Friday, February 22, 2013

পারোমিতা ... ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী


পারোমিতা ...

  ত্রিভুবনজিৎ  মুখার্জী 


আকাংক্ষা ,পারোমিতা দুই বোন । দুজনের বয়েসের ব্যাবধান মাত্র
এক বছর। দুই বোনই এক ইংলিশ মিডিয়াম কোএড্ স্কুলে পডে । স্কুল
বাস আসে সকাল ৭.৩০ টার সময় । শীতে কুঁকডে দুজনে বিছানা থেকে
ওঠে সকাল ৬.৩০ টার সময়। সটান্ বাথরুমে ঢুকে নিত্যকর্ম সেরে বেরুনোর
সময় ৭.০০ টা বেজে পাঁচ কি দশ মিনিট । তার পর খাওয়া সেরে বাসের
জন্য অপেক্ষা । আরম্ভ হয় সারা দিনের জমে থাকা কিছু গল্প আর
বয় ফ্রেন্ডদের নিয়ে কিছু ছুঁক ছুঁকুনির কথা । যাকে বলে চুলবুলি লেডকি
হিন্দিতে । উপায় নেই যুগের টানে এরকমটা হবেই । মানুষের কিছু জেনেটিক
আর একুয়ার্ড ক্যারেক্টার থাকে । কোন কোন সময় একুয়ার্ড
ক্যারেক্টারটা বেশি মাত্রায় প্রকাশিত হয় ।সেগুল ভাল হতে পারে আবার
খারাপ ও হতে পারে । যদি খারাপের দিকে যায় তবে সর্বনাশ। সামাজিক
দিক থেকে ভয়ঙ্কর ও হতে পারে। যা বাবা মা ভাই বোনের মাথা ব্যাথার
কারন হয়। ধরাজাগ সেইরকম ই ক্যারেক্টারের মেয়ে পারোমিতা ।

আকাংক্ষা  একটু আলাদা ও পডাশুনোর গল্প বেশি করে বন্ধুদের সঙ্গে
। কিছু প্রব্লেমের কথা যা হয়তো সল্ভ হচ্ছেনা বা অন্য কিছু ।ও
পডাশুনোতে ভাল । ক্লাসে বরা বর ফার্স্ট হয়
পারোমিতা ঠিক তার উল্টো। টিভি প্রোগ্রাম , সারুখ্ সল্মন হ্রিতিক্
আর বাংলার দেব ছাডা ভাবতেই পারিনা ।ও বলে  মাস ক্লাস বাঙ্ক করে সিনেমা
যাওয়া র এক্সাইটমেন্ট ই আলাদা । ।টিচারকে এফ বি তে জন্মদিনে
গিফট পাঠানো ।লিটিল হনি বলে বয় ফ্রেন্ড কে চুমু খাওয়া । এসবে থৃল
আছে বল । কথাগুল বলে দম নেয় ।ওর দিদি এসব শুনেও শনেনা ।

সেদিন আকাংক্ষা খবরের কাগজে খবরটা পডে আতঙ্কিত হয় কারন ও
প্রত্যেক দিন বাসে কলেজ যায় ফেরে প্রায় রাত ৭ টার পর । খবরটা এই
রকম ঃ-:-“সকাল দশটায় ওদের কলেজের কাছা কাছি এক এলাকায় চলন্ত বাসের ভিতরেই এক
তরুণীর হাত ধরে টানাটানি শুরু করে দিল জনা চারেক মদ্যপ যুবক । উপায়

না দেখে চলন্ত বাস থেকেই লাফ দিয়ে নেমে ছুটতে ছুটতে
 কলেজে পৌঁছলেন ওই তরুণী। জনা কয়েক সহপাঠীকে কোনও
মতে ঘটনাটা জানিয়ে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে জ্ঞান হারালেন তিনি।
এই শহরের বুকে দিনের বেলায় আরও এক বার এই ঘটনা শহরের রাস্তায়
মহিলাদের নিরাপত্তার অভাবটাকেই ফের বেআব্রু করে দিল। দিল্লির
বাসে তরুণীকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দেশ জুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ
উঠেছে, সে প্রতিবাদে গলা মিলিয়েছে আমাদের শহরেও । কিন্তু তার পাশাপাশি
এই শহরের বাস এবং রাস্তাই বা আলাদা কিসের , এ প্রশ্নটাও
ক্রমশ জোরালো হচ্ছে”।

কাকে বলবে বোন তো পাত্তা দেয়না। বলে তোর বয় ফ্রেনড্ থাকলে
ওই তোকে প্রটেক্ট করবে । দিদি তুই ভারি আন্সমার্ট আর ভীতু । মাকে
বললে বলবেন আর পাঁচটা মেয়েদের মতন তুমি হতে চেষ্টা কর । এসব
কথা মনের ভেতর রেখে গুম্রছিল আকাংক্ষা । ও কি সত্যি আর পাঁচটা মেয়ের
মতন  নয় ? তবে ওর পডাশুনো কি বৃথা ! মনের মধ্যে তোল্পাড করে
সব প্রশ্ন । আয়নার সামনে নিজেকে দেখে । ভরা যৌবনে মেয়েদের যা
সৌন্দর্যের বিকাশ হয় ওর ক্ষেত্রে সেরকম কিছু পরিপ্রকাশ পায়নি।
খুব সাধা মাটা মেয়ে । সাজতে জানেনা বললেই চলে । এতো সাধারণ মেয়ে
আজকাল খুব একটা চোখে পডেনা।

পরোমিতা ঠিক উল্টো। প্রসাধনের সামগ্রী কেনার চেয়ে গিফট্ বেসি
পায়। বয়ফ্রেন্ডের অভাব নেই । পারমিতা কে দেখতে সুন্দর এবং চোখ
ধাঁদানো চেহার । কস্মেটিক্স এর বাহারে ভুরু ভুরু গন্ধ । ছেলেদের
মন ভোলানো চেহারা । এখন থেকেই ডেঁপো । পডাশুনোয় অষ্টরম্ভা ।
কোনমতে পাস করে । টুকলি কোরতে ওস্তাদ্ বোধহয় । কিন্তু বুদ্ধি
প্রখর । ছেলেদের মাথায় টুপি পরাতে ওস্তাদ ।

আগেই বলেছি আকাংক্ষা ক্লাসে ফার্স্ট হয় । রিপোর্ট কার্ডে  সই করার সময় বাপি
আকাংক্ষা কে খুব উৎসাহ দিয়ে বলেন ১২ ক্লাসে সাইন্সে রেঙ্ক্
রাখতেই হবে । এখন থেকে আই. আই . টির এন্ট্রান্সের জন্য তৈরি হও
। তোমাকে খডগপুর আই আই টি তে ইঞ্জিনিয়ারিং পডাবো । ভাল রেসাল্ট
করলে জি. আর। . ই দিয়ে আমেরিকা পাঠাবো। বি .টেক্ এর পর হয় গেট্
দাও নয় ক্যাট্ দাও । যদি এগুলো না দাও তবে ভাল রেসাল্ট করলে জি.
আর। . ই   টা দেবে । এখন থেকে তৈরি হও  আমেরিকা যাওয়ার জন্য । 

পারোমিতা ভয়ে ভয়ে বাবার কাছে যায় । বাপী জানেন ওর রেসাল্টের ব্যাপার ।
বাপী  বলেন , মেয়েদের পডাশুন যে কত প্রয়োজন তা এখন থেকে না বুঝলে
পরে আর সময় থাকবেনা মা । পডাশুনোতে মন দাও । মেয়েদের রূপ যৌবন
গুন তিনটে দিয়ে বিচার করার সময় রূপ যৌবন দুটোই কিন্তু বয়স আধিক্যে  ফুরিয়ে যায় মা;
 থাকে শুধু গুনটা । ওটাই শেষ জীবনের ভরসা  । তোমার বন্ধুদের
জিঙ্গাসা কর ; ওরা কি ক্লাসে লাস্ট্ বেঞ্চে বসা মেয়েকে ভাল বলবে !
বাপীর টাকা মধু দাদার ভাঁড় নয় যে অফুরন্ত থাকবে । চিরদিন তো আমি
আর তোমার মা থাকবেন না । যাও মাকে দিয়ে সই করাও । ওঁচা মেয়েদের
আমি পছন্দ করিনা । তোমার তো সব বায়না শুনি তবুও তোমার এতো
অধঃপতন কেন? লজ্জা করেনা ? দিদিকে দেখে সেখ ।

বাপীর কথা শুনে ওর চোখে জল আসে । চোখে জল নিয়ে বলে পরের বার ভাল করব ।   গড প্রমিস্ ।

থাক আর গড্ কে টেনোনা ! তিনি তোমাকে অহোরাত্র দেখছেন।
তোমার প্রাইভেট ট্যুটার এর প্রয়োজন হলে রাখ ।কিন্তু রেসাল্ট ভাল হওয়া
চাই।

মা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে আঁচল ঠিক করতে করতে বলেন , “রাম
রাম , প্রাইভেট টিউটর ? রক্ষে কর ! আরেক ফ্যাসাদ বাঁধাবে ।  ও যা পডছে পডুক ।  না
পডলে হেঁসেল ঠেলবে!”  আমার সময় কোথায় ওকে দেখার ?

এটাত কথা নয় । তুমি না দেখলে কে দেখবে ? বাপী বলেন।

কেন ওর দিদির কাছে বসে পডতে পারেনা ?

দেখ সুমি (মায়ের নাম সুমিতা , বাপী ‘সুমি’ বলে ডাকেন) তোমার মেয়েদের
প্রতি দায়িত্ব বোধ না থাকলে ওরা কি করবে ভবিষ্যতে? মা’র নজর
মেয়েদের দিকে বেশি থাকা উচিৎ । নাহলে পরে পস্তাবে ।

কেন?  আমার একার দায়িত্ব  কেন? তোমার মেয়ে নয় ওরা ? তোমার কোন দায়িত্ব নেই !
 ‘দায়িত্ব’ শব্দটা খুব জোরদিয়ে বিদ্রূপের সঙ্গে উচ্চারণ করলেন সুমিতা দেবী ।  

আহ্ !  আমি কি তাই বলছি ! বোঝ না কেন? আর সেরকম বুঝলে চাকরি
ছেডেদাও । তুমি ত সখে চাকরী কর ওটার কি কিছু  প্রয়োজন আছে? যদি মেয়েরা মানুষ
না হল ওই চাকরী থাকার চেয়ে না থাকা ভাল !

কি ? আমি সেক্রিফাইস্ করবো আর উনি প্রাইভেট সেক্রেটারি কে নিয়ে
টুরে যাবেন আজ মুম্বাই কাল দিল্লী পরশু সিঙ্গাপুর  ।অফিস ছাড়া বাডীর হাল কি হচ্ছে
বুঝেছ কখন ! বাহ ! সুন্দর !! চমৎকার সল্যুশন । পারবোনা চাকরী
ছাডতে !!  ও মেয়ের এমনিতেই বারোটা বেজে গিয়েছে ।


দ্যাখো যা যাননা সে বিষয় নিয়ে কথা বোলনা। আমার চাকরীটা খাটুনির
আর দায়িত্ব সম্পন্ন কাজ । তুমি ভাল করে যান সেটা । ওটা ঊল বোনার
চাকরী নয় যে মেয়েরা পাস করলো কি না করলো মাস গেলে জমা খাতায়
মাইনে ঢুকে যাবে গুঁতো মেরে । চাকরী ? আর চাকরী দেখিওনা !!  মেয়েদের
সামনে কি করে কথা বলতে হয় সেটাই তো শিখলে না? যত্তো সব । বাবা
গাডীর চাবি নিয়ে বেরিয়ে গেলেন গজ্ গজ্ করতে করতে ।

মা বাপির কথা কাটা কাটির মধ্যে পারোমিতা মাকে দিয়ে টুক করে সই
করিয়ে নেয় । মা অজান্তে সই করে দেন । কিছুটা নিশ্চিন্ত এবারের মতন।
এবার পডাশুন টা করতে হবে মন দিয়ে। মোবাইলে কল আসে সুমিতের ।
স্বিচ্ অফ করে দেয় । না আর সুমিতের সঙ্গে যাবেনা সে । শেষে কিনা
হেঁসেল ঠেলতে হবে ! ম্যা গো !! মাথাটা টন টন করছে । দিদিকে দেখ ? খুব
খুশী আমাকে বাপী বকেছেন বলে ।

ঈশ্বর প্রেমিক প্রেমিকাকে একি ছাঁচে বানান না । কিছু তার তম্য থাকে ।
আদর্শ শব্দটি অভিধান থেকে মুছে গিয়েছে । সিটি সেন্টারে ওরকম অনেক
যুগল ই ঘুরে বেডান । আমি একটা ঘটনার কথা বলি । সেদিন রাজার হাট্
দিয়ে ফিরছিলাম আমার কারে । তখন বাজে রাত ১১ টা । হঠাৎ আমাদের
কারটাকে দুটো বাইক্ সম্ভবতঃ হিরো মোটর্সের লেটেস্ট মডেল নামটা
বলতে পার্ছিনা , যাইহোগ বাইকে দুই প্রেমি জুগল যাচ্ছেন । পিলিওনে
যে মেয়েটি ছিলো সে বোসে নয় ফূট রেস্টে দাঁড়িয়ে । বিদ্যুৎ  গতিতে
বাইক্ দুটি আমাদের ক্রস করে বেরিয়ে যায় । যদি এতোটুকু অসাবধান
হয় মৃত্যু সুনিস্চিৎ । এটা কি স্টান্ট্ না কি আমি বুঝলাম না । এদের মা
বাবা এদের কি শিক্ষা দিয়েছে? অবিশ্যি মা বাবা কে দোস দিয়ে কাজ নেই
ওনারা কি যানেন? আমি ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করলাম ও বোল্ল , আপ
নেয়া হ্যায় সাব । এ তো হামেশা দেখনেকো মিল্তা হ্যায় । মনে মনে ভাব
লাম আমরা কতো গ্রাম্য, এরা কতো সভ্য । এই যদি সভ্যতা হয় তবে
হে ঈশ্বর আমাকে গেঁয়ো করেই রাখো! সে দিন থেকে আমি আর কাউকে
কিছু জিজ্ঞাসা করিনা । কান মুলছি নাক মুলছি আর না ।নিজের মেয়েদের
কথা ভাবছি ! পরোমার কি হবে ? ওর কি ভবিষ্যৎ ? আমার সময় নেই
এনার্জি ও নেই । সুমি তার স্কুল আর বান্ধবীদের  নিয়ে ব্যাস্ত । পার্টীর জন্য
আজ ধারনা তো কাল বন্ধ ।ছারখার হয়ে গেল এই দেশটা এসবের জন্য ।


কথাটা উল্লেখ করলাম এইজন্য যে হামেশা নাকি এরকম হয় । আমরা
ত দেখতে অভ্যস্ত নই তাই বোধ হয় আমার দৃষ্টিকটু লাগলো । মানুষ
সহজ ভাবে নিচ্ছে। আমি বোধহয় গেঁয়ো হয়ে গেলাম বয়েসের সঙ্গে
সঙ্গে। আমার বন্ধুরা বলে তুই এইসব নিয়ে ভাবিস না। ও সব মডার্ন ছেলে
মেয়ে। মনে মনে ভাবি আমার ত দুটো মেয়ে আছে ! তাদের মধ্যে ছোটটাই
মাথা ব্যাথার কারন হচ্ছে ।

আমিত দেখছি আকাংক্ষার মতন মেয়েরাই বিপদে পডে কারন ওরা
নিজেদের নিরাপত্তার দিকে নজর দেয়না। পডাশুনোতে এত ব্যাস্ত থাকে
যে ওদের অন্য দিকে মন যায় না তার সুযোগ নেয় অসামাজিক ব্যাক্তি
। তাই বলি জুডো ক্যারাটে টা মেয়েদের যানা নিতান্ত জরুরি । ওদের বন্ধু
হাতে গোনা হয় আর ছেলে বন্ধু থাকলেও তারা পাত্তা পায় না এদের কাছে
। কিন্তু পারোমিতা তার বন্ধু শয়ে শয়ে । বাপী লেটেস্ট এপেলের আই ফোন্
সিঙ্গাপুর থেকে কিনে এনেছেন একটা মা আরেকটা পারোমিতার জন্যে ।
 বাপী কি জানেন মেয়ের কীর্তি !
বলেন রেসাল্ট ভাল হওয়া চাই কিন্তু । আইফোন দিতে আপত্তি নেই। 

‘কচু’ রেসাল্ট না ছাই ।মা বলেন । ওই মেয়ে গোল্লায় গেছে ।

এম.এম .এস  এ ছবি পাঠান মেসেজ বক্স এ জোক লাভ এস .এম। .এস
সব ভর্তি । কে দেখবে? দেখার সময় কার আছে । বাপি সকাল থেকে
বেরিয়ে যান ফেরেন রাতে। মা স্কুল টিচার অন্যকে জ্ঞান বিতরণে ব্যাস্ত
নিজের মেয়েকে দেখার সময় কোই ? সোসিয়াল সার্ভিস করে ক্লান্ত ।
 স্কুলথেকে এসে এতোই ক্লান্ত যে মেয়ে কি পোডলো কি খেলো দেখার সময় নেই ।
টিভি, সিনেমার ম্যাগাজিন,তারপর খাওয়া ,ঘুম । ঘরে রান্না বান্না করতে হয়্না কারন রাঁধুনী
আছেন । ২৪ ঘণ্টার কাজের লোক আছেন।

ঘরে গার্জেন বলতে ঠাকুমা তাঁর তো বয়েস ৭৯+ অতএব তিনি কি
করবেন? ঠাকুরপুজো তেই তাঁর সময় কাটে । ছেলে,বৌ,নাত্নীদের জন্য
সব পুজো । ওনার ঘরে কেউ যায়না । কখনো কখনো বাবা যান আর
মঞ্জু মাসী খাবার দিতে যায় । পারোমিতা কে একদম দেখতে পারেন না
ঠাকুমা । বলেন শুভ( শুভজি বাবার নাম) গোল্লায় যাচ্ছে তোর মেয়ে
। মেয়ের ডানা গজিয়েছে । এখন থেকে দ্যাখ নাহলে ওই মেয়ে ভোগাবে
তোকে । আমি বলে রাখলাম শুভ ।

আমি কতোক্ষণ থাকি মা ? আপনি বলুন ? আমার সময় কোথায় ?

তবুও তোর শাসন প্রয়োজন । ওকে মোবাইল কেন দিলি ? ওই অলক্ষুণে
মোবাইল ই ওর উচ্ছ্রিঙ্কলতার উৎস । আমাকে ত হুটা হুট্ করে দেয় ।

আপনি শাসন করুন মা । আমি কতক্ষণ ই বা থাকি ? একটু শান্তি না
হলে আমার কি ভাল লাগে ? ওইসব শুনতে ভাল লাগে না। সমত্ত মেয়েদের
মা শাসন করবেন না বাবা কি পারে? না মানায় ! আপনি বলুন! শুভ এক
নিশ্বাসে কথাগুল বলে হাঁফ্ ছাডলো ।

সব ই অদৃষ্ট বাবা । হ্যাঁরে মঙ্গল বার দিন একটু সময় করে দক্ষিণেশ্বর
নিয়ে চল না বাবা। কতদিন মায়ের মুখটা দেখিনি। আহা মা সদয় হলে তোর
কোন দুঃখ থাকবেনা।

মঙ্গলবার ! আচ্ছা দেখছি ! টেবলেট পিসিটা তে কি দেখে বললো, মা
একদম ভোরে আপনাকে নিয়ে যাব ।

আমিত সেই ভোর ৪ টেতে উঠি তুই উঠতে পারবিত ?

হ্যাঁ মা পারবো ।

আকাংক্ষা স্কুল  থেকে বাসে ফিরছিল বেলা তখন ৪ টে । রাস্তাতে
হট্টগোল আর জ্যাম্ দেখে আঁতকে ওঠে । ৪.৩০ এর সময় রাস্তা ফাঁকা
হয় ।

ছাত্র ছাত্রী এবং অধ্যাপকদের নিরাপত্তার দাবিতে দুপুর দেড়টা থেকে
ঘণ্টা তিনেক রাস্তা অবরোধ করেন  কলেজের শতাধিক
ছাত্রছাত্রী। তাতে হাজির ছিলেন শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। সকলেরই
অভিযোগ, সন্ধ্যার পর কলেজ  ক্যাম্পাস থেকে
বেরোনোর পর প্রায় রোজ দুষ্কৃতীদের অসভ্যতা ও কটূক্তির মুখে
পড়তে হয় তাঁদের। সন্ধ্যার পর রাস্তায় বেরোলে রীতিমতো ভয়ে ভয়ে
থাকতে হয়। ‘আর মোমবাতি নয়, এবার কিছু করে দেখানোর সময়’,
অবরোধে দাবি তোলেন ছাত্রীরা।

কোমল হৃদয়ের শান্ত মেয়ে ‘আকাংক্ষা’ তার মনে এই সব গভীর ক্ষত
সৃষ্টি করে । অনেক প্রশ্ন আলোডন করে বুকের মধ্যে । কেন এই অসভ্য
মানুষগুল প্রশ্রয় পায় ! আর কেনইবা মেয়েদের নিরাপত্তা থাকবেনা এই
শহরে ? প্রশাসন কি নীরব? এরকম অনেক প্রশ্ন ।

বাপীকে কিছুই বলা যায়না এ বিষয় । মা’ ! তিনি তো ব্যাস্ত নিজেকে নিয়ে
। ঠাকুমা ! তিনি ই বা কি করবেন? তবে কাকে বলবে সে ? বোন ! ও শুনলে
হাঁসবে ।মজা পাবে ।
বাডীতে ফিরে একটা ডাইরিতে আজকের ঘটনা সম্পর্কে লিখে রাখল।
বাপীর কথাগুল মনে রেখে খুব মন দিয়ে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি করতে
লাগলো । ম্যাথ্,ফিজিক্স্,কেমিস্ট্রি সব বিষয় গুল ভাল করে রিভিশন
দিয়ে রাখলো। গত দশ বছরের সমস্ত প্রশ্ন র উত্তর শেষ করে ফেলেছে
।খাতা ভর্তি অঙ্ক আর ফিসিক্স্ এর প্রব্লেম সলভ্ করে রেখেছে ।
ইংলিস্ টা আরেকটু রিভিসন করতে হবে । এইরকম ভাবছিল ...।
মা বললেন হ্যাঁরে পারু কোই ? ৭ টা বেজে গেল মেয়টা কোথায় যায়?
তোর সঙ্গে আসেনি?
এতোগুল প্রশ্নের উত্তর কি দেবে ভেবে পেলনা । আমি জানিনা ...
জানিসনা মানে ?
বারে আমি স্কুল  সেরে বাডী ফিরে এলাম । এমনিতেই আমাদের এক্সট্রা
ক্লাস হচ্ছে । আমি কি করে জানবো ওর কথা ?
তুমি তোমাকে ছাডা আর কোন কিচ্ছু কোরনা মা ! বাপের আহ্লাদি
মেয়ে ! বোনটা কোথায় গেল খোঁজ নিবিনা একটু ! জানি তুমি দিগ্গজ্
মেয়ে , তা বলে বোনটার কোন খোঁজ খবর নেবে না?
সরি মা ভুল হয়ে গিয়েছে । আমাকে ভুল বুঝ না।
সুমিতা মোবাইলে নম্বর ডায়াল করতে লাগলেন ... এই অর্পিতা শোন
ভাই তোর বর কে একটু বলনারে ... আমার ছোট মেয়ে পারোমিতা যে তোর
ছেলের বার্থ ডে পার্টি তে নেচেছিল মনে আছে ... হ্যাঁ !... ও এখন পর্য্যন্ত
আসেনিরে । কি করি বল তো?... ইনি দিল্লী গেছেন ফিরবেন কালকে ।
এলেই ত আমার ওপর হম্বি তম্বি করবেন। আমার হয়েছে যত জ্বালা...।
দাঁড়া চিন্তা কোরিসনা ...। আমি একটু পরে তোকে খবর দিচ্ছি।
রাত ৯ টার সময় পুলিসের জিপ্ এল । এটাকি সুভজিৎ ব্যানার্জীর বাডী ?
ভয়ে তটস্থ সব্বাই । হ্যাঁ ...। কি হয়েছে ?
দেখুন চিনতে পারেন কিনা ?
আমার বুক টা দুরু দুরু করতে লাগলো । মা গিয়ে যা দ্যাখেন । হতভম্ব
হয়েযান । পুলিসের জীপের পেছনে দুটি ছেলে মেয়ে । তার মধ্যে একটি চেনা
। সে আমাদের পরমা ...পারোমিতা.... ।অন্যটিকে চিনিনা ।...

ত্রিভুবনজি মুখার্জী ।
৩১.০১.২০১৩ বিকেল ৫ টা ।
১৭ই মাঘ ১৪১৯ বৃহস্পতিবার বেলা ৫ টা

Tuesday, February 19, 2013

তির্যক ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী / ১৩.০২.২০১৩ / রাত ০৯.৫৬ ।



তির্যক   



প্রেম,প্রীতি ও ভালোবাসা শব্দ গুলোর মানে কিন্তু এক । বাঙলা অভিধানে, প্রেম শব্দর অর্থ -প্রিয়তা, অনুরাগ, প্রণয় , স্নেহ । প্রীতি শব্দর অর্থ - তৃপ্তি , সন্তোষ , অনুরাগ , ভালোবাসা । আবার সেই ভালবাসা শব্দর অর্থ প্রেম,প্রীতি,প্রণয়,অনুরাগ,স্নেহ,পছন্দ করা,ভালো বোধ করা । তাহলে মোদ্দা কথা দাঁড়াচ্ছে এই যে , ওই তিনটি শব্দর ব্যাবহারের ওপর নির্ভর করছে বাক্যটির মানে। কিন্তু তিনটি শব্দ একটা মালাতে গাঁথা যার ব্যাবহারে বাক্যের শোভা বর্ধন ঘটে ।
চিরদিনের প্রেমী যুগলের স্মৃতী রোমন্থন করে। আমার বক্ত্যব প্রত্যেকেই প্রেম প্রীতি ভালবাসা নিয়ে তাঁদের সৃষ্টি কবিতা গান ও লোকগীতির মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে একটা বিশেষ স্থান সৃষ্টি করে গেছেন যা যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে থাকবে। এই তিনটি অক্ষরের এমনি শক্তি যা চুম্বকের মতন প্রাণের সঙ্গে প্রাণ হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়ের সংযোগ স্থাপন করে ।
আমার গল্পের নায়িকা খুব উচ্চ মধ্যবিত্ত ঘরের এক মহিলা। তিনি সর্ব গুণসম্পন্না এক ভারতীয় নারী। শিক্ষিতা, ক্লাসিকাল সঙ্গীত এবং ওডশী নৃত্যে স্টেজ্ প্রোগ্রাম করেছেন । বলতেগেলে প্রতিভাসম্পন্না নারী । আপনারা বলতে পারেন তাঁর সঙ্গে প্রেম প্রীতি ভালবাসার কি সম্পর্ক ? আছে । তাই তো আমার মনে সাডা দিল তাঁকে নিয়ে আমার নতুন গল্প লেখার এবং তাও ভ্যালেন্টাইন ডে তে । না ব্যাপার টা সেরকম কিছুই নয় কেবল মনের মিলের গল্প ; যাতে কোন আবিলতা নেই কিন্তু ভরে আছে ওই যে বোললাম ...প্রেম প্রীতি ও ভালবাসা ...।
ঘটনাটা এইরকম ..। পায়েল তখন ইংলিশ অনার্স নিয়ে স্কটিশে পোডছে । এমনিতে পায়েল ভাল ছাত্রী ছিল তাই ওর অনার্স পেতে অসুবিধে হলনা। একজন স্কচ্ লেডী হেড অফ দি ডিপার্টমেন্ট ছিলেন । ম্যাডাম এডিনা সেদিন উইলিয়াম্ সেক্সপিয়ারের ‘ওথেলোর‘ ক্লাস্ নিচ্ছিলেন সুস্পষ্ট উচ্চারণ ।
পিন ড্রপ সাইলেন্স । সকলে মন্ত্রমুগ্ধর মতন শুনছিল । পায়েল , ম্যাডাম এর ট্যুটোরিয়াল ক্লাসে কিছু প্রশ্ন করে , কবে এবং কোথায় প্রথম ওথেলো ষ্টেজে দেখান হয় ।
কলেজের ঘণ্টা বাজে । ছেলে মেয়েরা ক্লাস থেকে বেরোয় । পায়েল তখন ঘোরে রয়েছে ও ডেসডেমোনার কথা ভাবছে । এই সময় ওর প্রতীকের সঙ্গে দেখা হয় ।
প্রতীক খুব সাধারণ ছেলে । কিছুটা ভাবুক ভাবুক কবি কবি ভাব । না তবে ছন্দের অভাব আছে কিনা জানিনা। পরনে পায়জামা পাঞ্জাবী কাঁধে ব্যাগ । প্রতীক এপ্লায়েড ইকনমিক্স নিয়ে ইউনিভার্সিটীতে এম.এ. ফাইনাল ইয়ারে । নিজের পডার খর্চা টিউশনি করে মেটায় । বাবা একটা প্রাইভাট ফার্মে কাজ করেন । যৎ সামান্য রোজগারে সংসার কস্টেই চলে । এসব ছেলেদের জীবনে অনেক সংগ্রাম করে বড হতে হয় । এরা খুব একটা মেয়েদের সঙ্গে মেলা মেশা করে না।
আজ কোথায় যাবে ? পায়েলের প্রশ্ন তে প্রতীক বিব্রত হয়ে পডে !
ও ! হ্যাঁ তুমি ? না কোথাউ নয় । সন্ধ্যে বেলায় টিউশন আছে । লোকালে যেতে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট্ । কথাগুলো অন্যমনস্ক ভাবে প্রতীক বলে ।
আজ ভিক্টোরিয়া যাবে।
না । আমার অন্য কাজ আছে । কলেজ ষ্ট্রীটে কিছু পুরন বই কিনতে যাব।
চল না আমিও যাই সঙ্গে। আমার তো ওই দিকেই বাডী ।
পকেটে হাত ঢুকিয়ে দেখল কিছু খুচরো টাকা আছে । একটা সিগারেট্ খেলে বাকি থাকছে ৫৫ টাকার মতন। ...।বইটার দাম টা৫০কা তো হবেই ...!
কি ভাবছো অত
। চল তো । বাস এসে গেল।
ওটাত কলেজ স্ট্রীট্ যাবে ।
হ্যাঁ আমিও ওই দিকেই যাব । নাও উঠে পড ।
মন্ত্র মুগ্ধের মতন উঠে পোডল প্রতীক ।
বাস ভাডাটা প্রতীক দিতে যাচ্ছিল কন্ডাক্টার পেছনে ঈশারা করে কিছু বোঝাতে চেষ্টা করল।
বাস ভাডাটা কেন ও দিল ? আত্মসন্মানে বাধে । খুব বাজে লাগলো ।
কলেজ স্ট্রীট বাটার কাছে নেমে দুজনে হাঁটা দিল ।
তুমি কিন্তু এটা ভারি অন্যায় করলে ! প্রতীক খুব অপ্রস্তুতে পডার মতন বলল !
ছাড তো । ও আমাকে পরে পুষিয়ে দেবে এখন। তুমি কি যেন বই এর কথা বলছিলে না ?
প্রডাকশন ইকনমিক্সের বই।
আজকাল ইন্টারনেট থেকে অনেকে বই ডাউনলোড করে পডে ।
হ্যাঁ তা করে তবে আমার কিছু অন্য প্রয়োজন আছে ।
কাউকে কি গিফট্ দেবে ?
হ্যাঁ !
কাকে ?
আমার এক ছাত্রী কে ।
মুখটা লাল হয়ে গেল পায়েলের । খুব অপমান বোধ হল। আসলে প্রায় মেয়েরাই ওই এক ই রোগে ভোগে । মোটেই অন্য মেয়ের সংস্পর্শে তার প্রিয়তম কে আস্তে দেয় না। সে ছাত্রী ই হোগ কিম্বা অন্য কেউ হোগ । নিছক সন্দেহ বাতিক থেকেই যায় । মনে যাগে অনেক প্রশ্ন ।
ঘটনা চক্রে বলে বসে প্রতীক , ও কিন্তু আমার মামাতো বোন । ওর বইটা দরকার । আমাকে আসার সময় বলেছিল আনতে । ও আমার জন্যই ইকনমিক্স অনার্স নিয়েছে।
এবার পায়েলের গালে যেন কেউ ঠাস্ করে একটা চড মারল বলে মনে হল। প্রসঙ্গ বদলানোর জন্য বললো, না না আমি এমনি জিঙ্গাসা করছিলাম।
ব্যাপারটা ঠাওরাতে প্রতীকের খুব একটা অসুবিধে হল না !
ও আসলে জানতো এই কথায় পায়েল একটু রাগ অভিমান করবে আর মিথ্যে সন্দেহ করবে যেটার মজা ও নেবে।
তোমার কিন্তু এটা ভারি অন্যায় । আমাকে বলবে ত !
কি বলব ? ...ও ওহ্... !! হেঁসে ফেলে প্রতীক ।
খুঊব না ! চোখে জল আসে পায়েলের। আমাকে রাগাতে আর অপমান করতে তোমার এতটুকু খারাপ লাগে না ?
এতে অপমানের কি হল ? পিয়ালি আমার ছোট বোন ।
কোই আমাকে তো কোনদিন বলনি ওর কথা।
কি মুস্কিল । সব কথা কি বলা যায় ! না প্রয়োজন আছে বলার!!
মিথ্যে অভিমানে পায়েল আল্ত চাঁটি মারে প্রতীকের বাঁ হাতে ।
দুজনের কথপো কথনে পথ চারির দৃষ্টি আকর্ষণ করে । প্রতীক অপ্রস্তুত হয়ে বলে , এখন থেকেই শাসন করবে তুমি ।
হ্যাঁ কারন তুমি শুধু আমার .. আর কারুর নয় ..
ওকে বস্। ..... আমার বাস এসে গেছে বাই ।
এরকম অপ্রস্তুত মুহুর্তে পায়েল পডবে ভাবতে পারেনি।
২য় পর্ব
কফি হাউসে কফির পেয়ালায় মুখ দিয়ে বসে আছে প্রতীক সঙ্গে বন্ধু রনভীর আরো দুজন।
পার্টি আর খেলার কথাই বেশি হয় এখানে । হঠাৎ পায়েলের নাম্বার থেকে কল এলো প্রতীকের মোবাইলে ।
কোথায়?
কেন?
এখুনি এস আউট্ ট্ট্রাম ঘাটে । খুব দরকার । আমার হাতে সময় নেই একদম।
প্রতীক কিছু জিঙ্গাসা করার আগেই ফোন কেটে গেল।
বাসে যেতে হলে এক ঘণ্টা লেগে যাবে তাও বেরিয়ে পড়ল । কি হতে পারে ভেবে  কূলকিনারা পেল না। মধ্যেখানে আবার ফোন ।।কি তুমি বেরিয়েছ ?
হ্যাঁ রে বাবা । কি হয়েছে বোলবে ত !
এলেই জানবে ।
আউট ট্রাম ঘাট্ আস্তেই বাস থেকে নেবে পুর্ব পরিচিত স্থানে পৌঁছে দেখল পায়েল একটা বেঞ্চে বসে গঙ্গা দেখছে । জোডে জোড়ে কপোত কপোতীর ভীড । সকলে মসগুল নিজের প্রেমিক/প্রেমিকার সাথে গল্প করতে ।
প্রতীক কে দেখে হাতে স্বর্গ পাওয়ার মত লাগলো পায়েলর । দৌড়ে এসে প্রতীক কে জডিয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল ।
একি ছেলেমানুষি ! ছাড়
। কি হয়েছে বল ?
একটু অপ্রস্তুত বোধ করে; কি না হয়েছে বল ! বাপী আমার বিয়ের ঠিক করেছেন এক সফট্ ও্যের ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে ।
কংগ্রাচুলেসন।
তোমার বলতে লজ্যা করেনা ? শালা বাঁদর আমাকে নিয়ে ছেলে খেলা !
মহিলার মুখে ‘শালা’ শব্দ টা শুনে চমকে গেলেও আশ্চর্য হলনা কারন এর আগেও একবার শুনেছে । কথাটার গুরুত্ব  উপলব্ধি করে বলল, রিলেক্স্ বেবি  রিলেক্স্ !!
চল আমরা বিয়ে সেরে ফেলি কোথাউ । আমরা দুজনেই এডাল্ট্ । আইনের দিক থেকে কোন অসুবিধে নেই।
খেঁপেছ ! আমি একটা বেকার ছেলে তার ওপর আমার মা বাবা আমাকে তেজ্য পুত্র করেদেবেন । তাছাড়া আমার নিচে বোন আছে তাদের ভবিষ্যৎ ?  মাথা ঠাণ্ডা রেখে  কাজ করতে হবে । আমি তোমাকে জীবন সঙ্গিনী করার কোন বাধা নেই । কিন্তু পালিয়ে বিয়ে করা কে আমি কাপুরুষতার পর্য্যায়ে ফেলি । ওটা ভীরুতার লক্ষণ । খুব বাজে ব্যাপার । আমি তোমার বাবার সঙ্গে কথা বলতে চাই।
ওরে আমার বীরপুরুষ রে ! হুঁ ! আমার বাপীকে ত চেনোনা ! উনি বাপীর সঙ্গে দেখা করবেন তার আগে বাপী তোমাকে লক আপে ভরে দিন আর আমি ওই ভোঁদাইয়ের সঙ্গে ... । ফটো টা দেখেছি । কি বিচ্ছিরি ম্যাগো । আমি পারবোনা ওই ভোঁদাইয়ের সঙ্গে থাকতে । তুমি এক্ষুনি কিছু কর ।তুমি না পুরুষ মানুষ ?
এই ! এটাই মহিলাদের প্রধান অস্ত্র !  প্রতীক জানে মহিলারা পুরুষদের পৌরুষত্বে     আঘাৎ দিয়ে কথা বলে , যখন কিনা , তারা কোন কাজ সহজে তাদের দিয়ে  হাসিল করতে চায়
। কিম্বা জখন বেপাকে পডে । এখন ও কোন কথা শোনার মুডে নেই ।কারন ওকে  ডক্টরেট করতেগেলে এসব ছেঁদ কথায় মন দিলে ওর লক্ষ্য পুরন হবে না ।  কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে একটা সাদা রঙের স্করপিও এসে থামল । পায়েল গাড়ীটা দেখেই আঁতকে ওঠে । ও সঙ্গে সঙ্গে প্রতীকের হাথ ধরে এক হ্যাঁচকা টান দেয় । প্রতীক কিছু বোঝার আগেই এক বলিষ্ঠ ব্যাক্তিত্বের সুটেড বুটেড মাঝ বয়েসি ভদ্রলোক এসে ওকে বলে , আপনি কি প্রতীক চৌধুরী ?
আঙ্গে হ্যাঁ । কিছু প্রয়োজন আছে ? 
প্রয়োজন না থাকলে কি এখানে আপনার কাছে আসি
। আপনি কি করেন ?
আমি ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটীর ছাত্র ; এই বছর এপ্পলায়েড ইকনমিক্সে মাস্টার্ডস ডিগ্রীর ফাইনাল দেব ।
ও বেকার ছেলে! ইন্টেরেস্টিং । বাবা কি করেন?
আপনার পরিচয় ? আপনি আমাকে এত সব প্রশ্ন করছেন কেন?
আমি ! আমি পায়েলের  বাবা , নৃসিংহ চক্রবর্তী , আই.পি.এস্ । তুমি আমার নাম শোননি ? আমি  কমিসেনার, ইন্টেলিজেন্স্ , কোলকাতা পুলিস্ । শোন নি আমার নাম ? স্ট্রেঞ্জ্ । একটা বিদ্রূপের হাঁসি মুখে নিয়ে ভদ্রলোক বললেন । তোমার জানা উচিৎ ছিল
।
আমি অর্থনীতির ছাত্র পুলিসের খবর রেখে কি হবে আমার ?  আপনি আমাকে বেকার কেন বলছেন ? আমার তো পডা শেষ হয়নি এখন । পডা শেষ করে ডক্টরেট্ করবো । আমি ইউনিভারসিটিতে ফার্স্ট হয়ে ছিলাম অনার্সে ।  আপনি আমার বাবাকে টানছেন কেন এর মধ্যে !নিজের পায়ে না দাঁড়ানো ওব্ধি  আমি আমার  কোন ব্যাপারে সিধান্ত নব না 
।
ইয়ং ম্যান প্রেম করার আগে আপনার যাচাই করা উচিৎ ছিল আপনার আর্থিক স্বচ্ছলতা আছে কিনা ! আমার মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারেন , কিন্তু বিয়ে ?  ইম্পসিবল্ । আপনি ত অর্থনীতির ছাত্র এটুকু আপনার কাছ থেকে আশা করেছিলাম। ওয়েল্ মাই বয় মাইন্ড ইওর স্টাডিস্ । ফার্স্ট এস্টাব্লিস্ ইয়োরসেলফ্ ইন দি সোসাইটি দেন থিংক অফ্ মেরেজ্। ওকে । ফরগেট্ হার সি ইস এ বেবি । স্টিল এ বেবি মাই বয় । গুড লাক্ । পায়েল থর থর করে কাঁপছিল ওর বাবা ওকে কাছে ডেকে বললেন , আয় মা আমার কাছে আয়। শুনলি ত সব  ।
পায়েলের মুখ দিয়ে একটা কথাই বেরুল প্রতীকের উদেশ্যে .... কাওয়ার্ড.... কাপুরুষ । আমার সঙ্গে প্রতারণা । কান্নায় ভেঙ্গে পডে পায়েল । বাবার সঙ্গে গাডিতে গিয়ে ওঠে ।
প্রতীক একটা সিগারেটে অগ্নি সংযোগ করে উদাস মনে আকাশের দিকে তাকায় আর এক রাশ ধোঁয়া মুখে নিয়ে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস নেয় । নিজেকে সামলে নেয় ।  
তার পর প্রতীকের সঙ্গে আর পিয়ালীর দেখা হয় নি ।


৩য় পর্ব


এরমধ্যে প্রায় ১৫ বছর কেটে গেছে । প্রতীক ইউনিভারসিটির এপ্পলাএড্ ইকনমিক্সের


 প্রফেসার । ডক্টর প্রতীক চৌধুরী । ওর ছাত্র ছাত্রীরা ওকে সম্মান করে । ওর কিন্তু ওই 


এক সাদা মাটা মাষ্টারী পোশাক , পায়জামা পাঞ্জাবী,ফ্রেঞ্চ কাট দাডী , ঠোঁটে সিগারেট্ 

আর ভাবুক ভাবুক চেহারা । ওর বিয়ে হয় ওরি এক ছাত্রীর সঙ্গে নাম মধুমিতা সান্যাল ।
পায়েল জীবনে সুখি কিনা জানিনা ।  ওর বিয়ে হয়ে যায় সেই সফট্ ও্যের ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে । ওর অমতে । ওই সেই ভোঁদাইয়ের সঙ্গে । একদমি পছন্দ করে না ওকে স্বামী হিসেবে । রাত দিন খটা খটী লেগেই থাকে । এর মধ্যে ওর মা মারা যান । বাপীর রিটায়ারমেন্টের পর দুটো স্ট্রোক্ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পডেন । পায়েল দেখা শোনা করে । বাপী বুঝতে পারেন মেয়ের মনের ব্যাথা । দু চোখ বেয়ে জল গডায় । পুরন দিনের স্মৃতি রোমন্থনে আর কোন লাভ নেই । একমাত্র মেয়ে এতো টাকা পয়সা থেকেও শান্তিতে নেই তার কারন তার মনের মতন বর পায়নি । যাকে পেল সে গ্রহণ যোগ্য নয় পাঁড় মাতাল এক উচ্ছৃঙ্খল যুবক তার আরেকটি মেয়ের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক যেনে স্বামীকে ঘৃণা করে পায়েল। কিছু উপায় নেই। নিয়তির নিয়ম। মেনে নেয় সব কিছু । আজ ও প্রতীকের কথা মনে পডে । সেই রোগা লম্বা চেহারার ভাবুক ভাবুক লোকটি কাঁধে ব্যাগ আর ঠোঁটে সিগারেট্ । সব সময় অন্যমনস্ক কি জেন ভাবে ? এখন প্রতীক কি করছে ? ও কেমন আছে জানতে ইচ্ছে হয় । ওকে কি মনে রেখেছে ? মনটা ডুকরে কেঁদে ওঠে । কি হবে ওর কথা ভেবে ?
কলেজ স্ট্রীটে বইয়ের দোকানে নতুন মারুতি ডিজায়ার গাডী থেকে নেমে হঠাৎ এক পায়জামা পাঞ্জাবী পরা ভদ্রলোক কে দেখে চিনে ফেলে পায়েল ।বেশ কদিন আমেরিকার ডালাসে ছিল  ওর স্বামীর সঙ্গে । অনেক দিন  কলেজ স্ট্রীটে আসা হয় নি । কিন্তু ফ্রেঞ্চ কাট দাডী , চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা আর মন দিয়ে দেখছে  কিছু পুরন বই যে ভদ্রলোক ; সে যে প্রতীক তা ঠাওরাতে অসুবিধে হলনা
। কাছে যাওয়ার সাহস হলনা । আবার মনে মনে লোকটার প্রতি আবেগ এলেও সেটা  চেপে রাখল । মনের ভেতরটা ডুকরে উঠলো । মনে হল ঠাস্ করে গিয়ে গালে একটা চাঁটি মারি । অপদার্থ কাপুরুষ !! আবার নিজেকে সামলে নিল এ কি ভাবছে সে ? এঁর জন্যেইতো বসে আছে পথ চেয়ে কবে হবে তার সঙ্গে দেখা? ইনি ত তার মনের মানুষ !! আজ সেই ভ্যালেন্টাইন ডে । কিন্তু প্রতীক ওই সব একদম পছন্দ করতনা !  
সে কি যাবে ওর কাছে ? ও কি চিনবে? যদি না চেনে ? চিনেও না চেনার ভান করে তাহলে লজ্যা 


ঘেন্নায় নিজেকে ছোট করবে ওর কাছে ? ওর প্রেম প্রীতি ভালবাসা তার কি কোন দাম নেই? 


রাবণের হাথে নিজেকে সঁপে দিয়েছে পায়েল । সে যখন পশুর মতন তার শরীরটাকে 


ছিঁড়ে খায় মনে হয় যেন ড্রাকুলা তার ধারল দাঁত দিয়ে ছিন্ন ভিন্ন করছে তার শরীরটাকে । কি নিয়ে দাঁড়াবে প্রতীকের কাছে ? বলবে প্রতীক আমি তোমাকে এখনো ভালবাসি । বলে কি লাভ ? ওকি মূল্য দেবে সেই ভালবাসার । ওকি যানে নারীর মনে যে প্রথম পুরুষ আসে সেই তার মনে আঁচড় দিয়ে যায় ,  যার ক্ষত ; ক্ষত বিক্ষত করলেও সে সেটাকেই  আঁকডে ধরে । স্মৃতি টুকু তার মনে সান্ত্বনা দেয় । তাই সেই স্মৃতি নিয়ে ফিরে এল নিজের ঘরে । ভারতীয় রমণীর এটাই বৈচিত্র সে বহ্নি শিখায় জ্বলে পুডে মরে কিন্তু কাউকে বুঝতে দেয়না তার মনের ব্যাথা । মনের ব্যাথা মনেই থাক নাইবা তুমি জানলে ......।   ভগবান তির্জক দৃষ্টিতে দেখেও দেখেন না । ওরা মেনে নেয় অদৃষ্ট বলে । আমরা পুরুষরা ওদের পুডতে দেখেও না দেখার ভান করি ।

ত্রিভুবনজিৎ মুখার্জী / ১৩.০২.২০১৩ / রাত ০৯.৫৬ । 

Sunday, February 10, 2013

ঠকানো প্রশ্ন ------------ সুকুমার রায়


ঠকানো প্রশ্ন
------------
সুকুমার রায়
-------------
গণেশ দাদা বললেন, ‘একটা গোরুর গলায় দশ হাত লম্বা মোটা দড়ি বাঁধা। সেখান থেকে পঁচিশ হাত দূরে এক আঁটি ঘাস আছে। কেউ ঘাস এগিয়ে দিল না, দড়ি ছিঁড়তে হলো না, অথচ গোরু অনায়াসে সেই ঘাস খেয়ে ফেলল। বল তো, এটা কী করে সম্ভব হয়?’

দামু বলল, ‘বুঝেছি। খুব হাওয়া হলো আর ঘাস উড়ে এসে পড়ল।’
গণেশদা বললেন, ‘তাহলেই তো এগিয়ে দেওয়া হলো।’
গদাই অনেক ভেবে বলল, ‘এ রকম হতেই পারে না।’
গণেশদা বললেন, ‘কেন হবে না? গোরুর গলায় দড়ি বাঁধা বলেছি, দড়িটা যে খোঁটায় বাঁধা তা তো আর বলিনি—দড়িটা আলগাই ছিল।’
তা শুনে সকলে বলল, ‘এটা নেহাৎ ফাঁকি হলো।’

তখন মতিলাল বলল, ‘দুটো গাধা ছিল—তাদের ভয়ানক জেদ। খাওয়াবার সময় একটা পশ্চিমমুখো আরেকটা পুবমুখো হয়ে দাঁড়িয়ে রইল—ঠেললে সরবে না, মারলে নড়বে না। এখন একটা বালতিতে করে দুটোকে একসঙ্গে খড় খাওয়াতে হবে। কী করা যায়? করা যা হলো তা কিছুই কঠিন নয়, অথচ গাধা দুটো যেমন উল্টো দিকে মুখ করে ছিল ঠিক তেমনিই রইল।’
দামু বলল, ‘ওটা আমি জানি।’ আর সবাই বলল, ‘জানিস তো চুপ করে থাক না। আমাদের ভাবতে দে।’ তারা ভাবছে, সেই সঙ্গে তোমরাও একটু ভেবে নেও।
যা হোক, এটাতে সকলকে ঠকানো গেল না।

তখন বিপিন বলল, “আমি একটা কৌশলের ধাঁধা জানি। এক সুলতান আট হাত লম্বা, আট হাত চওড়া একখানা শতরঞ্জি বিছিয়ে, তার ওপর ঠিক মধ্যখানে একটা হীরের কৌটা রেখে বললেন, ‘ঐ শতরঞ্জি না মাড়িয়ে কিংবা তার ওপরে হাত, পা বা শরীরের কোনো রকম ভর না দিয়ে, আর লাঠি, দড়ি বা কোনো যন্ত্রের বা অন্য লোকের সাহায্য না নিয়ে, যে পারো, সে কৌটাটি নেও।’
কত ওস্তাদ ডন্বীর এসে কত রকম কসরৎ করে নেবার চেষ্টা করল, কত ঢ্যাঙা ঢ্যাঙা লোক এসে কত রকম কায়দা করে, ঝুঁকে পড়ে, সেটাকে তুলবার চেষ্টা করল, কিন্তু কেউ পারল না। শেষটায় একটা বেঁটে, রোগা লোক এসে চটপট অতি সহজে কৌটাটাকে উঠিয়ে নিয়ে সকলকে বোকা বানিয়ে দিল। বল তো কী রকম করে হলো?”

গোপাল মামা এতক্ষণ চুপ করে শুনছিলেন। তিনি হঠাৎ বলে উঠলেন, ‘ভারি তো বললি! এই যে শরবতের গেলাস দেখছিস, এটাকে ধামাচাপা দিয়ে রাখ; আমি ধামায় হাত দেব না, তুলব না, অথচ শরবত খেয়ে ফেলব।’
তখন সকলে ছুটোছুটি করে একটা ধামা এনে গেলাসটাকে চাপা দিয়ে তামাশা দেখতে বসল। মামা তখন মাথায় চাদর ঢেকে ধামার কাছে বসে খানিকক্ষণ ঢকঢক শব্দ করে বললেন, ‘বাস! শরবতের দফা শেষ।’ সবাই বলল, ‘কই দেখি।’ বলে যেই তারা ধামা তুলেছে, অমনি মামা খপ করে গেলাস নিয়ে চোঁ চোঁ করে শরবত খেয়ে বললেন, ‘কেমন! ধামা ধরলাম না, ছুঁলাম না, শরবত খেয়ে ফেললাম! হলো তো?’

ঠকানো প্রশ্নের উত্তর
--------------------
গাধা দু'টি মুখোমুখিই দাঁড়িয়েছিল। তাহলে একটার মুখ পূর্ব দিকে থাকলে আর একটার মুখ তাহার উল্টো, অর্থাৎ পশ্চিম দিকে থাকবে। এখন দু' জনের মাঝখানে মুখের নিচে খাবারের বালতি বসালেই দু'জনে এক সঙ্গে খেতে পারে।

শতরঞ্জির উপর হইতে কৌটা সরাবার কৌশলটিও খুব সহজ। শতরঞ্জির উপর ভর না দিয়া তার উপর হাত-পা না রেখে তাহাকে গুটিয়ে ফেলা যায়; আর একদিক খানিকটা গুটোলেই কৌটোটি উঠিয়ে নেওয়া যাবে ।