Friday, February 21, 2014

আজ ২১ ফেব্রুয়ারি আজ বিশ্ব ভাষা দিবস । সেই উপলখ্যে শ্রধ্যেয় ফাল্গুনী মুখপাধ্যায়ের কলম থেকে কিছু লেখা পোষ্ট করলামম ঃ-

আজ ২১ ফেব্রুয়ারি আজ বিশ্ব ভাষা দিবস । সেই উপলখ্যে শ্রধ্যেয় ফাল্গুনী মুখপাধ্যায়ের কলম থেকে কিছু লেখা পোষ্ট করলামম ঃ-

আজ একুশে ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস । একুশে ফেব্রুয়ারি ‘বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস’ সেইসঙ্গে ‘ভাষা শহিদ দিবস’ও বটে । একুশে, বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবীতে ১৯৫২’র রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের প্রতি এবং ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর দিন,তেমনই বিশ্বের যেকোন প্রান্তে সব ভাষাগোষ্ঠীর মাতৃভাষাকে সম্মান জানানোর দিন, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবিতে যেখানেই যারা আত্মদান করেছেন তাঁদের প্রতি বিনম্র প্রণাম নিবেদনের দিনও ।
শুনতে ভালো লাগবেনা, এ বাংলায় একুশের ভাষা শহীদ স্মরণে আমাদের আবেগেও কিছু ফাঁকিবাজি আছে । ১৯৬১’র উনিশে মে’র বরাক উপত্যকার  মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে ১১জন শহীদের জীবন দানের কথা আমরা ভুলে যাই,কিংবা বড়ই ক্ষীণকন্ঠে উচ্চারণ করি ।  বাঙালির আর এক স্বদেশ ‘বাংলাদেশের’ সুখ্যাত ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেন বরাকের ভাষা সংস্কৃতি চেতনার কথা এই ভাবে প্রকাশ করেছেন “১১জন শহিদের স্মৃতিস্তম্ভের ভেতরে সূর্য হয়ে আছে তাদের ভাষার লড়াইএর ইতিহাস”। আমরা– বাংলা ভাষার তথাকথিত মূল ভুখন্ডের বাঙালিরা তবে সেই সূর্যের দীপ্তিতে একাত্মবোধ করবো না কেন ! 
বাহান্নর ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র প্রণাম নিবেদন করছে ‘অন্যনিষাদ’, একই সঙ্গে একষট্টির বরাকের এগারো জন ভাষা শহিদদের প্রতিও শ্রদ্ধাবনত প্রণাম নিবেদন করছে ।
এই ‘অন্যনিষাদ সপ্তাহ’তেই পেরিয়ে এলাম বাঙালির প্রাণের কবি জীবনানন্দ দাশের ১১৬তম জন্মদিন – ১৭ই ফেব্রুয়ারি । ‘অন্যনিষাদ’এর এই ৩য় বর্ষ ১৮তম  সংখ্যায় শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করলাম সেই প্রাণের কবিকে বারোটি কবিতার মধ্য দিয়ে ।
বাংলা আকাডেমি, ঢাকার উপ-পরিচালক ডঃ তপন বাগচী বাহান্নর ভাষা আন্দোলন প্রসঙ্গে একটি তথ্যবহুল লেখা দিয়েছেন ‘অন্যনিষাদ’কে ।আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই  ডঃবাগচীকে ।
৩২টি লেখায় সাজিয়েছি ‘ভাষা প্রণাম’ ও ‘শ্রদ্ধাঞ্জলী জীবনানন্দ’ সঙ্খ্যাটি । পাঠকের মতামত পেলে খুশি হবো ।

                   

Tuesday, February 18, 2014

পরোপকার ঃ ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী / ১৯.০২.২০১৪ বেলা ১১.২৫।


পরোপকার

নিমাই দা । এমন পরোপকারী , সদা মিষ্ট হাস্য এক অমায়িক ব্যক্তিত্বের লোক সচর আচর পাওয়া মুস্কিল । কারুর কোন বিপদ হলে নিমাই-দা ঝাঁপিয়ে পডে তার বিপদে সাহায্য করেন । পাড়ায় কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাঁসপাতালে নিয়ে যাবেন নিমাই-দা । কেউ ডাকলেই হল এক ডাকে নিমাই-দা সঙ্গে সঙ্গে হাজির । ডাক্তার বদ্যি সব ই নিমাই-দার চেনা। পাড়ায় কোন ফাংশন হবে , পূজো হবে , নিমাই-দাকে না জানিয়ে কেউ কিছু করতে পারে না । সবাই কেমন যেন নির্ভরশীল ওর ওপর । থানা পুলিস সব জায়গায় নিমাই-দাকে সবাই চেনে । আর সুধু চেনা নয় কাজেও লাগেন নিমাই-দা । এরকম নিঃস্বার্থ পরোপকারী লোক এ যুগে পাওয়া মুস্কিল। তাই সকলের প্রিয় নিমাই দা । এল আই সির এজেন্ট এবং আরও কিছু ছোট খাটো কাজ যেমন টিভি মেরামত , কম্প্যুটার এর কাজ করে নিজের খরচ চালান। অনেক সময় টাকা না নিয়েই কাজ করে দেন। বিয়ে করেন নি যদিও বিয়ের বয়েস পার হয়নি ।বলেন বিয়ে করলে বৌকে খাওয়াবো কি? ওটা আমার কাছে বিলাসিতা । এইতো তোদের নিয়ে দিব্বি আছি ।
ওর বাডির লোক বলেন , উনি নাকি খাওয়ার থালা ফেলে চলে জান কেউ ডাকলে । নিমাই-দার বাবা অনেক দিন অসুস্থ থেকে হঠাৎ মারা জান । তাই সেইথেকে উনি মুসডে পড়েন । বাবাকে খুব ভালো বাসতেন ত । বাবা চলে জাওয়াতে ওনাদের বাডিতে উনি সবচেয়ে বেশি দুঃখ পেয়েছিলেন , কেউ না জানুক পাডা পড়শি জানে সে কথা। মনের কথা মনেই রাখেন । ভাইরা যে যার স্বার্থ নিয়ে চলে । অন্য কারুর সঙ্গে সেরকম জানাশোনা নেই শুধু নিমাই দা কেই সকলে খোঁজে । সামনে কর্পোরেশনের ভোট। আমাদের পাডার অনেকেই চায় নিমাই-দা কর্পোরেটর হলে কিছু কাজ হবে । কিন্তু নিমাই-দাকে কোন পার্টি টিকিট দেবে ? সবাই তো গুছনর জন্য ভোটে নামে ওকে কে টিকিট দেবে?
নিমাই-দার মতন নিঃস্বার্থ লোক ভোটে নামলে পার্টির কি লাভ হবে ? তাই পাডার কিছু বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি নিজেদের মধ্যে স্থির করেন নিমাই-দা নির্দল প্রার্থী হয়ে ভোটে দাঁড়িয়ে ড্যাংড্যাং করে জিতে দেখাব । সকলে দেখুক জানুক লোকের জন্যে কাজ করলেই লোকে তাকে ভোট দিয়ে জেতায় । যেমন ভাবা তেমন কাজ । সকলে ধরল নিমাই-দাকে ভোটে দাঁড়ানোর জন্য ।
নিমাই দা কিন্তু গরে রাজি হলেন। সবাইকে হাত জোড় করে বললেন ওই ভোটে দাঁড়ানোর জন্য যেন কেউ তাঁকে অনুরোধ না করেন। লোকের জন্য কিছু করতে পারলে তিনি ধন্য হন। তিনি একটি ইংরাজি প্রোভার্ব কে মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন সেটা হল, “সার্ভিস টু হিউম্যান বিইংগ ইজ সার্ভিস টু গড ।” তাই মানুষের সেবার মাধ্যমে তিনি ভগবানের সেবা করেন এটাই তাঁর ধারনা। পাডার সবাই কিন্তু বলেন, “নিমাই দা তুমি ভোটে না দাঁড়ালে আমরা ভোট বর্জন করবো , তুমি কি সেটা চাও !”

অগত্যা নিমাই-দা সকলের জেদের কাছে মাথা নুইয়ে সকলের মুখে হাসি দেখার জন্য নমিনেশন ফর্ম ভরলেন। ২৮ নাম্বার ওয়ার্ডের প্রার্থিপত্র দাখিল হল মহা ধুম ধামে রিটার্নিং অফিসারের কাছে । নির্দল প্রার্থী ভাবে নিমাই দার নমিনেশন দাখিল হওয়াতে আমাদের পাডার প্রোমটার জগদীশ মণ্ডল যে কিনা মিউনিসিপাল কন্ট্রাক্টটার তার স্বার্থে বাধা পডল । রুলিং পার্টির হয়ে সেই টিকিট পেয়েছে কিন্তু জেতার আশা ক্ষীণ । অগত্যা বিধায়ক মহাশয় হস্তক্ষেপ করলেন এই ব্যাপারে কারণ বিষয়টা জটিল আর সম্মানের ব্যাপার । তিনি নিমাই দাকে নমিনেসন তুলে নিতে বললেন ।
বলেন, “লোকে তাঁকে দাঁড় করিয়েছে তাই তারাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে” ।

বিধায়ক মহাশয় কথাটায় খুব একটা খুশি হলেন না। যাওয়ার আগে বলে গেলেন ব্যাপারটা ভাল করে ভেবে দেখতে ।

জগদীশ মণ্ডলের কথা বলে রাখা ভাল । প্রথমে বিল্ডিং মেটি-রিয়াল সাপ্লাই করতো । এখন এলাকায় ভাইয়ে ভাইয়ে বিবাদ লাগিয়ে জমি জলের দরে কিনে এপার্টমেন্ট করে । পুকুর , ডোবা বুজিয়ে নিম্ন মানের সিমেন্ট , লোহার ছড ব্যাবহার করে এপার্টমেন্ট করে মোটা টাকা কামাচ্ছে । কারো টুঁ শব্দ করার উপায় নেই । রুলিং পার্টির লোক , হাতে মাথা কাটতে দু মিনিট সময় লাগবেনা । পাডার কিছু ছোঁড়া জগদীশের কাছে নেশা করার টাকা পায়, তারা দাপিয়ে বেডায় । জগদীশের এরাই সৈনিক ।
নিমাই-দাকে বাডীর সকলে এই ঝামেলাতে মাথা ঘামাতে বারন করেন । মা বলেন কেন সুখে থাকতে ভুতে কিলোয় তোকে জানিনা । পরের জন্য মাথা ঘামিয় নিজের জীবনটা বরবাদ করলি ।
নিমাই দা হাসি মুখে বলেন , মা কেন তুমি বোঝনা আমি এই নিয়ে শান্তিতে আছি । বেশ ত চলে যাচ্ছে । আমার কি চাহিদা বল ? তুমি আছ বৌদিরা আছেন এইতো বেশ ।
চোখের জল মুছে মা বলেন তোর চিন্তায় আমার ঘুম হয়না । বাউণ্ডুলে জীবন বেছে নিলি । অন্য সব ভাইরা যে যার গুছিয়ে সংসার করছে তুই ব্যতিক্রম । আমি মলে কে তোকে ভাতের থালা মুখে ধরবে ? খেয়াল রাখিস কিছু ! এখন ওই অলক্ষুণে জগদীশ মণ্ডলের বিপরীতে ভোটে দাঁড়াচ্ছিস। তোর কোন ক্ষতি হলে পাডার লোক আসবে তোর কাছে ? সব্বাইকে চিনিরে ।
বালাই সাট তুমি কোন দুঃখে মরবে ? ও সব ভেবোনা । সব ঠিক হয়ে যাবে ।
না ভাববো না ! উনি চলে গেলেন আমার হয়েছে জত মরণ।
আমার লক্ষ্মী মা । তুমি না তারাপীঠে যাবে বলছিলে মায়ের পূজো দিতে । চল সামনের মঙ্গলবার তোমায় তারাপীঠ নিয়ে যাবো । এখন খিদে পেয়েছে কিছু দাও খেতে।
ও নিমাই দা ! নিমাই দা !!
কিরে কি হল বল্টু ?
আর বোলনা । ঝন্টু গিয়েছিল কলেজে । ওকে কলেজ ইউনিয়নের ছেলেরা মেরেছে ।
কেন?
ও তোমার নমিনেশনে সমর্থন করেছিল বলে । বলেছে , কলেজে যদি পডতে চাস আমাদের কথা মত চলতে হবে ।
সে আবার কি ?
তাইতো ! এর একটা হেস্ত ন্যস্ত করতে হবে । জগদীশ হন্যে হয়ে লেগেছে । এতো মাল কামাচ্ছে তাও পেট ভরছেনা । ও বলেছে নিমাই কে বল নমিনেশন উইথ-ড্র করতে নাহলে যা হবে তার জন্য তৈরি থাকতে ।
নিমাই কিছু ভাবছিল । হঠাৎ কিছু লোক ঘরে ঢুকে ওকে জবরদস্তী নিয়ে গেল ।
মা চিৎকার করে পাডার লোকেদের ডাকলেন । কেউ এলোনা কাছে । মা হাউ হাউ করে কাঁদতে লাগলেন “আমার ছেলে কি দোষ করেছে ওকে ছেড়ে দাও ! ওকে ছেড়ে দাও !! তোমাদের পায়ে পড়ি। ও সারা জীবন পরের উপকার করেছে । এই কি তার প্রতিদান ?”
পাডার বুদ্ধিজীবীরা থানায় গিয়ে ডায়েরি করলেন। থানার বড়বাবু বলেন, “আপনারা কেন উটকো ঝামেলা বাড়ান বলুন তো ? আপনাদের কি কোন কাজ নেই ? আমি দেখছি কি করা যায়।”
না আমাদের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চাই ।
প্রতিশ্রুতি ! ‘কেন মশাই আমি কি মন্ত্রী না এম এল এ ? আমার অনেক কাজ । আসুন’ হাত জোড় করে বলেন বড়বাবু ।
রাতে নিমাই দাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেল পুকুর পাড়ে । মাথায় শক্ত আঘাত । পাডার ছেলেরা সব্বাই মিলে ডাক্তারখানায় নিয়ে যায় । চার বোতল রক্ত লাগে । মাথায় ছটা স্টিচ লাগে । এখন শয্যাশায়ী । পাশে মা আর দুট ছেলে ।
পরের দিন বিরোধী পার্টির মিছিল বেরোয় । জুলুম বাজি চলবে না । চলবে না ......

হায়রে বিধাতা । তুমি কি সত্যি আছো ? মনে ত হয় না। মিথ্যাচারে ঘৃণ্য রাজনীতিতে দেশ উচ্ছন্নে যাচ্ছে তবুও তুমি দিব্বি বসে আছো ভোগ খাচ্ছ চোখ,মুখ,কান বন্দ করে । বাঃ বেশ !

Friday, February 14, 2014

যন্ত্র মানব ৩য় পর্ব ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী ।

৩য় পর্ব 
সুদীপ্ত , সুদীপ্তা দুজনেই প্রজেক্টের কাজে খুব ব্যাস্ত থাকে । নতুন প্রজেক্ট আর ক্লায়েন্ট নিয়ে ওরা নিজেদের কাজে এতো মসগুল থাকে যে ভালকরে কথা বলার সময় পায় না। এদিকে সুদীপ্তর মা অন্য কথা ভাবেন। ছেলের ফোনের জন্যে বসে থাকেন ভোরে । অনেকদিন ফোন না পেয়ে সুশান্ত কে দাদর খোঁজ নিতে বলেন। সুশান্ত পরের সেমিষ্টারের জন্য প্রস্তুতি চালায়। টপ র্যানঙ্কের জন্য রাত দিন পডাশুন করতে থাকে। ওদিকে শ্রাবন্তি আর ফোন করেনা । ও নিশ্চই ভালো করে প্রিপারেসন করছে । 
একদিন মা দুই ছেলের খোঁজের জন্য মামাকে বলেন,দাদা একটু ফোন করবি ছেলে দুটোকে অনেক দিন কোন খবর পাই না । কি করছে দু জনে কে জানে ? 
নাম্বার আছে?
মা, সুশান্তর নাম্বারটা রেখেছিলেন , বললেন এই নে । 
মামা সুশান্ত কে ফোন করাতে ফোন স্বিচ অফ দেখাল । 
মামা বিব্রত হলেন পরে বুঝলেন নিশ্চই ক্লাসে অথবা পডাতে ব্যাস্ত । বোনকে বললেন ব্যাস্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই ওরা দুজনে নিজেদের কাজে ব্যাস্ত। তুই যা আমি পরে খবর নিয়ে বোলব তোকে ।
আচ্ছা । বলে মা চলে গেলেন ঠাকুর ঘরে । 
নিউয়র্ক সহরঃ-
আলো ঝলমলে রাস্তায় হারিয়ে গেছে সুদীপ্ত আর সুদীপ্তা । গাডী নিয়ে বেরিয়ে পডেছে ঘুরতে।আজ শনিবার ওদের ছুটি ।বলা বাহুল্য সুদীপ্ত এখানকার ড্রাইভিং ট্রেনিং পাস করে লাইসেন্স পেয়েছে। সুদীপ্তাও জানে তবে এস।উ।ভি চালাতেই ও ভালোবাসে। এখানকার রাস্তাতে গাডী চালানোর মেজাজই আলাদা । লঙ ড্রাইভে যেতে মজা লাগে। সারা শহরের শপিং মল ওদের মুখস্ত। কোথায় ইন্ডিয়ান ডিশ পাওয়া জায় সেখান্থেকে আনে। স্রিম্প প্যাক আনে ব্রকলি আর কেপ্সিকাম দিয়ে সুদীপ্তা ইন্টারনেট দেখে রান্না শেখে । ওরা ওই খায় । দুধ টা ভালো আর ফোর সিরিয়ালের আটা দিয়ে রুটি বানায়। কাল পার্টি আছে। সুদীপ্ত এখানে প্রজেক্ট ম্যানেজার হল তাই। এতো তাডাতাডি পি।এম হওয়া আর নতুন প্রজক্টে এর দায়িত্ত নেওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। ওর প্রজেক্টের কাজের জন্য একজন সিনিয়ার প্রজেক্ট ম্যানেজার (SPM ) ওকে গাইড করবেন। 
আজ শনিবার ওহিও তে পার্টি দিচ্ছে সুদীপ্ত এবং সুদীপ্তা দুজনে। প্রায় জনা ১৬ র মত নিমন্ত্রিত ছিলেন। সুদীপ্তার মা বাবা উইস করলেন ওদের দুজনকে। সুদীপ্ত অনেক দিন পর মাকে প্রনাম জানালো । নতুন প্রমোশনের কথা জানালো । মা খুশি হয়ে আশীর্বাদ করলেন,মামা,মামি সকলেই খুব খুশি হলেন এই সম্বাদে । সুশান্ত কে ফোনে পেল না সুদীপ্ত । মনটা একটু খারাপ হল। পার্টি রাত প্রায় ১০ টা অবধি চলল । এখন সুদীপ্ত-সুদীপ্তা দুজনেই ওহিও তে থাকবে। 

সুদীপ্ত কাজে এতো ব্যস্ত থাকতো যে মাঝে মাঝে সুদীপ্তা ওকে কাছে পেত না। এমনকি রাতে সুদীপ্ত অফিসে থাকতে আরম্ভ করে। রাতের পর রাত সুদীপ্তা র অশহ্য লাগে । মাকে ফোন করে বলে । মা বলেন কাজের মানুষ দের একটু সহ্য করতে হয় মা । আমি জানি তুমি কষ্ট পাচ্ছো কিন্তু ও ত কঞ্জারভেটিভ ছেলে হয়তো ওর মা কিছু বারুন করেছেন।
না মা সেরকম নয়। ওর মা’র সঙ্গে অনেকদিন কথা বলে নি ও ফোনে। এমন কি আমার সঙ্গে দু একটা কথা তাও অফিসের ছাডা অন্য কথা নয়। এরা কিরকম পুরুষ মানুষ ? এদের কি ইচ্ছে বলে কিছু নেই মা?
মাই চাইল্ড্ । ইউ হ্যাভ গ্রোন আপ্ । টেক ইওর ওন ডিসিসন্ । আই উইল টক টু ইওর ডেড্ ওকে । কুল বেবি কুল।
এর মধ্যে সুদীপ্তার অর্ণবের সঙ্গে পরিচয় হয়। অর্ণব, প্লেন্টো টেক্সাসে , ভাইস চেয়ারম্যান অফ দি বোর্ড ক্লাউড সিকিইরিটি তে কাজ করে। ও এখানকার গ্রীন কার্ড হোল্ডার । অর্ণবের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর সুদীপ্তা ওর সঙ্গে বেশি মেলা মেসা করতে থাকে । শপিং মলে উইক্ ডেয়েসে শপিং করে । সুদীপ্ত কাজে ব্যাস্ত। ও কম্পানি চেঞ্জ করবে শুনছি। 
অর্ণবের কথা মাকে বলেছে । মা সেরকম সায় দেন নি। বলেছেন, “তোমার জীবন সঙ্গি তুমি নিজে বেছে নাও যেরকম আমরা করেছি । তবে আমি এক জনকেই ভালো বেসেছিলাম তিনি তোমার বাবা।” নাও ইট ইস আপ্ টু ইঊ ! উই হ্যাভ গিভেন ইউ ফ্রিডম বাট ইউ মাস্ট নট টেক দ্যা এডভান্টেজ অফ ইট । 
মামা আই লাভ সুদীপ্ত বাট হি নেগ্লেক্টস মে মামা ! কান্তে কান্তে বলে।
মে বি হি ইস ওভার এম্বিসিয়াস । ওয়েট এন্ড সি । ডোন্ট ট্রাস্ট নেটিভ এমেরিকান মাই বেবি । 
ওকে মামা । বাই। 
বাই।
সুদীপ্ত রাত করে ফিরেছে । ওর মুখে ক্লান্তির ভাব । এসেই সুয়ে পোডলো । সুদীপ্তা বিছানায় কাছে টেনে কিস করতে চাইলো কিন্তু সুদীপ্ত বললো কালকে ললিপপ খাবো আজ শুয়ে পড প্লিজ। আমি খুব টায়ার্ড ।
কি ভাব তুমি আমাকে সু ? আমার কোন ইচ্ছে নেই ! কেন আমাকে তুমি এভোয়েড করছো ? 
না না আমাকে ভূল বুঝো না। আমি সত্যি টায়ার্ড । আমাকেও বুঝতে চেষ্টা কর। 
আমি ..আমি.. না থাক ! 
সুদীপ্ত শুয়ে পডেছে । একটা বাচ্চা ছেলের মত লাগছে ওকে।
সুদীপ্তা ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমতে চেষ্টা করলো । 
সকালে ঘুম থেকে সুদীপ্ত এম্নিতেই তাডা তাডি উঠে পডে কিন্তু আজ ওর আগে সুদীপ্তাকে না দেখে আশ্চর্্য্য লাগলো ।একটা ভাঁজ করা চিঠি ড্রেসিং টেবিলের ওপোর দেখে ছ্যাঁক করে উঠলো । 
দীর্ঘদিন রইলাম তোমার হয়ে সুদিপ্ত , তোমায় ভালবেসে, অভ্যাসে অনভ্যাসে, সুখে দুঃখে । অথচ দেখ, তোমায় ছেড়ে যেতে একটুও কষ্ট হচ্ছেনা আমার । এত ভালবাসলে আমায়, আমি কি একটুও বাসিনি তবে ? খুব বেসেছি। কিন্তু আমার ওপর তোমার অধিকার বোধ, তোমার মালিকানা, তোমার নিজস্ব পছন্দ অপছন্দগুলোকে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া, আমার আলাদা ব্যক্তিস্বাতন্ত্রাটাই মানতে না চাওয়াটা মনে মনে হাঁপিয়ে তুলত আমায়, হাঁপিয়ে তুলছিল । আমি মুক্তি চাইছিলাম। চাইছিলাম একমুঠো আকাশ। একটু বাতাসের দমকা স্পর্শ। একটুকরো স্বাধীনতা । আর আজ যে তোমায় শুধু সেইকারণেই সেভাবে ভালোবাসিনা। ভালোবাসতে পারছিনা।কারন ভালোবাসার নাটকে আমি অভ্যস্ত নই। একথা তোমাকে জানাতে খুব খারাপ লাগছে ! হয়ত হ্যাঁ, আবার, হয়ত না । ভাবছো তো তোমাকে বহুদিন ধরে প্রতারনা করেছি । কিন্তু মনের দিক দিয়ে না । সেজন্য সত্যি বড় কষ্ট হয়েছে বুকের ভিতর ! বার বার বলতে চেয়েছি তোমাকে। আমি আর এই মিথ্যে সম্পর্কটাকে বিশ্বাসহীনতার চোরাবালির ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে যেতে পারছিনা! অথচ যতবার এসব বলতে গিয়ে তোমার মুখের দিকে তাকিয়েছি, ভেসে গেছি তোমার ভালোবাসার উচ্ছ্বাসে, মাদকতায়, সমর্পনে। আমার মনের মানুষটিকে তোমার চেনার কথা নয় । তোমার চোখের আড়ালে ওর সাথে আমার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, সেও তো কম দিন হলনা। আমেরিকা তে আসার পর থেকে তুমি শুধু কাজ নিয়ে মাতলে। আমাকে অবঙ্গা করেছ । হয়তো না জেনে কিন্তু তুমি তোমার ব্যক্তি স্বাধিনতা কে প্রাধান্য দিয়েছ । আমি অন্ধকারে হাত বাডিয়ে তমাকে অন্ধের মত খুঞ্জেছি । পাইনি আমি সেই সুদিপ্ত কে যে আমায় অকুন্ঠ ভালোবাস্তো। আজ আর এসব কথার কোন অর্থ নেই । দুই পরিবারের সম্মতিতেই আমরা বিয়ে করে নিয়েছি সুদিপ্ত। আমি তোমাকে ঠকাই নি । আমি জা চাই তা পেলাম না তোমার কাছ থেকে তাই চাইছিলাম মুক্তি । তোমার অহমিকার কাছে আমি নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারলাম না ।আমার দ্বিতীয় স্বামি অর্ণব খুব ভালো ছেলে ও আমার সব কথা শুনেই আমাকে বিয়ে করতে রাজি হল।আমিও স্বাধিন। ও খুব নরম মনের ভালো মানুষ । বিশ্বাস কর, খুব সুখে থাকব আমি ওর সাথে । আমায় নিয়ে আর না ভেবে নিজের খেয়াল রেখো । ওটাই বাস্তব । একা থেক না আর । পারলে খুব তাড়াতাড়ি একটা বিয়ে করে নিও । তোমার মা আমাকে কখন পছন্দ করতেন না তাই তুমি মুক্ত। আমি তোমাকে মুক্তি দিলাম । তুমি হয়তো আমার জন্য দুঃখ করবে তবে সেটা সাময়িক । পরে কাজের চাপে ভুলে যাবে । ভাল থেক । এটা লিখতে লিখতে আমার চোখ থেকে অবিরাম অশ্রু ধারা বয়ে চলেছে । কাল সারা রাত আমি শুতে পারিনি আমিও ত মানুষ কিন্তু তোমার মত যন্ত্রমানুষ নই। বাই বাই । ভালো থেক আমাকে ভূলতে চেষ্টা কর । পারলে একটা ফুট ফুটে সুন্দর মেয়েকে বিয়ে কর। 
সুদীপ্ত চিঠিটা ধরে বাচ্চা ছেলের মত কাঁদতে লাগলো । ভূল তার, কিন্তু জীবনে একটা মেয়ের সংস্পর্শে এসেছিল সে এরকম প্রতারনা করবে বুঝে উঠতে পারেনি। বাবা মায়ের কথা মনে পডলো । হয়তো মা চাইছিলেন না। তাই এরকম হল তার জীবনে । সে ফিরে যাবে ইন্ডিয়া তে। নতুন করে জীবন শুরু করবে আবার । জন্ত্র মানুষ নয় সুধু মানুষ হয়ে । মাকে নিয়ে যাবে বেঙ্গালুরুতে । তিরুপতী দর্শন করাবে । ভাইকে আরো পডাবে । সে যেন তার মত দুঃখ না পায়।
****এটা শেষ নয় এটাই আরম্ভ । 
ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী / ২৯.০৭.২০১৩ / সোমবার ।

Thursday, February 13, 2014

ফুটবল বনাম আই পি এল ক্রিকেট ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী / ১৩.০২.২০১৪ / বেলা ১২.৩৫

ফুটবল বনাম আই পি এল ক্রিকেট
ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী / ১৩.০২.২০১৪ / বেলা ১২.৩৫ 
আমাদের ছোট বেলার কথা মনে পডে । স্কুল থেকে ফিরে বই খাতা ছুঁড়ে ফেলে খেলার মাঠে ছুটতাম খেলতে । হয় ফুটবল নয় ক্রিকেট কিম্বা ভলিবল । খেলা না করলে আমাদের পেটের ভাত হজম হত না । বিকেল ৫ টা থেকে ৬টা , টানা এক ঘণ্টা খেলে বাডী ফিরতাম । তখন ক্লাবে খেলার জন্য মাসে ১ টাকা জোগাড় করতে নাকে খত দিতে হত মায়ের কাছে । অবশ্য ১ টাকার মূল্য অনেক ছিল সে যুগে । এখনকার ১০০ টাকার সমান ।আমাদের ক্লাবের ছেলেরা এক একজন এক এক দিকে পারদর্শী, কেউ ভালো সেন্টার ফরোয়ার্ড ত কেউ  ভালো গোল স্কোরার । ক্লাবে ক্লাবে র মধ্যে ফুটবল ম্যাচ হত । কোন বিধায়ক কিম্বা মন্ত্রী আসতেন না , আসতেন ভালো কোচ । যিনি আমাদের ফুটবল গুরু । আমাদের ভুল শুধরে দিতেন আমাদের প্রেরণা দিতেন । আমরা তাঁকে ‘শ্রী গোস্ট পালের’ মতন সম্মান করতাম , পায়ের ধুলো নিতাম কারন তাঁর কাছথেকে অনেক কিছু খেলার টেকনিক শিখতাম ।  আমাদের দ্রোণাচার্য ছিলেন সেরকম এক ব্যক্তি তাঁর নাম ‘শঙ্কর মিত্র’ । আমরা শঙ্কর দা বলে ডাক্তাম। শঙ্কর দা অধুনা বাংলা দেশের খুলনার লোক । একটু বাঙ্গাল কথা বলতেন বটে তবে খেলা সেখাতেন চমৎকার ।
 আমাকে ডেকে বলতেন, মাছ ভাত খাইসস ?
আমি বলতাম আমি মাছ খাইনা , মাংস খাই ।
তোর দ্বারা কিসসু হোই-বোনা , ঘোটির পোলা । এদিকে আহ । নে বল থুইয়া কিক কর দেহি  ।  
বল রেখে কিক করতাম । বেশি দুর যেতো না । কিক করার টেকনিক ও ভুল ছিল ।শঙ্কর দা শেখাতেন ঃ ফ্লাইং সট , সিজার কাট , স্পিন সট আর কত কিছু মনে নেই ঠিক । বলা বাহুল্য ঘটির পোলা বললে মনে কষ্ট হত বটে কিন্তু মানুষটার মধ্যে কোন ক্ষেদ ছিলনা । অমায়িক স্নেহী মানুষ আমাদের সকলকে খুব ভালো বাসতেন ।
বলা বাহুল্য আজকাল ওরকম কোচ নেই কি ছেলেরা খেলার মাঠ ও দেখেনি । ওদের ই বা দোষ দি কি করে খেলার মাঠ ত প্রোমোটার কায়দা করে কিনে এপার্টমেন্ট করে ভালো মাল কামাচ্ছে । ডোবা বুজিয়ে , পানা পুকুর বুজিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় বুডো আঙ্গুল দেখিয়ে ছাতু ফোটার মত এপার্টমেন্ট গজাচ্ছে । ছেলে মেয়েদের দিকে তাকালে অধিকাংশ মেদবহুল বপু বিচ্ছিরী ধরনের মোটা । আইসক্রিম আর ফাস্ট ফুডের জমানায় খুব কম বয়েসে মুটিয়ে যাচ্ছে সব। খেলার মাঠের চেয়ে শপিং মলে প্রজাপতির সঙ্গে ফুর্তি করলে কাজ দেবে । মনে মনে ভাবি  শরীর চর্চা যে কত প্রয়োজন তা বুঝতে সময় লাগবে এদের। অল্প বয়েসে ডায়াবেটিস , হাইপার টেনশন , থাইরয়েডে ভুগছে । ডাক্তার রা ভালো দু পয়সা কামাচ্ছে । আমাদের আমলে এতো ডাক্তার ও ছিলনা আর এতো রোগ ও ছিলনা । লোকে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে কাজ করতো । তখন ৮০-৯০ বছর অনায়াসে মানুষ বাঁচত এখন ৬০ বছরেই সব ধুঁকছে আর ওষুধ গিলছে । ডায়েট কন্ট্রোল করছে এটা খাওয়া মানা ওটা খাওয়া মানা
প্রসঙ্গে আসি , সেই শঙ্কর দা আমাদের যিনি খেলা শেখাতেন তাঁর সঙ্গে অনেক দিন পরে হাতি-বাগানে দেখা । বুডো হয়ে গিয়েছেন , চুল পডে গিয়েছে ,কিন্তু দাঁত আসতো আর সুঠাম শক্ত পেটানো চেহারা সেখানে আমাকে বুডো লাগে । এখন সোজা হাঁটছেন ।
ও শঙ্কর দা চিন্তে পার ?
কে আপনি ? ঠিক চিনলাম না ।
তোমার ঘোটির পোলা গো আমি । চিন্তে পারো বলে প্রণাম করি।
আমার মাথায় হাত রেখে বলেন, ওরে তুই হালার পো ঘোটির পোলা এতো বুডা হইলি কি কোইরা ?  দেখছস মাছ না খাইয়া কি হাল করশস শরীরের । আমারে দেখ আর তোরে দেখ ! কি করিস ?

মনে রেখেছ তবে ।  গত বছর রিটায়ার করেছি । এখন কোলকাতায় ছেলের কাছে আছি ।
মনে থাকবেনা ক্যান ?   ঘর করিস নাই ? ছেলের বাসায় থাকস ক্যান?
করেছি গো তবে ছেলে বৌ আর নাতনী কে নিয়ে বুডো বুডি বেশ আছি ।
দ্যাখো কান্ড । নিজেরে বুডা বলিস ক্যান ? ওই জন্যই বুডা হয়ে যাচ্ছিস ।
তা যা বলেছ । তুমি কোথায় আছ ?
তা কইও না । ভালো না । তোর বৌদি যাওয়ার পর শরীর মন আমার ও ভালো নাই । আছি ! চলে যাচ্ছে !!  পেনসন ত বাড়েনা তেমন । ওই টাকায় কি হইবো ? বাপ দাদার বাডি ঘর না থাকলে পথে বসতে হইত ।  
চল না শঙ্কর দা এক কাপ চা খাই ।
আমি ত চা খাইনা । তুই জানস না !
হুম । তা ঠিক । ভুলে গিয়েছি । এখন কোচিং দাও ?
ধুর ! ফুট বল আর কেউ খেলে নাকি !! হালার পো এক খান ব্যাট ধইরা ঝাড়ু মারে আর আলেকজান্ডারের মত মাথায় হেলমেট পায়ে হাতে প্যাড পইরা এক সঙ্গের খেলা । হালা গুষ্টির পিণ্ডির খেলা । মাথায় ঝাড়ু মারি অমন খেলার । ফুট বলটার সর্বনাশ করলো হালারা। যে পোলা পানেরা খেলা দেখতে যায় ওদের জিগাও ব্যাট হাতে খেলতে পারবে হালারা ? কোটি কোটি টাকা আই পি এল খেলায় লুটছে হালারা। স্কুল কলেজের পড়ুয়া ছেলেদের মাথা চিবুচ্ছে । আমার নাতী ত ঘুমাইয়া ঘুমাইয়া ক্রিকেট খেলে ।পডা শুনা গেছে গিয়া । 
তুমি কি ক্রিকেটের বিদ্বেষী ?
না তা নয় । তবে সব খেলায় প্রাধান্য থাইক্লে খেলা খেলোওাড হকলের মঙ্গল হয় । দেহ য়ুবরাজরে ১৪ কোটি দিয়া রয়েল চেলেঞ্জার্স কিনলো, দিনেশ কার্তিক রে ১২.৫ কোটি দিয়া দিল্লী ডেয়ার  ডেভিলস .....
আমি থামিয়ে, তুমি ত সব রিসেন্ট খবর রাখ ক্রিকেটের , বিশেষ করে আই পি এল  ২০১৪ র ।
আরে কাগজ পডলেই ত খবর পাই । টিভি তে ত ফলাও কইরা বলে । আর কত প্রচার হত ! ফুটবলের যা দশা ..... একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে বলেন শঙ্কর দা ।
এখন সৌরভ ‘দাদা গিরি’ তে এঙ্করিং করছে ।
আর কি করতো ? কোটি কোটি টাকায় ভাসতো এহেন টাকার জন্য ওইসব করতেই হইবো । কিছু ত করবে !
যা বলেছ । আরেকদিন আসবো তোমায় দেখা করতে । পায়ের ধুলো নিয়ে বললাম  তোমার মোবাইল নাম্বার দাও দাদা।  
আমার নাম্বার থেই-ক্যা তোর নাম্বারে কল কর । আমার নাম্বার মনে থাকে না।
ও তা দাও বলে নাম্বার শেভ করে বিদায় নিলাম।  
ফড়িয়া পুকুরে নাতনীর জন্মদিনের জন্য একটা গিফট কিনতে এসেছিলাম । কেসিও ইলেক্ট্রনিক অরগ্যানের ফরমাস আমার নাতনীর । এখন গান শিখছে । ওর দিদা ডবল রিডের হারমোনিয়াম কিনে দিয়েছেন । আজকাল ছেলে মেয়েদের আবদার শুনলে চক্ষু চডক গাছ হয় । অবশ্য আমরাই লায় দি ওদের ।
ফিরছিলাম ছেলের গাডিতে । আবার রাস্তায় পেন্টুর সঙ্গে দেখা । আজ সব পুরন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে । কি ব্যাপার আমার ভাগ্য !
এই পেন্টু কোথায় চললি ? পেন্টু অন্যমনস্ক ছিল তাই শুনতে পারে নি বোধ হয় । গাডিথেকে নামবার ও উপায় নেই । কোথায় পারকিং করবে? মন্টা খারাপ হয়ে গেল কি যে করি। পুরন দিনের বন্ধু দেখলে ছোটবেলার কথা মনে পডে । সেই দিনগুলো কত সুন্দর ছিল । হারিয়ে যাই পুরন স্মৃতিতে । এমন সময় ছেলে পাসে বলে বাবা সিট বেল্ট টা পরে নিন রাজারহাট দিয়ে যাচ্ছি  ।
এ্যাঁ !  ও হ্যাঁ !!   






        

Tuesday, December 31, 2013

=নেতাজীর স্মৃতির খোঁজে= -সৈকত চক্রবর্তী



=নেতাজীর স্মৃতির খোঁজে=
-লেখক ডঃ সৈকত চক্রবর্তী

(প্রথম পর্ব)

নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোসের মৃ্ত্যু আজও আমাদের কাছে রহস্যের মোড়কে আবৃত।
ছোটবেলা থেকেই জানতাম,নেতাজীর চিতাভস্ম রক্ষিত আছে "রেনকোজি"নামক
জাপানের এক বৌদ্ধমন্দিরে। অধিকাংশ দেশপ্রেমিক ভারতবাসীর মতো আমিও নেতাজীর একজন পরম ভক্ত। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান আমরা
কোন দিনই ভুলতে পরবো না। গভীর দেশপ্রেম,অনমনীয় সংকল্প আর কঠোর
আত্মত্যাগের প্রতীক নেতাজী যেভাবে দেশের ভিতরে ও পরবর্তীকালে দেশের বাইরে
গিয়ে আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতৃত্ব দিয়ে বন্দিনী ভারতমাতার শৃংখলমোচনের জন্য
প্রবল প্রতাপশালী ইংরেজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন,সেই রোমহর্ষক কাহিনী
স্মরণ করলে আজও আমরা অবাক হয়ে যাই,পরম শ্রদ্ধায় আপনা থেকেই মাথা নুয়ে
আসে সেই মহানায়কের পায়ে।
নেতাজীর জীবনকাহিনী সব সময়েই আমাকে অনুপ্রাণিত করে,জীবনের পথে
চলার দিশা দেখায়। এই মহান বিপ্লবী দেশপ্রেমিককে আমাদের দেশ আজও তাঁর
প্রাপ্য মর্য্যাদা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে। দেশকে স্বাধীন করার সংকল্প নিয়ে দেশের
বাইরে থেকে তিনি যে সংগ্রাম করে ইংগ্রেজদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়ে তাদের শক্তির ভিতে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন এবং অবশেষে তাদের এ দেশ থেকে পালাতে
বাধ্য করেছিলেন,তাঁর শৌর্যের সেই অবিস্মরণীয় কাহিনী পড়তে পড়তে শরীর রোমাঞ্চিত হয়ে উঠে। নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সুখ-সুবিধার প্রতি চির-উদাসীন
নেতাজী কিন্তু তাঁর সংগ্রামী সহকর্মীদের সম্পর্কে সব সময়েই সচেতন থাকতেন, তাঁদের সুখ দুঃখের শরিক হয়ে সত্যিকারের অভিভাবকের আসন নিতেন। তাই তো
আজাদ হিন্দ বাহিনীর ৬০,০০০ সংগ্রামী ভারতবাসী এই বিপ্লবী নায়ককে তঁদের
হৃদয়ের সিংহাসনে বসিয়েছিলেন এবং তাঁরই সুযোগ্য নেতৃত্বে জীবন মৃত্যু পায়ের ভৃত্য
করে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। নেতাজীর উদাত্ত আহ্বান-
"তোমরা আমায় রক্ত দাও,আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো"অথবা "দিল্লী চলো,
চলো দিল্লী"বাহিনীর সবার রক্তে আগুন ধরিয়েছিল সেদিন,তাঁরা ও সম্মোহিত হয়েই
কদম কদম বাড়ায়ে গিয়েছিলেন,দেশকে মুক্ত করার কঠিন সংগ্রামে। শিবাজীর শৌর্য্য স্বামীজীর ত্যাগের মিশ্রনে তৈরী নেতাজীর কর্মবহুল জীবন নিয়ে ভাবতে
গেলে মনটা আজ কেমন উদাস হয়ে যায়। .........



=নেতাজীর স্মৃতির খোঁজে
-সৈকত চক্রবর্তী

পূর্ব প্রকাশিতের পর
------------------- 
(২য় পর্ব)
--------
"......... কোনদিন আমি স্বপ্নেও ভাবিনি আমার জাপানে আসা হবে। জাপান সরকারের আমন্ত্রণে হঠাৎ জাপানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ যেদিন পেলাম সবকিছুর মাঝে জাপানে রেনকোজি মন্দির দর্শণ করার কথাই সর্বাগ্রে ভেবেছিলাম।
জাপানে এসে তাই নেতাজীর বিতর্কিত চিতাভস্ম রাখার যে স্থান,সেই রেনকোজি
মন্দির দর্শণ করার সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। হঠাৎ করে একদিন টোকিও
যাওয়ার ডাক পেলাম,একটা সেমিনারে যোগ দেওয়ার জন্য-আমার পি এইচ ডির
গাইড প্রোফেসার কাজোও সাক্কার সঙ্গী হয়ে।
সেদিন ১২ই অক্টোবর,২০০৭ইং। আমার কর্মস্থান Tsu City থেকে
বেরিয়ে গেলাম সকাল ৮ টায়,চেপে বসলাম বুলেট ট্রেনে। ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার
বেগে চলে বুলেট আমাদের পৌঁছে দিল টোকিওতে,১ঘণ্টা ২০ মিনিটে-৩৮০ কিলোমিটার দূরত্বে। জাপানের সর্বোচ্চ গতিবেগসম্পন্ন বুলেট ট্রেনের কথা দেশে থাকতে অনেক শুনেছিলাম,এবার ঐ ট্রেনে চড়ার অভিজ্ঞতায় কেমন যেন একটা
রোমাঞ্চ অনুভব করলাম। ঐ দিন সেমিনার সারার পর প্রোফেসারের অনুমতি নিয়ে
আমি থেকে গেলাম একটা হোটেলে,আমার স্বপ্নের রেনকোজি মন্দির পরিদর্শন
করবো বলে।
পরদিন,১৩ই অক্টোবর। সকালেই হোটেল থেকে বেরিয়ে পড়লাম সোজা
রেনকোজির উদ্দেশে। মন্দিরটি জাপানের রাজধানী টোকিও শহরের পশ্চিমে অবস্থিত।
টোকিও ছবির মতো সুন্দর শহর,সাজানো গোছানো,পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন-কিন্তু শহর
হিসাবে খুব একটা বড় নয়। তাই লক্ষ লোকের দৈনন্দিন যাতায়াতের সুবিধার জন্য তৈরী হয় টোকিও সেন্ট্রাল রেলষ্টেশন,যেখানে মাটির নীচে সমস্ত শহর জুড়ে বিভিন্ন
স্তরে মাকরসার জালের মতো ছড়িয়ে আছে সাব-ওয়ে লাইন। বিভিন্ন
সরকারী ও বেসরকারী সংস্থার মেট্রো সার্ভিস বিভিন্ন স্তরের সাবওয়েতে তাদের মেট্রো রেল চালিয়ে যাত্রীদের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতের বন্দোবস্ত করে থাকে। সাব ওয়েতে
সরকারী সংস্থার রেলকে বলা হয় "টোকিও মেট্রো"। .........
-চ ল বে
---------------------------------------



=নেতাজীর স্মৃতির খোঁজে=
-সৈকত চক্রবর্তী
(তৃতীয় পর্ব)
পূর্ব প্রকাশিতের পর
--------- 
"..........ফিরে আসি পূর্বপ্রসঙ্গে,রেনকোজি যাত্রায়। টোকিও শহর ছেড়ে প্রথমে এলাম টোকিও সেন্ট্রাল ষ্টেশনে,দূরত্ব ২০ কিলোমিটার।
সেখানে গিয়ে মাটির নীচে সাব-ওয়ে মেট্রো সার্ভিসে দেখলাম বিভিন্ন গন্তব্যে
চলা মেট্রো রেলের তালিকা। রেনকোজি যেতে হলে আমাকে উঠতে হবে
"টোকিও মেট্রো সার্ভিসে"।                                                                                                                             মেট্রো ট্রেনের নাম"টোকিও সেন্ট্রাল -সিনজুকু-
হিগাসি কোয়েনজি"।                                                                                                                                          আমাকে যেতে হবে শেষ ষ্টেশন "হিগাসি কোয়েনজি"।
ট্রেন মিলিয়ে বসে পড়লাম,আর নামলাম এসে হিগাসি কোয়েনজি ষ্টেশনে।
সময় লাগলো ১৮ মিনিট। ষ্টেশন থেকে একটু এগিয়ে গেলেই একটা পার্ক,
আর সেই পার্কের পিছনেই মন্দিরে যখন পৌঁছলাম,তখন
বেলা প্রায় ১০ টা।
ছোট্ট এই বৌদ্ধমন্দিরটি জনবহুল শহরের মাঝে,জাপানীদের কাছে খুব একটা পরিচিত নয়। ১৫৯৪ খৃষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত ধনসম্পত্তি ও সুখের প্রতীক এই
মন্দির সাধারণ জাপানী নাগরিকদের কাছে এতটা পরিচিত না হলেও অধিকাংশ
ভারতবাসী,বিশেষ করে প্রতিটি বাঙ্গালী এই নামের সঙ্গে খুব ভালোভাবেই
পরিচিত। বর্তমান প্রধান পুরোহিতের পিতা মোচিযুকি ছিলেন তৎকালীন মন্দিরের
প্রধান। ১৮ ই আগস্ট,১৯৪৫ ইং তাঁর অনুমতি নিয়েই মন্দিরে রাখা হয়েছিল
একপাত্র চিতাভস্ম আর কিছু সামগ্রী,যা বলা হয়ে থাকে নেতাজীর।
নেতাজী জাপানে"চন্দ্র বোস"নামে খুবই পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে
জাপান যখন পুরো সামরিক শক্তি নিয়ে ইংরেজদের ও আমেরিকানদের মোকাবিলায়
ব্যস্ত,তখন বিপ্লবী রাসবিহারী বোসের হাতে গড়া আজাদ হিন্দ ফৌজ ও তার নায়ক
নেতাজী সুভাষ জাপানীদের কাছে খুবই প্রিয়। সেই নেতা চন্দ্র বোসের স্মৃতিরক্ষার্থে
এবং অন্তেষ্ঠির কাজে সাহায্যের অর্থে তৎকালীন প্রধান পুরোহিত মোচিযুকি রাজী
হন এবং অনুমতি দেন চিতাভস্ম এবং তার সঙ্গে আরো কিছু সামগ্রী রেনকোজি
মন্দিরে রাখার। শোনা যায়,ব্যক্তিগতভাবে তাঁর জানা ছিল না এই চিতাভস্ম
আসলে কার।
এই সময় জাপানের পরিস্থিতিও অনেকটা বদলে যায়।পর পর দু'টি পরমাণু
বোমার আক্রমন,আমেরিকার কাছে জাপানের পরাজয়,আত্মসমর্পণ-অনেক কিছুই
ঘটে কয়েক মাসের মধ্যে। কিন্তু সবকিছুর মধ্যেও সুরক্ষিত রয়ে যায় রেনকোজি মন্দির এবং মন্দিরের একটা ছোট্ট কৌটায় রক্ষিত তথাকথিত নেতাজীর চিতাভস্ম
তৎসহ কিছু সামগ্রী।.........."

=নেতাজীর স্মৃতির খোঁজে=
-সৈকত চক্রবর্তী

(চতুর্থ পর্ব)

পূর্ব প্রকাশিতের পর
----------------
"............প্রতি বছর ১৮ই আগষ্ট দিনটিকে রেনকোজি
মন্দিরের পুরোহিতেরা পালন করে থাকেন নেতাজীর মৃত্যুবার্ষিকী হিসাবে।
জাপানে আমার মতো নেতাজীর ভক্ত যাঁরা রয়েছেন,তাঁরাও যোগদান করেন এই অনুষ্ঠানে। চিতাভস্ম আনার পর থেকে(১৮ই আগষ্ট,১৯৪৫ইং)
তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী জহরলাল নেহেরু(অক্টোবর ১৯৫৭ইং)এবং এক বছর পর রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদ,প্রধান মন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী(১৯৬৯ইং),
অটল বিহারী বাজপেয়ী(৯ই ডিসেম্বর,২০০১ইং)-আরো অনেকেই এই
মন্দির দর্শণ করে গেছেন। সবাই শ্রদ্ধা জানাতে গেছেন ঠিকই,কিন্তু নেতাজীর মতো একজন স্বাধীনতা সংগ্রামীর মৃত্যুরহস্য উন্মোচনে কেহই
তেমন আন্তরিকতা দেখান নি। শিলান্যাস করে বক্তব্য খোদাই করার মধ্যেই
তাঁদের আগ্রহ সীমাবদ্ধ ছিল।
রেনকোজি মন্দির প্রাঙ্গনে পাথরে খোদাই করা নেতাজীর আবক্ষ প্রতিমূর্তিটির সামনে এসে দাঁড়ালাম। আমার ডানদিকে কাঠের ছোট্ট একটা
টেবিলে একটি "ভিজিটারস্ বুক"আর বামদিকে মূল মন্দির ও মন্দিরের
একটি কোঠা,যেখানে রক্ষিত আছে নেতাজীর তথাকথিত চিতাভস্ম। রুদ্ধদ্বার
সেই কোঠাটির দিকে তাকিয়ে মনটা আমার বিষাদাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বিচিত্র
এক অনুভূতিতে চোখের দৃষ্টি আমার ঝাপসা হয়ে উঠে। জানি না এই চিতাভস্ম কার,আদৌ এটা কোন চিতাভস্ম কি না। তবুও সারা পূথিবীর কাছে প্রচার হয়ে গেছে এখানে,এই মন্দিরে,নেতাজীর চিতাভস্ম
রক্ষিত ছিল। ..............."


(1)নেতাজী ও আজাদ হিন্দ ফৌজের সঙ্গে নেতাজীর ছবি


Friday, December 6, 2013

সমীরদার বিয়ে ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী ১২.০৭.২০১৩ / বেলা ১১.৩০



সমীরদার বিয়ে

ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী  ১২.০৭.২০১৩  / বেলা  ১১.৩০

পেন্টু আমার ছোটবেলার বন্ধু । আমি , পেন্টু ,খোকন তিনজনেই এক স্কুলে পড়তাম । সকালে স্কুল থেকে ফিরতে ফিরতে ১ টা বাজতো । স্নান সেরে খাওয়ার পর হোম ওয়ার্ক থাকলে সেরে ফেলতাম । মা , সারা বাডির কাজ সেরে একটু বিশ্রাম নিতেন দুপুরে । ঠিক সেই ফাঁকে আমি জাল আলমারিতে রাখা নারকেলের নাড়ু সব ফাঁক করে দিতাম । মায়ের হাতের নারকেলের নাডুর স্বাদ এখন ভুলিনি। পেন্টুদের বাড়ী আমাদের বাডীর উল্টো দিকে । ওদের বিশাল বাগান বাড়ী ছিল। বাগানে রকমারি তরি তরকারি , হাঁস , গরু ,ছিল। একটা মস্ত পুকুর ছিল সেই পুকুর পাড়ে আমরা গিয়ে গল্প করতাম। হাঁস গুলো দেখতে খুব ভালো লাগতো বিশেষ করে রাজ হাঁস । আমাদের বাডীর কাছেই একটা খেলার মাঠ ছিল । আমরা সেখানে হয় ডাঙগুলি নয় চোর পুলিশ খেলতাম ।

 বিশ্বকর্মা পূজোর আগে আমাদের ঘুডির সুতোর মাঞ্জা দেওয়ার রেওয়াজ থাকতো । তাই পেন্টুদের বডী থেকে য়ানতাম হামান দিস্তা , ভাঙ্গা কাঁচ , হাঁসের ডিম । হামান দিস্তাতে কাঁচ গুঁড় করে সেটা হাঁসের ডিম ফাটিয়ে সেই কুসুমের সঙ্গে মিশিয়ে একটা মন্ড তৈরি হত । মাঠের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত সমস্ত  চৌহদ্দি  জুডে গাছের গুঁড়িতে পাক খাইয়ে সুতো জড়ানো হত । এরপর মাঞ্জা দেওয়া হত হাতে সেই মন্ড  নিয়ে । সারা দুপুর আমাদের চলতো এই কাজ । আর কিছু হাঁসের ডিম আস্ত সিদ্ধ করে খাওয়ার জন্য ।  তিনটে ইট আড়া আড়ি ভাবে রেখে আরেকটা   ইট রাখা হত যাতে উল্টো ইউ  আকৃতি হয় । এরপর শুকনো বাঁশে কাগজ দিয়ে আগুন ধরানো হত । ইটের  উনুনে সিলভারের একটা বাটিতে চারটে , ছটা ডিম সিদ্ধ হত । ডিম সিদ্ধ নুন লংকা দিয়ে খেয়ে লেগে পডতাম ঘুঁডির সুতোর মাঞ্জা দিতে । সেই আনন্দের দিন গুল ভুলতে পারিনা

পেন্টুর জাঠতুতো  দাদা, সমীরদা’ তখন সদ্য মার্চেন্ট অফিসে চাকরিতে ঢুকেছেন । সমিরদাকে সকালে বাডীর ছাদে দেখা যেত কাগজ নিয়ে পডতে । আসলে কাগজ পডা নয় মিনুদির সঙ্গে চোখে চোখ মিলিয়ে একটু ভাসা ভাসা প্রেম আরকি । মিনুদির বাডী একটা বাডীর তফাতে তাই ওনাকেও সকালে হয় বই হাতে নয় কাপড় মেলতে দেখা যেত ।   আমাদের খেলার মাঠের কাছেই একটা ইটখোলা  ছিল। সেই ইটখোলাতে সমীরদা রবিবার কিম্বা কোন ছুটির দিনে বিকেলে আসতেন । কেন আসতেন আমরা বুঝতাম না । হাতে একটা সিগারেট , পরনে পায়জামা পাঞ্জাবী আর পায়ে স্লিপার । তখন সদ্য হাওয়াই স্লিপার উঠেছে । সমীরদা সামনের বাডীর ‘মিনুদির’   সঙ্গে যে চুপি চুপি প্রেম করতেন তা আমরা বুঝতাম না তখন। মিনুদি আসতেন ইটখোলাতে সমিরদাকে দেখা করতে পরে জেনেছি ।

        মিনুদি  খুব সুন্দরী ছিলেন । যেমন রং সেইরকম মুখের গড়ন । টিয়া পাখির মতন টানা নাক আর টানা টানা চোখ ।  সে , না দেখলে বোঝানো যায়না । প্রত্যেক দিন ভোর বেলায়   মিনুদি তানপুরা নিয়ে রেওয়াজ করতেন । পাড়ার ফাংশনে  মিনুদির গান অবশ্যই থাকবে । সমিরদা নাটকেতে হিরোর রোল করতেন । অনেক ড্যান্স ড্রামা হত রবীন্দ্রনাথের  ‘তাসের দেশ’ ,’চিত্রাঙ্গদা’ ইত্যাদি । মিনুদি সব ড্যান্স ড্রামা নিজে নির্দেশনা দিতেন । পাডার মেয়েদের দিয়েই সুন্দর ভাবে পরিবেশন করতেন । সত্যি দেখার মতন। নাটক মানেই সমীরদা । রাত জেগে রিহার্সাল দেওয়া, স্ক্রিপ্ট লেখা সব সমীরদা । তাই বোধহয় সমীরদা মিনুদির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। খুব স্বাভাবিক ।

হঠাৎ পেন্টু বলল , সমিরদার বিয়ে । সমীরদার বাবা জোর করে সমীরদার বিয়ে ঠিক করেছেন এক অল্প বয়সের মেট্রিক পাস মেয়ের সাথে । সমীরদা কিন্তু ওনার মাকে মিনুদির কথা বলেছিলেন । জ্যাঠাইমা সব জানেন কিন্তু জেঠুর রাগের কাছে কেউ তিষ্টতে পারে না। এই ছিল তখনকার কালের  সমস্যা । সমীরদারা বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ ‘লাহিড়ী’ আর মিনুদিরা বদ্যি ‘সেনগুপ্ত’ !  অগত্যা সমীরদা বাডী ছাডা হলেন । অন্য জায়গায় বাসা ভাডা নিলেন। মিনুদিকে  আর রেওয়াজ করতে শোনা গেলনা ।

দুটি হৃদয়ের মিলন কি তাহলে অসম্ভব ! সেটাইতো প্রশ্ন !!   কি হল তবে ?
এর মধ্যে জ্যাঠাইমার জন্ডিস হল। সমীরদা মাতৃভক্ত ছেলে । মায়ের অসুখে কিছুতেই দূরে থাকতে পারলেন না । ফিরে এলেন বাডীতে । জেঠু ,  ডাক্তার বদ্যি সব করলেন । অনেকদিন জ্যাঠাইমা ভুগলেন শয্যাশায়ী হয়ে। ক্রমে ছেলেকে-দিয়ে প্রতিজ্ঞা করালেন মাথায় হাত রেখে সে যেন তার মা’কে ছেডে কোথাও না যায় । সমিরদা ফ্যাসাদে পডলেন । ‘ফান্দে পডে বগা কান্দেরে’ এ কিছুটা  সেই রকম ই  অবস্থা । সমীরদা ঠিক করেছিলেন মিনুদিকে বিয়ে করে আলাদা থাকবেন । ভগবান বাধ সাধলেন । জ্যাঠাইমা সমীরদা কে বলেন বাবার পছন্দের মেয়ে কে বিয়ে করতে । সমীরদা গর রাজি । কিছুতেই রাজি করান গেলনা । সরদার মা বিছানায় শয্যাশায়ী ছিলেন। আমরা জ্যাঠাইমাকে দেখতে যেতাম । আর পেন্টু আসত না খেলতে । সামনে বিশ্বকর্মা পুজো । ওই দিন ঘুড়ি ওডাতেই হবে ।

জেঠু এরমধ্যে মেয়ের বাবাকে আশীর্বাদের আয়োজন করার মনস্থ করেন ।                      সমীরদার মা  অনেক অনুনয় বিনয় করে ছেলেকে বোঝাতে চেষ্টা করেন । বাবা, কেন তুই বুঝছিস না”
 সমীরদা, “কিসের সমাজ মা! ,আমি ওই সমাজ মানিনা যেখানে ভালোবাসার কোন দাম নেই ?”
মানি না মানি না !!
হঠাৎ ঘরে জেঠু ঢুকলেন । সব নিস্তব্ধ ।

জেঠিমার চোখে জল । তিনি দোটানার মধ্যে পড়েন আর মানসিক অশান্তিতে কাটান ।
“তাহলে তোমার কি এটাই সিধান্ত খোকা” , জেঠু গম্ভীর ভাবে বলেন।
“হ্যাঁ বাবা । এটা আমার জীবনের চরম সিদ্ধান্ত যা আমাকেই নিতে হবে । আমি চাইনা কোন মেয়ের জীবন নিয়ে ছেলে খেলা করতে । আমি ওই অপরিপক্ব এক ম্যাট্রিক পাস মেয়েকে জীবন সঙ্গিনী করতে চাইনা। আমি আপনার সঙ্গে এ বিষয় তর্ক করতেও চাইনা । আপনি আমায় বুঝতে চেষ্টা করুন” ।
 
    সমীরদা গড় গড় করে ডায়লগ বলার মতন বলে গেলেন।
 খোকা  তুমি নাটক করে নাটকের সংলাপ আমায় শোনাচ্ছ ! বাচালতার সীমা আছে । সীমা টপকাচ্ছ তুমি । নিজেকে কি মনে কর তুমি ? ওই বদ্যি বাডীর মেয়ে তোমার মাথাটা খেয়েছে । ঠিক আছে তুমি জদি ওকেই বিয়ে করতে চাও তবে এ বাডীর দরজা তোমার জন্য চিরদিনের জন্য বন্ধ ।

এ কথা শুনে সমীরদা একদম বিচলিত হলেন না । পা বাড়ালেন দরজার দিকে ......।
জেঠিমা ফুঁপিয়ে কেঁদে  ওঠেন ......  খোকা যাসনি ! খোকা যাসনি !! তোদের  বাবা ছেলের বচসাতে আমি যমের দ্বারে জেতে বসেছি । তুই আমার মরা মুখ দেখবি খোকা । আর  তোমাকেও দোহাই তুমি কেন ছেলেটার মনের কথা বুঝে উঠতে পারছোনা? কি চাও তোমরা ?
জেঠু চুপসে গেলেন এই কথায় । দাঁড়াও !! গর্জন করে ওঠেন !! খোকা দাঁড়াও !!!
সমীরদা ধীর স্থির ভাবে দাঁড়ালেন দরজার কাছে ।
জেঠু বলেন ,“ঠিক আছে  তুমি ওদের বাডীতে খবর পাঠাও”
সমিরদা যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেলেন । সত্যি বাবা ? ঢিপ করে প্রণাম করেন বাবা মাকে । আমি খবর দিচ্ছি ।

বাডীতেই  বৈঠকখানায় টেলিফোন ছিল । ফোনে খবর দেন মিনুদিকে ।
পরের দিন মিনুদিদের বাডী থেকে মিনুদির মা বাবা আসেন সঙ্গে আংটি মিষ্টির বাক্স আর জেঠিমার জন্য এক ঝুডী ফল , ডাব ইত্যাদি ।

জেঠিমা এখন অনেকটা সুস্থ বলে মনে হচ্ছে । এতদিন পর মুখে হাঁসি দেখে সবাই আশ্বস্ত ।
আজ চাকর বাকর ,পাডা পোডশি , ছেলে ছোকরা সব্বাই খুশি । সকলেই হার্দিক ভাবে এই যুগলকে বিবাহ বন্ধনে আবধ্য হতে দেখতে চান । আসলে জেঠু এ পাডার একজন গণ্য মান্য ব্যাক্তি ।  তাই বিয়ের ভোজ খুব ভাল হবে । আমরা সকলে বলি ,সমিরদা মিনুদির বিয়েতে কব্জি ডুবিয়ে খাবো ।

খুব ধুম ধাম করে বিয়ে হল । আমি নিত বর হয়ে গেলাম সমিরদার সঙ্গে গাডীতে । দেখতে একটু লাল্টু ছিলাম  তাই বোধহয় আমার ভাগ্যে নিত বর হওয়া জুটে গেল।

Thursday, November 28, 2013

ভূতকোঠির গল্প / ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী / ২৯।১১।২০১৩


আমার নিজের অভিঙ্গতা থেকে বলি একটা সত্যি ঘটনার কথা । এখন পুরী বদলে গিয়েছে । এখন ওখানে ভুতেদের থাকার জায়গা নেই । ঘন জন বসতি । কিন্তু একদিন ছিল কিছু পোড বাডীতে বিশেষ করে ভূতকোঠিতে কোন লোক জেতে ভয় পেত । আমি এটা ১৯৬০ দশকের কথা বলছি। ১৯৬২-৬৩ হবে বোধ হয় । ঠিক মনে নেই। তবে এখন ওখানে আপার্টমেন্ট হয়ে গিয়েছে।

পুরীতে ক্যাথোলিক চার্চের পেছনে লাগাও বিশাল এক বাডী আছে । লাল রঙের বাডীটা । অবস্থিতিটা বলছি , যারা পুরী গিয়েছেন লক্ষ্য করেছেন কিনা জানিনা ; পুরীর ভি আই পি রোড ধরে- আর্মস্ট্রং রোড দিয়ে সমুদ্রর দিকে যাওয়ার সময় ডান দিকে পডে ওই বাডীটা । ভগ্ন প্রায় কিন্তু বিশাল বাডী । প্রায় দু একরের মত যায়গা নিয়ে বাডীটা একটা বিশাল উঁচু যায়গার ওপর অবস্থিত । রাস্তা থেকে লক্ষ্য করলেই মনে হয় পোড বাডী । কিন্তু না ওটা কিছুদিন টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিস হয়েছিল । তার আগের এবং পরের কথা বলি । এই বাডীটা আমাদের পৈতৃক পুরীর বাডী থেকে একদম কাছে পায়ে হাঁটার দূরত্বের মধ্যে । এর বিষয় অনেক গল্প শুনেছিলাম তাই ছেলেবেলায় আমি ঐ বাডীর ধারে কাছে জেতা-মনা ।
কি এক কারনে আমার ছেলেবেলার বন্ধু ‘জগা’ র সঙ্গে খেলাধুলোর পর বাডী ফিরছিলাম ঠিক ঐ বাডীর পাস দিয়ে যে রাস্তা গিয়েছে সেটা দিয়ে । প্রায় সন্ধ্যে হয়ে আসছিল । শীত কালের বিকেল ছিল । গা ছম ছম করছিল । আমি প্রায় দৌড়ে চলেছি । জগা আমায় ডাকছে পেছন থেকে । আমি কর্ণ পাত না করে চোঁ চাঁ দৌড়লাম। চার্চের কাছে পৌঁছে দেখি জগা আসেনি তখন । কি হল জানার কৌতূহল হল কিন্তু ভয়ে ফিরে গেলামনা । জগার বাডী আমাদের বাডীর কাছে তাই ওর ওপরের ভাই ‘বসন্ত’দা কে খবর দিলাম। জায়গাটা বুঝিয়ে দিলাম । আমাকে বসন্ত দা সঙ্গে যেতে বললো । ওর আরও দুজন বন্ধুকে সঙ্গে করে আমরা ঠিক যেতে বেরুচ্ছে সেই সময় জগা আসছিল দেখলাম । আমাকে দেখে কিছুই না বলে জগা সটান ঘরে ঢুকে গেল। নিজেকে অপরাধী মনে হল । ঘরে ফিরে এলাম নাহলে মা’ বকা বকি করবেন । সন্ধ্যা হলেই পড়তে বসতে হবে । বাডীতে কিছুই বলা হয়নি ।
পরের দিন জগা স্কুলে আসেনি দেখলাম । ওর দাদা বলল ,জগার জ্বর হয়েছে । ওর বাবা শুনলে বকবেন তাই যাইনি ভয়ে । কিন্তু পরে ডাক এলো । ওর মা ডেকে পাঠিয়েছেন । অগত্যা যেতেই হল । ডাক্তারের কোন ওষুধ কাজ করছিলো না । তখনকার এল এম পি ডাক্তার ; আজকালকার এম ডি র চেয়ে বেশি প্রাক্টিকাল । কিন্তু ওনার ওষুধ ও কাজ দিল না । আমায় ডাক্তার বাবু জিঙ্গাসা করলেন কি হয়েছিল ঘটনা । আমি পুরোটা বলার পর আবার ওষুধ লিখে দিলেন । কিন্তু জ্বর রিমিসনের নাম নেই। শেষে ওঝাকে ডাকা হল । ওঝা এসে কি কেরামতি করলো কেজানে , জগা , ওঝাকে দেখেই গাল মন্দ করতে লাগলো ।
ঝাঁটার বাডি পডাতে কি সব আওডাতে লাগল বুঝলামনা। কিন্তু ফল দিল। এর পর শুনি আমি আসার পর জগা একটা ছায়ার মত কি দেখে ভয় পায় । আমাদের দুজনের ই বয়েস অল্প ছিল। তাই ঘটনাটার গুরুত্ব কেউ দিলোনা ।

বেশ কিছু দিন পর আমাদের পিসতুতো দাদা 'দিলুদা' বর্ধমান থেকে এলেন । উনি খুব মজার মানুষ ছিলেন এবং সাহসী । দুর্গ স্টেশনের এসিস্টান্ট স্টেশন মাষ্টার ছিলেন। রেলের পাস ছিল তাই চলে আসতেন ছুটি পেলে । আমার মা ওনাকে কোলে পিঠে মানুষ করেছেন তাই আমাদের মা' কে খুব ভালোবাসতেন । এলেই খুব খাওয়া দাওয়া হত । এরপর আমার মুখে দিলুদা ওই গল্প শোনেন । শুনে বলেন,"চলত কোথায় উড়ে ভূত আছে দেখি" ।                                                                                 আমি পডি ফাঁপরে । আমরা সকলেই বলি ওই দুঃসাহস করনা । অনেক ঘটনা ঘটেছে ওখানে । কে কার কথা শোনে । বললেন ,"আমি রাতে ডিউটি করি একা ; আদ্যা-পীঠ,কালীঘাট,তারাপীঠ সব ঘোরা আমার। ফি বছর জাই । চল দেখি তোদের উডে ভূত কি করে আমার !"।                                                                                                                                         মা রেগে অস্থির বলেন,"ও দিলু রক্ষ্যে কর বাবা ওখানে যাসনে ।" দিলুদা বলেন, "কিছু হবেনা বডমামি, তুমি না বাংলা দেশের মেয়ে! তোমরা দেখ আমি রাতে ওখানে যাব"।                                                                                                        

 মা নিজের মাথার দিব্বি দিয়ে বলেন,"তোর মাকে এখুনি ফোন করছি , তোকে আমার দিব্বি বাবা যাসনে ওখানে " ওটা খুব বাজে জায়গা । অনেক ঘটনা ঘটেছে । ঠিক আছে তুমি যখন বলছও জাবনা । তবে ...! তবে কি? শুনি! মা বলেন
এরপর সিনেমা দেখার নাম করে আমার ওপরের ভাইকে সঙ্গে করে ওই ভুতুড়ে বাডীতে গেলেন। তারপরের ঘটনা না শুনলেই ভাল । মেজদা বলে ওর সাঙ্গ পাঙ্গ কে নিয়ে যায় ওই ভূত-কোঠিতে । দিলুদা গেট পেরিয়ে ভেতোরে ঢুকতেই ওনার কাল ঘাম ছোটে । একটু গিয়েই ফিরে আসেন বলেন বডমামির কথা মনে পডলো চল চলে যাই । কি দেখেছেন কিছুই বোঝা গেলনা ।
ভূত সত্যি আছে কিনা আমরা জানিনা । মনে হয় আমাদের মনের ভুল । তবে কিছু নিশ্চই আছে ।