলিক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর দায়িত্ব পড়ে গণনাট্য সঙ্ঘের চারটি শাখাকে মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রযোজনা তৈরি করার। মঞ্চস্থ হল ‘সাঁওতাল বিদ্রোহ’। তার পর ধারাবাহিক ভাবে সঙ্ঘের কাজ করেছেন তিনি, মূলত থিয়েটারকে আঁকড়ে। প্রথম দিকে তারই শাখা হিসেবে কাজ করত ‘নান্দীকার’। কিন্তু সঙ্ঘের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব আর বিচ্ছিন্নতা বাড়তে থাকে। তাই গণনাট্য সঙ্ঘ থেকে সরে এসে ১৯৬০-এর ২৯ জুন অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে, দীপেন্দ্র সেনগুপ্ত এবং অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহায়তায় স্বতন্ত্র সত্তায় আত্মপ্রকাশ করল ‘নান্দীকার’। এর পর প্রায় ১৭ বছর এই সংগঠনের সঙ্গে থিয়েটারকে নিয়ে নিজেকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিয়েছিলেন অজিতেশ।

‘মঞ্জরী আমের মঞ্জরী’তে মঞ্জু ভট্টাচার্য এবং অজিতেশ

‘পাপপুণ্য’তে অভিনেত্রী সন্ধ্যা দে-র সঙ্গে
এই দলের প্রথম নাটক ইবসেনের ‘ঘোস্টস’। বাংলায় ‘বিদেহী’। একটি মাত্র অভিনয়ের পর বন্ধ হয়ে যায় এই নাটকের শো। ’৬০-’৬১-তে পর পর কয়েকটি নাটক মঞ্চস্থ করে নান্দীকার। মৌলিক এবং বিদেশি নাটক নির্ভর ‘দাও ফিরে সে অরণ্য’, ‘সেতুবন্ধন’, ‘চার অধ্যায়’, ‘প্রস্তাব’ করার পর ১৯৬১ সালের ১২ নভেম্বর অভিনীত হল ‘নাট্যকারের সন্ধানে ছ’টি চরিত্র’। এই নাটক বাংলা থিয়েটারে নান্দীকার-এর নাম দৃঢ় ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। মূল নাটক লুইজি পিরানদেল্লো-র ‘সিক্স ক্যারেক্টার্স ইন সার্চ অফ অ্যান অথর’। বঙ্গীয়করণ করেন রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত। এর পর অজিতেশের নির্দেশনায় একের পর এক মঞ্চসফল প্রযোজনা করেছে নান্দীকার। ‘মঞ্জরী আমের মঞ্জরী’, ‘যখন একা’, ‘নানা রঙের দিন’, ‘তিন পয়সার পালা’, ‘শের আফগান’, ‘ভাল মানুষ’— তালিকায় নাম বাড়তেই থাকে। নির্দেশনার পাশাপাশি নাটকের গান তৈরি করা, সে গানের সুর দেওয়া, বিদেশি নাটকের আত্তীকরণ, মৌলিক নাটক লেখা— সবই চলতে থাকে অজিতেশের। নান্দীকার তখন বাংলা নাট্যমঞ্চের হীরকখনি।
নান্দীকার থেকে নান্দীমুখ
১৯৭৭-এ ‘সাংগঠনিক কারণ’-এ নিজেরই তৈরি করা দল নান্দীকার ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন অজিতেশ। ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর তিনি গঠন করলেন নতুন সংস্থা, ‘নান্দীমুখ’। প্রথম দিকে নান্দীকারে করা তাঁর পুরনো নাটকগুলিই মঞ্চস্থ করত নান্দীমুখ। ‘নানা রঙের দিন’, ‘শের আফগান’, ‘তামাকু সেবনের অপকারিতা’, ‘প্রস্তাব’ ইত্যাদি নাটক দিয়েই পথ চলতে থাকে অজিতেশের নতুন দল।

‘পাপপুণ্য’
এর পর লিও তলস্তয়ের ‘পাওয়ার অফ ডার্কনেস’ অবলম্বনে নান্দীমুখ মঞ্চস্থ করে ‘পাপপুণ্য’। নান্দীকারে এ নাটকের একটি পাঠ-অভিনয় হয়েছিল। তার পরই দল ছাড়েন অজিতেশ। তাই ‘পাপপুণ্য’ মঞ্চে উপস্থাপিত হয় ১৯৭৮ সালে, তলস্তয়ের জন্মের সার্ধশতবর্ষে। এ নাটকে নিতাইয়ের ভূমিকায় অভিনয় করলেন অজিতেশ এবং আদুরির চরিত্রে সন্ধ্যা দে। এর পর হ্যারল্ড পিন্টারের ‘দ্য বার্থ ডে পার্টি’ অবলম্বনে অজিতেশ মঞ্চস্থ করলেন ‘৩৩তম জন্মদিন’। বাংলা নাটকের ইতিহাসে এই দু’টি নাটক জায়গা করে নিয়েছে তার যোগ্যতার কারণেই। কিন্তু সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার পাওয়া অজিতেশের অকালমৃত্যু এই দলকে স্তিমিত করে দেয়।
নাট্যকার অজিতেশ
বিদেশে বসে লেখা, সে দেশের পটভূমিতে লেখা বিভিন্ন নাটক অজিতেশের ছোঁয়ায় হয়ে উঠত ঘরের নাটক। এই বাংলার নাটক। ভিন্ন দেশ-কাল-পরিবেশ-পরিস্থিতি-পাত্রপাত্রী যেন হয়ে উঠত একান্ত ভাবেই এ দেশের। বা বলা ভাল, এই বঙ্গের। ব্রেখট, ইবসেন, চেখভ, পিরানদেল্লো, ওয়েস্কার, পিন্টার— বিশ্ব নাট্যমানচিত্রের এই সব স্থপতির সঙ্গে বাঙালির পরিচয় অজিতেশের হাত ধরে। এঁদের নাটকের অনুবাদ নয়, বঙ্গীয়করণ করে তিনি উপস্থাপন করতেন মঞ্চে।

‘তিন পয়সার পালা’য় অজিতেশ, রুদ্রপ্রসাদ এবং কেয়া
“তার আগে তোরা ক’জন জামা-ফামা গায়ে দে মাইরি। তোর তো জন্ম ইস্তক দেখে আসছি, এই এক লাল শালু গায়ে দিচ্ছিস। তোর গায়ের গন্ধে কাবলি কাঁদবে শালা। সিপাহী বিদ্দোহের পর এটা আর কাচিসনি নাকি বে! দ্যাখ দি-নি কোমরে গামছা বেঁধে ডাঁরিয়ে আচে। তুই বরযাত্তীর না শ্মশান যাত্তীররে? ডাঁইরে ডাঁইরে হাসচে, যেন বাপ মরেচে!”
ব্রেট্রোল্ট ব্রেখট-এর ‘দ্য থ্রি পেনি অপেরা’ যখন মঞ্চে উপস্থাপন করলেন অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, তখন এই ভাবেই তার সংলাপ রচনা করেছিলেন। যার ফলে দর্শকদের কোনও ভাবেই মনে হয়নি তাঁরা কোনও বিদেশি নাটকের মঞ্চায়ন দেখছেন। বরং মনে হয়েছে, এই ‘তিন পয়সার পালা’য় বাংলারই কোনও এক চরিত্র মহীন তাঁদের সামনে কথা বলছে। বাঙালিয়ানার মোড়কে বিদেশি নাটক এ ভাবেই দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করতেন অজিতেশ। কিন্তু বর্তমান সময়ে কি বিদেশি নাটককে এমন ভাবে উপস্থাপন করা হয় বাংলা মঞ্চে? নাট্যকার এবং নির্দেশক ব্রাত্য বসু বললেন, “বিদেশি নাটকের স্থানীকরণের বিষয়টা ওই সময়ের দাবি ছিল। দরকারও ছিল। সে দাবিটা অজিতেশবাবু চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন এবং সফল হয়েছিলেন। কিন্তু এই বিশ্বায়ন পরবর্তী যুগে আমাদের থিয়েটারকে আর বিদেশি নাটকের মুখাপেক্ষী হতে হয় না। আমরা আমাদের থিয়েটারের টেক্সট নিজেরাই তৈরি করি। দেশীয় জল-হাওয়া থেকেই উঠে আসে আমাদের চরিত্র ও সংলাপ।” তিনি জানান, সময় পাল্টে গেলেও অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নাটকগুলি কিন্তু বাংলা থিয়েটারের সম্পদ। এবং যত দিন বাঙালি থিয়েটার নিয়ে ভাববে তত দিন অজিতেশ থাকবেন।
অভিনেতা ও নির্দেশক অজিতেশ
অভিনয় শিল্পের সব ক’টি মাধ্যমেই কাজ করেছেন অজিতেশ। মঞ্চ নাটকে তো তিনি অবিসংবাদিত অভিনেতা ছিলেনই, বাংলা চলচ্চিত্র এবং যাত্রাশিল্পও সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁর অভিনয়ে। থিয়েটারে তাঁর অভিনয় যাঁরা দেখেছেন তাঁদের স্মৃতিতে এখনও যথেষ্ট উজ্জ্বল অজিতেশ। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ, সংলাপ, হাসি, গান, বাচনভঙ্গি— সবই মনে আছে তাঁদের।
‘মুদ্রারাক্ষস’
‘আন্তিগোনে’
কোনও চরিত্র করার সময় এমন ভাবে সেই চরিত্রের ভেতর ঢুকে পড়তেন, যাতে দর্শকদের কখনওই মনে হত না মঞ্চে উঠে সংলাপ বলছেন কোনও অভিনেতা। বরং সেই চরিত্র নিজেই যেন সমাজ থেকে উঠে এসে দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছে তার আপনকথা। যখন যে ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, তা সে রাজা হোক বা বাবা, ম্যানেজার হোক বা লালমোহন কিংবা নিতাই, অজিতেশ যেন আদ্যোপান্ত সেই চরিত্রই। কথা বলা থেকে হাঁটাচলার ভঙ্গি, ভাষা বা শব্দের ব্যবহার, সবেতেই মাটি থেকে উঠে আসার ব্যাপারটা প্রকাশ পেত তাঁর অভিনয়ে।

ষাটের দশক থেকে তিনি সিনেমাতেও অভিনয় করা শুরু করেন। সব মিলিয়ে তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের সংখ্যা পঞ্চাশের কাছাকাছি। এর মধ্যে কয়েকটি হিন্দি ছবিও আছে। তপন সিংহ, নবেন্দু চট্টোপাধ্যায়, দীনেন গুপ্ত, অরুন্ধতী দেবী, মৃণাল সেন, জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায়, রবি ঘোষ, তরুণ মজুমদার ছাড়াও আরও অনেক পরিচালকের নির্দেশনায় তিনি সিনেমায় অভিনয় করেন। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘গণদেবতা’র চলচ্চিত্রায়ণ করেন তরুণ মজুমদার। সেই ছবিতে অজিতেশের অভিনয় অবিস্মরণীয়। বৃহৎ বাঙালির কাছে অজিতেশ যে সিনেমার অভিনেতা ছিলেন এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। অন্তত এই প্রজন্মের কাছে তো বটেই।

যাত্রার ক্ষেত্রেও একই রকম সফল অজিতেশ। এবং জনপ্রিয়। গ্রামবাংলার মানুষ যাত্রাশিল্পী অজিতেশের অভিনয়ে বুঁদ হয়ে ছিল। থিয়েটারের বৃত্তের বাইরে একটা বড় সংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছতেই অজিতেশের যাত্রায় যোগ দেওয়া। তিনি বলেছিলেন, “যাত্রা অনেক বেশি লোককে দেখানো যায়। জিনিসটা অনেক ছড়ানো। অনেক কথাও বলা যায়।” কিন্তু বছর তিনেক অভিনয় করার পর তিনি যাত্রা ছেড়ে দেন।

অভিনয় শিল্পের আরও একটা মাধ্যম রেডিওতে প্রচুর কাজ করেছেন অজিতেশ। তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা এখনও সতেজ বাচিকশিল্পী এবং আকাশবাণী ও দূরদর্শনের প্রাক্তন কর্তা জগন্নাথ বসুর মনে। তাঁর প্রযোজনায় বহু নাটকে অভিনয় করেছেন অজিতেশ। “প্রথাগত অভিনয়ের বাইরে চরিত্র নিয়ে ভেবে সংলাপ উচ্চারণ করতেন অজিতেশবাবু। আঞ্চলিক ভাষার অভিনয়ে ওঁর কাছাকাছি কেউ ছিলেন না। ‘গিরিশ ঘোষ’ প্রযোজনায় তাঁর ‘ঠাকুর’ বলে কান্নায় ফেটে পড়ার অভিনয় আমার সারা জীবন মনে থাকবে। অভিনয়ের এমন ব্যাপ্তি আমাকে আজও অবাক করে।” জানালেন জগন্নাথবাবু।

অজিতেশের নির্দেশনায় কাজ করা শিল্পীরা আজও তাঁর গুণমুগ্ধ। যে পদ্ধতিতে শিল্পীদের দিয়ে অভিনয় করিয়ে নিতেন, তা আজও তাঁদের কাছে বিস্ময়! অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কখনও শিখিয়ে দিতেন না। কিন্তু সময় দিয়ে নির্মাণ করতেন এক একটি নাট্য মুহূর্ত। মায়া ঘোষ থেকে সন্ধ্যা দে কিংবা বিভাস চক্রবর্তী থেকে পবিত্র সরকার— সকলে এক বাক্যে জানালেন এ কথা।

রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত নির্দেশিত ‘ফুটবল’ নাটকের প্রথম অভিনয়ে অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়
অন্য অজিতেশ
“অজিতেশের যেটা মজা, আপনার সঙ্গে কথা যখন বলবেন, তখন আপনিই যেন পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লোক তাঁর কাছে। এবং অসাধারণ হাস্যরসিক ছিলেন।” বলছিলেন পবিত্র সরকার। কথিত আছে, সকালবেলা কোনও তরুণ হয়তো অজিতেশের কাছে দেখা করতে এলেন। তাঁর সঙ্গে সারাদিনের গল্প শেষে ওই তরুণের বোধ হবে তার জীবনে আসলে একটাই কাজ, সেটা হল থিয়েটার করা। এমন মায়াময় কথা বলতেন। একই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করলেন নাট্যনির্দেশক আশিস চট্টোপাধ্যায়, “আমাদের দলের একটা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে তাঁকে নেমন্তন্ন করতে গিয়েছি বেলেঘাটার বাড়িতে। শত ব্যস্ততার মধ্যেও অপরিচিত এই নাট্যকর্মীকে অনেকটা সময় দিয়ে শুধু থিয়েটারের গল্পই করে গেলেন।” সে কারণেই বোধহয় ব্রাত্যকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়, যদি কোনও ভাবে অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা হয়, নাট্যকার হিসেবে, অভিনেতা হিসেবে এবং সংগঠক হিসেবে তিনটি প্রশ্ন করতে হলে কী কী করবেন? একটুও না ভেবে তিনি উত্তর দেন, “কোনও প্রশ্ন নয়। শুধুই গল্প করব। থিয়েটার নিয়ে গল্প।”

খেতে খুব ভালবাসতেন। এমনও শোনা যায়, মহলাকক্ষে আনা শিঙাড়ার অর্ধেকের বেশি তিনিই খেয়ে ফেলতেন। জগন্নাথ বসু তো বলেই ফেললেন, “অমন খাদ্যরসিক মানুষ আমি আর দেখিনি। এক বার রেকর্ডিং শেষে আমি আর অজিতেশবাবু গিয়েছি আকাশবাণীর ক্যান্টিনে। তখন ওখানে সিমাইয়ের পায়েস পাওয়া যেত। তিনি ঢুকেই জিজ্ঞেস করলেন, ‘কয় বাটি পায়েস আছে?’ উত্তর এল, ‘১৯ বাটি।’ তিনি বললেন, ‘দিয়ে দিন।’ টেবিলে ১৯ বাটি পায়েস এল। আমার সঙ্গে কথা বলতে বলতে প্রায় সব ক’টি বাটিই শেষ করে ফেললেন তিনি। আমি বোধহয় ২ বাটি খেয়েছিলাম তত ক্ষণে!”
শেষের সে দিন
১৯৮৩-র ১৩ অক্টোবর মাত্র পঞ্চাশ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বাংলা অভিনয় জগতের প্রবাদপ্রতিম এই শিল্পী। সেটা ছিল সপ্তমীর রাত। ওই সন্ধেতেই দক্ষিণ কলকাতার ‘সুজাতা সদন’-এ ‘সেই অরণ্যে’ নামের একটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন তিনি। নাটক শেষে বাড়ি ফিরে একটু রাত করেই খেয়েছিলেন খাবার। তার পর হঠাৎ বুকে ব্যথা। ডাক্তার ডেকে আনার আগেই সব শেষ। সে বছরের অষ্টমীর দিন নিমতলা শ্মশানে পুড়ে শেষ হয়ে যায় বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নটের দেহ।

Monday, February 24, 2014

গৃহ শিক্ষক "সনাতন স্যার" / ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী /২৪ শে ফেব্রুয়ারী ২০১৪


গৃহ শিক্ষক সনাতন স্যার 
আজ মনে পড়ছে আমার ছোটবেলার গৃহ শিক্ষকের কথা । সনাতন স্যারের কথা। উনি খুব গরীব ঘরের মেধাবী ছেলে তাই আমার বাবা ওনাকে আমাদের বাডির একটা গেস্ট রুমে থাকতে দিয়েছিলেন। উনি আমাকে এবং আমার ছোট ভাইকে পডাতেন । আমার তখন ক্লাস ফোর আমার ভাইয়ের ক্লাস টু । দুজনেই সনাতন স্যারের কাছে অঙ্ক করতাম । স্যার খুব ভালো অঙ্ক বোঝাতেন ।
স্যার আমাদের বাডিতে থেকেই বি.এ পরীক্ষা দিলেন । খুব ভালো রেজাল্ট করেছিলেন । ফার্স্ট ক্লাস ডিস্টিংশন উইথ অঙ্ক অনার্স । স্যারের ইচ্ছে ছিল বি.এস.সি পডা ফিজিক্স অনার্স নিয়ে কিন্তু হয়ে ওঠেনি নানা কারনে। আমাকে ছোট বেলা থেকেই খুব উৎসাহ দিতেন সাইন্স নিয়ে পডতে । নানা রকমের ছোট ছোট এক্সপেরিমেন্ট করে বোঝাতেন সেটা কি করে হচ্ছে । আমি ক্লাস সেভেনে টু ট্রানজিস্টার রেডিও বানাই । সেটার সাফল্যে স্যার আমাকে একটা সোল্ডারিং আয়রন কিনে দেন। তখন রেডিও বানান একটা দারুণ ব্যাপার ছিল। কিন্তু স্যার সার্কিট ডায়াগ্রাম করে প্রত্যেকটা কম্পোনেন্টের যেমন ট্রান্সিস্টার , কনডেনসার , রেসিস্টান্স কি ? তাদের কাজ কি ? কটা ইলেক্ট্রোড থাকে ? এই সব বোঝাতেন আমাকে । রেসিটান্স কালার কোড দেখে কি করে রেসিস্টান্স বোঝা যায় , পি.এন.পি ট্রান্সিস্টার কি ? এন.পি.এন ট্রান্সিস্টার কি ? ডায়াগ্রাম করে বোঝাতেন। তখনো আই.সি আবিষ্কার হয়নি। এখনকার ছেলেরা ইন্টার নেট দেখে বিনা মাষ্টারে অনেক কিছু যানতে পারে। তখনকার কালে তা সম্ভব ছিলনা।
আমার হবি হয়ে গেল সার্কিট ডায়াগ্রাম দেখে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেট বানানো । ক্লাস টেন এ প্রথম সেভেন ট্রান্সিস্টার রেডিও বানাই ঘরে বসে। একটু একটু করে টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে বেল কোম্পানির সিলিকন ট্রানজিস্টার কিনে , পি সি বি কিনে তাতে অন্যান্য কম্পোনেন্ট সোল্ডার করে বসাই। পুরো সেট তৈরি করতে ৭,৮ দিন সময় লাগে । প্রথম আমার তৈরি সেই ট্রানজিস্টারে বিবিধ ভারতীর গান শুনি । যদিও সামান্য নয়েজ ছিল । স্যারের প্রচেষ্টায় আমি অনেক কিছু শিখি । পরে স্যার চাকরী পেয়ে চলে যান অনেক দুরে । আমার আর সেরকম যোগা যোগ রইল-না । অনেক দিন পর একটা পোষ্ট কার্ড পেলাম ডিফেন্সে জয়েন করেছেন ক্লারিকালে । আম্বালাতে পোষ্টেড ।
আমার এই খুট খাট ইলেক্ট্রনিক্সের কাজ চলতে থাকে বাডিতে বসে । কখন বার্গ্লার অ্যালার্ম , ব্যাটারি এলিমিনেটার , ক্ল্যাপ স্বিচ , ড্যান্সিং লাইট , ১০+১০ ওয়াট স্টিরিও এমপ্লিফায়ার ইত্যাদি। পরে ম্যুসিক ডোর বেল বানালাম ।তখন সাইন্স টু ডে বলে একটা ম্যাগাজিন বেরুত । তাতে অনিল ভি.বোরকার নামে এক লেখক “ইউ টু কেন ডু ইট” বলে লেখা বার করতেন যাতে বিভিন্ন সার্কিট ডায়াগ্রাম থাকতো । বলা বাহুল্য তখনকার দিনে আমরা কম্পুটার আবিষ্কারের কথা স্বপ্নেও ভাবি নি । ইলেক্ট্রনিক্সে ভারত তখন অতটা প্রগতি করে নি আজ যা করেছে । জাপানি ট্রান্সিস্টার স্যানিও , ন্যাশনাল পানাসোনিক , ওদিকে জার্মান গ্রুন্ডিগ এইসব ইম্পোর্টেড নাম তখন খুব বিলাসিতার বস্তু ছিল। লোকেদের বাডিতে একটা জি.ই.সি রেডিও থাকলে বিরাট ব্যাপার মনে করত সবাই ।
এরপর কলেজে ঢুকে সব ছেডে দিলাম। আজ এই জন্যই স্যারকে মনে পডছে যে তিনি আমাকে উজাড় করে স্নেহ দিয়েছিলেন আর ছোট ভাইয়ের মত বোঝাতেন সব সুন্দর করে। আমি ওনার অনুপস্থিতি খুব খুব মনে করছি । উনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এই প্রার্থনা করি ভগবানের কাছে ।
আজ ইলেক্ট্রনিক্সের যুগে মহাকাশ যান থেকে এরোপ্লেন , মিসাইল , মোবাইল , কার , ঘডি , খেলনা সবেতেই ওই ইলেক্ট্রনিক্সের ব্যাবহার । সবেতেই সফটওয়্যারের ব্যাবহার । আমি যা কম্পুটারে বসে বাংলা টাইপ করছি সেটাও সফটওয়্যারের কামাল। তাই বড আশ্চর্য লাগে পৃথিবীতে আরো কত আবিষ্কার বাকি আছে আরও কত নতুন নতুন জিনিষ যা আমাদের ভাবনার বাইরে তা হয়ত আবিষ্কার হবে । আমরা তখন থাকবো না হয়ত আমাদের পরের প্রজন্ম দেখবে ব্যাবহার করবে । বিজ্ঞানের এটাই ম্যাজিক ।

Friday, February 21, 2014

আজ ২১ ফেব্রুয়ারি আজ বিশ্ব ভাষা দিবস । সেই উপলখ্যে শ্রধ্যেয় ফাল্গুনী মুখপাধ্যায়ের কলম থেকে কিছু লেখা পোষ্ট করলামম ঃ-

আজ ২১ ফেব্রুয়ারি আজ বিশ্ব ভাষা দিবস । সেই উপলখ্যে শ্রধ্যেয় ফাল্গুনী মুখপাধ্যায়ের কলম থেকে কিছু লেখা পোষ্ট করলামম ঃ-

আজ একুশে ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস । একুশে ফেব্রুয়ারি ‘বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস’ সেইসঙ্গে ‘ভাষা শহিদ দিবস’ও বটে । একুশে, বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবীতে ১৯৫২’র রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের প্রতি এবং ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর দিন,তেমনই বিশ্বের যেকোন প্রান্তে সব ভাষাগোষ্ঠীর মাতৃভাষাকে সম্মান জানানোর দিন, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবিতে যেখানেই যারা আত্মদান করেছেন তাঁদের প্রতি বিনম্র প্রণাম নিবেদনের দিনও ।
শুনতে ভালো লাগবেনা, এ বাংলায় একুশের ভাষা শহীদ স্মরণে আমাদের আবেগেও কিছু ফাঁকিবাজি আছে । ১৯৬১র উনিশে মে’র বরাক উপত্যকার  মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে ১১জন শহীদের জীবন দানের কথা আমরা ভুলে যাই,কিংবা বড়ই ক্ষীণকন্ঠে উচ্চারণ করি ।  বাঙালির আর এক স্বদেশ ‘বাংলাদেশের’ সুখ্যাত ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেন বরাকের ভাষা সংস্কৃতি চেতনার কথা এই ভাবে প্রকাশ করেছেন “১১জন শহিদের স্মৃতিস্তম্ভের ভেতরে সূর্য হয়ে আছে তাদের ভাষার লড়াইএর ইতিহাস” আমরা– বাংলা ভাষার তথাকথিত মূল ভুখন্ডের বাঙালিরা তবে সেই সূর্যের দীপ্তিতে একাত্মবোধ করবো না কেন ! 
বাহান্নর ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র প্রণাম নিবেদন করছে ‘অন্যনিষাদ’, একই সঙ্গে একষট্টির বরাকের এগারো জন ভাষা শহিদদের প্রতিও শ্রদ্ধাবনত প্রণাম নিবেদন করছে ।
এই ‘অন্যনিষাদ সপ্তাহ’তেই পেরিয়ে এলাম বাঙালির প্রাণের কবি জীবনানন্দ দাশের ১১৬তম জন্মদিন – ১৭ই ফেব্রুয়ারি । ‘অন্যনিষাদ’এর এই ৩য় বর্ষ ১৮তম  সংখ্যায় শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করলাম সেই প্রাণের কবিকে বারোটি কবিতার মধ্য দিয়ে ।
বাংলা আকাডেমি, ঢাকার উপ-পরিচালক ডঃ তপন বাগচী বাহান্নর ভাষা আন্দোলন প্রসঙ্গে একটি তথ্যবহুল লেখা দিয়েছেন ‘অন্যনিষাদ’কে ।আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই  ডঃবাগচীকে ।
৩২টি লেখায় সাজিয়েছি ‘ভাষা প্রণাম’ ও ‘শ্রদ্ধাঞ্জলী জীবনানন্দ’ সঙ্খ্যাটি । পাঠকের মতামত পেলে খুশি হবো ।

                   

Tuesday, February 18, 2014

পরোপকার ঃ ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী / ১৯.০২.২০১৪ বেলা ১১.২৫।


পরোপকার

নিমাই দা । এমন পরোপকারী , সদা মিষ্ট হাস্য এক অমায়িক ব্যক্তিত্বের লোক সচর আচর পাওয়া মুস্কিল । কারুর কোন বিপদ হলে নিমাই-দা ঝাঁপিয়ে পডে তার বিপদে সাহায্য করেন । পাড়ায় কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাঁসপাতালে নিয়ে যাবেন নিমাই-দা । কেউ ডাকলেই হল এক ডাকে নিমাই-দা সঙ্গে সঙ্গে হাজির । ডাক্তার বদ্যি সব ই নিমাই-দার চেনা। পাড়ায় কোন ফাংশন হবে , পূজো হবে , নিমাই-দাকে না জানিয়ে কেউ কিছু করতে পারে না । সবাই কেমন যেন নির্ভরশীল ওর ওপর । থানা পুলিস সব জায়গায় নিমাই-দাকে সবাই চেনে । আর সুধু চেনা নয় কাজেও লাগেন নিমাই-দা । এরকম নিঃস্বার্থ পরোপকারী লোক এ যুগে পাওয়া মুস্কিল। তাই সকলের প্রিয় নিমাই দা । এল আই সির এজেন্ট এবং আরও কিছু ছোট খাটো কাজ যেমন টিভি মেরামত , কম্প্যুটার এর কাজ করে নিজের খরচ চালান। অনেক সময় টাকা না নিয়েই কাজ করে দেন। বিয়ে করেন নি যদিও বিয়ের বয়েস পার হয়নি ।বলেন বিয়ে করলে বৌকে খাওয়াবো কি? ওটা আমার কাছে বিলাসিতা । এইতো তোদের নিয়ে দিব্বি আছি ।
ওর বাডির লোক বলেন , উনি নাকি খাওয়ার থালা ফেলে চলে জান কেউ ডাকলে । নিমাই-দার বাবা অনেক দিন অসুস্থ থেকে হঠাৎ মারা জান । তাই সেইথেকে উনি মুসডে পড়েন । বাবাকে খুব ভালো বাসতেন ত । বাবা চলে জাওয়াতে ওনাদের বাডিতে উনি সবচেয়ে বেশি দুঃখ পেয়েছিলেন , কেউ না জানুক পাডা পড়শি জানে সে কথা। মনের কথা মনেই রাখেন । ভাইরা যে যার স্বার্থ নিয়ে চলে । অন্য কারুর সঙ্গে সেরকম জানাশোনা নেই শুধু নিমাই দা কেই সকলে খোঁজে । সামনে কর্পোরেশনের ভোট। আমাদের পাডার অনেকেই চায় নিমাই-দা কর্পোরেটর হলে কিছু কাজ হবে । কিন্তু নিমাই-দাকে কোন পার্টি টিকিট দেবে ? সবাই তো গুছনর জন্য ভোটে নামে ওকে কে টিকিট দেবে?
নিমাই-দার মতন নিঃস্বার্থ লোক ভোটে নামলে পার্টির কি লাভ হবে ? তাই পাডার কিছু বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি নিজেদের মধ্যে স্থির করেন নিমাই-দা নির্দল প্রার্থী হয়ে ভোটে দাঁড়িয়ে ড্যাংড্যাং করে জিতে দেখাব । সকলে দেখুক জানুক লোকের জন্যে কাজ করলেই লোকে তাকে ভোট দিয়ে জেতায় । যেমন ভাবা তেমন কাজ । সকলে ধরল নিমাই-দাকে ভোটে দাঁড়ানোর জন্য ।
নিমাই দা কিন্তু গরে রাজি হলেন। সবাইকে হাত জোড় করে বললেন ওই ভোটে দাঁড়ানোর জন্য যেন কেউ তাঁকে অনুরোধ না করেন। লোকের জন্য কিছু করতে পারলে তিনি ধন্য হন। তিনি একটি ইংরাজি প্রোভার্ব কে মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন সেটা হল, “সার্ভিস টু হিউম্যান বিইংগ ইজ সার্ভিস টু গড ।” তাই মানুষের সেবার মাধ্যমে তিনি ভগবানের সেবা করেন এটাই তাঁর ধারনা। পাডার সবাই কিন্তু বলেন, “নিমাই দা তুমি ভোটে না দাঁড়ালে আমরা ভোট বর্জন করবো , তুমি কি সেটা চাও !”

অগত্যা নিমাই-দা সকলের জেদের কাছে মাথা নুইয়ে সকলের মুখে হাসি দেখার জন্য নমিনেশন ফর্ম ভরলেন। ২৮ নাম্বার ওয়ার্ডের প্রার্থিপত্র দাখিল হল মহা ধুম ধামে রিটার্নিং অফিসারের কাছে । নির্দল প্রার্থী ভাবে নিমাই দার নমিনেশন দাখিল হওয়াতে আমাদের পাডার প্রোমটার জগদীশ মণ্ডল যে কিনা মিউনিসিপাল কন্ট্রাক্টটার তার স্বার্থে বাধা পডল । রুলিং পার্টির হয়ে সেই টিকিট পেয়েছে কিন্তু জেতার আশা ক্ষীণ । অগত্যা বিধায়ক মহাশয় হস্তক্ষেপ করলেন এই ব্যাপারে কারণ বিষয়টা জটিল আর সম্মানের ব্যাপার । তিনি নিমাই দাকে নমিনেসন তুলে নিতে বললেন ।
বলেন, “লোকে তাঁকে দাঁড় করিয়েছে তাই তারাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে” ।

বিধায়ক মহাশয় কথাটায় খুব একটা খুশি হলেন না। যাওয়ার আগে বলে গেলেন ব্যাপারটা ভাল করে ভেবে দেখতে ।

জগদীশ মণ্ডলের কথা বলে রাখা ভাল । প্রথমে বিল্ডিং মেটি-রিয়াল সাপ্লাই করতো । এখন এলাকায় ভাইয়ে ভাইয়ে বিবাদ লাগিয়ে জমি জলের দরে কিনে এপার্টমেন্ট করে । পুকুর , ডোবা বুজিয়ে নিম্ন মানের সিমেন্ট , লোহার ছড ব্যাবহার করে এপার্টমেন্ট করে মোটা টাকা কামাচ্ছে । কারো টুঁ শব্দ করার উপায় নেই । রুলিং পার্টির লোক , হাতে মাথা কাটতে দু মিনিট সময় লাগবেনা । পাডার কিছু ছোঁড়া জগদীশের কাছে নেশা করার টাকা পায়, তারা দাপিয়ে বেডায় । জগদীশের এরাই সৈনিক ।
নিমাই-দাকে বাডীর সকলে এই ঝামেলাতে মাথা ঘামাতে বারন করেন । মা বলেন কেন সুখে থাকতে ভুতে কিলোয় তোকে জানিনা । পরের জন্য মাথা ঘামিয় নিজের জীবনটা বরবাদ করলি ।
নিমাই দা হাসি মুখে বলেন , মা কেন তুমি বোঝনা আমি এই নিয়ে শান্তিতে আছি । বেশ ত চলে যাচ্ছে । আমার কি চাহিদা বল ? তুমি আছ বৌদিরা আছেন এইতো বেশ ।
চোখের জল মুছে মা বলেন তোর চিন্তায় আমার ঘুম হয়না । বাউণ্ডুলে জীবন বেছে নিলি । অন্য সব ভাইরা যে যার গুছিয়ে সংসার করছে তুই ব্যতিক্রম । আমি মলে কে তোকে ভাতের থালা মুখে ধরবে ? খেয়াল রাখিস কিছু ! এখন ওই অলক্ষুণে জগদীশ মণ্ডলের বিপরীতে ভোটে দাঁড়াচ্ছিস। তোর কোন ক্ষতি হলে পাডার লোক আসবে তোর কাছে ? সব্বাইকে চিনিরে ।
বালাই সাট তুমি কোন দুঃখে মরবে ? ও সব ভেবোনা । সব ঠিক হয়ে যাবে ।
না ভাববো না ! উনি চলে গেলেন আমার হয়েছে জত মরণ।
আমার লক্ষ্মী মা । তুমি না তারাপীঠে যাবে বলছিলে মায়ের পূজো দিতে । চল সামনের মঙ্গলবার তোমায় তারাপীঠ নিয়ে যাবো । এখন খিদে পেয়েছে কিছু দাও খেতে।
ও নিমাই দা ! নিমাই দা !!
কিরে কি হল বল্টু ?
আর বোলনা । ঝন্টু গিয়েছিল কলেজে । ওকে কলেজ ইউনিয়নের ছেলেরা মেরেছে ।
কেন?
ও তোমার নমিনেশনে সমর্থন করেছিল বলে । বলেছে , কলেজে যদি পডতে চাস আমাদের কথা মত চলতে হবে ।
সে আবার কি ?
তাইতো ! এর একটা হেস্ত ন্যস্ত করতে হবে । জগদীশ হন্যে হয়ে লেগেছে । এতো মাল কামাচ্ছে তাও পেট ভরছেনা । ও বলেছে নিমাই কে বল নমিনেশন উইথ-ড্র করতে নাহলে যা হবে তার জন্য তৈরি থাকতে ।
নিমাই কিছু ভাবছিল । হঠাৎ কিছু লোক ঘরে ঢুকে ওকে জবরদস্তী নিয়ে গেল ।
মা চিৎকার করে পাডার লোকেদের ডাকলেন । কেউ এলোনা কাছে । মা হাউ হাউ করে কাঁদতে লাগলেন “আমার ছেলে কি দোষ করেছে ওকে ছেড়ে দাও ! ওকে ছেড়ে দাও !! তোমাদের পায়ে পড়ি। ও সারা জীবন পরের উপকার করেছে । এই কি তার প্রতিদান ?”
পাডার বুদ্ধিজীবীরা থানায় গিয়ে ডায়েরি করলেন। থানার বড়বাবু বলেন, “আপনারা কেন উটকো ঝামেলা বাড়ান বলুন তো ? আপনাদের কি কোন কাজ নেই ? আমি দেখছি কি করা যায়।”
না আমাদের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চাই ।
প্রতিশ্রুতি ! ‘কেন মশাই আমি কি মন্ত্রী না এম এল এ ? আমার অনেক কাজ । আসুন’ হাত জোড় করে বলেন বড়বাবু ।
রাতে নিমাই দাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেল পুকুর পাড়ে । মাথায় শক্ত আঘাত । পাডার ছেলেরা সব্বাই মিলে ডাক্তারখানায় নিয়ে যায় । চার বোতল রক্ত লাগে । মাথায় ছটা স্টিচ লাগে । এখন শয্যাশায়ী । পাশে মা আর দুট ছেলে ।
পরের দিন বিরোধী পার্টির মিছিল বেরোয় । জুলুম বাজি চলবে না । চলবে না ......

হায়রে বিধাতা । তুমি কি সত্যি আছো ? মনে ত হয় না। মিথ্যাচারে ঘৃণ্য রাজনীতিতে দেশ উচ্ছন্নে যাচ্ছে তবুও তুমি দিব্বি বসে আছো ভোগ খাচ্ছ চোখ,মুখ,কান বন্দ করে । বাঃ বেশ !

Friday, February 14, 2014

যন্ত্র মানব ৩য় পর্ব ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী ।

৩য় পর্ব 
সুদীপ্ত , সুদীপ্তা দুজনেই প্রজেক্টের কাজে খুব ব্যাস্ত থাকে । নতুন প্রজেক্ট আর ক্লায়েন্ট নিয়ে ওরা নিজেদের কাজে এতো মসগুল থাকে যে ভালকরে কথা বলার সময় পায় না। এদিকে সুদীপ্তর মা অন্য কথা ভাবেন। ছেলের ফোনের জন্যে বসে থাকেন ভোরে । অনেকদিন ফোন না পেয়ে সুশান্ত কে দাদর খোঁজ নিতে বলেন। সুশান্ত পরের সেমিষ্টারের জন্য প্রস্তুতি চালায়। টপ র্যানঙ্কের জন্য রাত দিন পডাশুন করতে থাকে। ওদিকে শ্রাবন্তি আর ফোন করেনা । ও নিশ্চই ভালো করে প্রিপারেসন করছে । 
একদিন মা দুই ছেলের খোঁজের জন্য মামাকে বলেন,দাদা একটু ফোন করবি ছেলে দুটোকে অনেক দিন কোন খবর পাই না । কি করছে দু জনে কে জানে ? 
নাম্বার আছে?
মা, সুশান্তর নাম্বারটা রেখেছিলেন , বললেন এই নে । 
মামা সুশান্ত কে ফোন করাতে ফোন স্বিচ অফ দেখাল । 
মামা বিব্রত হলেন পরে বুঝলেন নিশ্চই ক্লাসে অথবা পডাতে ব্যাস্ত । বোনকে বললেন ব্যাস্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই ওরা দুজনে নিজেদের কাজে ব্যাস্ত। তুই যা আমি পরে খবর নিয়ে বোলব তোকে ।
আচ্ছা । বলে মা চলে গেলেন ঠাকুর ঘরে । 
নিউয়র্ক সহরঃ-
আলো ঝলমলে রাস্তায় হারিয়ে গেছে সুদীপ্ত আর সুদীপ্তা । গাডী নিয়ে বেরিয়ে পডেছে ঘুরতে।আজ শনিবার ওদের ছুটি ।বলা বাহুল্য সুদীপ্ত এখানকার ড্রাইভিং ট্রেনিং পাস করে লাইসেন্স পেয়েছে। সুদীপ্তাও জানে তবে এস।উ।ভি চালাতেই ও ভালোবাসে। এখানকার রাস্তাতে গাডী চালানোর মেজাজই আলাদা । লঙ ড্রাইভে যেতে মজা লাগে। সারা শহরের শপিং মল ওদের মুখস্ত। কোথায় ইন্ডিয়ান ডিশ পাওয়া জায় সেখান্থেকে আনে। স্রিম্প প্যাক আনে ব্রকলি আর কেপ্সিকাম দিয়ে সুদীপ্তা ইন্টারনেট দেখে রান্না শেখে । ওরা ওই খায় । দুধ টা ভালো আর ফোর সিরিয়ালের আটা দিয়ে রুটি বানায়। কাল পার্টি আছে। সুদীপ্ত এখানে প্রজেক্ট ম্যানেজার হল তাই। এতো তাডাতাডি পি।এম হওয়া আর নতুন প্রজক্টে এর দায়িত্ত নেওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। ওর প্রজেক্টের কাজের জন্য একজন সিনিয়ার প্রজেক্ট ম্যানেজার (SPM ) ওকে গাইড করবেন। 
আজ শনিবার ওহিও তে পার্টি দিচ্ছে সুদীপ্ত এবং সুদীপ্তা দুজনে। প্রায় জনা ১৬ র মত নিমন্ত্রিত ছিলেন। সুদীপ্তার মা বাবা উইস করলেন ওদের দুজনকে। সুদীপ্ত অনেক দিন পর মাকে প্রনাম জানালো । নতুন প্রমোশনের কথা জানালো । মা খুশি হয়ে আশীর্বাদ করলেন,মামা,মামি সকলেই খুব খুশি হলেন এই সম্বাদে । সুশান্ত কে ফোনে পেল না সুদীপ্ত । মনটা একটু খারাপ হল। পার্টি রাত প্রায় ১০ টা অবধি চলল । এখন সুদীপ্ত-সুদীপ্তা দুজনেই ওহিও তে থাকবে। 

সুদীপ্ত কাজে এতো ব্যস্ত থাকতো যে মাঝে মাঝে সুদীপ্তা ওকে কাছে পেত না। এমনকি রাতে সুদীপ্ত অফিসে থাকতে আরম্ভ করে। রাতের পর রাত সুদীপ্তা র অশহ্য লাগে । মাকে ফোন করে বলে । মা বলেন কাজের মানুষ দের একটু সহ্য করতে হয় মা । আমি জানি তুমি কষ্ট পাচ্ছো কিন্তু ও ত কঞ্জারভেটিভ ছেলে হয়তো ওর মা কিছু বারুন করেছেন।
না মা সেরকম নয়। ওর মা’র সঙ্গে অনেকদিন কথা বলে নি ও ফোনে। এমন কি আমার সঙ্গে দু একটা কথা তাও অফিসের ছাডা অন্য কথা নয়। এরা কিরকম পুরুষ মানুষ ? এদের কি ইচ্ছে বলে কিছু নেই মা?
মাই চাইল্ড্ । ইউ হ্যাভ গ্রোন আপ্ । টেক ইওর ওন ডিসিসন্ । আই উইল টক টু ইওর ডেড্ ওকে । কুল বেবি কুল।
এর মধ্যে সুদীপ্তার অর্ণবের সঙ্গে পরিচয় হয়। অর্ণব, প্লেন্টো টেক্সাসে , ভাইস চেয়ারম্যান অফ দি বোর্ড ক্লাউড সিকিইরিটি তে কাজ করে। ও এখানকার গ্রীন কার্ড হোল্ডার । অর্ণবের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর সুদীপ্তা ওর সঙ্গে বেশি মেলা মেসা করতে থাকে । শপিং মলে উইক্ ডেয়েসে শপিং করে । সুদীপ্ত কাজে ব্যাস্ত। ও কম্পানি চেঞ্জ করবে শুনছি। 
অর্ণবের কথা মাকে বলেছে । মা সেরকম সায় দেন নি। বলেছেন, “তোমার জীবন সঙ্গি তুমি নিজে বেছে নাও যেরকম আমরা করেছি । তবে আমি এক জনকেই ভালো বেসেছিলাম তিনি তোমার বাবা।” নাও ইট ইস আপ্ টু ইঊ ! উই হ্যাভ গিভেন ইউ ফ্রিডম বাট ইউ মাস্ট নট টেক দ্যা এডভান্টেজ অফ ইট । 
মামা আই লাভ সুদীপ্ত বাট হি নেগ্লেক্টস মে মামা ! কান্তে কান্তে বলে।
মে বি হি ইস ওভার এম্বিসিয়াস । ওয়েট এন্ড সি । ডোন্ট ট্রাস্ট নেটিভ এমেরিকান মাই বেবি । 
ওকে মামা । বাই। 
বাই।
সুদীপ্ত রাত করে ফিরেছে । ওর মুখে ক্লান্তির ভাব । এসেই সুয়ে পোডলো । সুদীপ্তা বিছানায় কাছে টেনে কিস করতে চাইলো কিন্তু সুদীপ্ত বললো কালকে ললিপপ খাবো আজ শুয়ে পড প্লিজ। আমি খুব টায়ার্ড ।
কি ভাব তুমি আমাকে সু ? আমার কোন ইচ্ছে নেই ! কেন আমাকে তুমি এভোয়েড করছো ? 
না না আমাকে ভূল বুঝো না। আমি সত্যি টায়ার্ড । আমাকেও বুঝতে চেষ্টা কর। 
আমি ..আমি.. না থাক ! 
সুদীপ্ত শুয়ে পডেছে । একটা বাচ্চা ছেলের মত লাগছে ওকে।
সুদীপ্তা ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমতে চেষ্টা করলো । 
সকালে ঘুম থেকে সুদীপ্ত এম্নিতেই তাডা তাডি উঠে পডে কিন্তু আজ ওর আগে সুদীপ্তাকে না দেখে আশ্চর্্য্য লাগলো ।একটা ভাঁজ করা চিঠি ড্রেসিং টেবিলের ওপোর দেখে ছ্যাঁক করে উঠলো । 
দীর্ঘদিন রইলাম তোমার হয়ে সুদিপ্ত , তোমায় ভালবেসে, অভ্যাসে অনভ্যাসে, সুখে দুঃখে । অথচ দেখ, তোমায় ছেড়ে যেতে একটুও কষ্ট হচ্ছেনা আমার । এত ভালবাসলে আমায়, আমি কি একটুও বাসিনি তবে ? খুব বেসেছি। কিন্তু আমার ওপর তোমার অধিকার বোধ, তোমার মালিকানা, তোমার নিজস্ব পছন্দ অপছন্দগুলোকে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া, আমার আলাদা ব্যক্তিস্বাতন্ত্রাটাই মানতে না চাওয়াটা মনে মনে হাঁপিয়ে তুলত আমায়, হাঁপিয়ে তুলছিল । আমি মুক্তি চাইছিলাম। চাইছিলাম একমুঠো আকাশ। একটু বাতাসের দমকা স্পর্শ। একটুকরো স্বাধীনতা । আর আজ যে তোমায় শুধু সেইকারণেই সেভাবে ভালোবাসিনা। ভালোবাসতে পারছিনা।কারন ভালোবাসার নাটকে আমি অভ্যস্ত নই। একথা তোমাকে জানাতে খুব খারাপ লাগছে ! হয়ত হ্যাঁ, আবার, হয়ত না । ভাবছো তো তোমাকে বহুদিন ধরে প্রতারনা করেছি । কিন্তু মনের দিক দিয়ে না । সেজন্য সত্যি বড় কষ্ট হয়েছে বুকের ভিতর ! বার বার বলতে চেয়েছি তোমাকে। আমি আর এই মিথ্যে সম্পর্কটাকে বিশ্বাসহীনতার চোরাবালির ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে যেতে পারছিনা! অথচ যতবার এসব বলতে গিয়ে তোমার মুখের দিকে তাকিয়েছি, ভেসে গেছি তোমার ভালোবাসার উচ্ছ্বাসে, মাদকতায়, সমর্পনে। আমার মনের মানুষটিকে তোমার চেনার কথা নয় । তোমার চোখের আড়ালে ওর সাথে আমার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, সেও তো কম দিন হলনা। আমেরিকা তে আসার পর থেকে তুমি শুধু কাজ নিয়ে মাতলে। আমাকে অবঙ্গা করেছ । হয়তো না জেনে কিন্তু তুমি তোমার ব্যক্তি স্বাধিনতা কে প্রাধান্য দিয়েছ । আমি অন্ধকারে হাত বাডিয়ে তমাকে অন্ধের মত খুঞ্জেছি । পাইনি আমি সেই সুদিপ্ত কে যে আমায় অকুন্ঠ ভালোবাস্তো। আজ আর এসব কথার কোন অর্থ নেই । দুই পরিবারের সম্মতিতেই আমরা বিয়ে করে নিয়েছি সুদিপ্ত। আমি তোমাকে ঠকাই নি । আমি জা চাই তা পেলাম না তোমার কাছ থেকে তাই চাইছিলাম মুক্তি । তোমার অহমিকার কাছে আমি নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারলাম না ।আমার দ্বিতীয় স্বামি অর্ণব খুব ভালো ছেলে ও আমার সব কথা শুনেই আমাকে বিয়ে করতে রাজি হল।আমিও স্বাধিন। ও খুব নরম মনের ভালো মানুষ । বিশ্বাস কর, খুব সুখে থাকব আমি ওর সাথে । আমায় নিয়ে আর না ভেবে নিজের খেয়াল রেখো । ওটাই বাস্তব । একা থেক না আর । পারলে খুব তাড়াতাড়ি একটা বিয়ে করে নিও । তোমার মা আমাকে কখন পছন্দ করতেন না তাই তুমি মুক্ত। আমি তোমাকে মুক্তি দিলাম । তুমি হয়তো আমার জন্য দুঃখ করবে তবে সেটা সাময়িক । পরে কাজের চাপে ভুলে যাবে । ভাল থেক । এটা লিখতে লিখতে আমার চোখ থেকে অবিরাম অশ্রু ধারা বয়ে চলেছে । কাল সারা রাত আমি শুতে পারিনি আমিও ত মানুষ কিন্তু তোমার মত যন্ত্রমানুষ নই। বাই বাই । ভালো থেক আমাকে ভূলতে চেষ্টা কর । পারলে একটা ফুট ফুটে সুন্দর মেয়েকে বিয়ে কর। 
সুদীপ্ত চিঠিটা ধরে বাচ্চা ছেলের মত কাঁদতে লাগলো । ভূল তার, কিন্তু জীবনে একটা মেয়ের সংস্পর্শে এসেছিল সে এরকম প্রতারনা করবে বুঝে উঠতে পারেনি। বাবা মায়ের কথা মনে পডলো । হয়তো মা চাইছিলেন না। তাই এরকম হল তার জীবনে । সে ফিরে যাবে ইন্ডিয়া তে। নতুন করে জীবন শুরু করবে আবার । জন্ত্র মানুষ নয় সুধু মানুষ হয়ে । মাকে নিয়ে যাবে বেঙ্গালুরুতে । তিরুপতী দর্শন করাবে । ভাইকে আরো পডাবে । সে যেন তার মত দুঃখ না পায়।
****এটা শেষ নয় এটাই আরম্ভ । 
ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী / ২৯.০৭.২০১৩ / সোমবার ।

Thursday, February 13, 2014

ফুটবল বনাম আই পি এল ক্রিকেট ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী / ১৩.০২.২০১৪ / বেলা ১২.৩৫

ফুটবল বনাম আই পি এল ক্রিকেট
ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী / ১৩.০২.২০১৪ / বেলা ১২.৩৫ 
আমাদের ছোট বেলার কথা মনে পডে । স্কুল থেকে ফিরে বই খাতা ছুঁড়ে ফেলে খেলার মাঠে ছুটতাম খেলতে । হয় ফুটবল নয় ক্রিকেট কিম্বা ভলিবল । খেলা না করলে আমাদের পেটের ভাত হজম হত না । বিকেল ৫ টা থেকে ৬টা , টানা এক ঘণ্টা খেলে বাডী ফিরতাম । তখন ক্লাবে খেলার জন্য মাসে ১ টাকা জোগাড় করতে নাকে খত দিতে হত মায়ের কাছে । অবশ্য ১ টাকার মূল্য অনেক ছিল সে যুগে । এখনকার ১০০ টাকার সমান ।আমাদের ক্লাবের ছেলেরা এক একজন এক এক দিকে পারদর্শী, কেউ ভালো সেন্টার ফরোয়ার্ড ত কেউ  ভালো গোল স্কোরার । ক্লাবে ক্লাবে র মধ্যে ফুটবল ম্যাচ হত । কোন বিধায়ক কিম্বা মন্ত্রী আসতেন না , আসতেন ভালো কোচ । যিনি আমাদের ফুটবল গুরু । আমাদের ভুল শুধরে দিতেন আমাদের প্রেরণা দিতেন । আমরা তাঁকে শ্রী গোস্ট পালেরমতন সম্মান করতাম , পায়ের ধুলো নিতাম কারন তাঁর কাছথেকে অনেক কিছু খেলার টেকনিক শিখতাম ।  আমাদের দ্রোণাচার্য ছিলেন সেরকম এক ব্যক্তি তাঁর নাম ‘শঙ্কর মিত্র’ । আমরা শঙ্কর দা বলে ডাক্তাম। শঙ্কর দা অধুনা বাংলা দেশের খুলনার লোক । একটু বাঙ্গাল কথা বলতেন বটে তবে খেলা সেখাতেন চমৎকার ।
 আমাকে ডেকে বলতেন, মাছ ভাত খাইসস ?
আমি বলতাম আমি মাছ খাইনা , মাংস খাই ।
তোর দ্বারা কিসসু হোই-বোনা , ঘোটির পোলা । এদিকে আহ । নে বল থুইয়া কিক কর দেহি  ।  
বল রেখে কিক করতাম । বেশি দুর যেতো না । কিক করার টেকনিক ও ভুল ছিল ।শঙ্কর দা শেখাতেন ঃ ফ্লাইং সট , সিজার কাট , স্পিন সট আর কত কিছু মনে নেই ঠিক । বলা বাহুল্য ঘটির পোলা বললে মনে কষ্ট হত বটে কিন্তু মানুষটার মধ্যে কোন ক্ষেদ ছিলনা । অমায়িক স্নেহী মানুষ আমাদের সকলকে খুব ভালো বাসতেন ।
বলা বাহুল্য আজকাল ওরকম কোচ নেই কি ছেলেরা খেলার মাঠ ও দেখেনি । ওদের ই বা দোষ দি কি করে খেলার মাঠ ত প্রোমোটার কায়দা করে কিনে এপার্টমেন্ট করে ভালো মাল কামাচ্ছে । ডোবা বুজিয়ে , পানা পুকুর বুজিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় বুডো আঙ্গুল দেখিয়ে ছাতু ফোটার মত এপার্টমেন্ট গজাচ্ছে । ছেলে মেয়েদের দিকে তাকালে অধিকাংশ মেদবহুল বপু বিচ্ছিরী ধরনের মোটা । আইসক্রিম আর ফাস্ট ফুডের জমানায় খুব কম বয়েসে মুটিয়ে যাচ্ছে সব। খেলার মাঠের চেয়ে শপিং মলে প্রজাপতির সঙ্গে ফুর্তি করলে কাজ দেবে । মনে মনে ভাবি  শরীর চর্চা যে কত প্রয়োজন তা বুঝতে সময় লাগবে এদের। অল্প বয়েসে ডায়াবেটিস , হাইপার টেনশন , থাইরয়েডে ভুগছে । ডাক্তার রা ভালো দু পয়সা কামাচ্ছে । আমাদের আমলে এতো ডাক্তার ও ছিলনা আর এতো রোগ ও ছিলনা । লোকে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে কাজ করতো । তখন ৮০-৯০ বছর অনায়াসে মানুষ বাঁচত এখন ৬০ বছরেই সব ধুঁকছে আর ওষুধ গিলছে । ডায়েট কন্ট্রোল করছে এটা খাওয়া মানা ওটা খাওয়া মানা
প্রসঙ্গে আসি , সেই শঙ্কর দা আমাদের যিনি খেলা শেখাতেন তাঁর সঙ্গে অনেক দিন পরে হাতি-বাগানে দেখা । বুডো হয়ে গিয়েছেন , চুল পডে গিয়েছে ,কিন্তু দাঁত আসতো আর সুঠাম শক্ত পেটানো চেহারা সেখানে আমাকে বুডো লাগে । এখন সোজা হাঁটছেন ।
ও শঙ্কর দা চিন্তে পার ?
কে আপনি ? ঠিক চিনলাম না ।
তোমার ঘোটির পোলা গো আমি । চিন্তে পারো বলে প্রণাম করি।
আমার মাথায় হাত রেখে বলেন, ওরে তুই হালার পো ঘোটির পোলা এতো বুডা হইলি কি কোইরা দেখছস মাছ না খাইয়া কি হাল করশস শরীরের । আমারে দেখ আর তোরে দেখ ! কি করিস ?

মনে রেখেছ তবে ।  গত বছর রিটায়ার করেছি । এখন কোলকাতায় ছেলের কাছে আছি ।
মনে থাকবেনা ক্যান ?   ঘর করিস নাই ? ছেলের বাসায় থাকস ক্যান?
করেছি গো তবে ছেলে বৌ আর নাতনী কে নিয়ে বুডো বুডি বেশ আছি ।
দ্যাখো কান্ড । নিজেরে বুডা বলিস ক্যান ? ওই জন্যই বুডা হয়ে যাচ্ছিস ।
তা যা বলেছ । তুমি কোথায় আছ ?
তা কইও না । ভালো না । তোর বৌদি যাওয়ার পর শরীর মন আমার ও ভালো নাই । আছি ! চলে যাচ্ছে !!  পেনসন ত বাড়েনা তেমন । ওই টাকায় কি হইবো ? বাপ দাদার বাডি ঘর না থাকলে পথে বসতে হইত ।  
চল না শঙ্কর দা এক কাপ চা খাই ।
আমি ত চা খাইনা । তুই জানস না !
হুম । তা ঠিক । ভুলে গিয়েছি । এখন কোচিং দাও ?
ধুর ! ফুট বল আর কেউ খেলে নাকি !! হালার পো এক খান ব্যাট ধইরা ঝাড়ু মারে আর আলেকজান্ডারের মত মাথায় হেলমেট পায়ে হাতে প্যাড পইরা এক সঙ্গের খেলা । হালা গুষ্টির পিণ্ডির খেলা । মাথায় ঝাড়ু মারি অমন খেলার । ফুট বলটার সর্বনাশ করলো হালারা। যে পোলা পানেরা খেলা দেখতে যায় ওদের জিগাও ব্যাট হাতে খেলতে পারবে হালারা ? কোটি কোটি টাকা আই পি এল খেলায় লুটছে হালারা। স্কুল কলেজের পড়ুয়া ছেলেদের মাথা চিবুচ্ছে । আমার নাতী ত ঘুমাইয়া ঘুমাইয়া ক্রিকেট খেলে ।পডা শুনা গেছে গিয়া । 
তুমি কি ক্রিকেটের বিদ্বেষী ?
না তা নয়তবে সব খেলায় প্রাধান্য থাইক্লে খেলা খেলোওাড হকলের মঙ্গল হয় । দেহ য়ুবরাজরে ১৪ কোটি দিয়া রয়েল চেলেঞ্জার্স কিনলো, দিনেশ কার্তিক রে ১২.৫ কোটি দিয়া দিল্লী ডেয়ার  ডেভিলস .....
আমি থামিয়ে, তুমি ত সব রিসেন্ট খবর রাখ ক্রিকেটের , বিশেষ করে আই পি এল  ২০১৪ র ।
আরে কাগজ পডলেই ত খবর পাই । টিভি তে ত ফলাও কইরা বলে । আর কত প্রচার হত ! ফুটবলের যা দশা ..... একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে বলেন শঙ্কর দা ।
এখন সৌরভ দাদা গিরিতে এঙ্করিং করছে ।
আর কি করতো ? কোটি কোটি টাকায় ভাসতো এহেন টাকার জন্য ওইসব করতেই হইবো । কিছু ত করবে !
যা বলেছ । আরেকদিন আসবো তোমায় দেখা করতে । পায়ের ধুলো নিয়ে বললাম  তোমার মোবাইল নাম্বার দাও দাদা।  
আমার নাম্বার থেই-ক্যা তোর নাম্বারে কল কর । আমার নাম্বার মনে থাকে না।
ও তা দাও বলে নাম্বার শেভ করে বিদায় নিলাম।  
ফড়িয়া পুকুরে নাতনীর জন্মদিনের জন্য একটা গিফট কিনতে এসেছিলাম । কেসিও ইলেক্ট্রনিক অরগ্যানের ফরমাস আমার নাতনীর । এখন গান শিখছে । ওর দিদা ডবল রিডের হারমোনিয়াম কিনে দিয়েছেন । আজকাল ছেলে মেয়েদের আবদার শুনলে চক্ষু চডক গাছ হয় । অবশ্য আমরাই লায় দি ওদের ।
ফিরছিলাম ছেলের গাডিতে । আবার রাস্তায় পেন্টুর সঙ্গে দেখা । আজ সব পুরন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে । কি ব্যাপার আমার ভাগ্য !
এই পেন্টু কোথায় চললি ? পেন্টু অন্যমনস্ক ছিল তাই শুনতে পারে নি বোধ হয় । গাডিথেকে নামবার ও উপায় নেই । কোথায় পারকিং করবে? মন্টা খারাপ হয়ে গেল কি যে করি। পুরন দিনের বন্ধু দেখলে ছোটবেলার কথা মনে পডে । সেই দিনগুলো কত সুন্দর ছিল । হারিয়ে যাই পুরন স্মৃতিতে । এমন সময় ছেলে পাসে বলে বাবা সিট বেল্ট টা পরে নিন রাজারহাট দিয়ে যাচ্ছি  ।
এ্যাঁ !  ও হ্যাঁ !!